RK NEWZ প্রতি বছর নভেম্বর মাসে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব হয়। এ বছর ডিসেম্বরে আয়োজিত হবে এই উৎসব। পাশাপাশি, এ বার থেকে উত্তম কুমারের মৃত্যুদিনে নয়, জন্মদিন উদ্যাপন করা হবে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। ১৬ ডিসেম্বর চলচ্চিত্র উৎসব শুরু হবে। চলবে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। নন্দনে ওই বৈঠকের শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, ‘‘দিল্লিতে ফিল্ম ডিভিশনের সঙ্গে কথা বলে জাতীয় ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, এ বার ১৬ থেকে ২৩ ডিসেম্বর কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব হচ্ছে। এটা আমরা জাতীয় ও অন্য রাজ্যগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে উৎসবটা করছি।’’ এ বছর উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষে রাজ্য সরকার বড় করে অনুষ্ঠান করতে চলেছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী ৩ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর রাজ্য সরকার নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এ নিয়ে আলোচনার জন্য রাজ্যের বিনোদনজগৎ-সহ নানা ক্ষেত্রের বেশ কিছু বিশিষ্টজনদের নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে কী কী থাকছে, তা সরকার থেকে যথাসময়ে জানানো হবে। পাশাপাশি, ওই অনুষ্ঠান সফল করতে প্রত্যেকেরই পরামর্শ চাওয়া হয়েছে বলেও মুখ্যমন্ত্রী জানান। নন্দনে একটা ক্যাম্প অফিসও করা হবে। সেখানে যে কেউ এসে পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। তিনি সেইসঙ্গে জানান, চার দিনের এই অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সামনের এক বছর উত্তম কুমারকে নিয়ে নানা অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তাঁর কাছে উত্তম কুমারের সেরা ছবি কী, এই প্রশ্নের জবাবে এ দিন শুভেন্দু বলেন, ‘‘এটা আমি এখনই কিছু বলব না। জন্মশতবর্ষ অনুষ্ঠানের সময় এটা বলব। আমার মুখ্যমন্ত্রিত্ব বা তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী থাকাকালীন উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানের আয়োজন করছি। এটা আমার কাছে ঈশরের আশীর্বাদ ছাড়া কিছুই নয়। এটা ঈশ্বরের আশীর্বাদ ছাড়া সম্ভব নয়। উত্তমকুমার নায়কদের নায়ক তাই তিনি মহানায়ক।’’
বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগের প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতা মহানায়ক উত্তমকুমার। তিনি শুধু একজন শিল্পীই নন, বাঙালির সংস্কৃতি, আবেগ ও আত্মপরিচয়ের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। উত্তমের অভিনয়শৈলী, ব্যক্তিত্ব আর অসামান্য শিল্পসাধনা বাংলা চলচ্চিত্রকে জীতায় ও আন্তর্জাতিকস্তরে এক অন্য মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে। ছাব্বিশ সালে উত্তম কুমারের জন্ম শতবর্ষে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আহ্বানে নন্দনে একজোট টলিউডের শিল্পীরা। কিংবদন্তি উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ উদযাপনের উদ্দেশ্যেই এই আলোচনা সভা ডাকেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিন নন্দনে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী-সহ তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী সহ বিজেপির বেশ কয়েকজন বিধায়ক যাঁরা টলিউডের সদস্য। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে নন্দনে এসেছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী, মমতা শংকর, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, গৌতম ঘোষ, জিৎ, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, চিরঞ্জিত চক্রবর্তী, যিশু সেনগুপ্ত, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, বনি সেনগুপ্ত, কৌশানি মুখোপাধ্যায়, পায়েল সরকার সহ আরও অনেকে। উত্তম কুমারের জীবন এবং চলচ্চিত্রকে কেন্দ্র করে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। ভারতীয় ডাক বিভাগও কিংবদন্তির জন্মশতবার্ষিকী পালনে সামিল হয়েছে। উত্তম কুমার ‘ডাক কভার’ স্মারক প্রকাশ করার ভাবনাও রয়েছে। মহানায়কের স্মৃতি বিজড়িত স্থানগুলি পরিদর্শনের জন্য হেরিটেজ ওয়াকের আয়োজন করা হবে। নিউ টাউনে ‘উত্তম কুমার জন্মশতবার্ষিকী ফিল্ম সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করার সংকল্প নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ কলকাতার উত্তম মঞ্চের সংস্কার এবং আধুনিকীকরণ করবে রাজ্য সরকার।
এক নজরে দেখে নিন উত্তম স্মরণে কী কী উদ্যোগ নেওয়া হল।
৩ সেপ্টেম্বর মহানায়কের স্মৃতির উদ্দশ্যে বিশেষ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ছাড়াও বাংলা চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হবে।
মহানায়ক উত্তম কুমারের জীবন ও চলচ্চিত্রকে কেন্দ্র করে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।
ভারতীয় ডাক বিভাগের তৈরি উত্তমকুমার শতবার্ষিকী বিশেষ স্মারক ‘ডাক কভার’ ও স্মারক গ্রন্থ প্রকাশিত হবে।
মহানায়কের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলি পরিবদর্শন করার জন্য একটি হেরিটেজ ওয়াক অনুষ্ঠিত হবে।
নন্দন চত্বরে তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের উদ্যোগে মহানায়কের বিরল আলোকচিত্র, চলচ্চিত্র পোস্টার, স্মারক, ইত্যাদি সামগ্রীর বিশেষ প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হবে।
নন্দনের নিকটবর্তী প্রেক্ষাগৃহে চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞ, গবেষক, শিল্পী ও সমালোচকদের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে নিউটাউনে ‘উত্তমকুমার জন্ম শতবার্ষিকী ফিল্ম সেন্টার’ প্রতিষ্ঠিত হবে।
দক্ষিণ কলকাতা পৌর নিগম পরিচালিত ‘উত্তম মঞ্চ’র সৌন্দর্যায়ন ও অধুনিকীকরণ করা হবে।
৩২ তম চলচ্চিত্র উৎসব এবছর অনুষ্ঠিত হবে ১৬ থেকে ২৩ ডিসেম্বর।



