Tuesday, July 7, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বারুইপুরে বিক্ষোভের মুখেও পড়লেন কেউ কেউ!‌ রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীদের ভিড় ১২ বছরের মৃত কিশোরীর বাড়িতে

RK NEWZ ‘‘সরকারে আসার দু’মাস পার হতে না হতেই পাঁচ-সাতটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটল। সেই একই ভাবে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠছে। তৃণমূলের কায়দায় বিজেপি নেতারা গিয়ে অভিযুক্তদের ছাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে! অতি সত্বর দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই পুলিশ আধিকারিকদের শাস্তি দেওয়া দরকার। আর মহিলা নিরাপত্তা নিয়ে বড় বড় কথা বলা বিজেপি এ বার দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ করুক।’’ বললেন, ভাঙড়ের বিধায়ক, আইএসএফ চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকি। সোমবার বারুইপুরে গিয়েছিলেন কালীঘাট তৃণমূলের প্রতিনিধিরা। মঙ্গলবার ধর্ষিত এবং খুন হওয়া ১২ বছরের কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে খানিক বিক্ষোভের মধ্যে পড়লেন ঋতব্রত তৃণমূলের সদস্যেরা। জনতার কটাক্ষ শুনতে হল ঘটনার তিন দিন পর দেখা করতে যাওয়া স্থানীয় সাংসদ সায়নী ঘোষকেও। যদিও শেষমেশ সকলেই মৃতার বাবা-মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিধায়ক শিউলি সাহা এবং প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ঢোকেন বারুইপুরের সূর্যপুরে। বৃষ্টির মধ্যে তাঁরা তড়িঘড়ি নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন। তার আগে রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় দেখা করেন কন্যাহারা বাবা-মায়ের সঙ্গে। মোটামুটি শান্তই ছিল পরিবেশ। কিন্তু ঋতব্রত-শিউলিদের দেখে স্থানীয়দের একাংশ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। ঋতব্রতকে উদ্দেশ করে ‘বালিশচাটা’, ‘চোর-চোর’ ইত্যাদি স্লোগান দেওয়া হয়। সেই সময় কথা কাটাকাটিতে জড়ান বিধানসভায় তৃণমূলের (ঋতব্রতপন্থী) ডেপুটি লিডার শিউলি। তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘‘আমরা তো আলাদা। তোমরা এ ভাবে আমাদের বাধা দিতে পারো না। আমরাও অপরাধীদের শাস্তি চাই।’’ এনডিএ জোটকে সমর্থনকারী তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ দুই সাংসদ সায়নী ঘোষ এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদারও গিয়েছিলেন বারুইপুরে। যাদবপুরের সাংসদ সায়নীকে দেখেও স্লোগান দিতে শুরু করেন স্থানীয়েরা। মমতা-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছত্রছায়া ছেড়ে ১৯ বিদ্রোহী সাংসদের সঙ্গে ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই) নামে অচেনা দলে নাম লেখানো সায়নীকে ‘গদ্দার’ বলে কটাক্ষ করেন কয়েক জন। তাঁদের মধ্যে এক যুবক বলেন, ‘‘স্থানীয় সাংসদ কী ভাবে ঘটনার তিন দিন পর এখানে আসেন! এত দিন উনি কী করছিলেন। তা ছাড়া আমাদের যাদবপুরবাসীদের সঙ্গে গদ্দারি করেছেন উনি। লোকসভা ভোটের সময় তৃণমূলত্যাগীদের উনি গদ্দার বলতেন। আজ উনি কী করেছেন! এখানে এলেনই বা কেন?’’

নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পরে ঋতব্রত জানান, মৃতার বাবা-মাকে সমবেদনা জানিয়েছেন তাঁরা। তিনি আরও জানান, রাজ্যে একের পর এক এমন ঘটনা ঘটেছে। দৃঢ় পদক্ষেপ করতে হবে রাজ্য সরকারকে। ঋতব্রত বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমার আগেও কথা হয়েছে। আমরা বিচার চেয়েছি।’’ সায়নী-প্রসঙ্গ উঠতেই ঋতব্রত ‘আমরা আলাদা এসেছি। চলো…’ বলে ছাতা মাথায় ব্যস্ত পায়ে এগিয়ে যান। আর সায়নী বলেছেন, ‘‘অভিমান থাকলে একশোবার বলতে পারে আমায়। যেমন এক মিনিটের জন্য আটকাবে, তেমন আধ ঘণ্টার জন্য ভিতরে ঢুকে কথাও বলাবে। এটা আমাদের (ভোটার এবং সাংসদ) বিষয়।’’ পাশাপাশি বারুইপুর কাণ্ডে ‘বড় র‌্যাকেট’ আছে বলে দাবি করেছেন সাংসদ। তিনি বলেন, ‘‘দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে সবার। তিন জন গ্রেফতার হয়েছেন। আরও অনেকে গ্রেফতার হবেন। তবে আসল বিষয় গোড়া থেকে এই র‌্যাকেটকে উৎখাত করতে হবে।’’

দুপুরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারুইপুরের নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন। তার আগে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা এবং বিজেপি নেত্রী লকেট বারুইপুরে যান। লকেট বলেন, ‘‘পরিবার তদন্তপ্রক্রিয়ায় পুরোপুরি ভরসা রেখেছে। আরজি কর, কামদুনির মতো পরিস্থিতি দেখতে হবে না। পরিবর্তনের বাংলা দেখতে পাবেন। এই বাচ্চা মেয়েটি বিচার পাবে। আগামী দিনে যাতে কোনও মহিলার দিকে নোংরা ভাবে কেউ তাকাতে না পারে, তার ব্যবস্থা করবে এই সরকার।’’ অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘‘বাবা-মায়ের পাশে সম্পূর্ণ ভাবে আমাদের সরকার আছে।’’ ভাঙড়ের বিধায়ক, আইএসএফ চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকিও বারুইপুরে মৃতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে যান। তিনি বিজেপির ‘ভরসা ইন, ভয় আউট’ স্লোগানকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘সরকারে আসার দু’মাস পার হতে না হতেই পাঁচ-সাতটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটল। সেই একই ভাবে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠছে। তৃণমূলের কায়দায় বিজেপি নেতারা গিয়ে অভিযুক্তদের ছাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে! অতি সত্বর দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই পুলিশ আধিকারিকদের শাস্তি দেওয়া দরকার। আর মহিলা নিরাপত্তা নিয়ে বড় বড় কথা বলা বিজেপি এ বার দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ করুক।’’ তিনি এ-ও জানান, জনরোষ তৈরি হয়েছে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার জন্যই। সেই দায় তাদেরই নিতে হবে। এখন তো তৃণমূল আমল নয়, তা হলে এখনও পুলিশের বিরুদ্ধে কেন এমন অভিযোগ উঠছে।

তারাতলা কাণ্ডের পরই মৃতদের পরিবার ও আহতদের অর্থ সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার নিহতদের পরিবারের সদস্যের হাতে তুলে দেওয়া হল ১০ লক্ষ টাকার চেক। আহতদের দেওয়া হয়েছে ১ লক্ষ টাকা। সেই অনুষ্ঠানেই বরাবর হতাহতের পরিবারের সদস্যদের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আহতদের সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করলেন তিনি। নিহতদের পরিবারের একজন সদস্যকে শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ দেওয়ার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে বলেও আশ্বাস দিলেন শুভেন্দু। ২৪ জুন দুপুরে আচমকাই তারাতলায় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে একটি নির্মীয়মাণ গোডাউন। সেই সময় কাজ চলছিল। ফলে বহু শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে যান। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করে পুলিশ, দমকল, এনডিআরএফ। নামানো হয় সেনা। একাধিক শ্রমিকের মৃত্যু হলেও অনেককে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তারাতলা কাণ্ডে মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের। মঙ্গলবার নিহত ও আহতের পরিবারের হাতে আর্থিক সাহায্য তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন নিহতদের পরিবারের কাছে তাঁদের সমস্যা, কী চাইছেন, তাও জানতে চান তিনি। সেখানেই এক মৃত শ্রমিকের স্ত্রী কাজের আর্জি জানান। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কলকাতার পুর প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে ও পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে দায়িত্ব দিচ্ছি, ওনারা দেখে নেবেন কোথায় কী কাজের সুযোগ রয়েছে। আপনারা সরাসরি পুরসভায় যোগাযোগ করবেন। স্মিতা পাণ্ডে ও অগ্নিমিত্রা পাল বিষয়টা দেখে ৭ থেকে দশ দিনের মধ্যে জানাবেন। আশা করছি কিছু করতে পারব। তবে আপনাদের শিক্ষাগত যোগ্যতাটাও একবার দেখতে হবে। মাধ্যমিক পাশ না হলে সমস্যা।” সেই মিটিংয়েই আহতদের ও নিহতদের পরিবারকে যদি পুরসভার কোনও কাজে যুক্ত করা যায়, তা দেখার নির্দেশ দেন। এছাড়াও শুভেন্দু জানিয়েছেন, নিহতদের পরিবারকে মাসে মাসে একটা টাকা দেওয়ার বিষয়েও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এছাড়া বাচ্চাদের পড়াশোনার দায়িত্বও নেবে রাজ্য। এখানেই শেষ নয়, বিপর্যয়ে আহতরা সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যের তরফে একেবারে বিনামূল্য চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়া হবে।অনুষ্ঠান থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে এসংক্রান্ত নির্দেশও দেন শুভেন্দু।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles