Tuesday, July 21, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

কী হয়েছিল ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই? শুভেন্দু বললেন, ‘মমতার সাক্ষ্যই নেয়নি’

RK NEWZ বাংলার ক্ষমতায় এসেই ২১ জুলাই কী হয়েছিল, তা প্রকাশ্যে আনতে কমিটি গঠন করেছিল তৎকালীন তৃণমূল সরকার। কিন্তু ১৫ বছরেও রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসেনি। ২১ জুলাইয়ের প্রাক্কালে নিয়ম মেনে বিধানসভায় সেই রিপোর্ট পেশ করলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ২১ জুলাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেগের দিন। বাংলার ক্ষমতায় এসেই ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই কী হয়েছিল, তা প্রকাশ্যে আনতে কমিটি গঠন করেছিল তৎকালীন তৃণমূল সরকার। কিন্তু ১৫ বছরেও রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসেনি। সোমবার ৩৩ তম ২১ জুলাইয়ের প্রাক্কালে নিয়ম মেনে বিধানসভায় সেই রিপোর্ট পেশ করলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রিপোর্ট তুলে ধরে তিনি জানালেন, “মণীশ গুপ্তের নির্দেশই গুলি চলেছিল। পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর যথার্থতা প্রমাণিত হয়নি।” সাক্ষীদের তালিকাও তুলে ধরেন তিনি। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের প্রধান সাক্ষী হওয়ার কথা, তাকেই নাকি ডাকেনি কমিশন! ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই। বাংলার ক্ষমতায় বামেরা। তৎকালীন যুবকংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সচিত্র পরিচয়পত্রের দাবিতে মহাকরণ অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছিল তিলোত্তমা।তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর স্বরাষ্ট্রসচিব মণীশ গুপ্তর নির্দেশে গুলি চলেছিল বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে। তাতে ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মী নিহত হন। ২০১১ সালে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসেই একুশে জুলাইয়ের সেই ঘটনার যথাযথ তদন্তের জন্য বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন গঠন করেন মমতা। তারপর পেরিয়েছে ১৫ বছর। রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসেনি। তবে যে মনীশ গুপ্তের নির্দেশে গুলি চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল, তাঁকে মন্ত্রিসভায় জায়গা দিয়েছিলেন মমতা। তা নিয়ে কংগ্রেস ও বিক্ষুব্ধ তৃণমূলের মধ্যে ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। শহিদদের হয়ে সর্বদা সুর চড়ালেও কেন কমিশনের রিপোর্ট ফাইল বন্দি করেই ফেলে রাখল তৃণমূল সরকার? শুভেন্দুর দাবি, তৃণমূল সরকারের প্রাক্তন বিদ্যুৎমন্ত্রী মণীশ গুপ্তকে বাঁচাতেই কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনেনি মমতা। অর্থাৎ শহিদ স্মরণে প্রতিবছর বিরাট আয়োজন করা হলেও আদতে তাঁদের ন্য়ায়বিচার পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টাই করেননি তিনি। তবে কি স্রেফ ভোটবাক্সের কথা ভেবেই প্রতিবছর এই দিনটিকে নিয়ে এত তোড়জোড়? সোমবার অবশেষে সেই ২১ জুলাই কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ করলেন শুভেন্দু। জানালেন, সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য মোট ৪৪ জনকে তলব করা হয়েছিল। তার মধ্যে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য-সহ পুলিশের একাধিক কর্তা ছিলেন। কিন্তু যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনার মূল সাক্ষী হওয়ার কথা, তাঁকেই নাকি ডাকেনি কমিশন! এদিকে প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা পঙ্কজ বন্দ্য়োপাধ্যায়কে তলব করা হলে তিনি সাক্ষ্য দিতে অস্বীকার করেছিলেন। কারণ হিসেবে জানিয়েছিলেন, যে মণীশ গুপ্তের নির্দেশে গুলিচালনার ঘটনা তাঁকেই মন্ত্রিসভায় জায়গা দিয়েছেন মমতা। তাই সাক্ষ্য দেওয়া অযৌক্তিক্ত। এরপরই রিপোর্ট পড়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, সেদিন উসকানি ছাড়াই গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছিল। মণীশ গুপ্তের নির্দেশেই চলে গুলি। তবে তাঁকে কে নির্দেশ দিয়েছিল তা জানা যায়নি। রিপোর্ট অনুযায়ী যেখানে গুলি চলেছিল, তা রাইটার্স বিল্ডিং থেকে অনেকটা দূরে। রাইটার্স বিল্ডিংয়ে বিক্ষোভ আছড়ে পড়তে পারে, তা সম্পূর্ণ কাল্পনিক আশঙ্কা। মেয়ো রোড, রেড রোড, ডোরিনা ক্রসিং-যেখানে যেখানে গুলি চলেছিল, তা পুরোপুরি অপ্রয়োজনীয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles