Tuesday, May 19, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

দুর্নীতিগ্রস্তদের ঠিকানা এখন জেল!‌ ভবানীপুরে তোলাবাজি, কাটমানি নেওয়া আর চলবে না

RK NEWZ “ভবানীপুরে তোলাবাজি, কাটমানি নেওয়া আর চলবে না। দুর্নীতিগ্রস্তদের ঠিকানা এখন জেল।” ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এদিনই প্রথম সভা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকে ভবানীপুরের বাসিন্দাদের অভয় দিলেন। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভবানীপুরের ‘ঘরের মেয়ে’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এবার ওই কেন্দ্রেই হারিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামে জিতলেও ভবানীপুর থেকেই তিনি বিধায়ক হিসেবে বিধানসভায় শপথবাক্য পাঠ করেছেন। নন্দীগ্রাম আসনটি তিনি ছেড়ে দিইয়েছেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ভবানীপুরে এদিন প্রথম সভা করলেন শুভেন্দু। সোমবার সন্ধ্যায় ক্যামাক স্ট্রিটের মঞ্চ থেকে ভবানীপুরের মানুষদের তাঁকে জেতানোর জন্য ধন্যবাদ, কুর্নিশ জানিয়েছেন। ভবানীপুরে তৃণমূল আমলে তোলাবাজি, কাটমানি নেওয়ার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। সেই বিষয়ে এবার বার্তা দিলেন শুভেন্দু। বাসিন্দাদের ভরসা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “তোলাবাজি, কাটমানি, গুন্ডাভাতা ভবানীপুরে আর চলবে না। বাংলায় এখন ভয় আউট, ভরসা ইন।” শুধু তাই নয়, ভবানীপুরের বাসিন্দারা কোনও সমস্যায় পড়লে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের কথাও বলেন। শুভেন্দু এদিন বলেন, “আপনাদের একটা নম্বর দেব, অসুবিধা হলেই ফোন করবেন।” ইমেল আইডি দেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। ভবানীপুর এলাকায় বিধায়কের সাতটি অফিস থাকবে আগামী দিনে। সেখানেও বাসিন্দারা তাঁদের অভাব-অভিযোগ জানাতে পারবেন। ভবানীপুরের মানুষ তাঁর উপর ভরসা রেখেছেন, তাঁকে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে জিতিয়েছেন। সেজন্য একাধিকবার এদিন মঞ্চ থেকে শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরের বাসিন্দাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। নিজেকে তিনি সাধারণ মানুষের ‘ভাই’ বলে উল্লেখ করেছেন। শুভেন্দু এদিন বলেন, “আপনাদের বিশ্বাসের মর্যাদা রাখব। একটু সময় দিন, আপনাদের ঋণ আমি শোধ করব।” তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধায়কেও কটাক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। তিনি জানান, মিত্র ইনস্টিটিউশনের চারটি বুথেই হেরেছেন মমতা। প্রত্যেকটিতেই বিজেপি লিড পেয়েছে। শুভেন্দুর কথায়, “যে নিজের বুথেই জিততে পারেন না, তাঁকে দরজা দেখিয়ে দিয়েছে বাংলার মানুষ। আপনার রাজনৈতিক দিন শেষ। টাটা, বাই বাই, খতম, পুরা খতম করে দিয়েছে।” মমতার রাজনৈতিক কেরিয়ার শেষ হয়ে গিয়েছে। রাজ্যের মানুষ তাঁকে দরজা দেখিয়ে দিয়েছেন। সেই কটাক্ষও করেছেন শুভেন্দু। “ভবানীপুরে তোলাবাজি, কাটমানি নেওয়া আর চলবে না। দুর্নীতিগ্রস্তদের ঠিকানা এখন জেল।” ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এদিনই প্রথম ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে বক্তব্য রাখলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকে ভবানীপুরের বাসিন্দাদের অভয় দিলেন। তাঁকে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে জেতানোর জন্য ভবানীপুরের বাসিন্দাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। ভবানীপুরে এসে তাঁর পুরনো বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রামের অনুভব পাচ্ছেন, সেই কথাও মঞ্চ থেকে বলেন মুখ্যমন্ত্রী।

