Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

লক্ষ্মীপতি হেডকোচ! ভারতীয় ক্রিকেটে শেষ আগরকর জমানাও!

RK NEWZ বিরাট সিদ্ধান্ত বিসিসিআইয়ের। হেডকোচ করা হল লক্ষ্মীপতি বালাজিকে। এবার জাতীয় দলকে কোচিং করাবেন প্রাক্তন পেসার। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে পুদুচেরিতে শুরু হবে ভারত ‘এ’ দলের অস্ট্রেলিয়া সফর। তাঁর কোচিংয়ে দু’টি মাল্টি-ডে ম্যাচ এবং তিনটি লিস্ট-‘এ’ ম্যাচ খেলবে ভারতীয় দল। দুই ফরম্যাটে আলাদা অধিনায়ক নিয়েই মাঠে নামবে ভারত ‘এ’। মাল্টি-ডে ম্যাচে নেতৃত্ব দেবেন দেবদত্ত পাড়িক্কল। সহ-অধিনায়ক সাই সুদর্শন। ওয়ানডে দলে অধিনায়ক করা হয়েছে রুতুরাজ গায়কোয়াড়কে। ৪৪ বছরের বালাজির আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ২০০২ সালে। ভারতের হয়ে তিন ফরম্যাটেই খেলেছেন তিনি। ২০১২ সালে শেষ বার দেশের জার্সিতে দেখা যায় তাঁকে। এক সময় ভারতীয় পেস আক্রমণের অন্যতম ভরসা ছিলেন বালাজি। অবসর নেওয়ার পর গত এক দশক ধরে কোচিংয়ের সঙ্গে যুক্ত । আইপিএলেও কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে বালাজির। কলকাতা নাইট রাইডার্স এবং চেন্নাই সুপার কিংসের মতো দলের বোলিং কোচের দায়িত্ব সামলেছেন। চলতি বছরের শুরুতে বেঙ্গালুরুর বিসিসিআই সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে কোচ হিসেবে যোগ দেন। এবার প্রথমবার ভারত ‘এ’ দলের হেডকোচের দায়িত্ব পেলেন তিনি। এর আগে তামিলনাড়ুর ঘরোয়া দলেরও প্রধান কোচ ছিলেন বালাজি। ভারতের হয়ে ৮ টেস্ট, ৩০ ওয়ানডে এবং ৫ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন বালাজি। ২০০৪ সালে পাকিস্তান সফরে তাঁর নজরকাড়া পারফরম্যান্স অনেকেরই মনে আছে। আইপিএল ইতিহাসে প্রথম হ্যাটট্রিক করার নজির তাঁরি দখলে। সব মিলিয়ে ৭৩ আইপিএল ম্যাচে ৭৬ উইকেট রয়েছে তাঁর নামের পাশে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়া ‘এ’-র বিরুদ্ধে সিরিজের আগে ভারতীয় দলে একটি পরিবর্তনও হয়েছে। বিপ্রজ নিগমের জায়গায় স্কোয়াডে ঢুকেছেন অন্ধ্রপ্রদেশের অফস্পিনার টি বিজয়। শর্তসাপেক্ষে ওয়ানডে দলে জায়গা পেয়েছেন হার্দিক পাণ্ডিয়া। তবে ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে তাঁকে।

এদিকে, জাতীয় নির্বাচক প্রধান হিসাবে অজিত আগরকর যে আর থাকবেন না, বোর্ডের বার্ষিক সভার পরই বোঝা যাচ্ছিল। তাঁর অপসারণ স্রেফ সময়ের অপেক্ষা মাত্র। জানা গিয়েছে, তিনি বিসিসিআই কর্তাদের জানিয়ে দেন, আর দায়িত্বে থাকতে চান না। ৪ অক্টোবর নির্বাচক প্রধান হিসাবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগরকরের। তাঁর বিকল্প হতে পারেন কারা? কেন তাঁর চুক্তি নবীকরণ করা হল না? দু’টো কারণ যার নেপথ্যে পাওয়া যাচ্ছে। এক, রোহিত শর্মাকে নিয়ে অহেতুক ‘বিবাদ’। তাঁকে অবসর নিতে চাপ দেওয়া। দুই, সেন্টার অফ এক্সেলেন্স প্রধান ভিভিএস লক্ষ্মণের সঙ্গে মতান্তর। যা ভালো ভাবে নেয়নি বোর্ড। যদিও বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া জানিয়েছিলেন, আগরকরের বর্তমান মেয়াদ শেষ হতে ১৫ দিন বাকি। তাই এখনই কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রশ্ন নেই। আগরকরের পরিবর্ত হিসাবে নাকি দু’টো নামও ইতিমধ্যে ভেবে ফেলা হয়ে গিয়েছে। তাঁরা, প্রাক্তন উইকেটকিপার-ব্যাটার পার্থিব প্যাটেল। এবং প্রাক্তন বাঁ-হাতি স্পিনার প্রজ্ঞান ওঝা। এঁদের দু’জনের মধ্যে একজন নাকি জাতীয় নির্বাচক প্রধান হয়ে যেতে পারেন। তবে উত্তরসূরি হিসাবে রয়েছেন লক্ষ্মণ, অনিল কুম্বলে, রাহুল দ্রাবিড়রাও। প্রজ্ঞান ওঝা বর্তমানে আগরকরের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটির সদস্য। বোর্ডের অন্দরে ওঝার প্রভাব যথেষ্ট পোক্ত। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কতটা, তা স্পষ্ট নয়। সিস্টেমের সঙ্গে পরিচিতির কারণে দায়িত্বের জন্য তাঁকেই ‘সেফ চয়েজ’ বলে ভাবা হচ্ছে। তাঁর ঝুলিতে তিনবার আইপিএল জয়ের অভিজ্ঞতা। ঘরোয়া এবং ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটকে হাতের তালুর মতো চেনেন। যা তাঁর পক্ষে যেতে পারে। প্রধান নির্বাচক পদের শর্টলিস্টে রয়েছে পার্থিব প্যাটেলের নাম। ভারতের প্রাক্তন উইকেটকিপার-ব্যাটার এবং ক্রিকেট বিশ্লেষক পার্থিবকে এই পদের অন্যতম দাবিদার মনে করা হচ্ছে। গত বছর থেকেই তাঁকে নিয়ে আলোচনা রয়েছে। আইপিএল-সহ বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজিতে কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের ট্যালেন্ট স্কাউট হিসাবেও কাজ করেছেন। প্রতিভা চেনার দক্ষতাই তাঁর অন্যতম বড় শক্তি বলে মনে করা হয়। তাঁর ঝুলিতেও তিনটি আইপিএল ট্রফি। গম্ভীর পরবর্তী জমানায় টিম ইন্ডিয়ার নতুন কোচ হিসাবে লক্ষ্মণের নাম শোনা যাচ্ছে। বেঙ্গালুরুর ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’-এর প্রধান লক্ষ্মণ এর আগে একাধিক বার অন্তর্বর্তী কোচের দায়িত্বও সামলেছেন। ফলে ভারতীয় দলের পরিবেশ তাঁর অজানা নয়। তবে বড় দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রে লক্ষ্মণের আগ্রহ নিয়ে এখনও কিছুটা সংশয় রয়েছে। একই কারণে প্রধান নির্বাচক হিসাবে তিনি দায়িত্ব নেবেন না বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতীয় ক্রিকেটে কোচ এবং ক্রিকেটার হিসাবে অনিল কুম্বলের অবদান অনস্বীকার্য। গুরুত্বপূর্ণ এই পদে তাঁর নেতৃত্বগুণ কাজে আসতে পারে। গত কয়েক বছরে বড় কোনও দায়িত্বে দেখা যায়নি তাঁকে। ফলে ‘মিস্টার জাম্বো’-কে নির্বাচক প্রধান হিসাবে বেছে নেওয়া হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। রাহুল দ্রাবিড়কে এই দায়িত্বে আনা হলে তা ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে। নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা প্রশ্নাতীত। ক্রিকেট নিয়েও আধুনিক মনস্ক। ভারতীয় দলের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। গৌতম গম্ভীর এবং দলের সিনিয়র ক্রিকেটাররা তাঁকে সম্মান করেন।

২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ক্রিকেট ফিরছে। এখনও অলিম্পিকের স্থায়ী খেলাগুলির তালিকায় জায়গা হয়নি ক্রিকেটের। সেই কারণেই এখনই জাতীয় ক্রীড়ানীতির আওতায় আসতে রাজি নয় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। বোর্ডের বার্ষিক সাধারণ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ক্রিকেটের নাম তালিকাভুক্ত খেলায় উঠলেই নতুন ক্রীড়ানীতির আওতায় আসবে বলে জানিয়ে বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া স্পষ্ট করেন, “জাতীয় ক্রীড়ানীতি নিয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। এখনও বেশ কিছু কাজ বাকি রয়েছে। সেই কাজগুলি শেষ হওয়ার পরে তালিকাভুক্ত খেলাগুলির মধ্যে ক্রিকেট জায়গা পেলেই বিসিসিআই নতুন ক্রীড়ানীতির আওতায় চলে আসবে। তার আগে আমাদের কিছু করার নেই। ক্রিকেটকে কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের কাছ থেকে কোনও অনুদান দেওয়া হয় না। বরং ক্রিকেটের মাধ্যমে সরকার বিপুল পরিমাণ আয়কর পায়। তাই বিসিসিআই আরটিআই আইনের আওতায় পড়বে না বলেই মনে করছে বোর্ড। সাইকিয়ার কথায়, “সরকারি নোটিফিকেশন জারি হলেই নতুন ক্রীড়ানীতির নিয়ম মেনে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করব। আমরা প্রতি বছর সরকারকে প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা আয়কর দিই। সরকারের কাছ থেকে কোনও অনুদান নিই না। যে খেলাগুলি সরকারি অনুদান পায়, তারা আরটিআই আইনের আওতায় পড়বে। আমরা সেই আওতায় পড়ি না।” ২৭ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে শুনানি রয়েছে। সেখানেই বোর্ড তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবে বলে জানিয়েছেন সচিব। সাইকিয়া জানান, নতুন ক্রীড়ানীতি কার্যকর হওয়ার পর প্রয়োজনীয় সরকারি নোটিফিকেশন জারি হলে এবং ক্রিকেট তালিকাভুক্ত খেলায় জায়গা পেলে তখনই সেই নীতি অনুযায়ী পদক্ষেপ করবে বিসিসিআই।

ভারতের মাল্টি-ডে স্কোয়াড: আমন মোখাড়ে, আয়ুষ পান্ডে, দেবদত্ত পাড়িক্কল (অধিনায়ক), সাই সুদর্শন (সহ-অধিনায়ক), যশ রাঠোর, শেখ রশিদ, কুমার কুশাগ্র, শামস মুলানি, তনুশ কোটিয়ান, তুষার দেশপান্ডে, অংশুল কম্বোজ, প্রফুল্ল হিঙ্গে, এন জগদীশন, নচিকেত ভুটে, ভি বৈশ্য।

ভারতের ওয়ানডে স্কোয়াড: প্রিয়াংশ আর্য, সাই সুদর্শন, দেবদত্ত পাড়িক্কল, রুতুরাজ গায়কোয়াড় (অধিনায়ক), রজত পতিদার, কুমার কুশাগ্র, নিশান্ত সিন্ধু, টি বিজয়, অর্শিন কুলকার্নি, আর্শাদ খান, নমন ধীর, হার্দিক পাণ্ডিয়া*, প্রভসিমরন সিং, গুরজপনীত সিং, যশ ঠাকুর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles