RK NEWZ প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা জালিয়াতি রুখতে সংসদে আসছে ‘পাবলিক এগ্জ়ামিনেশন বি ৪২০২৬’। ১০ বছরের কারাদণ্ড, ১০ কোটি টাকা জরিমানা ও ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের বিধানসহ কী কী থাকছে এই বিলে? কেলেঙ্কারি এবং দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের প্রবল আন্দোলনের মুখে অবশেষে বড়সড় অ্যাকশনে মোদী সরকার। পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং প্রশ্নফাঁস চক্রের কোমর ভাঙতে আজ, সোমবার সংসদে পেশ হতে চলেছে ‘পাবলিক এগ্জ়ামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৬’। ককরোচ জনতা পার্টির টানা ৩৬ দিনের আন্দোলন ও ছাত্রবিক্ষোভের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। এবার জালিয়াতি রুখতে আইনের রাশ আরও শক্ত করতে চলেছে কেন্দ্র।
সংশোধনী বিলে কী কী কড়া শাস্তির বিধান থাকছে?
লোকসভায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং সোমবার বিল পেশ করবেন। এই খসড়া বিলে প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়মকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এতে প্রধান বিধান রাখা হয়েছে।
কঠোর শাস্তি ও জরিমানা: প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার সংস্থান রয়েছে।
দ্রুত বিচার: ফাস্ট ট্র্যাক আদালতের মাধ্যমে মাত্র ৪ মাসের মধ্যে মামলার শুনানি ও বিচার প্রক্রিয়া শেষ করার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকছে।
সংগঠিত চক্রের বিরুদ্ধে অ্যাকশন: শুধু ব্যক্তিস্বার্থ নয়, উত্তরপত্রে কারচুপি, ডিজিটাল মিডিয়ায় প্রশ্ন ছড়ানো, কম্পিউটার হ্যাকিং বা কোনও কোচিং সংস্থা ও পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এতে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করা চেষ্টা করলে অপরাধীদের ঠাঁই হবে জেলে। একদিকে যেমন আইনি প্রক্রিয়া কড়া করা হচ্ছে, অন্যদিকে পরীক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারে নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে গঠন করা হয়েছে ৬ সদস্যের একটি হাই-পাওয়ার্ড টাস্কফোর্স। এতে ইসরোর প্রাক্তন চেয়ারম্যান এস সোমনাথ, প্রাক্তন আইবি ডিরেক্টর তপন ডেকা এবং আইআইটি মাদ্রাজের অধিকর্তা ভি কামাকোটির মতো বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন। এনটিএ (NTA)-র ৪৭ জন আধিকারিককে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষা সচিবকেও পদ থেকে সরানো হয়েছে। আইন সংশোধন হলেও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এবং ‘ইন্ডি’ জোটের দাবি, কেবল সাজা বাড়িয়ে লাভ হবে না, আগে দুর্নীতির গোড়ায় আঘাত হানতে হবে। আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের উপর পুলিশের বলপ্রয়োগের ঘটনার প্রতিবাদে লোকসভায় সরব হয়েছেন রাহুল গান্ধী ও তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষেরা। সব মিলিয়ে, এই বিলকে কেন্দ্র করে আজ সংসদের অধিবেশন উত্তপ্ত থাকারই ইঙ্গিত মিলছে।




