‘শান্তনু সিনহা বিশ্বাসদের অনুরোধের প্লেয়ার দলে না নেওয়ার মূল্য আজ চোকাতে হল’
RK NEWZ ক্ষোভে ফেটে পড়লেন বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটার ও অন্যতম সফলতম কোচ সৌরীশিষ লাহিড়ি। একরাশ অভিমান উগরে দিয়ে বললেন সিএবিতে প্রাধান্য দেওয়া হয় দুর্নীতিকে। সিএবি-র পক্ষ থেকে মিডিয়া রিলিজ করে বাংলার সিনিয়র থেকে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক কোচের যে তালিকা প্রকাশ করা হল, সেখানে রাখা হল না বিগত কয়েক বছরে বাংলার সফলতম কোচ সৌরাশিস লাহিড়ীকে। যিনি একশোটা প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ শুধু খেলেননি। গত পাঁচ-ছ’বছরে বাংলাকে একমাত্র ট্রফি দেওয়া কোচও তিনিই। যাঁর কোচিংয়ে বাংলার বয়সভিত্তিক দল পরের পর বোর্ড টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলেছে, ট্রফি জিতেছে। অথচ এবার তিনিই ব্রাত্য। এবং বাংলার কোচিং গ্রুপ থেকে বাদ পড়ার রাগ-দুঃখ-যন্ত্রণা সবই বেরিয়ে বিস্ফোরক কথায়। সমাজ মাধ্যমেও প্রকাশ করেন মনের কথা — ‘‘আমি হয়তো আঘাত পেয়েছি, কিন্তু আমি ভেঙে পড়িনি। আমি হয়তো হতাশ হয়েছি, কিন্তু আমি মোটেও মনোবল হারাইনি। একটি এমন ব্যবস্থায়, যেখানে অনেক সময় প্রতিভার চেয়ে দুর্নীতিকেই বেশি মূল্য দেওয়া হয়, যেখানে কঠোর পরিশ্রম, সততা, ধারাবাহিকতা ও ফলাফলের চেয়ে প্রভাব, তোষামোদ আর কৌশলকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় — সেখানে এখন আর কিছুই আমাকে অবাক করে না। কিছু মানুষ সবসময় যোগ্যতার চেয়ে স্বার্থকে, সততার চেয়ে প্রভাবকে, আর প্রকৃত পরিশ্রমের চেয়ে চাতুর্যকে বেছে নেবে। কিন্তু একটি জিনিস আমি কখনোই করব না — দুর্নীতির কাছে মাথা নত করব না। আমি কখনোই কোনো উচ্চতায় পৌঁছানোর জন্য নিজের মূল্যবোধের সঙ্গে আপস করিনি, আর ভবিষ্যতেও করব না। আমি যা কিছু অর্জন করেছি, তা এসেছে শুধুমাত্র কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা, সততা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে; কারও তোষামোদ করে নয়, ক্ষমতাবানদের খুশি করে নয়, কিংবা নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে নয়। আমি সবসময় সত্যকে সত্য বলার সাহস রেখেছি। যা সঠিক, তার পক্ষেই দাঁড়িয়েছি, এমনকি তার জন্য মূল্য দিতে হলেও। আর ভবিষ্যতেও আমি সেই পথেই চলব। পদ অস্বীকার করা যেতে পারে। সুযোগ আটকে দেওয়া যেতে পারে। কণ্ঠস্বরকে চেপে রাখা যেতে পারে। কিন্তু সততা, চরিত্র এবং আত্মসম্মান কখনো কেড়ে নেওয়া যায় না। এই লড়াই কখনোই শুধু কোনো পদ বা উপাধির জন্য ছিল না। এটি ছিল সত্য, স্বচ্ছতা এবং ন্যায়সঙ্গত স্বীকৃতির জন্য। এটি ছিল এমন এক পৃথিবীতে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকার লড়াই, যেখানে অনেক সময় নত হতে জানাদেরই পুরস্কৃত করা হয়। আর আমি এখনও মাথা উঁচু করেই দাঁড়িয়ে আছি।’’

তিনি আরও জানান, খুবই ডিসাপয়েন্টিং। অ্যাবসোলিউট শকার বলতে পারেন। কোচিংয়ে একটা জায়গায় পৌঁছেছি আমি। বোর্ড থেকে অ্যাসাইমেন্ট পাচ্ছি। ভেবেছিলাম আমার রাজ্যের ক্রিকেট সংস্থা থেকে ব্যাকিং পাব। আমাদের রাজ্যের কোনও কোচ ভারতীয় দলে নেই। ভেবেছিলাম, ভালো কাজ করছি যখন, রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাও চাইবে, আরও ভালো করি। যাতে ভবিষ্যতে অনুর্ধ্ব উনিশ ভারত কিংবা ইন্ডিয়া ‘এ’ দলের কোচ হওয়ার সুযোগটা আমি পাই। কিন্তু আমি তো রাজ্য দল থেকেই ড্রপড হয়ে গেলাম। ব্যাপারটা কেমন হল জানেন? আমি ইন্ডিয়া খেলছি। দলে রাখছে আমাকে। কিন্তু রাজ্য দল রাখছে না। অত্যন্ত দূর্ভাগ্যজনক। আমি পেশাদার কোচ। শুধু কোচিংটাই করি। আজ গান করছি, কাল বাজনা বাজাচ্ছি, পরশু রাজনীতি করছি-এ সমস্ত আমি করি না। কোচিংই আমার ধ্যান। কোচিংই আমার জ্ঞান। যাদের নাম বাংলা কোচ হিসেবে সিএবি মিডিয়া রিলিজ করে জানাল, প্রত্যেককে অভিনন্দন। আমার প্রশ্ন একটাই। যাঁরা যাঁরা দায়িত্ব পেয়েছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই সিভি জমা করেছেন সিএবিকে। তা, তাঁদের কোচিং ক্রেডেনশিয়াল কি আমার থেকে বেশি? বললে ভালো হয়। তা হলে সেই জায়গায় উন্নতি করব। আমার তো মনে হয়, ক্রিকেটীয় যুক্তিতে কোচ নির্বাচন হয়নি। দেখুন, একটা কথা বলি। সৌরাশিস লাহিড়ী জীবনে কম্প্রোমাইজ করেনি। কোনও কিছুর সঙ্গে আপস করেনি। সেই কারণেই হয়তো সৌরাশিস লাহিড়ী পাঁচ বছর হেড কোচের কাজ করেছে। চারটে ফাইনাল খেলেছে। একবার টিমকে চ্যাম্পিয়ন করেছে। সৌরাশিস লাহিড়ীর সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স, তার টিম যখন সেমিফাইনালে হারে। কারও কারও ক্ষেত্রে সেরা পারফরম্যান্স হল, সেমিফাইনাল খেলা। অত পর্যন্ত যাওয়া। এটাই ডিফারেন্স। সৌরাশিস লাহিড়ী কম্প্রোমাইজ করে না বলেই হয়তো বোর্ডে কাজ করার ডাক পায়। এটা সত্যি যে, শান্তনু সিনহা বিশ্বাস পছন্দের প্লেয়ার টিমে ঢোকানোর অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু আমি সেই সমস্ত অনুরোধ-উপরোধকে আমলই দিইনি। আমার কাছে আমার স্টেট টিম আগে। দল আগে। কিন্তু আমাকে বলতে পারেন, ভাবনার এ হেন দ্বিচারিতা থাকবে কেন? ইডির হাতে গ্রেপ্তার শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। যাঁরা এই কোচ নির্বাচনটা করেছেন। পূর্বতন সরকারের অত্যন্ত প্রভাবশালী চরিত্র শান্তনু সিনহা বিশ্বাস দলে প্লেয়ার ঢোকানোর জন্য চাপ দিয়েছিলেন। সত্যি? সত্যি। বলছি তো, সত্যি। কিন্তু আমি সেই সমস্ত অনুরোধ-উপরোধকে আমলই দিইনি। আমার কাছে আমার স্টেট টিম আগে। দল আগে। যদি স্টেট টিমে যোগ্য প্লেয়ারকে ভুগতে হয় সুপারিশের প্লেয়ার খেলাতে গিয়ে, তা হলে নিজের কাছে নিজের মুখ দেখাতে পারব না। কারণ, আমার চরিত্র সেটা নয়। নিজের কাজের প্রতি অসৎ আচরণ করা আমার স্বভাব নয়। কোচিং আমাকে সব দিয়েছে। সেই কোচিংয়ের সঙ্গে বেইমানি করলে, কে আমাকে ক্ষমা করবে? বর্তমানে যাঁরা নির্বাচক রয়েছেন, তাঁরা জানতেন, সৌরাশিসকে কন্ট্রোল করা সম্ভব নয়। কোনও প্রতিভাবান ক্রিকেটার যদি অনূর্ধ্ব ১৬ পর্যায় থেকে অনুর্ধ্ব উনিশ খেলতে আসে, বোর্ডের ক্যাম্প করে আসে, আন্ডার নাইন্টিন কোচ হিসেবে আমার কাজ তাকে গ্রুম করা। তৈরি করা। সেই প্লেয়ারকে না রেখে, কারও সুপারিশের প্লেয়ার খেলানো আমি মেনে নেব না। এখানে কী হয়? না, একটা ছেলেকে যখন টিমে সিলেক্ট করা হচ্ছে মিটিংয়ে, বলা হচ্ছে সে না পারলে, আর তাকে আর নেওয়া হবে না! ঠিক কী করতে চাইছেন তা হলে নির্বাচকরা? ছেলেটাকে সিলেক্ট করছেন? নাকি হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন যে, না পারলেই বাদ দিয়ে দেব? কী জানেন, কোথাও গিয়ে মনে হচ্ছে, এই সমস্ত শান্তনু সিনহা বিশ্বাসদের প্লেয়ার ঢোকানোর রিকোয়েস্ট না মানার মূল্য আজ আমাকে দিতে হল। ঠিক আছে। আমি নিজের ক্ষমতায় কোচিং করিয়েছি। কাউকে ধমকে-ধামকে, ভোটের ভয় দেখিয়ে কোচ হইনি। বুধবার রাতে মিডিয়া রিলিজ করে দিল সিএবি। অথচ সকালেই আমাকে বলা হয়েছে, নিজের মনের কথা যেন আমি প্রকাশ না করি। আমাকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। হোয়াট কাইন্ড অফ গেম আর ইউ প্লেয়িং। আমার সঙ্গে কেউ তো কথা বলতে পারত। রাখবে না ঠিক আছে। বলতে তো পারত প্যাটসি তোকে রাখতে পারছি না এবার। কিন্তু সিএবি থেকে কেউ কিছু বললই না! সিএবির সঙ্গে পঁয়ত্রিশ বছরের সম্পর্ক আমার। এটুকু ডিজার্ভ করি না আমি? ভোটের ভয় দেখিয়ে আমি কোচিং করাই না। ক্রিকেটারের ভোট থাকলে তবেই তার কোচিং প্রোফাইল থাকবে। একটাই কথা বলব। একজন কোচের মূল্যায়ণ যদি ভোটই করে, তা হলে ভোটই কোচ ঠিক করে দিক! কোচের দক্ষতা আছে কি না, তা নিয়ে ভেবে আর কী হবে?
অথচ, সৌরাশিস লাহিড়ীর সাফল্য বেশ চোখে পড়ার মতো। বেঙ্গালুরুতে জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে এনসিএ প্রশিক্ষণ নেন সৌরাশিস লাহিড়ী। বাংলার সহকারী কোচ ট্রয় কুলির থেকে প্রশিক্ষণ নেন। জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে ছিলেন ভিভিএস লক্ষ্মণ। বাংলা দলের সহকারী কোচ হিসাবে কাজ করছেন সৌরাশিস। এর আগে বাংলার অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কোচ ছিলেন তিনি। সৌরাশিসের কোচিংয়ে বাংলা অনূর্ধ্ব-২৩ দল ভালো সাফল্য পেয়েছে এবং বিভিন্ন ম্যাচে লিড অর্জনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।

পুরুষদের খেলা স্টারে, মহিলাদের জন্য বরাদ্দ অজ্ঞাতকুলশীল ওটিটি। পুরুষদের ক্রিকেটের সঙ্গে সম-মর্যাদা দিয়ে থাকে মহিলা ক্রিকেটকে। মহিলা ক্রিকেটের উন্নতি সাধনে বছরজুড়ে নানাবিধ পদক্ষেপ করে থাকে। যাতে বিশ্বে ভারতের পুরুষ ক্রিকেট দলের মতোই রাজপাট বিস্তার করতে পারে দেশের মহিলা টিম। যার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন, ভারতের পুরুষ ও মহিলা ক্রিকেটারদের ম্যাচ ভাতা সমান করে দেওয়া। যে সিদ্ধান্ত রীতিমতো যুগান্তকারী। দেশে মহিলাদের খেলার সম্প্রচারেও কোনও খামতি রাখে না বোর্ড। যাতে ভারতবর্ষের মানুষ হরমনপ্রীত কউর-স্মৃতি মান্ধানাদের খেলা দেখতে গিয়ে ন্যূনতম সমস্যায় না পড়েন সমর্থকরা। উৎসাহিত হন দেশের উঠতি মহিলা ক্রিকেটাররা। তাঁরা যাতে বুঝতে পারেন, কোনও একদিন দেশের হয়ে খেললে, তাঁদের খেলাও লোকে দেখবে ঘরে-ঘরে। দুঃখের হল, ভারতীয় বোর্ডের অনুমোদিত সংস্থা হওয়া সত্ত্বেও পুরুষ আর মহিলাদের ক্রিকেট সম্প্রচারে আশ্চর্য ‘বৈষম্যের’ পথে হাঁটছে সিএবি। আসন্ন বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগের (বিপিএল) সম্প্রচার ঘিরে। আগামী ৫ জুন থেকে শুরু হচ্ছে টুর্নামেন্ট। পুরুষদের খেলা সে দিন থেকে। মহিলাদের খেলা শুরু হচ্ছে ৬ জুন। বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টিকে আগামীর ক্রিকেটার তুলে আনার মহামঞ্চ বলে প্রচার করে থাকেন সিএবি কর্তারা। ভালো। কিন্তু তাঁদের কথা আর কাজে ‘সাম্য’ কোথায়? গৌরচিন্দ্রকা ছেড়ে সরাসরি বলা যাক। বৈষম্য-বিতর্কে বিদ্ধ বিপিএলের সম্প্রচার বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগে পুরুষদের খেলা দেখানো হবে জাঁকজমক করে। স্টার স্পোর্টসে। জিও হটস্টারে। কিন্তু মহিলাদের খেলা হবে এক অখ্যাত, নবজাত ‘অ্যাপে’! যার নাম- নাম্বার টেন স্পোর্টস! যা খায় না মাথায় দেয়, কেউ জানে না! খুঁজেপেতে দেখা গেল, গত বছর অগাস্ট মাসে ভূমিষ্ঠ হয়েছে এই সংস্থা। কলকাতার এজেসি বোস রোডে রেজিস্টার্ড অফিস। ব্যালান্স শিট এখনও নেই। কোথায় তার অ্যাকাউন্টন্সের কাজকর্ম হয়, কোথাও লেখা নেই। অন্তত ‘পাবলিক ডোমেনে’ যেটুকু যা তথ্য রয়েছে, তাতে অন্তত নেই। সোজাসুজি বললে, সংস্থার বিষয়ে কিছু জানতে গেলে, বিফল মনোরথ হয়ে ফিরতে হবে। কারণ, দু’একটা তথ্য বাদে, কিছুই প্রায় নেই। ময়দানের একাংশ বুঝতে পারছে না, এ হেন কুলগোত্রহীন এক সংস্থা কী করে বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগে মহিলাদের খেলা সম্প্রচারের দায়িত্ব পেয়ে গেল? কেনই বা তাদের দেওয়া হল? স্থানীয় ক্রিকেটমহলের কেউ কেউ বলছিলেন, এই অখ্যাত ‘অ্যাপ’ প্রথমত লোকের পক্ষে খুঁজে পাওয়াই মুশকিল। তার পর তো খেলা দেখা। এ হেন অজ্ঞাতকুলশীল এক প্ল্যাটফর্মকে বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টির মতো সিএবি-র প্রিমিয়াম টুর্নামেন্টের দায়িত্ব দেওয়ার যুক্তি কী? এ ভাবে রাজ্যে মহিলা ক্রিকেটের প্রসার ঘটবে? কখনও সম্ভব? সিএবি-র কেউ কেউ পাল্টা যুক্তি দিলেন যে, স্টারে বেঙ্গল প্রো টি-দেখানোর জন্য সাড়ে তিন কোটি টাকা দিতে হচ্ছে সংস্থাকে। মহিলাদের ক্রিকেট দেখাতে হলে, পুনরায় সাড়ে তিন কোটি টাকা দিতে হত। নাম্বার টেন স্পোর্টসকে মহিলাদের টুর্নামেন্ট দেখাতে অর্থ দিতে হচ্ছে না। বরং তিরিশ-চল্লিশ লক্ষ টাকা পাবে সিএবি। যা ভাবাই যায় না। উত্তেজিত ময়দান প্রশ্ন তুলছে, তা হলে সিএবির কাছে ছেলেদের খেলাটাই খেলা? মহিলাদেরটা নয়? সেটা তা হলে কী? ছেলেখেলা? গতবারও ‘ফ্যান কোডে’ দেখানো হয়েছিল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগে মহিলাদের খেলা। এবার সেটাও বন্দোবস্ত করা যায়নি। কেন? এবার এক সিএবি কর্তা বললেন যে, ‘ফ্যান কোড’ আর আগের জায়গায় নেই। তারা খেলা দেখালে কোনও অর্থই পেত না সিএবি। যা শুনে ময়দানের কেউ কেউ আক্ষেপ করে বললেন যে, দু’দিন আগে ইডেনে আইপিএলের শেষ ম্যাচে দু’মিনিটের ‘লেজার শো’ দেখাতে গিয়ে পঞ্চাশ লক্ষের উপর খরচ হয়েছে সিএবির। তখন লাভ-ক্ষতি দেখা হয়নি। অথচ মহিলাদের খেলা সম্প্রচারের সময় তা মুখ্য হয়ে গেল!

সিএবি ইউনিভারসিটি টি টোয়েন্টি ক্রিকেটে যুগ্ম বিজয়ী ক্যালকাটা ইউনিভারসিটি ও রবীন্দ্রভারতী ইউনিভারসিটি। ইডেনে ফাইনাল খেলা বৃষ্টির কারণে ব্যাহত হওয়ায় যুগ্মবিজয়ী ঘোষনা করা হয়। অপরদিকে অজয় ঘোষ মেমোরিয়াল ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ান রবীন্দ্রভারতী ইউনিভারসিটি। রবীন্দ্রভারতী জয়ী এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ধরাশায়ী। চূড়ান্ত রোমাঞ্চেই ভরপুর ম্যাচ। ২৯৫ রানের বড় ইনিংস ও কঠিন লক্ষ্য তাড়া করে অবশেষে শিরোপা জয় করেছে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধেই অজয় ঘোষ মেমোরিয়াল টুর্নামেন্ট-এর ফাইনালে দুর্দান্ত লড়াইয়ের পর এই সাফল্য বেঙ্গল ক্রিকেট আকাদেমি গ্রাউন্ডে কল্যাণীতে। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ওভারে ২৯৫ রানের বড় স্কোর গড়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে তাদের ব্যাটিং লাইন আপ প্রতিপক্ষের সামনে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছে। তবে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকে ইতিবাচক মনোভাব ব্যাটিংয়ে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়লেও রান তোলার গতি কখনও থামেনি। ম্যাচের শেষ দিকে চাপ বাড়লেও স্নায়ুর লড়াইয়ে জয়ী রবীন্দ্রভারতী। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত লক্ষ্য পেরিয়ে ট্রফি নিজেদের করে নেয়। ফাইনাল খেলায় ক্রিকেট আসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল-এর আম্পায়ার কমিটির চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় সহ সংস্থার অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রুদ্ধশ্বাস এই জয়ে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত রবীন্দ্রভারতী শিবির। অন্যদিকে, লড়াই করেও জয় অধরা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের। তবুও দুই দলের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ ক্রীড়ামহল।

এদিকে, সিএবিতে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে একের পর এক দুর্নীতির নমুনা সামনে আসায় বেশ হতাশ ক্রিকেট মহল। কর্মকর্তাদের বয়স দুর্নীতি থেকে শুরু করে ক্রিকেটার নিয়োগে অস্বচ্ছতা, স্বজনপোষন নিয়োগ দুর্নীতি এমনকি সংস্থার অধিকারীক-স্কোরার-‘ইয়েসম্যান’ কর্মকর্তাদেরও মারফৎ টিকিট ব্ল্যাকের অভিযোগ শোনা যাচ্ছে ভুরি ভুরি। দুর্নীতিগ্রস্থ পুলিশ কর্তাকে সামনে রেখে ভোটারদের ভয় প্রদর্শণ করে বলপূর্বক নির্বাচনের কানাঘুঁষোও শোনা গেছে সিএবির অন্দরমহলে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিএবির অধিকাংশ সৌরভ ঘনিষ্ঠ বন্ধু-কর্তার নামে অসংখ্য অভিযোগের আঙুল তুলছেন। সব মিলিয়ে প্রাক্তন ক্রিকেটার ও প্রাক্তন বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে বাংলার ক্রিকেট অনেকটাই ব্যাকফুটে ও হরেক দুর্নীতির ছায়া পরিবেষ্টিত বলে মনে করছে বাংলার ক্রিকেটমহল।

এদিকে, সিএবিতে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে একের পর এক দুর্নীতির নমুনা সামনে আসায় বেশ হতাশ ক্রিকেট মহল। কর্মকর্তাদের বয়স দুর্নীতি থেকে শুরু করে ক্রিকেটার নিয়োগে অস্বচ্ছতা, স্বজনপোষন নিয়োগ দুর্নীতি এমনকি সংস্থার অধিকারীক-স্কোরার-‘ইয়েসম্যান’ কর্মকর্তাদেরও মারফৎ টিকিট ব্ল্যাকের অভিযোগ শোনা যাচ্ছে ভুরি ভুরি। দুর্নীতিগ্রস্থ পুলিশ কর্তাকে সামনে রেখে ভোটারদের ভয় প্রদর্শণ করে বলপূর্বক নির্বাচনের কানাঘুঁষোও শোনা গেছে সিএবির অন্দরমহলে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিএবির অধিকাংশ সৌরভ ঘনিষ্ঠ বন্ধু-কর্তার নামে অসংখ্য অভিযোগের আঙুল তুলছেন। সব মিলিয়ে প্রাক্তন ক্রিকেটার ও প্রাক্তন বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে বাংলার ক্রিকেট অনেকটাই ব্যাকফুটে ও হরেক দুর্নীতির ছায়া পরিবেষ্টিত বলে মনে করছে বাংলার ক্রিকেটমহল।





