RK NEWZ বঙ্গ ক্রিকেটেও দ্বৈরথ! সৌরভ গাঙ্গুলি বনাম অভিষেক ডালমিয়া। আর আড়াল নয়। সংঘাত প্রকাশ্যে। সিএবি-তে এখন ‘ওরা-আমরা’ প্রকট। তার প্রমাণ পাওয়া গেল বুধ বিকেলে সিএবি-র জরুরি সভায়। প্রশ্ন। পাল্টা প্রশ্ন। একে অন্যকে আঙ্গুল তুলে কথা বলা। টেবল চাপড়ে অসৌজন্য প্রকাশ করা। এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি চাক্ষুস করে গেলেন সিএবি-‘র আমন্ত্রিত রাজ্য ক্রীড়া দফতরের সচিবের প্রতিনিধি। সিএবি-র ইতিহাসে এটাও হয়তো প্রথম যে, কোনও রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি বৈঠকে উপস্থিত থাকলেন।
অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি। সিএবি-র নথিভুক্ত ক্লাব, সংস্থাদের নিয়ে এই জরুরি সভার ডাকার দুটি কারণ।
(১) ২০ জুলাই কেন যুগ্ম সচিব পদের নির্বাচন করা গেল না তার ব্যাখ্যা দেওয়া।
(২) লোধা নিয়ম মেনে ৭০ বছর বয়স পূর্ণ হলে এবং সংস্থার প্রশাসনে ৯ বছর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ভোট দিতে পারবেন কিনা।
অর্থাৎ লোধা নিয়ম মেনে সিএবি চলছে না। এমন অভিযোগ উঠছে। ৭০ বছর বয়স পূর্ণ হলে এবং সংস্থার প্রশাসনে ৯ বছর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সিএবি-তে প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন না। সিএবি কিন্তু পরিষ্কার বলে দিয়েছে, যা কিছু হচ্ছে নিয়ম মেনেই হচ্ছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে এজিএম-এ যুগ্মসচিব, সচিব বাবলু কোলের ৯ বছর মেয়াদ শেষ হবে এবং অ্যাপেক্স কাউন্সিল কমিটির একটি শূন্য পদ পূর্ণ করা হবে। যদি কারও আপত্তি থাকে তাহলে আদালতে যেতেই পারেন।
অভিষেক ডালমিয়া সৌরভকে উদ্দেশ্য করে বলেন, জরুরি সভায় অ্যাপেন্ডিংক্স ‘এ’ প্রতিনিধিদের হাতে থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু তা সার্কুলেট করা হয়নি। উত্তরে সৌরভ জানান, এই নিয়মেই সিএবি-র সভা হয়ে এসেছে। অভিষেক যখন সিএবি-র প্রশাসনে ছিলেন তখনও এই নিয়মেই হয়েছে। পাল্টা জবাবে অভিষেক বলে ওঠেন, অতীতে ভুল হয়ে থাকলে সেই ভুল বার বার হবে কেন? শুধরে নেওয়া উচিত। সৌরভ ঘনিষ্ঠ বিশ্বরূপ দে’র ৯ বছর মেয়াদ পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। লোধা নিয়মে তাহলে কি তিনি ভোটাধিকার হারাবেন? এই প্রসঙ্গে বিশ্বরূপ অভিষেক ডালমিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকেন, তিনিও সিএবি-র প্রশাসনে ছিলেন। নিয়ম জানেন। তিনি বানের জলে ভেসে আসেননি। অভিষেক তখন রেগে গিয়ে বলেন, তিনিও বানের জলে ভেসে আসেননি। বাকবিতন্ডা চলতে থাকে।
ঘটনার সূত্রপাত, সিএবি-র যুগ্মসচিব পদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। ১২ জুলাই মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। কিন্তু শাসক গোষ্ঠী, বিরোধী গোষ্ঠী কেউ মনোনয়ন পত্র জমা দেয়নি। কারণ, ১১ জুলাই সম্ভবত ১৭ টি জেলা এবং কলকাতার ১০ টি ক্লাব সিএবি কে চিঠি দিয়ে জানায়, লোধা নিয়ম মেনে (৭০ বছর পার করা ও ৯ বছর মেয়াদ শেষ হওয়া নিয়ে) ভোট হচ্ছে না। আরও অভিযোগ, এই যে চিঠি গুলি সিএবি-তে এসেছে সেই চিঠির বয়ান নাকি সব এক। অর্থাৎ কপি-পেস্ট। এখানেই প্রশ্নটা উঠছে, নিয়ম মেনেই যদি সব কিছু হচ্ছে তাহলে সিএবি-র শাসক গোষ্ঠী ১২ জুলাই যুগ্মসচিব পদের নির্বাচনে মনোনয়ন পত্র জমা দিতে পারলেন না কেন? কিসের জন্য ইলেকশন, সিলেকশন করতে পারলেন না সিএবি-র কর্তারা? তাহলে ‘কপি-পেস্ট’ অভিযোগ পত্র গুলোকে মান্যতা দিয়ে ফেলা হল? ধোঁয়াশা স্পষ্ট।
দেড় মাস পর এজিএম হবে নাকি তার আগেই চ্যালেঞ্জ করে বিরোধী শিবির আদালতে যাবে? বঙ্গ ক্রিকেটে, দ্বৈরথ যেহেতু সৌরভ-অভিষেক। ক্রিকেট সংস্থায় খেলা তো হবেই, ভয়ঙ্কর খেলা? সেপ্টেম্বর মাসে সিএবি-র গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তার ঠিক আগে এই প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব এবং দুর্নীতি বিরোধী হেল্পলাইনে অভিযোগ দায়ের করার ঘটনায় বাংলার ক্রিকেটে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। দুই মহারথীর এই লড়াইয়ের ফলে সিএবি-র অন্দরে কড়া রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। সিএবি-র অন্দরে সৌরভ বনাম অভিষেকের এই সংঘাত ঠিক কতটা জটিল রূপ নিয়েছে। সিনেমা, সাহিত্য কিংবা ক্রীড়া, প্রতিটি ক্ষেত্রেই মতপার্থক্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে। এবার সেই তালিকায় যোগ হয়েছে বাংলা ক্রিকেট প্রশাসনের অন্যতম বড় সংঘাত। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল সিএবি-তে সৌরভ গাঙ্গুলি ও অভিষেক ডালমিয়ার মতবিরোধ এখন আর পর্দার আড়ালে নেই। তা প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক জরুরি সভা সেই দ্বন্দ্বকে আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে। বুধবার অনুষ্ঠিত সিএবির জরুরি বৈঠকে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্য ক্রীড়া দফতরের প্রতিনিধিও, যা সিএবির ইতিহাসে বিরল ঘটনা। বৈঠকে একাধিকবার প্রশ্ন-পাল্টা প্রশ্ন, উচ্চস্বরে তর্ক, টেবিল চাপড়ানো এবং একে অপরকে লক্ষ্য করে মন্তব্য করতে দেখা যায় দুই পক্ষকে। ফলে পরিষ্কার হয়ে যায়, বর্তমানে সিএবির অন্দরে বিভাজন প্রকট আকার ধারণ করেছে। সৌরভ-ঘনিষ্ঠ বিশ্বরূপ দে-র ৯ বছরের প্রশাসনিক মেয়াদ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। লোধা নিয়ম অনুযায়ী তিনি ভোটাধিকার হারাবেন কি না, তা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ব্যক্তিগত মন্তব্যও বিনিময় হয়। এই সংঘাতের সূত্রপাত মূলত যুগ্মসচিব পদে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত কোনও পক্ষই প্রার্থী দেয়নি। এর আগে কয়েকটি জেলা ও কলকাতার একাধিক ক্লাব লোধা নিয়ম প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে সিএবিকে চিঠি পাঠায়। অভিযোগ ওঠে, সেই চিঠিগুলির ভাষা প্রায় একই, অর্থাৎ ‘কপি-পেস্ট’ করা হয়েছে। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—যদি সবকিছু নিয়ম মেনেই হয়ে থাকে, তাহলে নির্বাচন প্রক্রিয়া কেন এগোল না? কলকাতা শহর রাজনীতি। এখন নজর আগামী সেপ্টেম্বরের বার্ষিক সাধারণ সভার দিকে। তবে তার আগেই বিরোধী পক্ষ আদালতের শরণাপন্ন হবে কি না, তা নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে। একসময়ের সতীর্থ দুই প্রভাবশালী ক্রিকেট ব্যক্তিত্বের এই সংঘাত আগামী দিনে সিএবির প্রশাসন ও বাংলা ক্রিকেটের ভবিষ্যতের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার।
সিএবির ইতিহাসে প্রথম! বৈঠকে থাকলেন সরকারি প্রতিনিধি! সাফাইয়েও ‘অসঙ্গতি’ সিএবির? নির্বাচনের মতোই প্রবল উত্তপ্ত বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থার সভা। সিএবিতে যুগ্ম সচিবের পদে নির্বাচন পিছিয়ে গিয়েছে। বুধবার জরুরি ভিত্তিক বৈঠক ডাকা হয়েছিল। বৈঠকের একটাই উদ্দেশ্য ছিল, কোন পরিস্থিতিতে সিএবি নির্বাচন পিছিয়ে গেল, সেটা জানানো। কিন্তু বুধবারের সেই বৈঠকে একেবারে নির্বাচনের মতোই উত্তাপ ছড়াল। প্রশ্ন-পালটা প্রশ্নে একটা সময় প্রবল উত্তপ্ত হয়ে উঠল সিএবির সভা। বৈঠকে প্রথমেই প্রশ্ন ওঠে, কেন সিএবির নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া হল। বৈঠকে উপস্থিত এক প্রতিনিধি প্রশ্ন তোলেন, স্পেশাল জেনারেল মিটিং যে পিছিয়ে দেওয়া হল, সেটা কেন জানানো হল না? এসজিএম তো করা যেতেই পারত। সেখানে কী হচ্ছে, সেটা ইলেক্টোরাল অফিসার জানিয়ে দিতে পারতেন। যার পালটা উত্তর দেন সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। তবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয় মূলত দু’টো বিষয়ে। এক, সত্তরোর্ধ্ব কেউ ভোট দিতে পারবেন কি না। দুই, প্রশাসনে নয় বছর পূর্ণ করে ফেললে, সেই ক্রিকেট কর্তার আর সিএবিতে প্রতিনিধিত্ব করার অধিকার আছে কিনা। এটা নিয়েই রীতিমতো তুলকালাম চলে। একটা পক্ষের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, লোধা নিয়মে পরিষ্কার করে বলা আছে, সত্তরোর্ধ্ব কেউ আর ভোট দিতে পারবেন না। একইসঙ্গে নয় বছরের মেয়াদ পূর্ণ হলে, কেউ সিএবিতে থাকতে পারবেন না। বিসিসিআইয়ের ক্ষেত্রে যদি এই নিয়মগুলো মানা হয়, তাহলে সিএবির ক্ষেত্রে সেটা প্রযোজ্য হবে না কেন? যার পালটা আবার সিএবির তরফ থেকে দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, এই নিয়মে সব কিছু পরিষ্কার নয়। আর বোর্ড বৈঠকে রাজ্য সংস্থা থেকে পদাধিকারীর প্রতিনিধিত্ব করেন। যাঁরা লোধা আইন অনুসারে নিজ-নিজ সংস্থায় নির্বাচিত হন। সিএবি বলছে, চাকরির ক্ষেত্রে কারও বয়স ষাট পেরিয়ে গেলে নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে অবসরে যেতে হয়। কিন্তু দেশের আইনে কোথাও বলা নেই যে কারও বয়স নব্বই হয়ে গেলে, তিনি আর ভোট দিতে পারবেন না। ভোটাধিকার সবার রয়েছে। সিএবির তরফে এটাও বল্য হচ্ছে, তামিলনাড়ু, ঝাড়খণ্ডের মতো রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাতেও সত্তরোর্ধ্ব লোকেরা ভোট দেন। বৈঠকে নাকি স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, সিএবির নিয়ম অনুযায়ী সব কিছু হচ্ছে। সেই অনুযায়ীই আগামী সেপ্টেম্বরে বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। কারও কোনও সমস্যা থাকলে তিনি আদালতে যেতেই পারেন। শোনা গেল, বৈঠকের শুরুতে অভিষেক ডালমিয়া প্রশ্ন তোলেন, জরুরি বৈঠকে অ্যাপেনডিক্স ‘এ’ প্রতিনিধিদের কাছে থাকা বাধ্যতামূলক। অথচ তা সার্কুলেটই করা হয়নি। যার পালটা সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ বলেন, এতদিন এই নিয়ম অনুয়ায়ীই সিএবিতে বৈঠক হয়ে এসেছে। একইসঙ্গে তিনি এটাও মনে করিয়ে দেন, অভিষেক যখন সিএবি প্রশাসনে ছিলেন, তখনও একইভাবে বৈঠক হয়েছে। এখন তিনি যেহেতু দায়িত্বে নেই, তাই এই সমস্ত প্রশ্ন তুলছেন। অভিষেকের পালটা জবাব ছিল, যদি আগে ভুল হয়ে থাকে, তাহলে সেই ভুলটা শুধরে নেওয়া উচিত। একইসঙ্গে সৌরভ নাকি অভিষেকের থেকে এটাও জানতে চান, নিয়মে কোথায় লেখা রয়েছে যে, সত্তরোর্ধ্ব কেউ ভোট দিতে পারবেন না?
কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছেন, সিএবির ভোট সংক্রান্ত ব্যাপার নিয়ে জেলাশাসকের যে সব চিঠি জমা পড়েছে, তার বয়ান সব একই। যা নিয়ে সিএবির এক বর্ষীয়ান সদস্য প্রশ্ন তুলে বলেন, “সিএবির কর্তাদের যদি মনে হয় সব চিঠিগুলো শুধুই কপি-পেস্ট করা হয়েছে, তাহলে সৌরভরা কেন সেসব উপেক্ষা করে ভোট করতে পারলেন না?” সিএবির তরফে যে সব সাফাই দেওয়া হচ্ছে, অতেও বেশ অসঙ্গতি রয়েছে। বলা হচ্ছে, সিএবি যদি প্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে লোধা আইন প্রযোজ্য না করে, তা হলে তাদের যুগ্ম-সচিব পদে নির্বাচন করতে কী অসুবিধে ছিল। কড়া প্রশ্ন উঠছে, একই সংস্থার দু’রকম স্টান্স হতে পারে কী করে? ঝালেও আছি, ঝোলেও আছি – এই নীতিতে তো সিএবি প্রশাসন চলে না। এদিনের বৈঠকে একটা সময় বিশ্বরূপ দে আর সিএবির প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট অভিষেক ডালমিয়ার মধ্যে বাকবিতণ্ডা চলে। নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বরূপের সিএবি প্রশাসনে প্রতিনিধিত্বের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। এটা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন বিশ্বরূপ। শোনা গেল, এটা সময় সিএবির প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ নাকি বলতে থাকেন, নিয়মকানুন তাঁরও জানা রয়েছে। তিনিও দীর্ঘদিন সিএবিতে ছিলেন। বানের জলে ভেসে আসেননি। যার পালটা দেন অভিষেকও। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, বানের জলে তিনিও ভেসে আসেননি। ওই সময় পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সিএবির বৈঠকে আরও একটা উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে। এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্পোর্টস সেক্রেটারির এক প্রতিনিধি।