১৫ বছরে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী একাধিক প্রশাসনিক বৈঠক করেছেন। কিন্তু সেই বৈঠকে বিরোধী দলের কোনও বিধায়ককে ডাকা হত না বলে বারবার অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু রাজ্যের মসনদে বদল এসেছে। মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে এখন শুভেন্দু অধিকারী। আর এরপরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বিরোধী বয়কট’ সংস্কৃতির বদল আনলেন মুখ্যমন্ত্রী। উত্তরবঙ্গ সফরে বুধবার সাত জেলার বিধায়ক এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন তিনি। আর সেই বৈঠকেই ডাক পেলেন সিতাইয়ের একমাত্র তৃণমূল বিধায়ক। মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসার পর বুধবারই প্রথম উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জানা গিয়েছে, উত্তরকন্যায় বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। উপস্থিত থাকবেন প্রশাসনিক কর্তারাও। ওই বৈঠকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে সূত্রের খবর। শুধু তাই নয়, একটি সেতুর উদ্বোধন করার কথাও রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, বৈঠকে সিতাইয়ের তৃণমূল বিধায়ক সঙ্গীতা রায়ের ডাক পাওয়া। তৃণমূল জমানার ১৫ বছরে একজনও বিরোধী বিধায়ক বৈঠকে ডাক পাননি। কিন্তু জমানা বদলাতেই প্রশাসনিক বৈঠকে এবার উলটো ছবি দেখা যাবে। তবে তৃণমূল বিধায়ক এই বৈঠকে যোগ দেবেন কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। ছাব্বিশের বঙ্গযুদ্ধে উত্তরবঙ্গে রীতিমতো পদ্মঝড় হয়েছে। আর সেই ঝড়ে কার্যত সাফ হয়ে গিয়েছে তৃণমূল। কয়েকটি জেলায় খাতাও খুলতে পারেনি ঘাসফুল শিবির। বিজেপিকে দু’হাত ভরে ভোট দিয়েছে উত্তরের মানুষ। তাই নতুন সরকারের উপর প্রত্যাশার চাপও অনেক। এ দিকে তৃণমূল জামানায় উন্নয়ন নিয়ে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে প্রচারে এসে উত্তরবঙ্গকে ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অমিত শাহ, নরেন্দ্র মোদিরা। আইআইটি, এইমস, ক্যানসার হাসপাতালের মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কথা বলেছেন তাঁরা। এছাড়াও সামগ্রিক উন্নয়নের বার্তা দিয়েছে বিজেপি। স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচনে জেতার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম উত্তরবঙ্গ সফর ঘিরে চড়ছে প্রত্যাশার পারদ। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি কী বার্তা দেন সেই তাকিয়ে সব মহল।

ঘড়ির কাটা ধরে চালু করতে হবে হাসপাতালের ওপিডি। এক মিনিটও যেন দেরি না হয়। আজ, সোমবার স্বাস্থ‌্যভবনের হাইভোল্টেজ বৈঠকে এই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের আটজন চিকিৎসক-বিধায়ক। বৈঠকে চিকিৎসকদের বদলি-পোস্টিংয়ে স্বজনপোষণের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এবার থেকে স্বজনপোষণের ভিত্তিতে নয়, বরং মেধার ভিত্তিতেই পোস্টিং হবে বলে জানিয়েছেন বিধায়ক ইন্দ্রনীল খাঁ।
মুখ‌্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে বিধায়ক ডা. ইন্দ্রনীল খাঁ, ডা. অরূপ কুমার দাস, ডা. সময় হীরা, ডা. শারদ্বত মুখোপাধ‌্যায়, ডা. বিজন মুখোপাধ‌্যায়, ডা. অজয় পোদ্দার, ডা. পীযুষ কান্তি দাস, ডা. হরেকৃষ্ণ বেরা এদিন হাজির হয়েছিলেন স্বাস্থ‌্যভবনে। গুরুত্বপূর্ণ সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ‌্য অধিকর্তা ডা. স্বপন সোরেন, স্বাস্থ‌্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম সহ স্বাস্থ‌্য শিক্ষা অধিকর্তা এবং অন‌্যান‌্য আধিকারিকরা। বৈঠক শেষে ডা. শারদ্বত মুখোপাধ‌্যায় জানান, মূলত চারটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ২০২৪ সালে আর জি কর মেডিক‌্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। প্রতিটি হাসপাতালে ডাক্তারি ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে এদিন আওয়াজ তোলেন চিকিৎসক-বিধায়করা। ঠিক হয়েছে প্রতিটি সরকারি হাসপাতাল কড়া নিরাপত্তার চাদরে মোড়া থাকবে। বাড়ানো হবে সিসিটিভির সংখ‌্যা। সম্প্রতি পুরুলিয়ার পুঞ্চা ব্লক হাসপাতালে শিশু মৃত‌্যুর পর চিকিৎসক নিগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। সেই ঘটনা তুলে ধরে চিকিৎসক-বিধায়করা জানান, হাসপাতালে চিকিৎসক নিগ্রহের সংখ‌্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে।

বৈঠকে আলোচনা হয়েছে, ওয়েস্টবেঙ্গল মেডিক‌্যাল এডুকেশন সার্ভিস, ওয়েস্টবেঙ্গল হেলথ সার্ভিস, বেসরকারি মেডিক‌্যাল কলেজ এবং তার পরিকাঠামো নিয়েও। আড়াই ঘণ্টার এই বৈঠকে চিকিৎসকদের পোস্টিংয়ে ’স্বজনপোষণ’ প্রসঙ্গও উঠেছে। আগে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ চিকিৎসকরা পছন্দের এলাকায় পোস্টিং পেতেন। পক্ষপাতমূলক নিয়োগের একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছিল। বিধায়ক-চিকিৎসক ডা. ইন্দ্রনীল খাঁ জানিয়েছেন, “নেপোটিজম সম্পূর্ণ বন্ধ করা হল। মুখ‌্যমন্ত্রীকে এই বৈঠকের রিপোর্ট দেওয়া হবে। নতুন সরকারের কড়া নির্দেশ, শুধুমাত্র মেধার ভিত্তিতেই স্বাস্থ‌্যদপ্তরে চাকরিতে কর্মস্থল বদল এবং পোস্টিং হবে। স্বাস্থ‌্যক্ষেত্রে কোনও ধরণের স্বজনপোষণ চলবে না। বন্ধ করতে হবে দুর্নীতি।”

স্বাস্থ‌্য দপ্তরে সিন্ডিকেট বন্ধ নিয়েও এদিন দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়। বিগত সরকারের আমলে চিকিৎসার সরঞ্জাম কেনার নামে টেন্ডার দুর্নীতি হয়েছিল আর জি কর মেডিক‌্যাল কলেজে। হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি ‘ঘনিষ্ঠ’দের টেন্ডার পাইয়ে দিয়েছিলেন। ডা. ইন্দ্রনীল খাঁ জানিয়েছেন, এই সমস্ত বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিচ্ছে নতুন সরকার। হাসপাতাল মানুষের আরোগ‌্য মন্দির। কোনও সিন্ডিকেট সেখানে থাকবে না। বিগত সরকারের আমলে ওয়েস্ট বেঙ্গল ফার্মেসি কাউন্সিলের দপ্তর থেকেও একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বৈঠক শেষে চিকিৎসক বিধায়করা ইঙ্গিত দিয়েছেন, কাউকে ছাড় নয়। ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি হবে। দুর্নীতি দমনের পাশাপাশি জঙ্গলমহলের একাধিক হাসপাতালকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন মুখ‌্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাড়ছে বেডও। ঝাড়গ্রামের বিনপুরের বিধায়ক প্রণত টুডুর বক্তব‌্য, ‘‘৬০ বেডের বেলপাহাড়ি হাসপাতাল যাতে ১০০ বেডের করা হয় সেই প্রসঙ্গ বৈঠকে তুলেছি। ঝাড়গ্রাম মেডিক‌্যাল কলেজকে কীভাবে আরও আধুনিক করা যায় তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ট্রমা কেয়ার ইউনিট নেই ঝাড়গ্রাম মেডিক‌্যাল কলেজে। পথ দুর্ঘটনার রোগী হাসপাতালে এলে কলকাতার পিজিতে পাঠাতে হয়। জঙ্গলমহলে গ্রামীণ হাসপাতালে এখনও এমআরআই-এর ব‌্যবস্থা নেই। সেখানে এমআরআই চালু করা যায় তা নিয়েও প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles