RK NEWZ বরাহনগরের আদৃত পাল। ৪৯৬ নম্বর নিয়ে এ বার উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম হয়েছেন তিনি। তাঁর পড়াশোনা রামকৃষ্ণ মিশন, নরেন্দ্রপুরে। মাধ্যমিকের পরই বুঝতে পেরেছিলেন, ছোট ছোট ভুলের কারণে কমে গিয়েছে নম্বর। তাই প্রথম থেকেই স্থির করে নিয়েছিলেন উচ্চ মাধ্যমিকে সে সব ভুলের কোথায় কেমন সংশোধন করতে হবে। একেবারে প্রথম হবেন ভাবেননি। মাধ্যমিকের মেধাতালিকায় আদৃতের একাদশ স্থান ছিল। সেখান থেকে একেবারে প্রথম। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, “বেশ কিছু ভুল ছিল মাধ্যমিকের সময়। তাই প্রত্যাশিত ফল পাইনি সে বার। একাদশ-দ্বাদশে আরও ভাল করে পড়াশোনা করেছি।” মা, বাবা আর আদৃত— এই ছোট পরিবারেই বড় হওয়া। যদিও ছোটবেলা থেকেই নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়ের (আবাসিক) ছাত্র তিনি। দ্বাদশের পর ইচ্ছে জ্যোতির্বিদ্যা বা অ্যাস্ট্রোনমি নিয়ে পড়াশোনা করতে চেয়েছেন বরাবর। সেই লক্ষ্যেই আপাতত এগিয়ে চলেছে আদৃত। তিনি বলেন, ‘‘আমার পরিবার, আমার স্কুলের জন্য এই ফল আমি করতে পেরেছি। এত ভাল ফল হবে অবশ্য ভাবিনি।” ঘড়ি ধরে পড়াশোনা করতে খুব একটা ভালবাসেন না আদৃত। তবে আবাসিক স্কুলের কারণেই নিয়ম মেনে পড়াশোনা করতে হত তাঁকে। একই সঙ্গে চলত খেলাধুলাও। মাধ্যমিকের পরই বুঝতে পেরেছিলেন, ছোট ছোট ভুলের কারণে কমে গিয়েছে নম্বর। তাই প্রথম থেকেই স্থির করে নিয়েছিলেন উচ্চ মাধ্যমিকে সে সব ভুলের কোথায় কেমন সংশোধন করতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি আদৃত নিজেকে খাদ্যরসিক হিসাবে পরিচয় দিতে ভালবাসেন। পড়ার ফাঁকে ফাঁকেই খোঁজ করেন বাড়িতে ভাল কী খাবার রয়েছে। বিশেষত মায়ের হাতের রান্না। তবে যে কোনও নতুন স্বাদ চেখে দেখতে তাঁর খুব ইচ্ছা করে, জানিয়েছেন কৃতী। স্কুলজীবনের শেষ পরীক্ষায় বাজিমাত করেছেন আদৃত। ভবিষ্যতের লক্ষ্যে দৃঢ় প্রত্যয়েই এগিয়ে যেতে চান।
পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় পাশের হার ৯৪.১৯ শতাংশ । ফলাফলের নিরিখে সবচেয়ে বেশি পড়ুয়া উত্তীর্ণ হয়েছেন এই জেলা থেকে। প্রথম দশের মেধাতালিকায় রয়েছে ৬৪ জন। ছাত্র ৫৬ জন, ছাত্রী আট জন। প্রথম হয়েছেন আদৃত পাল। প্রকাশিত হল ২০২৬-এর উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফল। চলতি বছর পরীক্ষায় নাম নথিভুক্ত করেছিলেন ৬ লক্ষ ৩৫ হাজার ৯৩১ জন। পরীক্ষা দেন ৬ লক্ষ ২৬ হাজার ২৫৮ জন। উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫ লক্ষ ৭১ হাজার ৩৫৫জন। পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় পাশের হার ৯৪.১৯ শতাংশ। ফলাফলের নিরিখে সব থেকে বেশি পড়ুয়া উত্তীর্ণ হয়েছেন এই জেলা থেকে। প্রথম দশের মেধাতালিকায় রয়েছেন ৬৪ জন। ছাত্র ৫৬ জন, ছাত্রী আট জন। প্রথম হয়েছেন আদৃত পাল। প্রাপ্ত নম্বর ৪৯৬। সেমেস্টার পদ্ধতিতে উচ্চ মাধ্যমিক ২০২৬ থেকেই প্রথম শুরু হয়েছে। গত ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত হয়েছিল প্রথম পর্বের পরীক্ষা। সেই তালিকা অনুযায়ী পরীক্ষায় সম্ভাব্য শীর্ষস্থানে জায়গা করে নিয়েছিলেন প্রীতম বল্লভ এবং আদিত্যনারায়ণ জানা। পুরুলিয়ার রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠের দুই ছাত্রই পেয়েছিলেন ৯৮.৯৭ শতাংশ নম্বর। ১৫টি ভাষা এবং ১৬টি বৃত্তিমূলক বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। চলতি বছরে ছাত্রের চেয়ে ছাত্রীর সংখ্যা বেশি। ৬৬ হাজার ৪৮৬জন বেশি ছাত্রী পরীক্ষা দিয়েছেন। পরীক্ষা দিয়েছেন মোট ৬ হাজার ৮৩৭টি স্কুলের পড়ুয়া।




