RK NEWZ হার বাঁকিপুরে। মধ্যপ্রদেশের দতিয়া এবং গুজরাতের মঞ্জলপুর বিধানসভা উপনির্বাচনেও লক্ষণীয় ভাবে ভোট কমেছে বিজেপির। মঞ্জলপুর বিজেপি এবং দতিয়া আসন ধরে রেখেছে কংগ্রেস। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের ছেড়ে দেওয়া বাঁকিপুর বিধানসভা আসনে ১৯ হাজারেরও বেশি ব্যবধানে পিকে হারিয়েছেন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী, বিজেপি প্রার্থী নীরজ কুমারকে। পিকে পেয়েছেন ৬৩ হাজারেরও বেশি ভোট। নীরজ সাকুল্যে ৪৫ হাজার! ১৫ হাজার ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন বিহারের প্রাক্তন শাসকদল আরজেডির প্রার্থী রেখা কুমারী। গত ১৫ এপ্রিল বিহারের প্রথম বিজেপি নেতা হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীপদে শপথ নিয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন সম্রাট চৌধরী। সাড়ে তিন মাসের মাথাতেই বাঁকিপুর উপনির্বাচনে ধাক্কা খেল বিজেপি। সেখানে এক ধাক্কায় ‘পদ্ম’ চিহ্নের ভোট প্রায় অর্ধেক হয়ে গিয়েছে! শুধু বিহার নয়, মধ্যপ্রদেশের দতিয়া এবং গুজরাতের মঞ্জলপুর বিধানসভা উপনির্বাচনেও ভোট কমেছে বিজেপির। মঞ্জলপুর ধরে রাখলেও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে দীর্ণ মধ্যপ্রদেশের দতিয়ায় কংগ্রেস জিতে গিয়েছে। অনেকেই বলেন, তাঁর তৈরি ‘আইপ্যাক’ ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের বৈতরণী পার করিয়ে দিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলকে। চার বছর পরে ‘ভোটকুশলী’ তকমা ছেড়ে সরাসরি রাজনীতির ময়দানে নেমে প্রশান্ত কিশোর (যিনি পিকে নামেই রাজনৈতিক মহলে সমধিক পরিচিত) জোরদার ধাক্কা খেয়েছিলেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে বিহারের বিধানসভা ভোটে মুখ থুবড়ে পড়েছিল তাঁর গড়া জনসুরাজ পার্টি। কিন্তু ন’মাসের মাথাতেই মগধভূমের রাজনীতি সাক্ষী হল এক চমকপ্রদ প্রত্যাবর্তনের। বাঁকিপুর কেন্দ্রে তিনি জয়ী হলেন ১৯ হাজারেরও বেশি ভোটে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলনের পরে এই প্রথম কোনও ভোটের মুখোমুখি হয়েছিল বিজেপি। ফলাফল সুখকর হল না তাদের কাছে। দিল্লির যন্তর মন্তরের পরে বিহারই নিট-দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনে সবচেয়ে অশান্ত হয়েছিল। যার প্রভাব উপনির্বাচনে পড়েছে বলে বিহারের বিজেপি নেতাদেরও একাংশ মেনে নিয়েছেন। গত ৩০ জুলাই বাঁকিপুরের সঙ্গেই মধ্যপ্রদেশের দতিয়া এবং গুজরাতের মঞ্জলপুরেও উপনির্বাচন হয়েছিল। দু’টি আসনই ধরে রেখেছে গত বারের নির্বাচনে জয়ী দুই দল, কংগ্রেস এবং বিজেপি। ৩০ জুলাই ওই তিন আসনে উপনির্বাচন হয়েছিল। বাঁকিপুরে ভোট পড়েছিল মাত্র ৩৪ শতাংশ। তার পরেও পিকের জয়ের ব্যবধান তাৎপর্যপূর্ণ। বস্তুত এই প্রথম বার ‘বিজেপির দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত পটনা সাহিব লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বাঁকিপুরে পরাস্ত হল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দল। বাঁকিপুর বিধানসভার বড় অংশ আগে পটনা পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯৯৫ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত পর পর চার বার এই কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিলেন নিতিনের পিতা নবীন কিশোর প্রসাদ সিন্হা। ২০০৮ সালের আসন পুনর্বিন্যাসের পরে ২০১০ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত টানা চার বার জয়ী হন নিতিন। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পরে রাজ্যসভায় নিতিনকে জিতিয়ে এনেছিল দল। তিনি বিধায়কপদে ইস্তফা দেওয়ায় বাঁকিপুরে উপনির্বাচন হয়। বাঁকিপুরে প্রথমে অভিষেক কুমারকে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। কিন্তু তাঁকে টিকিট দিয়ে নিতিন পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি করছেন বলে দলের অন্দরে অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি, অভিষেকের পরিবারের নাম অতীতে জালিয়াতি বা পশুখাদ্য কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েছিল। এই পরিস্থিতিতে প্রার্থী বদল করতে হয়েছিল বিজেপিকে। কিন্তু তাতে কাজ হল না।
২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে নরেন্দ্র মোদী তথা বিজেপির অন্যতম পরামর্শদাতা ছিলেন পিকে। তার পর বিভিন্ন দলের হয়ে তিনি কাজ করেছেন। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ১৮টি আসন জিতে ‘ধাক্কা’ দিয়েছিল তৃণমূলকে। তার পরেই পিকে-কে পরামর্শদাতা হিসাবে নিয়োগ করেছিল তৃণমূল। মমতার দল ফলও পেয়েছিল। কিন্তু গত বছর নতুন দল গড়ে বিহারের ভোটে লড়তে গিয়ে শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছিল পিকে-কে। তাঁর জনসুরাজ পার্টি একটিও আসনে জিততে পারেনি। ২৪৩ আসনের বিহার বিধানসভায় ২৩৮টিতে প্রার্থী দিয়ে ভোট পেয়েছিল সাকুল্যে ৩.৩৪ শতাংশ (তবে সেই নির্বাচনে তিনি নিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি)। কিন্তু তার পরেও হাল ছাড়েননি তিনি। যে পিকে ভোটকুশলী হিসাবে নগদ দেওয়ার রাজনীতি, জাতপাত, ধর্ম-বর্ণের অঙ্ক কষে রণকৌশল সাজাতেন, সেই তিনিই নেতা হয়ে হেঁটেছিলেন ভিন্ন পথে। গান্ধীর দর্শনে গোটা বিহার জুড়ে যাত্রা করে, নতুন প্রজন্মের সঙ্গে সরাসরি আলাপচারিতার মাধ্যমে প্রচারের ধাঁচে নিজেকে ভিন্ন গোত্রের রাজনীতিক হিসাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর প্রচারে বেশি বেশি করে উঠে আসছিল বিহারের ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ। কেন তাঁরা পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে অন্য রাজ্যে থাকেন? কেন রাজ্যে কাজ নেই? কেন জাত-ধর্মের বৈষম্য? তুলে ধরেছিলেন বিহার এবং বিহারীর মর্যাদার প্রশ্নও। ভোটের ফল বলছে তাঁর সেই প্রচার সাড়া ফেলেছে জাতপাতের রাজনীতি-দীর্ণ বিহারে। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের তরফে হার স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে তাঁদের সাফাই, সাম্প্রতির নিট-প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে উপনির্বাচনে। পাশাপাশি, ‘পদ্ম’ শিবিরের খোঁচা— ‘‘ভোটে হারলেও আমরা বিরোধীদের মতো ইভিএম নিয়ে প্রশ্ন তুলব না।’’ অন্য দিকে পিকে বলেন, ‘‘এ জয় বাঁকিপুরের মানুষের জয়। নির্বাচনী প্রচারের সময় আমরা বলেছিলাম, এটি শুধু এক জন বিধায়ক নির্বাচনের ভোট ছিল না। এটি ছিল বিহারের মানুষের পক্ষ থেকে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে এই বার্তা দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা যে, তারা যেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে একজন ভাল মানুষকে নিয়োগ করেন… তারা চান না যে অপরাধমূলক পটভূমি রয়েছে বা যার আচরণ, চরিত্র বা সুনাম প্রশ্নবিদ্ধ—এমন কেউ বিহারের নেতৃত্ব দিক।’’ মধ্যপ্রদেশের দতিয়ায় কংগ্রেস প্রার্থী ঘনশ্যাম সিংহ ছ’হাজারের বেশি ভোটে বিজেপির আশুতোষ তিওয়ারিকে হারিয়েছেন। ২০২৩ সালের বিধানসভা ভোটে জয়ী কংগ্রেস বিধায়ক রাজেন্দ্র ভারতী আদালতের রায়ে একটি দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ওই আসনটি শূন্য হয়েছিল। ২০২৩ সালের বিধানসভা ভোটে বিজেপি প্রার্থী তথা মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরোত্তম মিশ্র দতিয়ায় প্রায় ৪৬ শতাংশ ভোট পেলেও এ বার তা ৩৯ শতাংশেরও নীচে নেমেছে। এ বার সেখানে নরোত্তমের বদলে আশুতোষ তিওয়ারিকে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন স্থানীয় বিজেপি নেতা-কর্মীদের একাংশ। টিকিট না পাওয়ায় প্রকাশ্যে কাঁদতেও দেখা গিয়েছিল নরোত্তমকে।অন্য দিকে, গুজরাতের মঞ্জলপুরে ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় ৭৬ শতাংশ ভোট পেলেও এ বার বিজেপি প্রার্থীর ঝুলিতে গিয়েছে ৬৭ শতাংশ। কংগ্রেসের ভোট ১২ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৩০ শতাংশ।
জাতপাতের অঙ্ক উল্টে দিল বাঁকিপুর, মুখ ফেরাল বিজেপির ভোটব্যাঙ্ক, পিকের জয়ের নেপথ্যে কি ককরোচ?বছর কয়েক আগেকার কথা। বলিউডের গীতিকার ও কৌতুকশিল্পী বরুণ গ্রোভার একটি ‘টক শো’তে বলেছিলেন, ‘‘বিহার-উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যের মানুষকে জাতপাতের ভিত্তিতে ভোট করা যাবে না বললে তাঁরা ভারী মুশকিলে পড়বেন। জাতপাত না দেখে ভোট দিতে হবে? তা হলে কী দেখে ভোট দেব? সরকার কেমন কাজ করেছে? চাকরি হচ্ছে কি না? উন্নয়ন হচ্ছে কি না? বিরোধীরা কী প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে? এত সব দেখে কি ভোট দিতে হবে!’’ হিন্দি বলয়ের ভোটের সেই চেনা ছকটাই বদলে দিল বিহারের বাঁকিপুর। সৌজন্য, প্রাক্তন ভোটকুশলী তথা জনসুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা-প্রধান পিকে। গত তিন দশক ধরে ‘বিজেপির দুর্ভেদ্য দুর্গ’ হিসাবে পরিচিত বাঁকিপুরে সবচেয়ে বেশি ভোটার কায়স্থেরা। বিহার রাজনীতিতে ভূমিহার, লালা (বানিয়া) রাজপুতদের পাশাপাশি তাঁরাও বিজেপির ‘একনিষ্ঠ ভোটব্যাঙ্ক’ হিসেবে পরিচিত। বাঁকিপুর যে পটনা সাহিব লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সেখানে ২০০৯ সাল থেকে টানা বিজেপির টিকিটে জিতে চলেছেন শত্রুঘ্ন সিন্হা (বর্তমানে তৃণমূল সাংসদ), রবিশঙ্কর প্রসাদের মতো কায়স্থ প্রার্থীরা। বাঁকিপুরের বিদায়ী বিধায়ক তথা বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনও জাতিতে কায়স্থ। পরিসংখ্যান বলছে, রাজধানী পটনার ওই বিধানসভা আসনে ১৪ শতাংশ কায়স্থ, ১২ শতাংশ যাদব (ওবিসি), ১২ শতাংশ মুসলিম, ৯ শতাংশ চন্দ্রবংশী (‘অতি পিছড়া’ বা ইবিসি গোষ্ঠীভুক্ত কাহার), ৯ শতাংশ বানিয়া, ৯ শতাংশ দলিত (তফসিলি জাতি বা এসসি), ৮ শতাংশ ভূমিহার, ৮ শতাংশ ব্রাহ্মণ, ৭ শতাংশ রাজপুত, ৫ শতাংশ কুর্মি (ওবিসি) এবং ৩ শতাংশ কুশওয়াহা (ওবিসি) ভোট রয়েছে। ভোটের ফল বলছে ব্রাহ্মণসন্তান পিকে সেখানে জয়ী হয়েছেন ৪৯ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়ে। বিজেপির প্রাপ্ত ভোট ৩৪ শতাংশের সামান্য বেশি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদের দল আরজেডি পেয়েছে ১১ শতাংশেরও কম ভোট! বিহার রাজনীতিতে বিজেপির তথাকথিত ‘উচ্চবর্ণ’ (এর মধ্যে বানিয়ারা বিহারে ওবিসি তালিকাভুক্ত হলেও দেশের অন্যত্র অসংরক্ষিত জাতির অন্তর্গত) ভোটব্যাঙ্কের উপস্থিতি বাঁকিপুরে ৩৭ শতাংশেরও বেশি। এর উপর ছিল জোটশরিক নীতীশ কুমারের দল জেডিইউ এবং উপেন্দ্র কুশওয়াহার রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চা কুর্মী –কোয়েরী-কুশওয়াহা এবং প্রভাবশালী দুই দলিত নেতা চিরাগ পাসোয়ানের দল লোক জনশক্তি পার্টি (রামবিলাস) এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জিতনরাম মাঁঝির ‘হিন্দুস্থান আওয়াম মোর্চা’ (হাম)-র সমর্থন। কিন্তু তবুও মাত্র ন’মাসের ব্যবধানে বিজেপির ভোট প্রায় অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি, ককরোচ জনতা পার্টির প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলনের (দিল্লির পাশাপাশি যে আন্দোলনের তীব্রতা পটনাতেও ছিল প্রবল, এবং আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী তরুণ প্রজন্মের বড় অংশ ছিল অসংরক্ষিত শ্রেণির) প্রভাব পড়ার পাশাপাশি আরও দু’টি কারণে বাঁকিপুরে বিজেপির ভোটব্যাঙ্কে ধস নেমেছে— প্রথমত, বিজেপির প্রার্থী নীরজ কুমার। শেষ মুহূর্তে বিতর্কের কারণে প্রার্থী বদল করে তাঁকে আনা হয়েছিল। জাতিতে কায়স্থ হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে বিধায়ক হওয়ার উপযুক্ত মনে করেননি বিজেপি চিরাচরিত সমর্থকদের একটি অংশ। দ্বিতীয়ত, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সম্রাটের মতো কুশওয়াহা নেতাকে বেছে নেওয়ায় তাদের ‘উচ্চবর্ণ’ ভোটব্যাঙ্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আরজেডি-র মতো ‘যাদব-মুসলিম’ সমর্থন-নির্ভর দলকে তাঁরা ভোট দেননি। পরিবর্তে বেছে নিয়েছেন ব্রাহ্মণ নেতা পিকে-কে। বিহারের ‘উচ্চবর্ণ’, ওবিসি এবং ইবিসিদের মধ্যে নীতীশই ছিলেন এনডিএ-র যোগসূত্র। তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরানোয় ক্ষত মেরামত করা সম্ভব হয়নি। তা ছাড়া, পিকে কখনও জাতপাত-নির্ভর রাজনীতি না করায় ওবিসি, দলিত এবং মুসলিম ভোটের একটি অংশও তাঁর দিকে গিয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান।




