আর্জেন্টিনা – ৩ (সেলসো, মার্তিনেজ়, মেসি) জর্ডন – ১ (আল তামারি)
RK NEWZ বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচে গোল করে নজির মেসির, ডিফেন্স চিন্তা বাড়াল স্কালোনির। প্রত্যাশা মতোই গ্রুপের তিনটি ম্য়াচ জিতে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠল আর্জেন্টিনা। তবে জর্ডনের বিরুদ্ধেও মাঠে নামতে হল লিয়োনেল মেসিকে। তাঁর গোলেই নিশ্চিত হল গত বারের বিশ্বজয়ীদের জয়। ১৯ মিনিটে গোল আর্জেন্টিনার। বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রিকিক পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। তা থেকে গোল করলেন সেলসো। জর্ডানের গোলরক্ষক ইয়াজিদ আবুলাইলা প্রথমে দুই পা এগিয়ে একটু বাঁদিকে সরে যান। তিনি প্রথমে যেখানে ছিলেন, সেখানেই থাকলে সম্ভবত বাঁচিয়ে দিতে পারতেন। ওটামেন্ডির শট বারে লেগে ফিরল, ফিরতি বলে হেগ মার্তিনেজ়ের। বাঁচান গোলরক্ষক। তখনই ফাউল। ‘ভার’র সিদ্ধান্তে পেনাল্টি। দ্বিতীয় গোল আর্জেন্টিনার। ৩১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল মার্তিনেজের। বেঞ্চে বসে হাসি-মজা করছিলেন লিয়োনেল মেসি। হাসবেনই তো। তাঁকে ছাড়াই জর্ডনের বিরুদ্ধে দাপটে খেলছিল আর্জেন্টিনা। জর্ডন গত বারের বিশ্বজয়ীদের আটকাতে পারবে না প্রত্যাশিতই ছিল। কিন্তু মেসিকে নিশ্চিন্তে থাকতে দিলেন না তাঁর সতীর্থেরাই! বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচে গোল করলেন মেসি। বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসাবে গড়লেন কীর্তি। গ্রুপ পর্বের বেশ কিছু ম্যাচ হয়েছে একপেশে। সেই তালিকায় যোগ হতে পারত আর্জেন্টিনা-জর্ডন ম্যাচও। হল না দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের কিছুটা গা ছাড়া মনোভাবের জন্য। সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবধানও কমিয়ে ফেলে জর্ডন। তার পরই মেসিকে নামান আর্জেন্টিনার কোচ। এলএম টেনকে খেলানোর থেকেও সম্ভবত অন্য ফুটবলারদের বার্তা দিতে চেয়েছিলেন লিয়োনেল স্কালোনি। বিশ্বকাপে কোনও প্রতিপক্ষকেই হালকা ভাবে নিতে চান না। এগিয়ে থাকলেও নয়। মেসি নামার পর আর্জেন্টিনা কিছুটা পেশাদার ফুটবল খেলার চেষ্টা করেছে। পরবর্তী রাউন্ডগুলির জন্য শক্তি বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করেছে। ব্যক্তিগত দক্ষতায় এবং কৌশলে পিছিয়ে থাকা জর্ডনের ফুটবলারেরা বার বার ফাউল করে আটকানোর চেষ্টা করলেন আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের। তার চড়া মাশুলও দিতে হল। আর্জেন্টিনার তিনটি গোলই ফাউলের ফসল। ১৯ মিনিটে প্রথম গোল আর্জেন্টিনার। বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রিকিক পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। তা থেকে গোল করেন সেলসো। জর্ডানের গোলরক্ষক ইয়াজিদ আবুলাইলা প্রথমে দুই পা এগিয়ে কিছুটা বাঁদিকে সরে যান। তিনি প্রথমে যেখানে ছিলেন, সেখানেই থাকলে সম্ভবত বাঁচিয়ে দিতে পারতেন। কিন্তু সরে যাওয়ায় তাঁর আর কিছু করার ছিল না। ৩১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় গোল করেন মার্তিনেজ। মার্তিনেজ়ের শট বারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে হেড করতে যান সেনসি। বাঁচিয়ে দেন জর্ডনের গোলরক্ষক। কিন্তু হেড করার সময় জর্ডনের এক ফুটবলারের পা সেনসির মাথায় লাগে। ‘ভার’র পরামর্শে পেনাল্টি দেন রেফারি। জর্ডনের গোলরক্ষককে ডান দিকে ফেলে দিয়ে বাঁ দিকে জোড়াল শটে ব্যবধান বাড়ান মার্তিনেজ। দ্বিতীয়ার্ধে খোলস ছেড়ে বেরয় জর্ডন। শুরুতেই সুযোগ নষ্ট মুসা আল-তামারির। ৫৫ মিনিটে প্রতি আক্রমণ থেকে ব্যবধান কমায় তারা। ডান প্রান্ত থেকে ইহসান হাদ্দাদের নিখুঁত ক্রসে ৬ গজের বক্সে দারুণভাবে পা ছুঁইয়ে বল জালে জড়ান তামারি। কিছু করার ছিল না এমিলিয়ানো মার্টিনেজের। এশিয়ার দেশ ব্যবধান কমানোয় কোনও রকম ঝুঁকি নিলেন না স্কালোনি। ৬০ মিনিটে এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। দর্শকদের সম্ভাষণে মাঠে নামলেন মেসি। ৬৫ মিনিটে আবারও ফ্রিকিক পায় আর্জেন্টিনা। মেসি শটও নিলেন। যা পোস্টের বেশ কিছুটা উপর দিয়ে চলে যায়। এরপর হাল ছাড়েনি জর্ডন। মাঝেমাঝেই প্রতি আক্রমণে উঠেছে তারা। কিন্তু যে দলে মেসি নামক ‘সংকটমোচক’ রয়েছেন, তাদের আর চিন্তা কীসের! ৮০ মিনিটে ফ্রিকিক থেকে গোল পেলেন মেসি। চলতি বিশ্বকাপে ষষ্ঠ গোল মেসির। সবমিলিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁর গোলসংখ্যা ১৯। বক্সের ঠিক বাইরে জর্ডনের এক ডিফেন্ডারের ফাউলে ফ্রিকিক পায় আর্জেন্টিনা। আবারও শট নিতে আসেন এলএম১০। নিখুঁত বাঁ-পায়ের শটে গোলরক্ষককে কোনো সুযোগ না দিয়ে বল জড়িয়ে দেন জালে। মানব প্রাচীরে দাঁড়ানো জর্ডন ফুটবলাররা ভেবেছিলেন শূন্যে শট নেবেন লিও। সেই মতো লাফান তাঁরা। বাঁদিকে কিছুটা ফাঁকা জায়গা ছিল। সেখান থেকে গড়িয়ে শট নেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। গোলকিপার ডান দিকে সরে না দাঁড়িয়ে থাকলে এভাবে দর্শকের মতো গোল দেখতে হত না তাঁকে। এই সময়টাতে গোটা জর্ডন মেসির কাছে কার্যত বোকা বনে যায়। পাশাপাশি প্রথম ফুটবলার হিসাবে বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচে গোল করে ইতিহাস গড়লেন মেসি। প্রথম থেকে না খেললেও দল কেমন খেলে দেখতে স্টেডিয়াম ভরিয়ে তুললেন টিমের ‘দ্বাদশ ব্যক্তি’ সমর্থকরা। ম্যাজিশিয়ান মেসি নামলেন পরিবর্ত হিসাবে। গোলও পেলেন। ৩-১ গোলে জর্ডনকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা নকআউট খেলবে।
আর্জেন্টিনার প্রথম একাদশ
এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, মার্কোস সেনেসি, নিকোলাস ট্যাগলিয়াফিকো, নিকোলাস ওটামেন্ডি, এক্সেকুইল পালাসিয়োস, জিউলিয়ানো সিমিয়োনে, লিয়োনার্দো পারেদেস, জিয়োভানি লো সেলসো, নিকোলাস পাজ, ইউলিয়ান আলভারেজ, লাউতারো মার্তিনেজ।




