RK NEWZ ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার সময় আবাসন সংলগ্ন গাছের ডালপালা সমেত ভেঙে মাটিতে পড়েন অনীক। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট। বুধবার সকালে হিন্দুস্তান পার্কের বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে পরিচালক অনীক দত্তের। পরিচালককে সঙ্কটজনক অবস্থায় প্রথমে উদ্ধার করে ঢাকুরিয়া সংলগ্ন একটা বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তার পর বিকেলের দিকে এসএসকেএম হাসপাতালে তাঁর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। পরিচালকের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট রাতে প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানেই জানা যাচ্ছে, পরিচালকের দেহে এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। বাঁ দিকের মাথার খুলির হাড় ভাঙা। বাঁ দিকের পাঁজর ভেঙেছে। বাঁ দিকের পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। পরিচালকের বাঁ দিকের কোমরও ভেঙে গিয়েছে। বাঁ দিকের মুখ, পিঠ ও কোমরে তীব্র ঘর্ষণের চিহ্ন মিলেছে। এমনকি, ফুসফুসে রক্ত জমাট বেঁধেছিল বলেও প্রাথমিক রিপোর্ট বলছে। পরিচালক চার তলার ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার সময় আবাসন সংলগ্ন গাছের ডালসমেত ভেঙে মাটিতে পড়েন। মরদেহ আপাতত শায়িত এসএসকেএম হাসপাতালে। জানা গিয়েছে, সেখানে রাতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী গিয়ে প্রয়াত পরিচালকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং পরিচালককে শ্রদ্ধা জানান। পুলিশ সূত্রে খবর, একটি ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধার হয়েছে যেটি মেয়ের উদ্দেশ্যে লেখা। মেয়ে সুইডেনে থাকেন।কাউকে দোষ দেওয়া হয়নি নোটে। ছাদে একটি ম্যাগাজিনের মধ্যে একটি খাম থেকে মিলেছে সেই নোট। সিসিটিভিতে পুরো ঘটনাটি দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। হিন্দুস্তান পার্কের আবাসনে ঢুকে প্রাক্তন স্ত্রীর ফ্ল্যাটে ঢোকেননি, বরং সোজা ছাদে উঠে যান অনীক। তার পরই ঘটে যায় এই অঘটন।
অনীক দত্তের মৃত্যুর খবর পেয়ে প্রায় সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে পৌঁছোন অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্দেশ দিয়েছেন, এমন গুণী পরিচালকের শেষকৃত্যের সব কিছু যাতে সুষ্ঠু ভাবে হয়। বুধবার সকালে হিন্দুস্তান পার্কের বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে পরিচালক অনীক দত্তের। পরিচালককে সঙ্কটজনক অবস্থায় প্রথমে উদ্ধার করে ঢাকুরিয়া সংলগ্ন একটা বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। খবর পেয়ে প্রায় সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে পৌঁছন অভিনেতা তথা বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। এ দিকে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্দেশ দিয়েছেন, এমন গুণী পরিচালকের শেষকৃত্যের সব কিছু যাতে সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন হয়। রুদ্রনীল বলেন, ‘‘অনীকদার শেষকৃত্য হবে আগামিকাল। তাঁর মেয়ে ঐশী বিদেশ থেকে কাল দুপুরে ফিরবেন। তিনি প্রাপ্তবয়স্কা। তাই আগে তাঁর বাবার যাবতীয় নথিপত্র তিনি দেখবেন। তার পর দুপুর চারটে নাগাদ নন্দনে নিয়ে যাওয়া হবে পরিচালকের মরদেহ। সেখানে কিছু ক্ষণ রাখা হবে। তার পর সোজা কেওড়াতলা শ্মশান।’’ শোনা যাচ্ছে, অনীক দত্তের শেষকৃত্যে আসার সম্ভাবনা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। এ দিন অভিনেতা রুদ্রের কণ্ঠে বার বার ফিরে এসেছে অনীককে নিয়ে নানা স্মৃতি। অনীক বিজ্ঞাপনের লোক। তাঁর সঙ্গে বহু বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন রুদ্র। ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ ছবিতে কাজ করেছেন। তবে পরিচালকের ‘ভবিষ্যতের ভূত’ ছবিতে কাজ করা হয়নি। রুদ্রনীলের কথায়, ‘‘অনীকদার রসবোধ ছিল অসম্ভব। আসলে আমার মনে হয়, চিরকাল সম্মানের জায়গায় থেকে যাবেন তিনি। অনীকদা আসলে নিজের শর্তে চলতেন। ওঁর সঙ্গে শুধু আড্ডা মারা নয়, ঝগড়া করতেও ভাল লাগত।’’ শেষ বার দিনকয়েক আগে একটা ছবির প্রিমিয়ারে দেখা হয়েছিল। শরীরটা সঙ্গ দিচ্ছে না বলে তখন অভিনেতাকে আভাস দেন অনীক। কিন্তু এর মধ্যে এমন কিছু যে ঘটে যাবে, তা ভাবতেও পারেননি রুদ্রনীল। বেশ কয়েকবছর আগে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব চত্বর জুড়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবির পোস্টার নিয়ে সমালোচনা করেছিন অনীক। তাঁর সেই সাহসকে সাধুবাদ জানান রুদ্রনীল। তাঁর কথায়, ‘‘অনীকদা নির্মাতা হিসাবে চলচ্চিত্র উৎসবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ছবি নিয়ে যে কথা বলেছেন, তাতে মিথ্যাচার ছিল না। যে কথা বলতে অনেকেরই সাহস হচ্ছিল না, অনীকদা তার ধার ধারেননি। এই মেজাজের একটা মানুষ চলে যাওয়া আসলে একটা বড় ক্ষতি।’’





