RK NEWZ মৈত্রেয়ী শ্রদ্ধা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। একইরকম ভাবে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারীদের হাত ধরে টলিউডের ইন্ডাস্ট্রির ভাল হবে বলেও প্রত্যয়ী। রাজ্য নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেছেন। ৯ মে তাঁর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে হাজির ছিল টলিউডের খ্যাতনামী শিল্পীদের একাংশ। তার ঠিক দিন দুয়েক পরে টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৈত্রেয়ী মিত্র প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছবি দিয়ে এক বার প্রশংসা করেছেন, পাশাপাশি সমালোচনাতেও বিদ্ধ করেছেন। কেউ কেউ তাঁকে নানা ভাবে কটাক্ষ করেছেন সমাজমাধ্যমে। যদিও মৈত্রেয়ী জানান, তিনি পরিবর্তনের পক্ষে। রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারীদের হাত ধরে টলিউডের ইন্ডাস্ট্রির ভাল হবে বলেও প্রত্যয়ী তিনি। তবে একই তাঁর সঙ্গে শ্রদ্ধা রয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মৈত্রেয়ীর যে ছবি নিয়ে এত বিতর্ক, সেই ছবিটি ২০২২ সালের। ভাষা দিবসের একটি অনুষ্ঠানের। মৈত্রেয়ীর কথায়, ‘‘আসলে আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যয়ের সঙ্গে ছবি দিয়েছি বলেই লোকে ভেবে নিয়েছে, আমি তৃণমূলের সমর্থক। আমি আসলে সে দিন এক জন মুখ্যমন্ত্রীকে প্রণাম করেছিলাম। আমি সাধারণ মানুষ, আমরা মুখ্যমন্ত্রী কিংবা প্রধানমন্ত্রীর মতো মানুষজনকে সামনে থেকে দেখলে আপ্লুত তো হবই। আমার সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো এমন এক জন মানুষের ছবি আছে, সেটা আমার সারা জীবনের কৃতিত্ব। তাতেই কেউ যদি ট্রোল করেন, সমালোচনা করেন তাতে বিচলিত হচ্ছি না। এ ছাড়া এটাও বলব, সে দিনের অনুষ্ঠানেও আমি নিজে থেকেই গিয়েছিলাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে থেকে দেখব বলে।’’একই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর বেশ কিছু অভিযোগ ও অভিমানও ব্যক্ত করেছেন মৈত্রেয়ী। তিনি লিখেছিলেন, ‘‘আপনি আপনার রাজ্যের মানুষকে ভালোবাসা দিয়ে জিততে পারতেন। কিন্তু আপনি আমাদের দমিয়ে রাখলেন, কিনে নিতে চাইলেন, বাক্স্বাধীনতা কেড়ে নিলেন, ভয় দেখিয়ে রাখলেন। না, হয়তো আপনি করেননি। কিন্তু আপনার দলের লোকেরাই তো করেছে। আপনি তাদের না থামিয়ে বাড়তে দিলেন। তাই দায়ভার তো আপনাকেই নিতে হবে।’’ মৈত্রেয়ী অবশ্য স্পষ্ট করেন, এই কথাগুলি তৃণমূল নেত্রীকে নয়, বরং রাজ্যের অভিভাবিকাকে বলেছিলেন। পাশাপাশি মৈত্রেয়ী জানান, তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আগে যুক্ত ছিলেন না, ভবিষ্যতে থাকবেন না। তিনি ভোট দেন প্রার্থী দেখে, দল দেখে নয়। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হয়েছে। অভিযোগ, টলিউড ইন্ডাস্ট্রির কাজকর্ম এত দিন নিয়ন্ত্রণ করতেন অরূপ বিশ্বাস ও তাঁর ভাই স্বরূপ বিশ্বাস। এখন তাঁদের হাতে ক্ষমতা নেই। ইতিমধ্যে বিজেপির চার জয়ী বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী, রুদ্রনীল ঘোষ ও হিরণ চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে টালিগঞ্জে তৈরি হয়েছে অন্য এক প্রত্যাশা। মৈত্রেয়ীর কথায়, ‘‘গত কয়েক বছরে আমাদের টলিউডের পরিবেশ বদলে গিয়েছিল। বহু বছর আগেও আনন্দ করে কাজ করতাম। কিন্তু সেটা যেন অচিরেই বদলে যায়। আসলে যে যে পেশার মানুষ নন, তাঁদের সেই দায়িত্ব দিলে যা হয় সেটাই হয়েছিল এই দুই ভাইয়ের (অরূপ ও স্বরূপ বিশ্বাস) আমলে।’’ মৈত্রেয়ীর কথায়, ‘‘তবে আমি রূপাদি, পাপিয়াদির প্রতি আস্থা রাখছি। কাজের বহর কম বা বেশি, যা-ই হোক, তবু তাঁরা অভিজ্ঞ অভিনেত্রী। আমি নিশ্চিত, ইন্ডাস্ট্রির জন্য তাঁরা ভাল করবেন।’’ একই সঙ্গে মৈত্রেয়ী জানান, রাজনৈতিক পালাবদল হলেও ব্যক্তি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইকে তিনি খাটো করতে পারবেন না কখনওই। তাঁর প্রতি সবসময় শ্রদ্ধাশীল থাকবেন।
হিরণ স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি আসবেন না। তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, “আমার অভিনয়জীবনে পিয়া সেনগুপ্তের কী অবদান আছে?” ২২ মে ইমপা-র অফিসে সমস্ত সদস্যকে নিয়ে সাধারণ বৈঠক বসবে। আলোচনায় জায়গা করে নেবে সংগঠনের সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তের পদত্যাগের প্রসঙ্গও। খবর, এ দিনের বৈঠকে সংবর্ধনা জানানো হবে বিজেপির জয়ী তারকা প্রার্থীদের। সবিস্তার জানতে আনন্দবাজার ডট কম যোগাযোগ করেছিল পিয়ার সঙ্গে। তিনি খবরের সত্যতায় সিলমোহর দিয়েছেন। জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে গিয়েছে অগ্নিমিত্রা পাল, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, হিরণ চট্টোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী এবং শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের কাছে। বিধানসভা নির্বাচন রাজনৈতিক পালাবদলের সাক্ষী। বাংলার শাসনভার এখন বিজেপি-র হাতে। রাজনৈতিক পালাবদলের পরেই একদল বিক্ষুব্ধ প্রযোজকের অভিযোগ, ইমপা তৃণমূল কংগ্রেসের আখড়ায় পরিণত হয়েছিল। সেই ভাবমূর্তি বদলাতেই কি এই আয়োজন? পিয়া বলেছেন, “তৃণমূল সরকারেরও আগে বাম আমল মসনদে ছিলেন। সংগঠনের প্রতিনিধিরা সেই আমলেও টলিউডের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে বাম সরকারের দ্বারস্থ হয়েছেন। আমরা কোনও দিন সংগঠনের গায়ে রাজনৈতিক রং লাগাতে দিইনি। আগামী দিনেও দেব না।” তিনি এ-ও জানান, সংগঠন যাঁদের সংবর্ধনা জানানোর কথা ভাবছেন, তাঁরা প্রত্যেকে টলিউডের অংশ। পিয়াকে ইতিমধ্যেই রুদ্রনীল জানিয়েছেন, তিনি ওই দিন সময় পেলে অবশ্যই উপস্থিত থাকবেন। বর্তমানে বিক্ষুব্ধ প্রযোজকেরা পিয়ার পদত্যাগ চেয়ে সরব। তাঁরা সংগঠনের অফিসে উপস্থিত হয়ে নানা দাবিদাওয়া পেশ করছেন। গঙ্গাজল ছিটিয়ে অফিস শুদ্ধিকরণ করেছেন। ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিও তুলেছেন। সে কথা পিয়া জানিয়েছেন রুদ্রনীলকে। অভিনেতা-রাজনীতিবিদ সংগঠনের সভাপতিকে আশ্বস্ত করেছেন, তিনি সমস্ত অভাব-অভিযোগ শুনবেন। জানিয়েছেন, টলিউডে অভিনেতাদের গায়ে আর রাজনীতির রং লাগতে দেবেন না। রুদ্রনীল ছাড়াও আমন্ত্রিতদের তালিকায় রয়েছেন রূপা, অগ্নিমিত্রা, পাপিয়া, হিরণ, শর্বরী। তাঁরা কী বলছেন? এই আমন্ত্রণ কি তাঁরা গ্রহণ করবেন?
রূপা, অগ্নিমিত্রাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। শর্বরী জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে এখনই কিছু বলতে পারবেন না তিনি। পাপিয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যাবেন, জানিয়েছেন সে কথা। বলেছেন, “ইমপা সংগঠনটি বহু বছরের। এখনও তার অস্তিত্ব আছে। যে সংগঠনের এখনও অস্তিত্ব আছে, সেই সংগঠন আমন্ত্রণ জানালে অবশ্যই উপস্থিত থাকব।” রাজনৈতিক পালাবদলের পরেই ইমপা-কে ঘিরে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। সেই দিকটাও কি দেখবে রাজ্য সরকার? পাপিয়া ঘটনার বিরোধিতা করেছেন। তাঁর কথায়, “আমরা গুন্ডামি পছন্দ করি না। আমরা তৃণমূল সরকার নই। আমরা বঙ্গ সরকার। তাই নির্বাচনে জেতার পর থেকে দলীয় নেতৃত্ব সবাইকে সংযত থাকার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।” তিনি আশ্বাস দেন, ইমপা-তে সেই নির্দেশ মানা না হলে অবশ্যই বিষয়টি দেখা হবে। একই সঙ্গে পাপিয়া এ-ও জানান, পিয়ার বিরুদ্ধে যা যা অভিযোগ উঠেছে, সে সব প্রমাণিত হলে পিয়াকে পদত্যাগ করতে হবে। এ প্রসঙ্গে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিয়েছেন হিরণ। তাঁর সাফ জবাব, “এক, আমি প্রযোজক নই, অভিনেতা। যত দূর জানি, সংগঠনটি প্রযোজকদের। ফলে, ওই সংগঠনের সঙ্গে দূর-দূরান্ত পর্যন্ত কোনও কালেই সম্পর্ক ছিল না। দুই, আমার অভিনয়জীবনেও পিয়া সেনগুপ্তের কোনও অবদান নেই।” তিনি তাই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন না। সংগঠনকে রাজনীতিমুক্ত করার আবেদন নিয়ে একদল বিক্ষুব্ধ প্রযোজক পিয়ার পদত্যাগ চেয়েছেন। তাঁরাই সংগঠনের অফিসের বাইরে বিজেপির পতাকা ঝুলিয়েছেন। সংগঠনকে কি সত্যিই রাজনীতিমুক্ত রাখা সম্ভব? হিরণ মনে করেন, “শুধু ইমপা নয়, সমস্ত সংগঠন, অফিস, বিনোদনদুনিয়া, এমনকি সংবাদমাধ্যমেরও রাজনীতিমুক্ত থাকা উচিত।”




