RK NEWZ মেসি-কাণ্ডে রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে ৫ জুন হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। কিন্তু শারীরিক সমস্যার কারণে হাজিরা এড়িয়ে যান তিনি। ১৪ দিনের সময় চেয়ে নেন। কিন্তু তাঁর পর থেকেই নিখোঁজ অরূপ। পুলিশের দাবি, খোঁজ মিলছে না প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর। তাঁর মোবাইল ফোনের কোন টাওয়ার লোকেশন পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে অরূপের অবস্থান ঠিক কোথায়, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। কলকাতা পুলিশের তরফ থেকে বিধাননগর পুলিশকে জানানো হয়েছে বর্তমানে তিনি বাড়িতে নেই। গত বৃহস্পতিবার হাজিরা না দিয়ে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট জমা দেন অরূপ। হাজিরা এড়িয়ে যাওয়ার খবর শুনে খোঁচা দিতে ছাড়েননি শতদ্রু দত্ত। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, “মেডিক্যাল সার্টিফিকেট দিয়ে হয়তো সময় কেনা যায়, বিচার থেকে পালানো যায় না।” এফআইআর দায়ের হওয়ার পর গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। বারাসাত আদালতে আগাম অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আবেদন করেছিলেন তৃণমূল নেতা। রাজ্যে পালাবদলের পরে যুবভারতীতে মেসি-কাণ্ডে নতুন করে এফআইআর করেছে বিধাননগর পুলিশ। সেখানে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর নাম আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ। সরকার বদলের পর থেকেই বিপাকে পড়েছেন অরূপ এবং তাঁর ভাই স্বরূপ বিশ্বাস। হুমকি, শ্লীলতাহানি, তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে স্বরূপকে। তাঁকে পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও তাঁর ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের সাহাপুর কলোনির ফ্ল্যাটে একটি রহস্যময় ঘরের সন্ধান পেল পুলিশ। এই ঘরে ডিজিটাল লক করা আছে। সেই লক ভাঙতে তৎপরতা শুরু করেছে পুলিশ। সোমবার ধৃত স্বরূপকে নিয়ে তাঁর বাড়িতে যায় পুলিশ। স্বরূপ ওই ঘরটির ডিজিটাল লকের কোড দিতে পারেননি। রুমটি খোলার জন্য চাবি ভাঙার লোকও নিয়ে আসা হয়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই ঘর খোলা সম্ভব হয়নি। ওই ঘরটিতে কী রয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মেসি কাণ্ডে এখনও থানায় হাজিরা দেননি প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। কলকাতা হাই কোর্টে পাননি রক্ষাকবচও। তাঁকে হন্য হয়ে খুঁজছে পুলিশ। যৌন নির্যাতন-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে আগেই অরূপের ভাই স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেপ্তার হয়েছেন। আজ স্বরূপকে নিয়ে বেহালার সাহাপুর কলোনিতে যায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। সেখানে তাঁর বাড়িতে কয়েকঘণ্টা ধরে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। সেই তল্লাশিতেই একটি রহস্যময় ঘরের সন্ধান পায় পুলিশ। ঘরটিতে ডিজিটাল লক করা রয়েছে। লক খুলতে তৎপরতা শুরু করেছে পুলিশ। স্বরূপের থেকে ডিজিটাল লকের কোড চাওয়া হলে তিনি বলতে পারেননি। এরপরই চাবিওয়ালাকে নিয়ে আসে পুলিশ। কিন্তু লকটি ডিজিটাল হওয়ায় চাবিওয়ালাও তা খুলতে পারেননি। অন্যপথে এই ঘর খোলা যায় কি না তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে পুলিশ। তদন্তকারীদের অনুমান, এই ঘরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি লুকোনো থাকতে পারে। একসময়ে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী ছিলেন অরূপ বিশ্বাস। বিগত সরকারের আমলে মন্ত্রী হিসাবে বিদ্যুৎ, ক্রীড়ার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। সে প্রভাব কাজে লাগিয়ে স্বরূপ বিশ্বাস নানা কুকর্ম করেছিলেন বলেই অভিযোগ। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, আর্থিক প্রতারণা, রাজনৈতিক ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে প্রভাব খাটানোর মতো একাধিক অভিযোগ ওঠে। শুধু তাই নয়, তাঁর বিরুদ্ধে জমিদখল করে সুরুচি সংঘের মতো নামজাদা ক্লাব চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ক্লাবঘরের দ্বিতীয় তলায় বিলাসবহুল হোটেলের বন্দোবস্ত করে দুষ্কর্ম চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তাঁর ছত্রছায়ায় বাড়বাড়ন্ত অরূপের ভাই স্বরূপ বিশ্বাসেরও। দু’জনে মিলে টলিউডে একনায়কতন্ত্র চালাতেন বলেই অভিযোগ। স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে যৌনহেনস্তা, অস্ত্র আইনেও মামলা রুজু হয়েছে। সেই অভিযোগ ইতিমধ্যে পুলিশের জালে স্বরূপ। মেসি কাণ্ডে ক্রমশ বিপদ বাড়ছে অরূপ বিশ্বাসেরও। তাঁর খোঁজে শুরু হয়েছে তল্লাশি। এবার অরূপ ও স্বরূপের বাড়িতে রহস্যময় ঘরের সন্ধান পেল পুলিশ।





