Tuesday, July 14, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‘আর্জেন্টিনার ডিএনএ’তে লড়াই’!‌ বাড়তি সুবিধা ভিএআর? সমর্থকদের বাঁধভাঙা আবেগের মাঝেও নিরুত্তাপ লিওনেল স্কালোনি

RK NEWZ আটলান্টায় ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলতে চলেছে আর্জেন্টিনা। দুই দেশের এই ম্যাচের ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। ফকল্যান্ড আইল্যান্ড যুদ্ধ নিয়ে দু’দেশের বিবাদ অনেক দিনের। সেই ম্যাচ নিয়ে মুখ খুলেছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিয়োনেল স্কালোনি। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলতে চলেছে আর্জেন্টিনা। দুই দেশের এই ম্যাচের ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। ফকল্যান্ড আইল্যান্ড যুদ্ধ নিয়ে দু’দেশের বিবাদ অনেক দিনের। সেই ম্যাচ নিয়ে মুখ খুলেছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিয়োনেল স্কালোনি। বিশ্বকাপে দু’দেশের এই লড়াইয়ের অতীত ইতিহাস রয়েছে। এই ম্যাচেই দিয়েগো মারাদোনা বিশ্বের সবচেয়ে চর্চিত গোল এবং সবচেয়ে সেরা গোল করেছিলেন। তার পরেও অনেক লড়াই হয়েছে এই ম্যাচ নিয়ে। ম্যাচের আগে দু’দেশের ইতিহাসের কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছিল স্কালোনিকে। তিনি বলেছেন, “দেখুন, এটা স্রেফ একটা ফুটবল ম্যাচ। তাই আমি এটাকে ফুটবল ম্যাচ হিসাবেই দেখতে চাই। আমার অন্তত এটাই বলার। এটা একটা ফুটবল ম্যাচ এবং আমরা একটা কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলতে নামব। ওদের অসাধারণ একজন কোচ রয়েছে, যে খেলাটা ভাল বুঝতে পারে। এটুকুই আমার বলার।” স্কালোনির মতে, এ রকম দলের বিরুদ্ধে খেলতে নামলে আর্জেন্টিনাকে অনেক উন্নতি করতে হবে। নকআউটের তিনটি ম্যাচেই আর্জেন্টিনাকে খেলতে হয়েছে কষ্ট করে। স্কালোনির কথায়, “আমরা ইচ্ছাশক্তির জোরে জিততে পেরেছি। আমরা চাইনি ম্যাচটা পেনাল্টিতে গড়াক। কী ভাবে খেলেছি সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। জয়ের জেদটাই আসল। আমরা সেমিফাইনালে উঠে গিয়েছি। এটাকে কোনও ভাবেই হালকা ভাবে নেওয়া যাবে না। মোটেই সহজ হবে না ম্যাচ জেতা।” তিনি আরও বলেন, “খুশি হওয়ার সমস্ত কারণ রয়েছে আমাদের কাছে। আমরা তৃপ্ত এবং উত্তেজিত। আপাতত পরের ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দেওয়াক কথা ভাবছি। শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে চাই। নিজেদের সমস্ত শক্তি কাজে লাগাতে চাই।”

কানসাস সিটি কিংবা মায়ামির ফ্যান জোন। বুয়েনেস আয়রেসের রাস্তা। জুলিয়ান আলভারেজের গোলটার পর কী পরিমাণ উৎসব চলছে, সেটা সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ভিডিও দেখেই বোঝা যাচ্ছিল। লিওনেল মেসিকে নিয়ে সমর্থকদের বাঁধভাঙা আবেগ। আলভারেজ, মার্টিনেজদের নিয়ে ফের স্বপ্ন দেখা শুরু। এসবের মাঝেও একইরকম নিরুত্তাপ তিনি। তিনি- লিওনেল স্কালোনি। নিঃশব্দে আর্জেন্টিনার সাম্রাজ্য গড়ার কারিগর। ২০১৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের কাছে কুৎসিতভাবে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়। দুমড়ে যাওয়া একটা টিমের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের বীজমন্ত্রটা ধীরে ধীরে বপন করেন তিনি। প্রথমে কোপা আমেরিকা জয়। তারপর বিশ্বকাপ। আর এবারের বিশ্বকাপেও তাঁর আর্জেন্টিনা যেন কামব্যাকের প্রতিশব্দ হয়ে উঠেছে। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধেও প্রথমার্ধে এগিয়ে থাকলেও সুইসরা রীতিমতে চাপে রেখে দেয় আর্জেন্টিনাকে। দ্বিতীয়ার্ধে স্ট্র্যাটেজি বদল কোচ স্কালোনির। বদলে গেল আর্জেন্টিনাও। স্কালোনি অবশ্য বরাবরই প্রচারের আলো থেকে নিজেকে কয়েকশো মাইল দূরে রাখেন। ক্যামেরার ঝলকানি থেকে তিনি অনেকটা দূর। সেমিফাইনালে ওঠার পরও স্কালোনি একইরকম। ইংল্যান্ড যুদ্ধের প্রসঙ্গেও নিরুত্তাপ। ইংল্যান্ড ম্যাচের গুরুত্ব আর্জেন্টাইনদের কাছে কতটা, সেটা আর নতুন করে বলার প্রয়োজন পড়ে না। এই ম্যাচ শুধু নব্বই মিনিটের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকে না। সঙ্গে জড়িয়ে ইতিহাস। অজস্র আবেগ। চব্বিশ বছর পর বিশ্বকাপে মুখোমুখি হতে চলেছে দুই ফুটবল সভ্যতা। তবে আর্জেন্টিনা কোচ যতটা সম্ভব নিজেকে শান্ত রাখছেন। সংযত রাখছেন। তাই ইংল্যান্ড প্রসঙ্গ উঠলেনই স্কালোনি বলছেন, এটা শুধুই ফুটবল ম্যাচ। তাঁর কথায়, “টিমকে শুধুই একটা কথা বলব- এটা আরও একটা ফুটবল ম্যাচ। ফুটবলারদের কাছে এটাই আমার বার্তা। আমরা ভীষণ কঠিন এক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সেমিফাইনাল খেলতে নামব। ওদের কোচও খুব ভালো। এর বাইরে আর কিছু ভাবছি না। সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে আমাদের কঠিন পরীক্ষার মধ্যে পড়তে হয়েছে। জানতাম ওরা শারীরিক দিক থেকে অনেক শক্তিশালী। কঠিন পরিস্থিতির মধ্য থেকে ম্যাচ বের করে নিয়ে আসা সহজ ছিল না। আমাদের টিম সেটাই করেছে। সত্যি বলতে কী জানেন, লড়াই আমাদের রক্তেই রয়েছে। প্রত্যেক ফুটবলারের ডিএনএ-র মধ্যে লড়াই করার ব্যাপারটা ঢুকে গিয়েছে। আগের বিশ্বকাপে ততটা অভিজ্ঞ ছিলাম না। কোচ হিসাবেও আমার অভিজ্ঞতা খুব বেশি ছিল না। ওই পরিস্থিতিগুলো ভীষণ কঠিন মনে হত। এখন সবাই মাথা ঠান্ডা রাখতে শিখে গিয়েছে। কঠিন পরিস্থিতিতে পড়লেও কীভাবে মাচ বের করতে হয়, সেটা ওরা জানে। জানি পরিস্থিতি যতই খারাপ হোক না কেন, টিম লড়াই ছাড়বে না।” অবশ্য মাঠে মেসির মতো একজন নেতা ও কোচের চেয়ারে স্কালোনির মতো ঠান্ডা মাথার সুদক্ষ ট্যাকটিশিয়ান থাকলে টিম তো কামব্যাক করবেই।

বিশ্বকাপের শুরু থেকেই অভিযোগ, বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে আর্জেন্টিনা। এবার নতুন করে চর্চা শুরু হল লিওনেল মেসিদের নিয়ে। সূত্রের খবর, সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মানসিক চাপ বাড়াতে ‘মগজাস্ত্র’ ব্যবহারের আবেদন জানিয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে ফিফা। অর্থাৎ বুধবার রাতে মস্তিষ্কের যুদ্ধে হ্যারি কেনদের থেকে বেশ কিছুটা এগিয়ে থাকবে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। এই বিশেষ অস্ত্র আসলে কী? ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা ম্যাচ মানেই সেখানে থাকবে যুদ্ধং দেহি মনোভাব। ফুটবলপ্রেমীদের মনে এখনও উজ্জ্বল ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো মারাদোনার হ্যান্ড অফ গড। সেই ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনা খেলতে নেমেছিল একেবারে অন্যরকম জার্সিতে। হালকা নীল-সাদা নয়, একেবারে গাঢ় নীল জার্সি ছিল মারাদোনাদের পরনে। ৪০ বছর আগে সেই ম্যাচ জেতে আর্জেন্টিনা। ১৯৯৮ বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনা নামে গাঢ় নীল জার্সিতে, জিতে মাঠ ছাড়ে দল। আবারও বিশ্বকাপের নকআউটে মুখোমুখি ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা। তাই এমি মার্টিনেজদের শিবির থেকে ফিফার কাছে আবেদন জানানো হয়, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পয়া গাঢ় নীল জার্সি পরার জন্য। সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে ফিফা। অর্থাৎ বুধবার গভীর রাতে পরিচিত নীল-সাদা জার্সিতে দেখা যাবে না মেসিদের। সেটাই ইংল্যান্ডের জন্য মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। কারণ ইংরেজদের বিরুদ্ধে গাঢ় নীল জার্সিতে যতবার বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছে আর্জেন্টিনা, প্রত্যেকবারই হারতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে। ২০০২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে জিতেছিল তারা। সেই ম্যাচে মেসিদের দল নেমেছিল নীল-সাদা জার্সিতে। নকআউট পর্বে জার্সি নিয়ে এহেন কুসংস্কার আর্জেন্টিনায় বেশ জনপ্রিয়। কাবালা বলে পরিচিত এই কুসংস্কার বলে, অ্যাওয়ে কিটে নামলে সৌভাগ্য নেমে আসে আর্জেন্টাইন শিবিরে। বিশ্বকাপে এই নিয়ে পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা, তার মধ্যে তিনটি নকআউট। বুধবার চতুর্থবার নকআউট ম্যাচ। জিতবে কে? মাঠের ফুটবল নাকি মাঠের বাইরের মগজাস্ত্র? চলতি বিশ্বকাপের সবকটা ম্যাচই নীল-সাদা জার্সিতে খেলেছে আর্জেন্টিনা। প্রত্যেক ম্যাচেই এসেছে জয়।

ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি ফুটবলে আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ, এ নিয়ে বিতর্ক সপ্তমে। তবে ‘লা আলবিসেলেস্তে’কে নিয়ে অভিযোগ বেশ গুরুতর। আর্জেন্টিনাকে নাকি জোর করে জেতানো হয়েছে। আগে থেকেই নাকি ঠিক করা ছিল, আর্জেন্টিনাকেই জেতাতে হবে। সেই কারণেই অযাচিত সুবিধা পাচ্ছেন লিওনেল মেসিরা। কিন্তু এই ‘সেটিং তত্ত্ব’ কতটা সত্যি? এই প্রশ্নের মাঝেই প্রকাশ্যে এল ভিএআর পরিসংখ্যান। সোশাল মিডিয়ায় এই তত্ত্ব এখন রীতিমতো ট্রেন্ডিং। সেমিফাইনালের চার দল চূড়ান্ত হওয়ার পর বিতর্ক আরও জোরাল। তবে আবেগ নয়, পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে ভিন্ন ছবি দেখা যাবে। তথ্য বলছে, ভিএআরের সবচেয়ে বেশি সুবিধাপ্রাপ্ত দলের তালিকায় আর্জেন্টিনা শীর্ষে নয়, তারা রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। নর্থইস্টার্ন গ্লোবাল নিউজের তথ্য অনুযায়ী, গ্রুপ পর্ব থেকে শেষ ষোলো পর্যন্ত প্রতি ১০০টি ফাউলে ভিএআরের হস্তক্ষেপের হার সবচেয়ে বেশি ছিল আয়োজক দেশ মেক্সিকোর পক্ষে ৭.৮। সেখানে আর্জেন্টিনার ৬.৭। চমকে দেওয়ার মতো তথ্য হল, এই পর্বে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে একটিও ভিএআর সিদ্ধান্ত যায়নি। তালিকায় পর্তুগাল (৪.৬), নিউজিল্যান্ড (৪.২), সৌদি আরব (৩.৬) রয়েছে যথাক্রমে তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম স্থানে। অন্যদিকে ভিএআরের সবচেয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ক্রোয়েশিয়ার উপর। ২০১৮ সালের রানার্সরা একবারও এর সুবিধা পায়নি। বরং তাদের বিপক্ষে হস্তক্ষেপ হয়েছে প্রতি ১০০ ফাউলে ৬.৫ বার। এরপর রয়েছে ইরান (৫.৪), কাতার (৫.১), জার্মানি (৪.০) এবং ইংল্যান্ড (৩.৫)।

শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে হেরে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন মিশরের কোচ হোসাম হাসান। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, “কে কী মনে করল তাতে আমার কিছু যায়-আসে না। আমি সত্যি কথাটাই বলতে এসেছি। ভালো ভালো কথা বলতে এখানে আসিনি। আমাদের সঙ্গে অন্যায়ভাবে প্রতারণা করা হয়েছে। গভীর অবিচারের শিকার হয়েছি আমরা।” এমনকী রেফারিং নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ফিফার কাছে অভিযোগও করেছে মিশর ফুটবল সংস্থা। যদিও সেই অভিযোগ একেবারে ফুৎকারে উড়িয়ে দেন ফিফার চিফ রেফারিং অফিসার পিয়েরলুইগি কোলিনা। সাফ জানিয়ে দিলেন, ফিফা রেফারিদের কাজে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আনতে পারেন না কেউই। এই ম্যাচে ফিফার নতুন ‘মিস্টেকেন আইডেন্টিটি’ নিয়মে প্রথম খেলোয়াড় হিসাবে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এম্বোলো। ৭১ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড থেকে লাল কার্ড দেখানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে রেগে কাঁই সুইজারল্যান্ড শিবির। ম্যাচের পর সুইজারল্যান্ডের কোচ মুরাত ইয়াকিন বলেন, “এই সিদ্ধান্ত সত্যিই বোধগম্য নয়। আমি জানি ফিফা রেফারিদের প্রতিবারই সুরক্ষা দেবে। কিন্তু এই নিয়মের কারণেই ম্যাচটা শেষ হয়ে গিয়েছে।” এই পরিস্থিতিতে পরিসংখ্যানে মেক্সিকো এগিয়ে থাকলেও, মেসিদের পক্ষে ভিএআর রক্ষাকবচের ভূমিকা পালন করেছে, এমন অভিযোগ তুলছেন অনেকেই। আর্জেন্টিনাকে নিয়ে বিতর্কের আরও একটি কারণ আলজেরিয়া ম্যাচে মেসির একটি স্টাডস-আপ ট্যাকল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles