Monday, June 22, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বাজেটে হিন্দুত্বে শান দিল ডবল ইঞ্জিন সরকার!‌ সরকারি চাকরিতে এক লক্ষ শূন্যপদে নিয়োগ হবে!‌

RK NEWZ বাজেটে হিন্দুত্বে শান দিল ডবল ইঞ্জিন সরকার। প্রথমবার রাজ্যে শক্তিপীঠ সার্কিট গড়ার উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। এছাড়াও হেরিটেজ কমিশন পুনর্গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর আওতায় কালীঘাট, তারাপীঠ, জোড়াসাঁকো-সহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবহনকারী স্থানগুলির পুনরুদ্ধারের কাজ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়াও শ্রীশ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু তীর্থযাত্রা সার্কিট গড়ে তোলা হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, হেরিটেজ কমিশন পুনর্গঠন, মঠ মন্দির সংরক্ষণের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। এই প্রথমবার রাজ্যে শক্তিপীঠ সার্কিট গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হল। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানিয়েছে, একটি প্রধান জেলাশহরকে কেন্দ্র করে একাধিক মন্দিরকে সংযুক্ত করা হচ্ছে। এই মন্দিরগুলিকে নিয়ে উপযুক্ত পর্যটন কর্মসূচি তৈরি হবে। এর মধ্যে ভ্রামরী দেবী, নন্দীকেশ্বরী, তারাপীঠ, বক্রেশ্বর, ফুল্লরা এবং কঙ্কালীতলা মন্দিরকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়াও শ্রীশ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু তীর্থযাত্রা সার্কিট গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। কালীঘাট, তারাপীঠ, জোড়াসাকো ছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন শক্তিপীঠ-সহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলি পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর জন্য হেরিটেজ কমিশন পুনর্গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। স্বপন দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, “পশ্চিমবঙ্গ তার ঐতিহ্যবাহী ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত। এই সব ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলি সংরক্ষণ ও তার প্রসার ঘটনো অত্যন্ত প্রয়োজন।” মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, “আমাদের সরকার বাংলার সংস্কৃতিকে ফিরিয়ে আনার হেরিটেজ কমিশনকে পুনরুজ্জিবীত করা, মঠ মন্দির সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। এর জন্য ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সংস্কৃতিকে কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। আমরা সংস্কৃতির জাগরণ ঘটাব। রাজ্য শুরু সাংস্কৃতিক রাজধানী নয়, আধ্যাত্মিক রাজনীতি।”

সরকারি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমায় ইতিমধ্যে ৫ বছর ছাড় দেওয়া হয়েছে। বয়সের ঊর্ধ্বসীমায় এই ছাড়ের সুবিধা পরবর্তী দু’বছরের জন্য বহাল থাকবে। সরকারি চাকরিতে এক লক্ষ শূন্যপদে কর্মী নিয়োগ করা হবে। সোমবার নিজেদের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে এমনটাই ঘোষণা করল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানান, সরকারি চাকরিতে নতুন নিয়োগের ৩৩ শতাংশ পদ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। সরকারি চাকরিতে যত নিয়োগ হবে, তার অর্ধেকই শিক্ষাক্ষেত্রে, জানিয়েছেন স্বপন। রাজ্য সরকারের কোন বিভাগে কত কর্মী নিয়োগ করা হবে, তা-ও জানিয়েছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, যে এক লক্ষ শূন্যপদে নিয়োগ করা হবে, তার মধ্যে ২০ হাজার শূন্যপদ রয়েছে পুলিশ বিভাগে। ৫০ হাজার জনকে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, অধ্যাপক পদে নিয়োগ করা হবে। ১০০০টি ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেলসের পদে নিয়োগ হবে। এ ছাড়াও অন্য সরকারি দফতরের বাকি শূন্য পদে নিয়োগ করা হবে। যেখানে প্রযোজ্য, সেখানে ১০ শতাংশ পদ অগ্নিবীরদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি এবং সরকার পোষিত প্রতিষ্ঠানে চাকরির পরীক্ষায় জনসাধারণের আস্থা ফেরাতে সরকার বিশেষ ভাবে উদ্যোগী হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন। সরকারের নিয়োগকারী সংস্থাকে ইউপিএসসি-র ধাঁচে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনা হবে। বাজেটে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে, নিয়োগ ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়বে। সরকারি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমায় ইতিমধ্যে ৫ বছর ছাড় দেওয়া হয়েছে। এ বার এই বয়সের ঊর্ধ্বসীমায় ছাড়ের সুবিধা পরবর্তী দু’বছরের জন্য বহাল থাকবে— বাজেটে জানিয়ে দিল শুভেন্দুর সরকার। বিধানসভা ভোটের প্রচারে এই বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। ভোটে জিতে ক্ষমতায় এসে সরকারি চাকরিতে বয়সের ছাড় দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। সেই মতো বিজ্ঞপ্তিও জারি করে নবান্ন। রাজ্যের অর্থ দফতরের অডিট শাখার জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গ্রুপ এ চাকরিতে আবেদনের জন্য বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি করে ৪১ বছর করা হয়েছে। তবে এ-ও বলা হয়েছে, গ্রুপ এ-র কোনও চাকরির ক্ষেত্রে আবেদনের জন্য বয়সের ঊর্ধ্বসীমা আগে থেকেই ৪১ বছরের বেশি থাকলে, তাতে কোনও বদল হবে না। গ্রুপ বি চাকরিতে আবেদনের ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি করে ৪৪ বছর করা হয়েছে। গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি চাকরিতে আবেদনের জন্য বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি পেয়ে হল ৪৫ বছর। ১১ মে থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। এ বার শুভেন্দু অধিকারীর সরকার জানাল, আগামী দু’বছর এই নিয়ম কার্যকর থাকবে। বাজেটে জানানো হয়েছে, সরকারি এবং সরকার পোষিত কলেজের যে পড়ুয়ারা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁদের এককালীন ৩০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হবে। এ জন্য বাজেটে ৩০ কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।

রাজ্যের স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে এইমস থেকে রাজ্যের হাসপাতালগুলিকে সুপার স্পেসালিটে পরিণত করা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। জন সাধারণের স্বাস্থ্য ইন্সুরেন্স তথা আয়ুষ্মান ভারতের মতো সামাজিক প্রকল্প কার্যকর করা হয়েছে। সেইগুলো কার্যকর করতে সুন্দরন বনে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল তৈরি করা হবে। পাশাপাশি মোটরবোট অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা চালু করা হবে। এছাড়াও অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের জন্য দ্বীপভিত্তিক প্রসূতি কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। সব সরকারি হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের খাবার দেওয়ার জন্য মাথা পিছু খরচ ১১০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। গোটা রাজ্য-সহ সুন্দরবন এলাকা থেকে যাঁরা মুম্বই ও ভেলোরে চিকিৎসার জন্য যাবেন তাঁরা পিপিপি মডেলে সেখানে থাকার সুবিধা পাবেন।

কৃষি পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। রাজ্যের লক্ষ লক্ষ নাগরিকের জীবিকার প্রাথমিক উৎস। কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল, প্রযুক্তি-সক্ষম করে তোলার উদ্দোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। সুন্দরবন-সহ সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে জলের জোগান বাড়ানোর জন্য রাজ্যের প্রধান নদীগুলির জন্য নদী অববাহিকাভিত্তিক প্ল্যান তৈরি করা হবে। যার মূল লক্ষ্য জলসম্পদ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন। এই বেসিন-প্ল্যান তৈরি করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নদী-ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত আন্তর্জাতিক জলসম্পদ বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হবে। এছাড়াও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের ফান্ড সহায়তায় ১,৩৫৩ কোটি টাকা মূল্যের প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মরা নদীখাতগুলি খনন করে মূল নদীগুলির যুক্ত করা হবে। যাতে এই সব নদীতে জলের সরবরাহ বৃদ্ধি পায়। মৎস্যচাষের ক্ষেত্রেও সামুদ্রিক ও অভ্যন্তরীণ জলাশয় ছাড়াও নোনা জল ও জলাভূমির মৎস্যচাষের জন্য আধুনিক মৎসা-বড উৎপাদন কেন্দ্র, মৎস্য উৎপাদন খামার, কোল্ড চেইন ব্যবস্থা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র বাড়বে। ৬০ কিলোমিটার লম্বা বাঁধ হবে। টাকা দেবে কেন্দ্র সরকার। বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করার জন্য এই উদ্দোগ। তার জন্য ১ হাজার কোটি বরাদ্দ করা হয়েছে। নাম দেওয়া হয়েছে সুন্দরবন ন্যাচারাল এমব্যাঙ্কমেন্ট প্রজেক্ট। এছাড়াও স্থানীয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে নিযুক্ত করে সুন্দরবন এলাকায় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সৃষ্টির জন্য এই অর্থ বছরে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড় প্রবল সমস্যা তৈরি করে। বিশেষ করে অধিকাংশ ঝড় আছড়ে পরে সুন্দরবন অঞ্চলে। যা প্রবল ক্ষতি করে। তৈরি করা হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ জলবায়ু সহনশীলতা তহবিল ও পশ্চিমবঙ্গ জলবায়ু অর্থায়ন ফেসিলিটি গঠন করা হচ্ছে।

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতি সংরক্ষণে বাজেটে বড় ঘোষণা অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের। জানালেন, জিরাটে শ্যামাপ্রসাদের পৈতৃক ভিটে সংস্কার করা হবে। তাঁর স্মৃতি সৌধ তৈরি করা হবে। শ্যামাপ্রসাদের নামে গ্রন্থাগার, পার্ক তৈরি করা হবে। এছাড়া শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিনে অর্থাৎ ৬ জুলাই মিলবে রাজ্য সরকারি ছুটি। পশ্চিমবঙ্গে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান নিয়ে চর্চা হোক। আসল ইতিহাস সামনে আসুক। এমনই চাইছে রাজ্যের বর্তমান বিজেপি সরকার। তাই আগেই নবান্নের তরফে জানানো হয়েছিল, কলকাতার বুকে বসানো হবে ১২৫ ফুটে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি। আগামী ৬ জুলাই তার ভূমি পুজো হওয়ার কথা। ঠিক কোথায় হবে তা জানা না গেলেও রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল কলকাতার কোনও একটি অংশে জমি নির্বাচন করে মূর্তি স্থাপন করা হবে। সোমবার রাজ্য বাজেটে জিরাটে শ্যামাপ্রসাদের ১২৫ ফুটের স্মৃতি সৌধ বসানোর হবে বলে ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। বললেন, হুগলির বলাগড় ব্লকের জিরাটে অবস্থিত ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈতৃক বাড়িটির সংস্কার করা হবে। এছাড়াও হবে তাঁর নামাঙ্কিত গ্রন্থাগার ও পার্ক। এই খাতে রাজ্যের বরাদ্দ ২০০ কোটি টাকা। বাজেটেই এদিন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানালেন, রাজ্য সরকারি কর্মীদের ক্যালেন্ডারে যুক্ত করা হল আরেকটি ছুটি। তা হল ৬ জুলাই, অর্থাৎ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিন। উল্লেখ্য, এবার ২৩ জুন থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত রাজ্যে ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পক্ষ’ পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন ক্ষেত্রের মতো স্কুলশিক্ষাতেও উন্নতিতে সচেষ্ট হয়েছে। সোমবার শুভেন্দু অধিকারী সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে তার প্রতিফলন দেখা গেল। সরকারি স্কুলে মিড ডে মিলে বরাদ্দ বাড়ানো থেকে শুরু করে স্কুলছাত্রীদের সুবিধার্থে স্যানিটারি ভেন্ডিং মেশিন বসানোর মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। এছাড়া পিছিয়ে পড়া জেলায় কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়, আদিবাসীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বাজেটে। এতদিন পড়ুয়া পিছু মাত্র সাড়ে ৬ টাকা করে বরাদ্দ ছিল মিড ডে মিলের জন্য। এবার থেকে তা বাড়িয়ে করা হবে ১০ টাকা। আরও বেশি করে পুষ্টিকর খাবার পাবে ছোট ছোট পড়ুয়ারা। শুধু তাই নয়, মিড ডে মিলের রাঁধুনিদেরও পারিশ্রমিক বাড়ানো হয়েছে মাসে ১০০০টাকা করে। এতদিন তাঁরা মাসে ১০০০ টাকাই পেতেন। যাতে তাঁরা পরিশ্রমের যথাযথ মর্যাদা পান। এছাড়া দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া, বর্ধমান, মালদহ ও ঝাড়গ্রামে মোট ৬ টি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় ও আদিবাসীদের জন্য ঝাড়গ্রামে ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হবে। প্রথম দফায় ১০কোটি টাকা বরাদ্দ ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী।মহিলাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হবে কাঁথি, কালিয়াচক, ফলতায়।

না বাম, না তৃণমূল- কেউই দিনশেষে ভাবেনি সরকারি কর্মীদের কথা। বাজেটের পর সাংবাদিক বৈঠক থেকে আরও একবার একথাই বুঝিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপরই বকেয়া ডিএ ও কেন্দ্র-রাজ্যের সমহারে ডিএ ইস্যুতে বন্ধু হিসেবে সরকারি কর্মীদের কাছে খানিকটা সময় চেয়ে নিলেন তিনি। বললেন, “বন্ধু হিসেবে কয়েকটা মাস দিন আমাকে। নতুন অর্থমন্ত্রীর সবটা বুঝতে সময় লাগে।” ডিএ অর্থাৎ মহার্ঘভাতা নিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মীদের আন্দোলন চলছে দীর্ঘদিন ধরে। দাবি মূলত দু’টো, কেন্দ্র ও রাজ্যের সমহারে ডিএ এবং বকেয়া পরিশোধ। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের লড়াই সুপ্রিম কোর্ট অবধি পৌঁছেছিল। শীর্ষ আদালত অবিলম্বে বকেয়া মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল। যদিও তৃণমূল সরকার অর্থাভাবের কথা জানিয়ে বাড়তি সময় চেয়ে নেয়। পরবর্তীতে ২ দফায় মোট বকেয়ার ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয় আদালতের তরফে। সরকারি কর্মীরা তা পেলেও, সরকার পোষিত প্রতিষ্ঠানের কর্মী, পেনশনভোগীরা তা পাননি। সম্প্রতি এনিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিরা। সোমবার বাজেটে রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য বড় ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী। একধাক্কায় বাড়ল ২০ শতাংশ ডিএ। অর্থাৎ এবার রাজ্য সরকারি কর্মীরা পাবেন ৩৮ শতাংশ ডিএ। এই ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি সরকারি চাকুরেরা। তবে প্রশ্ন কয়েকটা থাকছেই। কারণ বকেয়া ডিএ-র বিষয়টার এখনও মীমাংসা হয়নি। এদিকে কেন্দ্রের সঙ্গে এখনও কিছুটা ফারাক রয়ে গেল। বাজেটের পর সাংবাদিক বৈঠক করে এই সমস্ত ইস্যু নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘেউঘউ’ মন্তব্য উসকে তিনি বলেন, “আগের সরকার কর্মীদের কিছুই দেয়নি। আমি কথা দিয়েছিলাম। কেন্দ্রের সঙ্গে আপনাদের ফারাক ছিল ৪২ শতাংশ। একসঙ্গে ২০ শতাংশ দিলাম। কয়েকটা মাস সময় দিন। সমহারে ডিএ পাবেন আপনারা। বকেয়া যারা পাননি এখনও তা ধীরে ধীরে পেয়ে যাবেন, ফান্ড এলেই।” কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা ডিএ পান ৬০ শতাংশ। মমতা সরকারের আমলে রাজ্য সরকারি ও সরকার পোষিত কর্মীরা পেতেন ১৮ শতাংশ। অর্থাৎ কেন্দ্রের সঙ্গে ফারাক ছিল ৪২ শতাংশ। এবার এক সঙ্গে ২০ শতাংশ দেওয়ায় সরকারি কর্মীরা পাবেন মোট ৩৮ শতাংশ। অর্থাৎ কেন্দ্রের সঙ্গে ফারাক কমে হল ২২ শতাংশ। শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ২০২৭-এর জানুয়ারিতে কার্যকর হবে সপ্তম পে কমিশন। কিন্তু তা জন্য ডিএ ৫০ শতাংশ হওয়া আবশ্যক। তাই মনে করা হচ্ছে ডিসেম্বরের মধ্যেই আরও ১২ শতাংশ ডিএ পাবেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা। বামেদের ৩৪ বছরের শাসনকালে চিরকুটে চাকরি দিয়ে যোগ্যদের বঞ্চিত করা হয়েছে, কলকারখানা বন্ধ হয়েছে, সরকারি কর্মীরা বঞ্চিত হয়েছেন বলেও মন্তব্য করলেন শুভেন্দু। বুঝিয়ে দিলেন, বাম হোক বা তৃণমূল, কেউই ভাবেনি সরকারি কর্মীদের কথা। কিন্তু শুভেন্দু ঠিক বন্ধুর মতো তাঁদের পাশে রয়েছেন। তাই একধাক্কায় ২০ শতাংশ ডিএ ঘোষণা করা হয়েছে। সপ্তম পে কমিশনের কমিটি গঠিত হয়েছে। জানুয়ারিতেই তা কার্যকরও হবে। ২০২৮-২০২৯ অর্থবর্ষে অষ্টম পে কমিশনও দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিলেন শুভেন্দু। সরকারি কর্মীদের তাঁর সাফ বার্তা, তিনি পাশে ছিলেন, আছেন, থাকবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles