RK NEWZ ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ প্রতীক এবং ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসে’র নাম ফ্রিজ। প্রতীক হল ফুটবলার। ২০২১ সালে রাজ্যে ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের নির্বাচনে ‘খেলা হবে’ স্লোগান বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। সেই স্লোগান মনে করিয়েই খেলার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রতীকে কালীঘাট শিবির। দলের নামের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেগ জুড়ে দিয়েছে কালীঘাট শিবির। সেকারণে দলের নাম ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘জোড়াফুল অনেক রক্ত ও সংগ্রাম দিয়ে গড়া। গত ২৯ বছর কর্মীদের লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে সংগঠন তৈরি। ফলে কাউকে কাড়তে দেব না। গণতান্ত্রিক ও আইনি পথে লড়াই চালিয়ে যাব। উপনির্বাচনের জন্য সাময়িকভাবে বিকল্প নাম, প্রতীক মেনে নিয়েছি। কিন্তু লড়াই করেই পুরানো প্রতীক ফিরিয়ে নেব।’ ঘাসের উপর জোড়া ফুল, একটি ফুল ছোটো, একটি বড়। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে তৃণমূলের দুই শিবিরেরই হাতছাড়া নাম ও প্রতীক। এই পরিস্থিতিতে, জোড়াফুল প্রতীক তাঁর আঁকা বলে জানিয়ে, মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের বিরুদ্ধে মিথ্য়াচারের অভিযোগ করেন শিল্পী সোমনাথ চৌধুরী। ২৮ বছরের এই প্রতীকই ফ্রিজ করেছে নির্বাচন কমিশন। হিমঘরে গিয়েছে তৃণমূল নামও। ফলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে তৃণমূলের দুই শিবিরেরই হাতছাড়া নাম ও প্রতীক। এই পরিস্থিতিতে, জোড়াফুল প্রতীক তাঁর আঁকা বলে জানিয়ে, মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের বিরুদ্ধে মিথ্য়াচারের অভিযোগ করে শিল্পী সোমনাথ চৌধুরী বলেন, ‘এই পার্টিটা তো থাকবেই না, তার কারণ হচ্ছে, আমাকে মিথ্যে বলেছে। চুরি করেছে আমার কাছ থেকে। চোর! এই চোরের জিনিস থাকে না। সত্য়ের জয় হবেই। দেরি হল, কিন্তু হল তো বটে ২৮ বছর বাদে। এই ফুলটা নিয়ে কিন্তু সে কোনও কাজও করতে পারল না। হবে না। থাকবে না। সিম্বল থাকবে না। ৭ দিন বাদেই আমাকে অজিত পাঁজা আমাকে ইনফর্ম করেন যে আমাদের এরকম একটা ফুল আঁকতে হবে। ফুলটা অনেক বড় কাজে দেবে। দেওয়ার পরে উনি (অজিত পাঁজা) বললেন যে ঠিক আছে, এইটাকে ফাইনাল করো। তারপরে ৫ মিনিট বাদেই দেখছি আমাকে এক বন্ধু বলল তুই দেখেছিস, টিভিটা খোল। দেখি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎকার ৫ মিনিটের মধ্যে। সে কতরকমভাবে বলছে মিথ্য়ে মিথ্যে যে আমি মামাবাড়ি যেতাম। মামাবাড়ি গিয়ে দেখতাম কাশফুল দেখতাম। কাশফুল দেখে ভাবতাম যে আমার জীবনে যদি আমি কিছু করি, তখন আমি এটাকে কাজে লাগাব। তো এরকম ভেবে ভেবে আজ আমি সুযোগ পেয়েছি আমি নিজের হাতে প্রথম থেকে শুরু করে শেষ করেছি। এরকম বলছে। মিথ্য়েটা এত বড় বলল কেন? জন্ম হল পার্টিটার। মিথ্য়েটা কেন বলল? পুলিশের ঊর্ধ্বতন সে বলল না না তুমি বলতে যেও না, তুমি ভুলে যাও এটা করে। তুমি আর মনে রেখো না। পার্টি সব উচ্চমহলে সব জানে, যে আমি এটা করেছি। আমি নির্বাচন কমিশনারকে অনেক ধন্যবাদ জানাব, নমস্কার জানাব, যে আমার মনে একটা আনন্দ দিয়েছেন উনি এটা ফ্রিজ করে দিয়ে। ফুলটা এখনও পর্যন্ত আমারই করা কিন্তু। যেহেতু স্বীকৃতি দেয়নি ওরা। যে স্বীকৃতি দেবে আমার মনে হয় ওই তাদের কাছেই যাওয়া খুব ভাল হবে। ওরা স্বীকৃতি দিক, আর লোগোটা নিক। আমার কোনও অসুবিধা নেই। আমি করেছি এইটুকু বলুক।’ মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় থেকে তাঁর দলের অনেকেই বারেবারে দাবি করেছেন জোড়াফুল প্রতীক দলনেত্রীর আঁকা। শিল্পী সোমনাথ চৌধুরীর দাবি ওরা চোর! এই চোরের জিনিস থাকে না। সত্য়ের জয় হবেই। আপাতত সোমনাথ শুধু চান স্বীকৃতি।

সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ২৮ বছর পর নির্বাচনী প্রতীক ‘জোড়া ফুল’ হারালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজেই দলের প্রতীক হিসেবে এঁকেছিলেন জোড়া ফুল। দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে মমতা ও তৃণমূলের অবিচ্ছেদ্য পরিচয় হয়ে থাকা সেই জোড়া ফুল প্রতীক এবার রাজ্য রাজনীতির দৃশ্যপট থেকে সাময়িকভাবে হলেও হারিয়ে গেল। দলের অভ্যন্তরে নজিরবিহীন ভাঙন ও আইনি লড়াইয়ের মুখে প্রতীকটি স্থগিত করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। ফলে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভার দুটি শূন্য আসনের উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলকে লড়তে হবে নতুন নাম ‘মমতা তৃণমূল কংগ্রেস’ ও নতুন প্রতীক ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ নিয়ে। এ বছরের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ২০৮টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে এবং শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হন। বিপরীতে তৃণমূল পায় মাত্র ৮০টি আসন। এই শোচনীয় পরাজয়ের পর দলে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের এক পর্যায়ে ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৫ জন বিধায়ক মমতার বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে দল ছাড়েন। বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই বিদ্রোহী ৬৫ জন বিধায়ক পাল্টা তৃণমূল গড়ে তোলেন এবং বিধানসভায় প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পান। সেখানে বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত হন ঋতব্রত নিজেই। পরবর্তী সময়ে বিবদমান উভয় পক্ষই নিজেদের মূল তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করে দলের ঐতিহ্যবাহী ‘জোড়া ফুল’ প্রতীকের ওপর অধিকার দাবি করে। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত ভারতের নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত গড়ায়। ১২ ও ১৭ সেপ্টেম্বর দিল্লির নির্বাচন সদরে উভয় পক্ষের ১০ জন প্রতিনিধির উপস্থিতিতে কমিশনের ফুল বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। কাগজপত্র পর্যালোচনা শেষে নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের ‘জোড়া ফুল’ প্রতীকটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত জানায়। একই সঙ্গে আসন্ন উপনির্বাচনে উভয় পক্ষকে বিকল্প নাম ও প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার নির্দেশ দেয়। মমতার পক্ষ থেকে তিনটি নাম ও দুটি প্রতীকের প্রস্তাব করা হয়েছিল। নামগুলো ছিল—‘মমতা তৃণমূল কংগ্রেস’, ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল মমতা কংগ্রেস’ ও ‘সর্বভারতীয় মমতা তৃণমূল কংগ্রেস’। আর প্রতীকের তালিকায় ছিল ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ ও ‘ব্যাট’। নির্বাচন কমিশন মমতার দলের জন্য ‘মমতা তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক বরাদ্দ করে। একই সঙ্গে জানিয়ে দেওয়া হয়, মমতার পক্ষ আর ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামটি ব্যবহার করতে পারবে না।



