RK NEWZ “নির্মাণাধীন অবস্থাতেই যদি লোহার কাঠামো ভেঙে পড়ে, তবে কাজ শেষ হওয়ার পর সাধারণ মানুষ থাকলে কত বড় বিপর্যয় হতো ভেবেই শিউরে উঠছি।” বলেন দিলীপ ঘোষ। তারাতলার ব্রেসব্রিজ সংলগ্ন নির্মীয়মাণ গুদাম ধসের ঘটনায় এখনও চলছে উদ্ধারকাজ। ইতিমধ্যেই পাঁচ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে, আহত হয়েছেন বহু শ্রমিক। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ঘটনার নেপথ্যে দুর্নীতি ও নির্মাণে গাফিলতির অভিযোগ তুলে সরব হলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, এই বিপর্যয়ের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। নির্মাণাধীন অবস্থায় এত বড় কাঠামো ভেঙে পড়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর কথায়, “এত বড় নির্মাণকাজ চলাকালীনই যদি ধসে পড়ে, তা হলে নির্মাণ শেষ হওয়ার পর সেখানে মানুষ কাজ শুরু করলে বা ব্যবহার করলে কত বড় বিপর্যয় ঘটতে পারত, তা ভেবেই শিউরে উঠতে হয়।” অতীতে বাম আমলে রাজ্যের বিভিন্ন বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আবার তৃণমূলের আমলে সেতু ও উড়ালপুল ভেঙে পড়ার মতো ঘটনা সামনে এসেছে। তারাতলার এই দুর্ঘটনাও সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিল বলে বৃহস্পতিবার মন্তব্য করেন তিনি। ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে কলকাতা পুলিশ। স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়েরের পর গ্রেফতার করা হয়েছে গুদামের সুপারভাইজার সৈয়দ মহম্মদ গুলজার, শ্রমিক সরবরাহকারী মহম্মদ আতাউল এবং সুভাষ চৌধুরীকে। তদন্তকারীদের অনুমান, নির্মাণকাজে একাধিক স্তরে গাফিলতি বা অনিয়মের যোগ থাকতে পারে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সেই সূত্র খোঁজা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারদের রিপোর্টে নির্মাণ পরিকল্পনায় গুরুতর ত্রুটির ইঙ্গিত মিলেছে। সেই কারণেই আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত কলকাতা পুর এলাকার সমস্ত বাণিজ্যিক এবং সন্দেহজনক বহুতল নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন নির্মাণস্থলের অডিট করা হবে। ব্রেসব্রিজের কাছে নির্মীয়মাণ গুদামের লোহার কাঠামো আচমকা ভেঙে পড়ে। সেই সময় সেখানে ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। এখনও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া শ্রমিকদের খোঁজ চলছে। উদ্ধারকারীদের দাবি, ভিতর থেকে মাঝে মাঝেই আর্তনাদের শব্দ শোনা যাচ্ছে। ফলে অনেকে এখনও আটকে থাকতে পারেন বলে মনে করছেন তাঁরা। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার নেপথ্যে কোনও দুর্নীতি বা নির্মাণ সংক্রান্ত অনিয়ম ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের ঘণ্টাদেড়েকের মধ্যেই ‘অ্যাকশন’। তারাতলায় গুদাম বিপর্যয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতরা হল সৈয়দ মহম্মদ গুলজার, মহম্মদ আতাউল ও সুভাষ চৌধুরী। জানা গিয়েছে, সৈয়দ মহম্মদ গুলজার ছিল ওই নির্মাণকাজের সুপারভাইজার। আতাউল এবং সুভাষই কাজের জন্য শ্রমিক সরবরাহ করত। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। বুধবার বেলা ১২টা ৭ মিনিটে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে তারাতলার তিনতলাক গুদাম। ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে যান বহু শ্রমিক। খবর পাওয়া মাত্রই একের পর এক মন্ত্রী ঘটনাস্থলে যান। ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ঘটনাস্থলে পৌঁছন। উদ্ধারকাজের প্রতি মুহূর্তের আপডেট নিচ্ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, দুপুর আড়াইটে নাগাদ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয় মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়ালের। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় উদ্ধারকাজে সেনার সাহায্য নেওয়া হবে। সেই মতো তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সেনা। দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় কাজ। ভার্টিকাল ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে শুরু হয় উদ্ধারকাজ। কে, কোথায় আটকে রয়েছেন তার হদিশ পেতে ড্রোন উড়িয়ে শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। নামানো হয়েছে দু’টি স্নিফার ডগও। রাতেও চলছে উদ্ধারকাজ। ঘটনাস্থলে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রসচিব ও মুখ্যসচিব। দফায় দফায় বৈঠক করছেন। এসএসকেএমে আহতদের সঙ্গে দেখা করতে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, “তারাতলার কারখানায় কর্মরতদের বেশিরভাগই বিহার ও মুঙ্গেরের বাসিন্দা। ঠিক কতজন শ্রমিক ওই ধ্বংসস্তূপের নিচে কাজ করছিলেন, তার হিসাব পেতে লালবাজারকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শ্রমিক সরবরাহকারীকে অবিলম্বে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাহলেই জানা যাবে ঠিক কতজন শ্রমিক কাজ করছিলেন। কতজন নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন। আর কতজন উদ্ধার হয়েছেন তা স্পষ্ট হবে।” তাঁর নির্দেশের ঘণ্টাদেড়েকের মধ্যে লালবাজারের তরফে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু হয়। বেহেরা ব্রাদার্সের খোঁজে বহুতলে তল্লাশিও চালান আধিকারিকরা। এরপরই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।





