Thursday, May 28, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

আবার তিলোত্তমায় উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী!‌ কলকাতায় হবে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠান !

RK NEWZ পালাবদলের পর রাজ্যকে বড় উপহার। কলকাতায় হবে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠান! উপস্থিত থাকবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠান হতে চলেছে শহরে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতেই এই ঐতিহাসিক কর্মসূচি আয়োজন করা হবে বলে কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রক জানিয়েছে। রেড রোড ও সংলগ্ন এলাকাতে হতে পারে মূল অনুষ্ঠান। লক্ষাধিক মানুষের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। এই ঘোষণার পর থেকে রাজ্য প্রশাসনের তৎপরতা তুঙ্গে। মধ্যপ্রদেশের খাজুরাহোর পশ্চিম মন্দির গোষ্ঠী প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘যোগ মহোৎসব ২০২৬’-এ বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় আয়ুষ প্রতিমন্ত্রী প্রতাপরাও যাদব। আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে ২৫ দিনের কাউন্টডাউন কর্মসূচির সূচনাতে তিনি জানান, ভারতের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ কলকাতা এ বছর মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। এবার যোগ দিবসের মূল ভাবনা ‘সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ’। প্রতাপরাও যাদব বলেন, ‘বয়স বাড়ার সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে যোগচর্চার গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। যোগ শুধুমাত্র শরীরচর্চা নয়, এটি ভারতের প্রাচীন জ্ঞানভাণ্ডারের অংশ এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে আয়ুষ মন্ত্রক নিরন্তর কাজ করে চলেছে যাতে দেশের গ্রাম, শহর, স্কুল, অফিস ও সাধারণ মানুষের জীবনে যোগচর্চা আরও বেশি করে পৌঁছে দেওয়া যায়। ‘আয়ুষ আহারে’র মতো উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তাঁর দাবি, সুষম খাদ্যাভ্যাস, শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপন এবং সামগ্রিক সুস্থতার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। কলকাতায় মূল অনুষ্ঠান আয়োজনের খবরে শহরের যোগপ্রেমীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়েছে। সম্প্রতি নবান্নে যোগবিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি কলকাতায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠান আয়োজনের ইঙ্গিত দেন। ক্রীড়াভারতীর প্রদেশ সম্পাদক বিভাস মজুমদার বলেন, “আমরা অনেক আগে থেকেই কলকাতায় মূল অনুষ্ঠান করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি। এবার সেই সুযোগ এসেছে।” যোগ দিবস উদযাপন কমিটির সম্পাদক ডক্টর অভিজিৎ ঘোষের মতে, আগামী ২১ জুন কলকাতার জন্য ঐতিহাসিক দিন হতে চলেছে। খাজুরাহোর অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ‘যোগ সঙ্গম পোর্টালে’র নতুন সংস্করণ চালু করেন বুধবার। এর মাধ্যমে অনলাইন নথিভুক্তিকরণ সহজ হবে এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি ‘যোগ পার্ক পোর্টালে’রও সূচনা হয়েছে। যার লক্ষ্য, বিভিন্ন রাজ্য ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট যোগচর্চার স্থান তৈরি করা। এদিন নতুন নকশার যোগ টি-শার্টও প্রকাশিত হয়। অন্যান্য কর্মসূচিগুলির মধ্যে ‘যোগ ৩৬৫ অভিযানে’র অধীনে ১০০ দিনের বিনামূল্যের যোগ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ইতিমধ্যেই দু’লক্ষের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন এবং ‘যোগ মিত্র’ শংসাপত্র পেয়েছেন। খাজুরাহোর অনুষ্ঠানে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব ভার্চুয়ালি যোগ দেন। তিনি বলেন, ‘যোগ ও খাজুরাহো দু’টোই ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক।’ এছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধিরা যোগচর্চাকে সুস্থ সমাজ গঠনের অন্যতম হাতিয়ার বলে উল্লেখ করেন। কলকাতায় যোগ দিবসের অনুষ্ঠান নিয়ে রীতিমতো চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকে বলছেন, রাজ্যকে ‘ভাল ফলে’র উপহার দিচ্ছে মোদী সরকার।

অলিম্পিকের মঞ্চে ভারতের নতুন বাজি যোগাসন? পুরনো জল্পনা এবার হয়তো সত্যি হতে চলেছে! ২০৩০ কমনওয়েলথ ও ২০৩৬ অলিম্পিক্সে যোগাসনকে প্রতিযোগিতামূলক খেলা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার মাস্টারপ্ল্যান। এতদিন যোগ মানেই ছিল নিয়মিত শরীরচর্চা, নিয়ন্ত্রিত শ্বাসপ্রশ্বাস, অখণ্ড মানসিক শান্তি। প্রতিযোগিতা নয়। মেডেল নয়। স্কোরবোর্ড নয়। পুরনো এই ধারণাটাই এবার বদলাতে চাইছে ভারত। পাখির চোখ শুধু কমনওয়েলথ গেমস নয়, ভবিষ্যতের অলিম্পিক্সও। ২০৩০ কমনওয়েলথ গেমস আয়োজনের দায়িত্ব হাতে আসতেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারত চাইছে ‘যোগাসন’-কে প্রতিযোগিতামূলক খেলা হিসেবে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে। পরবর্তী নজর ২০৩৬ অলিম্পিক্স। যদি শিকে ছেঁড়ে, তাহলে যোগাসনকে আরও বড় প্ল্যাটফর্মে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। শুনতে অবাক লাগলেও, কাঠামোগত কাজের অনেকটাই গত কয়েক বছরে সম্পূর্ণ। যার প্রমাণ: জাতীয় গেমস, খেলো ইন্ডিয়া, বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের প্রতিযোগিতা—সর্বত্র যোগাসনের আলাদা বিভাগ হিসেবে উজ্জ্বল উপস্থিতি! এই প্রশ্নটাই এখন সবচেয়ে বেশি করে উঠছে। কারণ সাধারণ মানুষ এখনও যোগ আর যোগাসনকে এক জিনিস হিসেবে দেখে। সংশ্লিষ্ট রেফারেশনের সঙ্গে যুক্ত উদিত শেঠের ব্যাখ্যা, ‘যোগ একটা বিশাল দর্শন। সেখানে ধ্যান আছে, প্রাণায়াম আছে, মানসিক ভারসাম্য আছে, আধ্যাত্মিক দিকও আছে। কিন্তু যোগাসন বলতে আমরা মূলত শরীরের নির্দিষ্ট আসনগুলোকে বোঝাচ্ছি।’তার কথায়, ‘যখন যোগাসন খেলা হয়ে যায়, তখন সেখানে স্কোরিং সিস্টেম আসে। বিচার চলে স্থিরতা, ভারসাম্য, শক্তি, নমনীয়তা, নিখুঁত ভঙ্গি, ট্রানজিশন—সবকিছুর উপর।’ এখন মোট ২৭২টি আসনকে আলাদা গ্রেডে ভাগ করা হয়েছে যোগাসনকে। সবচেয়ে কঠিন ‘ই’, সবচেয়ে সহজ ‘এ’। প্রতিযোগীরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আসন করবে। কাঁপলে পেনাল্টি। ভারসাম্য হারালেও নম্বর কাটা হবে। উদিতের কথায়, ‘জিমন্যাস্টিকসে গতি আছে। এখানে স্থিরতা। জিমন্যাস্ট মুভমেন্ট দিয়ে মাধ্যাকর্ষণকে হারায়। যোগাসন অ্যাথলিট শরীরকে নিয়ন্ত্রণ করে স্থিরতার মাধ্যমে!’ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সম্ভবত এখানেই। দর্শক কি যোগাসন টেলিভিশনের পর্দায় দেখবে? উত্তরও বেশ সোজাসাপ্টা ভাবে দিয়েছেন উদিত, ‘চ্যানেল চেঞ্জ হওয়া চলবে না। টিআরপি হারালে খেলা শেষ।’অর্থাৎ, তাঁর বক্তব্য, ক্রিকেটও তো সময়ের সঙ্গে বদলেছে। পাঁচ দিনের টেস্ট থেকে ওয়ান ডে, তারপর টি-টোয়েন্টি। যোগাসনকেও তাই সময়ের দাবি মেনে দর্শক-বান্ধব করে তুলতে হচ্ছে। সেই কারণে শট ক্লক, ইলেকট্রনিক জাজিং, মিউজিকের সঙ্গে সিঙ্ক্রোনাইজেশন—সব আনা হয়েছে। এমনকি এআই দিয়েও শরীরের ভঙ্গি বিশ্লেষণের কাজ চলছে। সেলিব্রিটি ট্রেনার রাকেশ উদ্দিয়ারও মনে করেন, এই পরিবর্তন অনেক আগে হওয়া জরুরি ছিল। তাঁর কথায়, ‘বিদেশে ভারতীয় যোগকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এটা আগেই খেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া উচিত ছিল।’ যোগাসনে চাপ নেই—ধারণাটা ভাঙছে দ্রুত। এখানে অর্ধেক নম্বরেও র‌্যাঙ্ক বদলে যেতে পারে। এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ পদকজয়ী নীতিন পাওয়ালের কথায়, ‘অল ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি গেমসে আমি সোনা জিতেছিলাম মাত্র ০.৫ নম্বরে। একটা ছোট ভুলও খুব দামি হয়ে যায়।’১৫ বছরের দিত্যা বালগিও একই অভিজ্ঞতার কথা তুলে পড়েছেন, ‘প্রথম জাতীয় প্রতিযোগিতার আগে এত চাপ ছিল, যে ঠান্ডার মধ্যেও পা ঘামছিল।’ভারতীয় দলের সহকারী কোচ কোমল বর্মার নজরে কোচদের চাপও কম নয়। তিনি বলেন, ‘অ্যাথলিট যখন তিন মিনিটের রুটিন করছে, তখন আমি স্টেজের পিছনে দাঁড়িয়ে চোখের পলকও ফেলি না।’ যোগাসনের সবচেয়ে বড় সুবিধা সম্ভবত এর সহজ পরিকাঠামো। মাঠ লাগে না। বড় স্টেডিয়াম লাগে না। প্রায় সব দেশেই কোনও না কোনওভাবে যোগচর্চা হয়। উমঙ্গ ডনের মন্তব্য, ‘অনেকেই যোগ করে। কিন্তু আসলে তারা যোগাসনই করছে!’ আপাতত এখন পরিচিত জিনিসকেই নতুন প্যাকেজে বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে চাইছে ভারত। উদিত শেঠের কথায়, ‘আমরা না করলে একদিন হলুদ দুধ যেমন টারমেরিক লাতে হয়ে ফিরে এসেছিল, তেমন যোগও অন্য নামে কামব্যাক করত!’ অলিম্পিক্সে ঢোকাই কিন্তু শেষ লক্ষ্য নয়। খেলা হিসেবে যোগাসন কতটা টিকে থাকতে পারবে, এটাই এখন বড় প্রশ্ন। ক্রিকেটের দাপটে যেখানে অনেক খেলা আলো পায় না, সেখানে যোগাসনকে নিজের জায়গা তৈরি করতে হবে। তবে পরিকল্পনা স্পষ্ট। ব্যাট-বলের যুদ্ধ হয়তো এ দেশে জনপ্রিয়তম। কিন্তু যোগাসনকে আগামী দিনে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া-উপহার হিসেবে তুলে ধরতে ভারত কোমর বেঁধে নেমেছে। কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে… নীরবে, সন্তর্পণে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles