RK NEWZ কথা রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১ জুন থেকেই রাজ্য়ের মহিলারা পাবেন অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা। ইতিমধ্যেই কীভাবে ফর্ম ফিলাপ করতে হবে, তা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম প্রকাশ করেছে রাজ্য সরকার। ১১ পাতার সেই ফর্মে আবেদনকারী এবং তাঁর পরিবারের সকল সদস্যের খুঁটিনাটি চাওয়া হয়েছে। জমির কাগজ থেকে শুরু করে পরিবারের সদস্যদের আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ব্যাঙ্কের নথি— যাবতীয় তথ্য জমা দিতে হবে। তবেই অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা মিলবে। তবেই মাসে তিন হাজার টাকা করে সরকারি আর্থিক সহায়তা পাবেন মহিলারা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুধবার নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম প্রকাশ করেছেন। নির্দিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইটে গেলে ওই ফর্ম পাওয়া যাচ্ছে। শুভেন্দু জানিয়েছেন, অনলাইন এবং অফলাইন মাধ্যমে ফর্মটি পূরণ করা যাবে। যাঁরা তা করতে পারবেন না, তাঁদের সহায়তার জন্য সরকারি আধিকারিকেরা বাড়ি বাড়ি ঘুরবেন। এমনকি, বিধায়কদেরও এ ক্ষেত্রে দায়িত্ব নিতে হবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মের মাধ্যমেই নাগরিকদের পরিবার সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সরকার সংগ্রহ করছে। শুভেন্দু জানিয়েছেন, সেই কারণে ফর্মটি দীর্ঘ হয়েছে। ভবিষ্যতে অন্য কোনও সরকারি প্রকল্পের আওতায় আনার জন্যেও এই ফর্মের নথি এবং তথ্য বিবেচনা করা হবে। ১১ পাতার যে ফর্মটি প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে প্রথমেই আবেদনকারীর পরিবারের প্রধানের নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা, আধার নম্বর, আধারের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বর চাওয়া হয়েছে। এর পর পরিবারের বাকি সদস্যদের এই সমস্ত তথ্য এবং গৃহকর্তা বা গৃহকর্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। পরিবারের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ওই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার নম্বর যুক্ত করা থাকতে হবে। আবেদনকারীর পরিবারের প্রধান-সহ প্রত্যেক সদস্যের ভোটার কার্ডের নম্বর, বিধানসভা এবং পার্ট নম্বরও অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মে লিখতে হবে। ডিজিটাল রেশন কার্ড থাকলে সেই সংক্রান্ত তথ্য বিশদে উল্লেখ করতে হবে। ফর্মের তৃতীয় পর্যায়ে আবেদনকারীকে তাঁর সম্পত্তির খতিয়ান দিতে হবে। পাকা বাড়ি আছে কি না, আবেদনকারীর পরিবার কতটা জমির মালিক, মিউটেশন এবং রেজিস্ট্রেশনের নথি-সহ তা ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। পরিবারের কারও চার চাকার গাড়ি আছে কি না, তা-ও জানাতে হবে। আবেদনকারী ইতিমধ্যে রাজ্য সরকারি কোনও প্রকল্পের সুবিধা পান কি না, কোনও স্বাস্থ্যবিমা আছে কি না, অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মে তা জানতে চেয়েছে সরকার। যদি থাকে, পরিবারের সকল সদস্যের প্যান কার্ডের নম্বরও ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। এ ছাড়া, পরিবারের প্রত্যেকের পেশা ফর্মে লিখতে হবে। বক্তব্যের সপক্ষে উপযুক্ত কাগজও জমা দিতে হবে। পরিবারের প্রত্যেকের শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য এই ফর্মের মাধ্যমে সংগ্রহ করছে সরকার। তাই শিক্ষিত সদস্যদের প্রত্যেককে তাঁদের সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা ফর্মে উল্লেখ করতে হবে এবং সেই সংক্রান্ত নথি বা শংসাপত্র জমা দিতে হবে। জানাতে হবে পরিবারের মোট বার্ষিক আয়ের পরিমাণ। এ ছাড়া, কেউ সিএএ-তে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন কি না, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড বা অন্য কোনও সরকারি কার্ডের সুবিধা নিয়েছেন কি না, এসআইআর-এ নাম বাদ পড়েছে কি না, পড়লে ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন কি না, এই ফর্মে জানতে চেয়েছে সরকার। চাওয়া হয়েছে পরিবারের সকল শিশুর স্কুলের নাম এবং টীকাকরণের তথ্যও। শুভেন্দু জানিয়েছেন, ১ জুন থেকে তিন মাস পর্যন্ত ফর্ম পূরণ প্রক্রিয়া চলবে। তাই তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই। অনেকেই মনে করছেন, যে সমস্ত তথ্য এই ফর্মে চাওয়া হয়েছে, তাতে সকলে নির্বিঘ্নে নিজে থেকে ফর্ম পূরণ করতে পারবেন না। অনেকেই সমস্যায় পড়তে পারেন। সে ক্ষেত্রে বাড়ি বাড়ি সরকারি কর্মচারীদের সহায়তা প্রয়োজন হবে।

তবে প্রশ্ন এখন একটাই, যারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন, তাঁদেরও কি পূরণ করতে হবে ফর্ম? যদি ২ জুনের মধ্যে ফর্ম পূরণ করা না যায়, সেক্ষেত্রে কি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের দেড় হাজার টাকা মিলবে? যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুধবার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন এতদিন, তাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার ৩০০০ টাকা পাবেন। তবে ফর্ম পূরণ করতেই হবে। জানা গিয়েছে, এই ফর্ম পূরণের জন্য সময়সীমা পাওয়া যাবে ৯০ দিন। আজ অর্থাৎ বুধবার থেকে অনলাইনে আবেদন করা যাবে। অফলাইনে শুরু হবে আগামী শুক্রবার। যদি ২ জুনের মধ্যে ফর্ম পূরণ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে ৩ তারিখে অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে ৩ হাজার টাকা। তবে যারা এতদিন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন, কিন্তু ২ জুনের মধ্যে ফর্ম পূরণ করতে পারবেন না তাঁরা পাবেন দেড় হাজার টাকা। পরবর্তীতে ফর্ম পূরণ করলেই বাড়বে টাকার অঙ্ক। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুধবার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন এতদিন, তাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার ৩০০০ টাকা পাবেন। তবে ফর্ম পূরণ করতেই হবে। জানা গিয়েছে, এই ফর্ম পূরণের জন্য সময়সীমা পাওয়া যাবে ৯০ দিন। আজ অর্থাৎ বুধবার থেকে অনলাইনে আবেদন করা যাবে। অফলাইনে শুরু হবে আগামী শুক্রবার। যদি ২ জুনের মধ্যে ফর্ম পূরণ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে ৩ তারিখে অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে ৩ হাজার টাকা। তবে যারা এতদিন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন, কিন্তু ২ জুনের মধ্যে ফর্ম পূরণ করতে পারবেন না তাঁরা পাবেন দেড় হাজার টাকা। পরবর্তীতে ফর্ম পূরণ করলেই বাড়বে টাকার অঙ্ক। আপাতত অনলাইনে মিলছে ফর্ম। যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পান, তাঁদেরও আগামী ৯০ দিনের মধ্যে ফর্ম পূরণ করতে হবে। ফর্ম পূরণ করার পর মাসে মাসে অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা করে সরাসরি পাবেন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। ফর্মপূরণ করতে হলে আপনার এবং আপনার পরিবারের যাবতীয় তথ্য জমা দিতে হবে। আপনার এবং আপনার পরিবারের সদস্য কতজন তা জানাতে হবে। প্রত্যেকের শিক্ষাগত যোগ্যতা, কে, কোন পেশার সঙ্গে যুক্ত তাও উল্লেখ করতে হবে। কেউ সরকারি পেনশনভোগী রয়েছেন কিনা, তাও জানাতে হবে। কেউ আয়কর দেন কিনা, সে তথ্যও জানাতে হবে। বলে রাখা ভালো, আয়কর জমা দেন এমন মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন করতে পারবেন না। অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মের সঙ্গে প্রত্যেকের আধার কার্ড নম্বর দিতে হবে। তবে ৫ বছরের নিচে কেউ থাকলে, তার আধার কার্ড নম্বর দিতে হবে না। জমা দিতে হবে ভোটার কার্ড সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য। এছাড়া প্যান কার্ড, রেশন কার্ড সম্পর্কিত তথ্যও ওই আবেদনপত্রে উল্লেখ করতে হবে। পরিবারের প্রধান-সহ প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্যও জমা দিতে হবে। শুধু তাই নয়, অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মে উল্লেখ করতে হবে আপনি কিংবা আপনার পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের যানবাহন সংক্রান্ত তথ্য। পরিবারের কারও কোনও স্বাস্থ্য়বিমা থাকলে, তাও উল্লেখ করতে হবে। পারিবারিক বার্ষিক আয়ও উল্লেখ করা অত্যাবশ্যক। আগেই রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে সিএএ আবেদনকারীরাও অন্নপূর্ণা যোজনা পাবেন। ফর্মে সে সংক্রান্ত তথ্যও উল্লেখ করতে হবে। পরিবারটি কিষাণ ক্রেডিট কার্ড, শিল্পী ক্রেডিট কার্ড, মৎস্যজীবী ক্রেডিট কার্ড ও শিক্ষার্থী ক্রেডিট কার্ডের মতো কোনও সরকারি সুবিধা পান কিনা, তাও জানাতে হবে।

শুভেন্দু জানিয়েছেন, প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক এবং আর্থিক ভাবে দুর্বল মহিলারা অন্নপূর্ণা যোজনার সঙ্গে যুক্ত হবেন। যাঁরা আয়কর দেন, যাঁরা সরকারি চাকরি করেন, নিয়মিত যাঁরা বেতন পান বা পেনশন পান, তাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন না। তা ছাড়া বাকি সকলকেই এই টাকা দেওয়া হবে। প্রতি সপ্তাহে কত জনের নাম অন্নপূর্ণা যোজনায় নথিভুক্ত হল, তা সাংবাদিক বৈঠক করে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়ে দেবেন। ইতিমধ্যে রাজ্য সরকারের ওয়েবসাইটে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম প্রকাশিত হয়ে গিয়েছে। শুভেন্দু বলেন, ‘‘এক দিনে সকলকে ফর্ম পূরণ করতে হবে, লাইনে দাঁড়াতে হবে, হুড়োহুড়ি করতে হবে, সব কাজ ফেলে আজকেই না করলে বঞ্চিত হবেন—এমন নয়। এটি একটি স্থায়ী সুবিধা সরকার দিচ্ছে আপনাদের, তার নিজস্ব কোষাগারের অর্থে। তাই আপনাদের সহযোগিতা এবং ধৈর্য প্রয়োজন। পুরো প্রক্রিয়ায় এই ব্যবস্থার সঙ্গে আপনারা থাকবেন। আমরা আপাতত ১ জুন থেকে ৯০ দিন এই প্রক্রিয়াটি চালাব।’’ অনলাইন এবং অফলাইনে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণ করা যাবে। শুভেন্দু জানিয়েছেন, যাঁরা অনলাইন বা অফলাইনে ফর্ম পূরণ করতে পারবেন না, সরকারি আধিকারিকেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাঁদের ফর্ম পূরণে সহযোগিতা করবেন। এ ছাড়া, নবনির্বাচিত বিধায়কেরাও এই কাজে সহযোগিতা করবেন। এটা তাঁদের অন্যতম বড় কাজ হতে চলেছে। আগামী ১৫, ১৬, ১৭ তারিখ জনকল্যাণ শিবির আয়োজিত হবে। সেখানেও ফর্ম পূরণ করার বিষয়ে সহযোগিতা করা হবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মে কিছু বিশদ তথ্য চাওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এর মাধ্যমে নাগরিকদের পরিবার সংক্রান্ত তথ্যও সরকার সংগ্রহ করতে চায়। যাতে পরবর্তী সময়ে সরকারি অন্যান্য প্রকল্পে এই তথ্য ব্যবহার করা যায়। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘এই কাজের পরিধি ব্যাপক। মুখ্যসচিব এবং অর্থসচিবের নেতৃত্বে আধিকারিকেরা এর সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। যাঁরা আধারের কাজ করেন, ভোটার তালিকা তৈরির কাজে যাঁরা যুক্ত, তাঁরাও এই কাজ করবেন।’’ রাজ্য সরকারের মহিলা এবং শিশুকল্যাণ দফতরের মাধ্যমে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ন্ত্রিত হবে। ‘লক্ষ্ণীর ভান্ডার’ প্রকল্পে অনেক ‘বেনোজল’ রয়েছে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, ‘‘আমাদের প্রাথমিক ধারণা ছিল যে, লক্ষ্মীর ভান্ডার-এর প্রাপকদের তালিকাটি যাচাই করা আছে। কিন্তু সে বিষয়ে আমরা ভূরি ভূরি অভিযোগ পেয়েছি। ভোটার তালিকা থেকে স্থায়ী ভাবে নাম বাদ গিয়েছে এবং ট্রাইবুনালে আবেদন করেননি, এমন প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ লক্ষ্মীর ভান্ডার-এর টাকা পাচ্ছেন।’’ তাঁদের নাম বাদ দেওয়ার প্রয়োজনেই সকলকে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণ করতে বলেছেন শুভেন্দু। সিএএ-তে যাঁরা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন, তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। এসআইআর-এ যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে কিন্তু ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন, তাঁদেরও আপাতত ব্যতিক্রম হিসাবে তালিকায় রাখা হচ্ছে।





