RK NEWZ চন্দ্রনাথের হত্যা মামলায় আদালতে চার্জশিট দিতে চলেছে সিবিআই। এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসা তথ্য অনুযায়ী, মোট চার জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরেই একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। বিপুল জয়ের পর শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণ করার দিন দুয়েক আগে নিজের বাড়ির সামনেই খুন হয়ে যান তাঁর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। এমন ‘হাইপ্রোফাইল’ খুনের ঘটনায় রাজ্য পুলিশের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। সেই তদন্তের জাল প্রায় গুটিয়ে এনেছে তারা। এ বার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে আদালতে চার্জশিট পেশের। চন্দ্রনাথের হত্যা মামলায় আদালতে চার্জশিট দিতে চলেছে সিবিআই। এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসা তথ্য অনুযায়ী, মোট চার জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রথম দফায় যৌথ অভিযানে তিন জনকে ধরা হয়। এদের মধ্যে দু’জনকে উত্তরপ্রদেশ এবং এক জনকে বিহার থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতেরা পেশাদার ‘শার্প শ্যুটার’। মোবাইল ফোনের ইউপিআই লেনদেন, কল রেকর্ড এবং ডিজিটাল ট্রেল বিশ্লেষণ করে তাদের অবস্থান চিহ্নিত করা হয়। পরে সিবিআই উত্তরপ্রদেশের বলিয়া জেলা থেকে জ্ঞানেন্দ্রপ্রতাপ সিংহ ওরফে মনুকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে কলকাতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক ধারণা, এটি পূর্বপরিকল্পিত ‘সুপারি দিয়ে খুন’। হামলাকারীরা একাধিক মোটরসাইকেলে এসে চন্দ্রনাথের গাড়ির পথ আটকে খুব কাছ থেকে গুলি চালায়। ঘটনার পর রাজ্য পুলিশের সুপারিশে মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি, তদন্তের স্বার্থে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করা হয়। সেই তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করে এ বার চার্জশিট জমা দেওয়ার পথে সিবিআই।

রাজ্যে বিজেপি সরকার গড়ার পর প্রথম বার উত্তরবঙ্গ সফরে এসে সীমান্ত নিরাপত্তায় সর্বাধিক গুরুত্ব দিলেন অমিত শাহ। বিধানসভা ভোটের প্রচারে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বারংবার বলেছেন পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা এবং অনুপ্রবেশের সমস্যার কথা। রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকার সমস্যার জন্য তৎকালীন তৃণমূল সরকারকে দুষেছেন। বিজেপি ক্ষমতায় এলে কী পদক্ষেপ করবেন, সেটাও সংক্ষিপ্ত ভাবে বলেছিলেন। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর বৈঠকে সবচেয়ে গুরুত্ব পেয়েছে শিলিগুড়ি করিডর (যা চিকেনস নেক নামেও পরিচিত)। শিলিগুড়ির উপকণ্ঠে অবস্থিত এলাকাটি প্রতিরক্ষার দিক থেকে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং বিশেষ অংশ। এত দিন চিকেনস নেকের অদূরে অবস্থিত চিন সীমান্ত ছিল নজরদারির মূল কেন্দ্র। কিন্তু সম্প্রতি তাতে যোগ হয়েছে বাংলাদেশ এবং ভুটান সীমান্তও। বাদ রাখা হয়নি নেপালকেও। বিজেপি সূত্রে খবর, শনিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উত্তরকন্যায় যে বৈঠক করেছেন, তাতে আলোচনার অন্যতম বিষয় ছিল সীমান্তে নজরদারি এবং সুরক্ষা। আলোচনা হয়েছে গুন্ডাদমন আইন, জন্ম-মৃত্যুর নথি ডিজিটাইজ়েশন, অবৈধ ভোটার এবং আধার কার্ড বিষয় নিয়েও। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ওই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী তো ছিলেনই। যোগ দেন দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, দুই দিনাজপুর এবং মালদহের বিজেপির জনপ্রতিনিধি থেকে প্রশাসনিক আধিকারিকেরাও। বায়ুসেনার বিশেষ বিমানে বাগডোগরা বিমানবন্দরে নামেন শাহ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে মুখ্যমন্ত্রী নিজে হাজির ছিলেন সেখানে। কদমতলায় বিএসএফের হেড কোয়ার্টারে রাত্রিযাপন করেন শাহ। শনিবার সকাল থেকে ঠাসা কর্মসূচি ছিল তাঁর। উত্তরকন্যার পাশে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখেছেন তিনি। কাঁটাতার লাগোয়া জামুড়িয়া ভিটা, সন্ন্যাসীকাঁটার মতো এলাকা পরিদর্শন করেছেন। শিলিগুড়ির জুমাগাছ বর্ডার আউটপোস্টে গিয়ে বিএসএফ জওয়ানদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং বিএসএফের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি আধুনিক সীমান্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা ঘুরে দেখেন শাহ। অনুপ্রবেশ সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, রেডিয়ো-ভিত্তিক কাঁটাতারের অনুপ্রবেশ শনাক্তকরণের ব্যবস্থা, গেট ম্যানেজমেন্ট সফ্টঅয়্যার ব্যবস্থা দেখেন। সীমান্ত সুরক্ষায় এ সমস্ত প্রযুক্তির কার্যকারিতা এবং প্রস্তুতিও পর্যালোচনা করেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, তার পর উত্তরকন্যায় শাহ যে বৈঠক করেছেন, তাতে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয় উত্তরবঙ্গের সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের বিষয়ে। ওই প্রসঙ্গেই জন্ম-মৃত্যুর নিবন্ধীকরণ ডিজিটাইজ়েশন নিয়েও কথাবার্তা হয়। বস্তুত, নকল পরিচয়পত্র বানিয়ে বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশের উদাহরণ দেখা গিয়েছে প্রচুর। তাই ভারতের মূল ভূখণ্ডকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোকে যুক্ত করেছে যে ‘শিলিগুড়ি করিডর’, তা সুরক্ষিত রাখতে বেশ কিছু পদক্ষেপ করতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রশাসন সূত্রে খবর, বিএসএফ, এসএসবি, রেল-সহ বিভিন্ন দফতরের সঙ্গে প্রথম দফায় বৈঠক হয় শাহের। সেই বৈঠকে জ়িরো টলারেন্সের কথা উঠে এসেছে। চিকেন স্নেক করিডোরে পাচারে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এই সংক্রান্ত কাজে ‘ফ্রি হ্যান্ড’ দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন দফতরকে। পাচারের খবর যে দফতরের কাছে প্রথম আসবে, তারা তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ করবে।




