RK NEWZ সম্প্রতি ১৮৮এ হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়িতে অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ তুলে নোটিস পাঠানো হয়েছে। সেই বাড়ির নামই শান্তিনিকেতন, যার মালিকানা রয়েছে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর নামে। অপর নোটিস গিয়েছে অভিষেকের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে, সেটির ঠিকানা কালীঘাট রোডে। রাজ্যে পালাবদলের পর গত কয়েকদিনে শহরের একাধিক নির্মাণ নিয়ে অভিযোগ তুলে নোটিস দেওয়া হয়েছে কলকাতা পুরনিগমের তরফে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি বাড়ির মালিকের নাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নোটিস গিয়েছে, অভিষেকের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ‘শান্তিনিকেতন’ বাড়িটির ঠিকানাতেও। তবে অভিষেকের সম্পত্তি নিয়ে অভিযোগ নতুন নয়। কালীঘাট রোডে ফুটপাথ দখল করে পার্টি অফিস তৈরির অভিযোগ উঠেছে। অভিষেকের বাড়ি ও অফিসেও বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ ওঠে। লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের হঠাৎ গজিয়ে ওঠা সম্পত্তিও ছিল পুরসভার নজরে। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই বারবার সে সব ফাইল ধামাচাপা পড়ে যায় বলে পুরনিগমের বিল্ডিং বিভাগ সূত্রে খবর। জানা গিয়েছে অন্তত ১৫ বার এমন অভিযোগ উঠেছে। এই প্রসঙ্গে রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “যে কোনও অবৈধ নির্মাণ দেখলেই পুরনিগম নোটিস পাঠাচ্ছে। যদি দেখা যায়, সরকারের অনুমতি না নিয়ে কোনও নির্মাণ করা হয়েছে, সরকারকে না জানিয়ে করা হয়েছে, তাহলে নোটিস দেওয়া হচ্ছে। সেই নোটিস অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও যেতে পারে, কোনও মিসেস মুখার্জির কাছেও যেতে পারে, মিস্টার ভট্টাচার্যের কাছেও যেতে পারে।” সম্প্রতি ১৮৮এ হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়িতে অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ তুলে নোটিস পাঠানো হয়েছে। সেই বাড়ির নামই শান্তিনিকেতন, যার মালিকানা রয়েছে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর নামে। অপর নোটিস গিয়েছে অভিষেকের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে, সেটির ঠিকানা কালীঘাট রোডে। নোটিসে বলা হয়েছে, ওই বাড়িগুলির যে অংশ অবৈধ নির্মাণ করা হয়েছে, তা ভেঙে ফেলতে হবে। অন্যথায় কেন ভাঙা হবে না, তার জবাবদিহি করতে হবে।
চর্চায় ‘শান্তিনিকেতন’। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি। এই বাড়ির সামনে থেকে নিরাপত্তার বজ্রআঁটুনি সরতেই কৌতূহলী মানুষের ভিড় বেড়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি হলেও এর মালিক কি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক? প্রশ্ন উঠছে। কারণ, চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের সময় হলফনামাতে অভিষেক জানিয়েছেন, তাঁর কোনও স্থাবর সম্পত্তি নেই। আবার কলকাতা পৌরনিগমের তরফে জানানো হয়েছে, পৌরনিগমে ‘অভিষেক ব্যানার্জি’-র নামে ৪৩টি সম্পত্তি নথিভুক্ত রয়েছে। ২ দিন আগে ভবানীপুরে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, “ভাইপো, লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস এবং তাঁর বাবার নামে ২৪টি সম্পত্তি রয়েছে।” এই গোলকধাঁধার মধ্যেই একটু ফিরে দেখা যাক, অভিষেক হলফনামায় কী জানিয়েছিলেন আর মুখ্যমন্ত্রী কী বলছেন। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন অভিষেক। সেইসময় নিজের হলফনামায় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি কথা জানিয়েছিলেন তিনি। হলফনামায় নিজের ও স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তি নিয়ে অভিষেক জানিয়েছিলেন, তাঁর একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। একটি অ্যাকাউন্টে রয়েছে ২ লক্ষ ২৬ হাজার ১৯১ টাকা। দ্বিতীয় অ্যাকাউন্টে ১০ লক্ষ ৮০ হাজার ৭০২ টাকা, তৃতীয় অ্যাকাউন্টে ২২ লক্ষ ৫২ হাজার ৬১২ টাকা, চতু্র্থ অ্য়াকাউন্টে ৪৯ লক্ষ ২৪ হাজার ৪০৩ টাকা, পঞ্চম অ্যাকাউন্টে ৬০ হাজার টাকার কথা উল্লেখ আছে। একটি ১০ লক্ষ, একটি ১৫ লক্ষ ও একটি ৬ লক্ষ টাকার জীবনবিমা পলিসি আছে অভিষেকের নামে। ওই হলফনামা অনুসারে, অভিষেকের কাছে রয়েছে ১ লক্ষ ৯৯ হাজার ৬২০ টাকার সোনা। তাঁর স্ত্রীর কাছে রয়েছে ৪৩ লক্ষ ৭৮ হাজার ৩৩২ টাকার সোনা। অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়ের কাছে থাকা রুপোর মূল্য ৩ হাজার ৩৪০ টাকা, তাঁর স্ত্রীর কাছে রয়েছে ১ লক্ষ ৯২ হাজার ৫০ টাকার রুপো।
সব মিলিয়ে অভিষেকের মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১ কোটি ২৬ লক্ষ ২০ হাজার ২০৪ টাকা। আর তাঁর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৭৮ লক্ষ ৭০ হাজার ৩৮২ টাকা। অভিষেক ও তাঁর স্ত্রীর স্থাবর সম্পত্তি কী রয়েছে? হলফনামায় স্থাবর সম্পত্তির জায়গায় অভিষেক জানিয়েছেন, তাঁর কিংবা স্ত্রীর নামে কোনও কৃষিজমি নেই। কোনও বাড়ি নেই। অর্থাৎ অভিষেক ও তাঁর স্ত্রীর স্থাবর সম্পত্তি শূন্য। আর সেই হলফনামা অনুযায়ী, শান্তিনিকেতন বাড়িটি অভিষেকের মালিকাধীন নয়।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বললেন, ২ দিন আগে ‘ধন্যবাদ জ্ঞাপন’ কর্মসূচিতে ক্যামাক স্ট্রিটে দাঁড়িয়ে সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না নিয়ে শুভেন্দু বলেছিলেন, “কলকাতা পৌরনিগমের কাছ থেকে ফাইল চেয়েছিলাম। ভাইপোর লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে ১৪টি সম্পত্তি, নিজের নামে চারটি আর বাবার নামে ৬টি-সবমিলিয়ে ২৪টি সম্পত্তি রয়েছে।” অভিষেককে কটাক্ষ করে বরাবরই ভাইপো বলে উল্লেখ করেন শুভেন্দু। সেক্ষেত্রে ‘ভাইপো’-র সম্পত্তি বলতে মুখ্যমন্ত্রী যে অভিষেককেই উল্লেখ করেছেন, তা স্পষ্ট। মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দেন, “যাঁরা দুর্নীতি করেছেন, সবাই আইনের মধ্যে দিয়ে আগামিদিনে জেলের ভিতরে থাকবেন।”
এদিকে, কলকাতা পৌরনিগমের তথ্য বলছে, পৌরনিগম এলাকায় অভিষেক ব্যানার্জির নামে ৪৩টি সম্পত্তি নথিভুক্ত রয়েছে। এই অভিষেক ব্যানার্জি তৃণমূলেরই সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কি না, তা উল্লেখ করা হয়নি। পৌরনিগমের তরফে ১৭টি সম্পত্তির ঠিকায় নোটিস পাঠানো হয়েছে। যার মধ্যে বেশিরভাগই বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত অভিযোগ। পরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক দলের বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে বলেন, “আমার বাড়িতে নোটিস দিয়েছে। কিন্তু, কোথায় বেআইনি নির্মাণ, কোথায় অনিয়ম-তা বলেনি। আমার বাড়ি ভেঙে দিক। কিন্তু, মাথা নত করব না।” এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কোন তথ্য ঠিক। অভিষেক হলফনামায় তথ্য কি সত্যি? এর পর আর কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর সবার।
