Friday, May 29, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বিজেপির দরজা বন্ধ, সতর্ক আরএসএসও! এবার কেপিপিতে ঢুকছে তৃণমূলের বেনোজল?

RK NEWZ কামতাপুর পিপলস পার্টির (ইউনাইটেড) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নিখিল রায় জানান, প্রতিদিন কেপিপিতে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করে প্রচুর ফোন আসছে। তাদের মধ্যে তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে সাধারণ সদস্য আছেন। প্রত্যেকে দলের সদস্য হতে চাইছেন। তৃণমূলে ‘বিদ্রোহ’! দল ছাড়ার হিড়িক। বন্ধ বিজেপির দরজা। সতর্ক রয়েছে আরএসএসও। এই অবস্থায় কামতাপুর পিপলস পার্টি (ইউনাইটেড) অর্থাৎ কেপিপি-তে নাম লেখাতে শুরু করেছেন উত্তরের বিভিন্ন জেলার তৃণমূল কর্মী সমর্থকেরা। পৃথক রাজ্য ও ভাষার স্বীকৃতির দাবিতে সরব হচ্ছেন তারাও। যদিও কেপিপি-র তরফে রীতিমতো শিবির করে শুধুমাত্র দুর্নীতির অভিযোগের বাইরে থাকা তৃণমূলের বাছাই করা কর্মীদেরই সদস্য করা হচ্ছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে যে তৃণমূল নেতাদের দাপটে বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খেয়েছে তারাই এখন পালিয়ে থাকার জায়গা খুঁজছেন। দলের মাঝারি নেতা থেকে নিচুতলার সাধারণ কর্মীরাও স্বেচ্ছা ঘরবন্দি হয়েছেন। কয়েকদিন আগেও হুমকি দিয়ে বেড়ানো দোর্দণ্ডপ্রতাপশালী জেলা অথবা ব্লক স্তরের নেতাদের দুর্দিনে পাশে না-পেয়ে তৃণমূলের সাধারণ কর্মী ও সমর্থকেরা রীতিমতো দিশাহারা। ভোটের ফলাফল বের হতে অনেকে গেরুয়া আবির মেখে দলের জার্সি পালটে ফেলার চেষ্টা করছেন ঠিকই কিন্তু লাভ হয়নি। অভিযোগ, বিজেপি নেতাদের সঙ্গে গোপনে ফোনে কথাও বলছেন কিছু তৃণমূল নেতা। কিন্তু ডাল গলেনি! উলটে পদ হারানোর ভয়ে মাঝারি, ছোট বিজেপি নেতৃত্ব ‘ঝামেলা’ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেন। তাই গেরুয়া শিবিরের রুদ্ধ দুয়ার কিছুতেই খুলছে না। ওই পরিস্থিতিতে উত্তরের গ্রামীণ এলাকার তৃণমূল কর্মী সমর্থকেরা কেপিপি-র দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করেছেন। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে মালদহ থেকে কোচবিহার পর্যন্ত বিভিন্ন জেলার গ্রামীণ এলাকায় কেপিপি নেতৃত্বকে প্রায় প্রতিদিন দল বদলের সভা করতে হচ্ছে। তবে এখানেও যেসব তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং দাদাগিরির অভিযোগ রয়েছে তাদের ঠাই মিলছে না। কামতাপুর পিপলস পার্টির (ইউনাইটেড) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নিখিল রায় জানান, প্রতিদিন কেপিপিতে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করে প্রচুর ফোন আসছে। তাদের মধ্যে তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে সাধারণ সদস্য আছেন। প্রত্যেকে দলের সদস্য হতে চাইছেন। কিন্তু এভাবে দলের সদস্য করা সম্ভব নয়। তাই ওদের দলের বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে আসতে বলা হচ্ছে। নিখিলবাবু বলেন, “প্রায় প্রতিদিন যোগদান সভা হচ্ছে। কিন্তু সতর্কতার সঙ্গে তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের দলে নেওয়া হচ্ছে। যে তৃণমূল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপোষণের অভিযোগ রয়েছে তাদের এড়িয়ে চলা হচ্ছে।” এখানেই বিপাকে পড়েছেন বেশিরভাগ তৃণমূল নেতা। অনুগামীরা কেপিপি-র ঝান্ডা হাতে পেলেও দুর্নীতিবাজ নেতারা ব্রাত্য থেকে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়। কর্মফল ভোগের নিদানও শুনতে হচ্ছে।

এবার বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরের সমতলের ছয় জেলায় ২০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে কামতাপুর পিপলস পার্টি (ইউনাইটেড)। মালদহ থেকে কোচবিহার বিভিন্ন এলাকায় কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনা এবং কথা দিয়ে না-রাখার অভিযোগ তুলে প্রচারও করেছে দল। রাজ্যে পালাবদলের পর পৃথক কামতাপুর রাজ্য এবং ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবিতেই অনড় রয়েছে কেপিপি। দলের জলপাইগুড়ি জেলার নেতা বিশ্বনাথ রায় জানান, নতুন যারা দলে আসছেন তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে পৃথক কামতাপুর রাজ্যের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, “পৃথক রাজ্য ও ভাষা স্বীকৃতির দাবি পূরণ ও শান্তি চুক্তির আশ্বাস দিয়ে কেএলও চিফ জীবন সিংহকে আত্মসমর্পণ করানোর পর কোনও ব্যবস্থা নেয়নি কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। এবার রাজ্যে পালাবদল হয়ে ডাবল ইঞ্জিন সরকার গঠন হয়েছে। আর কোনও বাধা নেই। চিকেনস নেকের নিরাপত্তার প্রয়োজনেই উত্তরবঙ্গকে পৃথক রাজ্য ঘোষণা করা উচিত।”

এবিভিপি-বিএমএসের নামে সক্রিয় রাতারাতি গজিয়ে ওঠা বিজেপি! ‘গিরগিটি’ রুখতে সক্রিয় সংগঠনগুলি। বিধানসভার নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর তৃণমূল কংগ্রেসের হাজার হাজার কর্মী রাতারাতি আরএসএসের ছাত্র সংগঠন এবং শ্রমিক সংগঠনের স্বঘোষিত কর্মী হয়ে উঠেছেন! শুধুই রাজ্যে ক্ষমতার হাত বদল হয়েছে তাই নয়, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যেভাবে দিনে রাতে নেতারা রং বদলচ্ছে তাতে বোধহয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঠিক আখ্যা দিয়েছেন- ‘গিরগিটি’। তবে সেই পরিস্থিতিতে শুধু তৃণমূলের অস্বস্তি বেড়েছে তাই নয়, চরম বিব্রত রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএসও। বিশেষ করে আরএসএসের ছাত্র সংগঠন এবিভিপি এবং শ্রমিক সংগঠন ভারতীয় মজদুর সংঘ, বিএমএস নেতৃত্ব খুব বিরক্ত। রাতারাতি যেভাবে তৃণমূলের কর্মীরা নিজেদের রঙ গেরুয়া বলে পরিচয় দিচ্ছে, তাতে চরম ক্ষুব্ধ সংগঠনের নেতৃত্বরা। আর তাই ‘গিরগিটি’ খুঁজতে ময়দানে নামলেন নেতারা। শুধুই রাজ্যে ক্ষমতার হাত বদল হয়েছে তাই নয়, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যেভাবে দিনে রাতে নেতারা রং বদলচ্ছে তাতে বোধহয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঠিক আখ্যা দিয়েছেন- ‘গিরগিটি’। তবে সেই পরিস্থিতিতে শুধু তৃণমূলের অস্বস্তি বেড়েছে তাই নয়, চরম বিব্রত রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএসও। বিশেষ করে আরএসএসের ছাত্র সংগঠন এবিভিপি এবং শ্রমিক সংগঠন ভারতীয় মজদুর সংঘ, বিএমএস নেতৃত্ব খুব বিরক্ত। রাতারাতি যেভাবে তৃণমূলের কর্মীরা নিজেদের রঙ গেরুয়া বলে পরিচয় দিচ্ছে, তাতে চরম ক্ষুব্ধ সংগঠনের নেতৃত্বরা। আর তাই ‘গিরগিটি’ খুঁজতে ময়দানে নামলেন নেতারা। বিধানসভার নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর তৃণমূল কংগ্রেসের হাজার হাজার কর্মী রাতারাতি আরএসএসের ছাত্র সংগঠন এবং শ্রমিক সংগঠনের স্বঘোষিত কর্মী হয়ে উঠেছেন! অভিযোগ, তৃণমূলের এক বড় সংখ্যক ছাত্রনেতা নিজেদের অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের কর্মী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বহু তৃণমূল কর্মী, যাঁরা সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পাননি, তাঁরা ভারতীয় মজদুর সংঘের সদস্য বলে নিজেকে দাবি করতে শুরু করেছেন। শুধু তাই নয়, অটো এবং টোটো (ব্যাটারিচালিত রিকশা) চালকদের সংগঠনের মতো ছোট ছোট শ্রমিক সংগঠনগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টাও করছে এই নেতারা। এবিভিপির তরফে ইতিমধ্যেই এমন সব অভিযোগে ১৭ টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, যে সমস্ত সংগঠন রাতারাতি শিবির বদলে ফেলছে তাদের চিহ্নিত করার কাজও করা হচ্ছে। এই সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্য সামনে আসতেই এবিভিপির তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি করা হয়েছে। যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে যে, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের একটি ভুয়ো লেটারহেড ব্যবহার করে রাজ্যপাল আরএন রবির কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে দিনে দিনে এই ধরনের কর্মকাণ্ড বেড়েই চলেছে। এবিভিপির রাজ্য সম্পাদক নীলকণ্ঠ ভট্টাচার্য বলেন, ”গত ৪ মে ফলাফল প্রকাশের পর থেকে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের অধীনস্থ বহু ছাত্র ইউনিয়ন তাদের সোশাল মিডিয়ায় প্রোফাইলের নাম ও পরিচয় বদলে ফেলে এবিভিপির নাম ব্যবহার করতে শুরু করেছে। আগে যে সমস্ত সোশাল মিডিয়া গ্রুপের নাম টিএমসিপি ছিল, সেগুলির বেশ কয়েকটির নাম রাতারাতি বদলে ফেলা হয়।” তাঁর কথায়, সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য আমাদের নাম ব্যবহার করছে। আমরা ইতিমধ্যে এই বিষয়ে ১৭টি অভিযোগ দায়ের করেছি। মানুষ যাতে এই ধরনের ভুয়ো সংগঠনগুলোকে চিনতে পারে, তার জন্য সমাজমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে। বেশিদিন এই কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না বলেও সতর্ক করে দিয়েছেন নীলকণ্ঠ ভট্টাচার্য। এবিভিপির এই নেতা বলেন, ”যারা শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করতে আমাদের নাম ব্যবহার করছে, তারা বেশিদিন এই কাজ চালিয়ে যেতে পারবে না। কারণ সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমাদের নিজস্ব ইউনিট রয়েছে। যে সমস্ত শিক্ষার্থী এবিভিপিতে যোগ দিতে চান, তাঁদের আমরা সরাসরি আমাদের সাংগঠনিক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানাচ্ছি।” অন্যদিকে ফল ঘোষণার পরেই বহু তৃণমূল নেতা কর্মী গায়ে গেরুয়া আবির মেখে, বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিতে শুরু করেছেন রাতারাতি। বিজেপি এই ধরনের লোকেদের ‘ভোট-পরবর্তী বিজেপি’ কর্মী হিসেবে বর্ণনা করেছে—অর্থাৎ, যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের পরাজয়ের পর নিজেদের রঙ বদলেছে। যদিও এই প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য আগেই জানিয়ে দেন, কোনও ‘ভোট-পরবর্তী বিজেপি’ কর্মীকে দলে গ্রহণ করা হবে না। তিনি এও জানান যে, বিজেপির নিজস্ব কোনও শ্রমিক সংগঠন বা ছাত্র সংগঠন নেই। তবে বিজেপি সূত্রের দাবি, যাঁরা সরাসরি বিজেপিতে প্রবেশাধিকার পেতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাঁরা নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে এবিভিপি বা বিএমএসের মতো সংঘ-অনুমোদিত সংগঠনগুলোতে আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles