স্পেন ১ (মেরিনো) পর্তুগাল ০
বেলজিয়াম ৪ (ডি কেটেলায়েরে ২, ভানাকেন, লুকাকু) আমেরিকা ১ (টিলমান)
RK NEWZ চোখের জলে মহাকাব্যে ইতি টানলেন মহানায়ক রোনাল্ডো। ‘শেষ ম্যাচ’, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর ‘শেষ ম্যাচ’। বিশ্বকাপের মহাকাব্যে বিদায় এক যোদ্ধার। আর তাঁকে পরীক্ষা দিতে হবে না। হ্যাঁ, লোকে বলবে ঝুলিতে বিশ্বকাপ নেই। ফের ফেনিয়ে তুলবে লিওনেল মেসির সঙ্গে ‘গোট’ বিতর্ক। কী যায়ে আসে? ব্যঙ্গবাণ ছোড়ার আগে একটু দাঁড়িয়ে যান পথিকবর। তিষ্ঠ ক্ষণকাল। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর আপন ভুবনে আপনাকে স্বাগত জানাই। এই পৃথিবীতে কোনও ঐশ্বরিক শক্তির আবির্ভাব নেই। এখানে একজন মানুষ প্রতিদিন ঈশ্বরকে চ্যালেঞ্জ করেন। সেই ঈশ্বর প্রতি মুহূর্তে পরীক্ষা নেন। সেই মারের সাগর পাড়ি দিয়ে আরও একবার লড়াইয়ের রিংয়ে নেমেছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। হল না। শেষবার সর্বস্ব দিয়ে নিজের পরীক্ষা দিলেন। নিজেকে প্রমাণ করার পথচলা যে তাঁর ফুরোয় না। পথের দেবতা প্রসন্ন হেসে বলেন, “পথ আমার তখনও ফুরোয় না। চলে, চলে, এগিয়েই চলে…” ‘হয়তো’, ‘সম্ভবত’- কথাগুলোর আর কোনও মূল্য নেই। জল্পনা অতীত। পরের বারও বিশ্বকাপ খেলবে পর্তুগাল। নতুন প্রজন্ম, নতুন রক্ত। ঘাম-রক্ত ঝরাবেন একঝাঁক উঠতি পর্তুগিজ তারকা। সঙ্গে নিশ্চয়ই পাবেন আজকের দিনের প্রতিষ্ঠিত ফুটবলারদের। থাকবেন না শুধু একজন। ক্যামেরা ঘুরে যাবে গ্যালারির দিকে। এক বহু পরিচিত মুখ সেখানে হাসছেন নতুনদের সাফল্য দেখে। আনন্দে চিৎকার করছেন, গোল মিস হলে আফসোস করছেন। পরমুহূর্তেই উৎসাহ দিচ্ছেন তাঁর দেশ পর্তুগালকে। না, তখন আর তাঁর গায়ে মেরুন জার্সিটা থাকবে না। পিছনে লেখা থাকবে না সেই বিখ্যাত ৭ সংখ্যাটা। ২০৩০ বিশ্বকাপে তিনি আর প্রধান নায়ক নন। পার্শ্বচরিত্রও নন। ফুটবলের রঙ্গমঞ্চ থেকে দর্শকের আসনে নেমে আসা এক ‘প্রাক্তন’। যিনি বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচ খেলে ফেললেন স্পেনের বিরুদ্ধে। খনও ফুটবলবিশ্বকে বিদায় জানাননি তিনি। ‘শেষ ম্যাচ’ শব্দটা লিখতে অস্বস্তি হয়। লিখে ফেলার পর অবিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয়। কি-বোর্ডে ব্যাকস্পেস আছে। না বলতে চাওয়া অনেক কথা মুছে ফেলা যায়। কিন্তু জীবন? চরৈবতি মন্ত্রে এগিয়ে চলতে চলতে সে যে কখন নির্মম হয়ে উঠবে, তার আন্দাজ করা ক্ষুদ্র মানুষের কাজ নয়। আভাস আগেই দিয়ে রেখেছিলেন। স্পেন ম্যাচের আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন এটাই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। মাথায় তখনও কথাটা গাঁথেনি। এখনও পুরোপুরি মানতে চাইছে না। সময় বয়ে যাবে নিজের ছন্দে, তখন শূন্যস্থান আরও স্পষ্ট হবে। সারা মাঠময় তাঁকে খুঁজে বেরোবে চোখ। নেই, বিশ্বকাপের মঞ্চে ফুটবলার রোনাল্ডো আর নেই। স্পেনের কাছে হেরে তাঁর চোখে জল। তা সংক্রামিত হতে থাকবে বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ। ঠিক যেভাবে কুড়ি বছর ধরে বিশ্বকাপকে মাতিয়ে রেখেছেন রোনাল্ডো। ফিগোর পাশে ১৭ নম্বর জার্সি থেকে ৭ নম্বর জার্সিকে নিজের নামে পরিচিত করে তোলা। পথের শেষে আজ ডেড এন্ড। পথের দুপাশে অসংখ্য রেকর্ডের মাইলফলক। ১৪৬টি আন্তর্জাতিক গোল। কেরিয়ারে ১০০০ গোল থেকে মাত্র কিছুটা দূরে। শুকনো তথ্য পরিসংখ্যানেই পাতার পর পাতা ভরে যেতে পারে। রেকর্ডের আরেক নাম রোনাল্ডো। রেকর্ডের বাইরেও আছে আরেক রোনাল্ডোর নাম। যে রোনাল্ডো আপনাকে প্রত্যাবর্তনের ম্যাজিক শেখায়। রাতবিরেতে দুঃস্বপ্ন এলে ৭ নম্বর জার্সিধারীর একটা হাত আপনাকে তুলে ধরতে এগিয়ে আসে। অন্য হাতে ধরা ঝুলিতে কখনও নেশনস লিগ, কখনও পাঁচটা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, পাঁচটা ব্যালন ডি’অর, কখনও বা ইউরো কাপের শ্রেষ্ঠত্বের ট্রফি।

খোঁচার মতো থেকে গেল বিশ্বকাপ ট্রফি। হাজার লড়াই করেও শেষে বলতে হয়, সব পেলে নষ্ট জীবন। শুধু পাদপ্রদীপের আলোর চকমকিটাই দেখলে তো হবে না। একটু ছাই ঘেঁটে খুঁজে দেখুন সাচ্চা ফুটবল ছিল কি না। পর্তুগালের মাদেইরার দরিদ্র পরিবারে বড় হয়ে ওঠা। আর্থিক অনটনের সঙ্গে নিত্য লড়াই করতে করতেই শরীরে ধারণ করেছেন অক্ষয় বর্ম। মানুষ দৈবের বিরুদ্ধে লড়ে। ব্যর্থ হয়। এটাই প্রমাণ, সে মহামানব। সব কিছু না জিতলেও হয়তো চলে। ঈশ্বরপ্রদত্ত শব্দটার সংজ্ঞা রোনাল্ডো বহুদিন হল বদলে দিয়েছেন। কী নিয়ে এসেছি, এটা এখন আর কোনও প্রশ্ন নয়। কথাটা হল, আজ নিজের আয়নায় আপনি কীরকম? আপনি কি আরও একটা দিন লড়াই করার জন্য তৈরি? রোনাল্ডো হওয়ার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এটাই। এই লড়াইটার নাম জীবন, এই লড়াইটার নাম ফুটবল। এরচেয়ে বড় শিক্ষা আর কী আছে? যেভাবে সুমন বলেন, ‘প্রতিদিন সূর্য ওঠে তোমায় দেখবে বলে, হে আমার আগুন, তুমি আবার ওঠো জ্বলে’। সুমনের গানের পঙক্তিরা ‘মাদেইরা, ম্যাঞ্চেস্টার, মাদ্রিদ, তুরিন অ্যান্ড ম্যাঞ্চেস্টার এগেইন’-এ মিলেমিশে যায়। সত্যিই তো ‘আ ওয়াকিং ওয়ার্ক অফ আর্ট’। ব্যর্থতা আসবে, সাফল্যও। জয় আমাদের মাথার ওপর খাঁড়ার মতো ঝুলবে। যাতে খসে পড়া মাত্রই সাফল্যে দু-আধখানা না হয়ে যাই। এটুকু দোলাচলতা না থাকলে কি আর রোনাল্ডো হওয়া যায়? বয়স তাঁর চোখের কোনায় যতই ত্রিকোণামিতি খেলুক না কেন, তা ফুটবলার রোনাল্ডোকে আরও পরিপূর্ণতা দান করে। নাই বা হল বিশ্বকাপ জেতা। আসলে রোনাল্ডো গোল করবেন, ম্যাচ জেতাবেন, এটাই স্বভাবসিদ্ধ ব্যাপার হয়ে গিয়েছে। ব্যতিক্রম হলেই ধেয়ে আসে প্রশ্নবাণ। তাতে অবশ্য লাভই বেশি। ভালোবাসা তাঁকে শক্তি দেয়, আর ঘৃণা-ব্যঙ্গ করে তোলে আরও শক্তিশালী। বিশ্বকাপে গোল করে বলেন, ‘আই অ্যাম ব্যাক।‘ না, পুরোপুরি ফেরা হল না। এবার শুধু বিচ্ছেদের বিষাদ। বিদায় পরিচিতা… বিশ্বকাপের মঞ্চকে বিদায় রোনাল্ডো…মাঠ ও মাঠের বাইরের শত্রু স্পেনের কাছে হেরেই আরও একবার পর্তুগালের স্বপ্নভঙ্গ। ইউরো, উয়েফা, ক্লাব বিশ্বকাপ, ৫টা ব্যালন ডি’অর-সহ অজস্র ট্রফি তাঁর ঝুলিতে। বিশ্বের সর্বোচ্চ গোলদাতার পাশেও জ্বলজ্বল করে তাঁর নামটাই। তবুও ‘সর্বকালের সেরা’ তকমাটা অধরাই যেন থেকে গেল ক্রিশ্চিয়ানো রোনান্ডোর। কারণ বিশ্বকাপ নামক ট্রফির স্বাদ পাননি তিনি। লাস্ট ডান্সে হয়তো পাবেন। এই আশাতেই বুক বেঁধেছিল গোটা বিশ্ব। ঠিক যেমন গতবার মেসির হাতেই কাপ দেখতে চেয়েছিলেন ফুলবলপ্রেমীরা। এবার রোনাল্ডোকেই চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরাতে চেয়েছিল তাঁর সবচেয়ে বড় শত্রুও। কিন্তু সব ইচ্ছে যে এক জন্মে পূরণ হয় না। তাই কাঁটার মুকুট নিয়েই চিরতরে বিশ্বের সেরা শো-কে আলবিদা জানালেন রোনাল্ডো। মাঠ ও মাঠের বাইরের শত্রু স্পেনের কাছে হেরেই আরও একবার পর্তুগালের স্বপ্নভঙ্গ। ম্যাচ শেষে চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না শক্ত মনের সিআর সেভেন। শেষ ১৬-র সম্ভবত সবচেয়ে হাইভোল্টেজ ম্যাচ। আইবেরিয়ান ডার্বি। যেখানে বেশিরভাগ সময়ই পর্তুগালকে নাস্তানাবুদ করেছে স্প্যানিশ আর্মাডা। সেই ম্যাচেই এবার মুখোমুখি দুই প্রজন্ম। ৪১ বছরের ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো বনাম তরুণ স্প্যানিশ তুর্কি লামিনে ইয়ামাল। একদিকে নিজের শেষ বিশ্বকাপকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে মরিয়া ছিলেন সিআর সেভেন। অন্যদিকে ১৬ বছর পর দলকে চ্যাম্পিয়ন করে ইতিহাস গড়তে বদ্ধপরিকর ইয়ামাল। দুই ইগোর লড়াইয়ে তাই বেলাগাম আক্রমণ দিয়েই শুরুটা হয়। এ বলে আমায় দেখ তো ও বলে আমায়। কখনও দিয়েগো কোস্তার গ্লাভসই হয়ে উঠছে পর্তুগালের কাছে আশীর্বাদের হাত। আবার কখনও ছোঁ মেরে বল ছিনিয়ে স্পেনের ত্রাতা সিমন। রোনাল্ডোর গোল করার যাবতীয় প্রয়াস ব্যর্থ প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ভাবে। ইনজুরি টাইমে ব্রুনো ফার্নান্ডেজদের শিবিরে অতর্কিতে হামলা চালিয়ে সব সমীকরণ এলোমেলো করে দেন পরিবর্ত হিসেবে নাম মেরিনো। যাঁকে বল সাজিয়ে দিয়েছিলেন মিকেল ওয়ারজাবাল। ‘ক্লাচ’ প্লেয়ার হিসেবে পরিচিত মেরিনো ভুল করেননি। তাঁর গোলটাই যেন রোনাল্ডোর ভাগ্যলিখন হয়ে দাঁড়াল। শেষ আটে স্পেনের সূর্যোদয় তখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা। রোনাল্ডোর বিদায় যেন সেই কঠিন বাস্তব। যাঁকে আঁকড়ে এত স্বপ্ন, উন্মাদনা, আনন্দ আয়োজন, সব বৃথা করে চলে যাচ্ছেন পর্তুগিজ মহাতারকা। কেরিয়ারের সায়াহ্নে এসে রক্ত মাংসের মহামানবের এ যন্ত্রণা কে বুঝবে!

ফোলারিন বালোগুনের সাসপেনশন প্রত্যাহার করে তাঁকে খেলানোর সিদ্ধান্ত কাজে এল না। আমেরিকাকে ৪-১ গোলে হারাল বেলজিয়াম। চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা খেলা খেলল বেলজিয়াম। জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সামনে তাঁকে সপাটে জবাব দিল বেলজিয়াম। বুঝিয়ে দিল, জোর করে কাউকে জেতানো যায় না। মাঠের বাইরে যা-ই হোক না কেন, আসল খেলাটা হয় মাঠে। ৯০ মিনিটে। সেখানেই আমেরিকাকে উড়িয়ে দিল বেলজিয়াম। ৪-১ গোলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল বেলজিয়াম। সেখানে তাদের সামনে স্পেন। গত দু’দিন বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় ছিল আমেরিকার স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড বিতর্ক। বসনিয়া ম্যাচে লাল কার্ড দেখার পরেও তাঁর সাসপেনশন প্রত্যাহার করে নেয় ফিফা। জানা যায়, হোয়াইট হাউসের সরাসরি হস্তক্ষেপে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পও প্রকাশ্যে জানান, তিনি ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথা বলেছিলেন। ফিফার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিবাদ জানায় বেলজিয়াম। লিখিত আবেদনও করে তারা। তাতে অবশ্য সিদ্ধান্ত বদলায়নি। বালোগুনকেই দেখে মনে হল নিজেকে খোলসের ভিতর ঢুকিয়ে ফেলেছেন। হয়তো লাল কার্ড বিতর্ক তাঁর মাথায় এখনও রয়েছে। বেলজিয়ামের ডিফেন্ডারদের খুব বেশি চ্যালেঞ্জ করলেন না। যে কয়েকটি সুযোগ পেলেন কাজে লাগাতে পারলেন না। শেষ দিকে একটি শট মারলেও তা থেকে গোল হয়নি। বালোগুনকে জোর করে খেলিয়ে খুব একটা লাভ হল না মৌরিসিয়ো পোচেত্তিনোর দলের। উল্টে ৯০ মিনিট ধরে আমেরিকার খেলায় একটা অস্বস্তি চোখে পড়ল। বেলজিয়াম যেন জবাব দেওয়ার জন্য নেমেছিল। প্রথম ১০ মিনিটেই আমেরিকার গোলে পাঁচটি শট মারে তারা। মার্কিন গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজ় হিমশিম খাচ্ছিলেন। একই অবস্থা ছিল দলের রক্ষণের। আগের ম্যাচে সেনেগালের বিরুদ্ধে যে ডি কেটেলায়েরেকে দেখতে পাওয়া যায়নি, বেলজিয়ামের সেই স্ট্রাইকার এই ম্য়াচে দাপট দেখালেন। জোড়া গোল করলেন তিনি। প্রথমার্ধে ফ্রি কিক থেকে অবশ্য এক গোল শোধ করেন টিলমান। ব্যস, সে টুকুই। তার বেশি কিছু করতে দেখা যায়নি আমেরিকাকে। গোটা ম্যাচে আমেরিকার রক্ষণ সমস্যায় ফেলেছে। বেলজিয়ামের তৃতীয় গোল তারই ফসল। বক্সের বাইরে বেরিয়ে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের পায়ে তা তুলে দেন ফ্রিজ়। ভানাকেন দূর থেকেই শট মারেন। ডিফেন্ডার সুযোগ পেলেও তা বার করতে পারেননি। মনে হল, গোটা দল দাঁড়িয়ে পড়েছে। এ রকম সুযোগ বেলজিয়ামের মতো দল কেন ছাড়বে? আমেরিকার ফুটবলারদের শরীরী ভাষায় দেখে মনে হল, হার মেনে নিয়েছেন তাঁরা। কারণ, পিছিয়ে থেকে জিততে হলে যে তাগিদ প্রয়োজন, সেটাই তো দেখা গেল না। গোল লক্ষ্য করে শট থেকে বলের দখল, সবই বেলজিয়ামের বেশি। ৯০ মিনিট ধরে সিয়াটল স্টেডিয়ামে আমেরিকার সমর্থকেরা দলকে তাতানোর চেষ্টা করে গেলেও লাভের লাভ কিছু হল না। প্রথম একাদশে সুযোগ পাননি রোমেলু লুকাকু। আগের ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও পরিবর্ত হিসাবে নেমে গোল করলেন তিনি। বুঝিয়ে দিলেন, গোল করতে বেশি ক্ষণ সময় তাঁর লাগে না। তবে এই ম্যাচে খেললেন না কেভিন দ্য ব্রুইন। কেন তাঁকে বসিয়ে রাখলেন কোচ? হতে পারে, কোচের মাথায় পরবর্তী স্পেন ম্যাচের পরিকল্পনা এখন থেকেই ঘুরছে। স্পেনকে হারাতে হলে দলের সবচেয়ে দক্ষ ফুটবলার দ্য ব্রুইনকে তাঁর প্রয়োজন। সেই কারণেই হয়তো আমেরিকার বিরুদ্ধে সহজ জয়ে তাঁকে বিশ্রাম দিলেন গার্সিয়া। বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিল তিন আয়োজক দেশই। প্রথমে বিদায় নিয়েছিল কানাডা। ২৪ ঘণ্টা আগে মেক্সিকো। আর এ বার আমেরিকা। ট্রাম্প এত কাঠখড় পুড়িয়েও দলকে জেতাতে পারলেন না।