আই লিগ থেকে আইএসএল-এর দিকে এগিয়ে গিয়েছে ক্লাব। এই ঘটনায় স্বভাবতই খুশি সাংসদ অভিষেক বন্দোপাধ্যায়। বিধানসভা ভোটে তাঁর দলের ভরাডুবি হয়েছে, সে নাহয় রাজনৈতিক দিক, রাজনীতির বিষয়। কিন্তু, ফুটবলে যেভাবে ক্রমাগত তাঁর দল ডায়মন্ড হারবার সাফল্য পেয়েই চলেছে, তা রীতিমতো ঈর্ষণীয়। দিনকয়েক আগেই আইএফএল চ্যাম্পিয়ন হয়ে আইএসএলে প্রবেশাধিকার পেয়েছিল ডায়মন্ড হারবার এফসি। ২০২০ সালে দলটির পত্তন হলেও ২০২২ সালে প্রথম আত্মপ্রকাশ হয় ডায়মন্ড হারবার এফসির। সেই বছর কলকাতা ফুটবল লিগে প্রথমবার নেমেছিল এই দল। ক্লাবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক অভিষেক বন্দোপাধ্যায় এমপি কাপ চালু করার কয়েক বছর পরেই ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ফুটবলের প্রতি ভালবাসা বাড়াতে ও বাংলার ফুটবলের উন্নতিস্বার্থে গঠিত হয়েছিল ডায়মন্ড হারবার এফসি। এই দলের সাফল্যের আর একটি প্রধান কারণ দলের খেলোয়াড়রা। লাল-হলুদের প্রাক্তন তারকা জবি জাস্টিন, লুকা মাজসেন, হোলিচরণ নার্জারির মতো ফুটবলাররা দলের স্তম্ভ। তাঁদের পাশাপাশি দলে রয়েছেন আন্তোনিও মোয়ানো, হুগো ডিয়াজের মতো বিদেশী ফুটবলাররা। এই হুগোর শেষমুহূর্তের গোলেই আইএসএল খেলার ছাড়পত্র পেয়েছে ভিকুনার ছেলেরা। স্থাপনের শুরু থেকেই ধাপে ধাপে উঠে এল ডায়মন্ড হারবার। প্রথম থেকেই এই দলের কোচ কিবু ভিকুনা। এই নিয়ে দু’খানা আই লিগ পেলেন তিনি। অতীতে মোহনবাগানের হয়েও আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন কিবু, এবার ডায়মন্ড হারবারের সাফল্য কিবুর মুকুটে জুড়ল আরও একটি পালক। অতীতে নাম ছিল আই লিগ, এখন নাম হয়েছে ইন্ডিয়ান ফুটবল লিগ। এই প্রতিযোগিতার প্রথম সিজনেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ডায়মন্ড হারবার। ডেম্পোর বিরুদ্ধে ১-১ ড্র করেই আইএসএল খেলার ছাড়পত্র পেয়ে গিয়েছে কিবা ভিকুনার ছেলেরা। কিন্তু দলের এই সাফল্যের পিছনে মূল রহস্য কি? ‘ট্রান্সফার মার্কেট ডট কো ডট ইনের‘ ওয়েবসাইট ঘাঁটলে দেখা যাচ্ছে, দলের মার্কেট ভ্যালু মাত্র ১৩.৪৪ কোটি টাকা। যেখানে মোহনবাগানের ভ্যালু প্রায় ৫১ কোটি টাকা, ইস্টবেঙ্গলের ভ্যালু প্রায় ৩৬ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ সিজনে আই লিগের তৃতীয় ডিভিশনে চ্যাম্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয় ডিভিশনে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন লুকা-রা। তারপর দ্বিতীয় থেকে প্রথম ও সেখান থেকে আইএসএল। ২০২৫ সালে ডুরান্ড কাপের রানার্স হয়েছিল ডায়মন্ড হারবার এফসি। মাত্র ৪ বছরের মধ্যেই এই সাফল্যে খুশি দলের সমর্থকরা। কলকাতা থেকে আগে আইএসএল খেলত কলকাতার তিন প্রধান। এবার মহমেডানের অবনমন ঘটেছে, বদলে কলকাতা থেকেই খেলার সুযোগ পেয়েছে অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের দল। তবে আইএসএল প্রতিযোগিতা যে আরও কঠিন, জানেন কিবুরা কারন একবার পা হড়কালেই যে অবনমনের খাঁড়ার ঘা পড়বে দলের মাথায়।




