RK NEWZ নতুন সরকারের আমলে রাজ্য প্রশাসনে যে রদবদল হতে চলেছে, তার ইঙ্গিত মিলেছিল শনিবারই। রবিবার একসঙ্গে ১০ জন আমলার বদলির নির্দেশ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করল কর্মিবর্গ এবং প্রশাসনিক সংস্কার দফতর।বিধানসভা ভোটের সময় বার বার সংবাদের শিরোনামে উঠে এসেছিলেন নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসার সুরজিৎ রায়। তৃণমূল বার বার অভিযোগ করেছিল, সুরজিৎ নন্দীগ্রামের ‘শুভেন্দু অধিকারী-ঘনিষ্ঠ’ বিডিও। শুধু তা-ই নয়, ভবানীপুরের তৎকালীন তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার অনুমতি না-দেওয়ার অভিযোগও উঠেছিল সুরজিতের বিরুদ্ধে। ভোটপর্ব মিটতেই নতুন সরকারে ভবানীপুরের সেই রিটার্নিং অফিসারকে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে (সিএমও) নিয়োগ করা হল। তিনি একা নন, আরও আট জন আমলাকে সিএমও-তে আনার নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্যের কর্মিবর্গ এবং প্রশাসনিক সংস্কার দফতর। এ ছাড়াও, মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে কর্মরত এক আমলাকে উত্তরবঙ্গে পাঠানোর নির্দেশও জারি করা হয়েছে। নতুন সরকারের আমলে রাজ্য প্রশাসনে যে রদবদল হতে চলেছে, তার ইঙ্গিত মিলেছিল শনিবারই। রবিবার একসঙ্গে ১০ জন আমলার বদলির নির্দেশ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করল কর্মিবর্গ এবং প্রশাসনিক সংস্কার দফতর। জানা গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে ন’জনকে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে নিয়ে আসা হচ্ছে। এই ন’জনের মধ্যে দু’জন আইএএস আধিকারিক। তাঁরা হলেন ক্ষুদ্র, কুটির এবং মাঝারি ও বস্ত্র দফতরের যুগ্মসচিব পি প্রমথ এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের অতিরিক্ত জেলাশাসক নবনীত মিত্তল। এ ছাড়াও, ডায়মন্ড হারবারের এসডিও, পূর্ব মেদিনীপুর জেলাপরিষদের উপসচিব, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর আধিকারিক-সহ সাত জনকে নতুন দায়িত্বে আনা হয়েছে। প্রত্যেককেই সিএমও-তে সিনিয়র উপসচিব করে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিএমও-তে যাঁদের নিয়োগ করা হচ্ছে, তাঁদের মধ্যে সুরজিৎকে নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। ভোটপর্বে তাঁকে ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসার করা নিয়ে আপত্তি তোলে তৃণমূল। কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়ে ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসার বদলের দাবিও জানায় তারা। তৃণমূলনেত্রী মমতা স্বয়ং এ নিয়ে কমিশনকে নিশানা করেন। তৃণমূলের অভিযোগের ভিত্তিতে সে সময় নবান্নের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চেয়ে পাঠায় কমিশন। নবান্ন সেই মতো তিন জনের নাম পাঠায়। কিন্তু কমিশন ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসার বদল করেনি। সেই রিটার্নিং অফিসারকেই আনা হল সিএমও-তে। মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে (স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরে) কর্মরত পবিত্র চক্রবর্তীকে বদলি করে পাঠানো হচ্ছে উত্তরবঙ্গে। তিনি এত দিন সিএমও-তে সহকারী সচিব ছিলেন। তাঁকে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমে পাঠাল নবান্ন। তিনি কোচবিহারে কাজ করবেন। শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শনিবারই তাঁর ব্যক্তিগত সচিব এবং উপদেষ্টা হিসাবে যথাক্রমে শান্তনু বালা এবং সুব্রত গুপ্তকে নিযুক্ত করা হয়। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নবান্নের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে একসঙ্গে ৬২ জন আমলাকে সোমবার কর্মিবর্গ এবং প্রশাসনিক সংস্কার দফতরে ডেকে পাঠানো হয়। তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই পূর্বতন সরকারের কোনও না কোনও মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন। আবার অনেকে ছিলেন বিভিন্ন দফতরের বিশেষ সচিবও। কেউ কেউ আবার সিএমও-তে কর্মরত। সেই বিজ্ঞপ্তি জারির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রশাসনিক স্তরে রদবদলের নির্দেশিকা জারি হল।
শপথগ্রহণের দিনই ভবিষ্যত পরিকল্পনা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। জানিয়েছিলেন, তাঁর লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গের ‘নবনির্মাণ’। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সোমবার নবান্নে পা রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে এই প্রথম বার নবান্নে যাচ্ছেন তিনি। প্রথম দিনেই পর পর তিনটি বৈঠক রয়েছে তাঁর। বেলা ১২টায় তাঁর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক হবে। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ সমারোহ হয়েছে শুভেন্দুর। গঠিত হয়েছে পশ্চিমবাংলার প্রথম বিজেপি সরকার। তার পরে সোমবারই হল রাজ্যে বিজেপি সরকারের প্রথম কর্মদিবস। নতুন সরকারের প্রথম দিনেই নবান্নে প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে ডেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। শনিবারই একপ্রস্ত বৈঠক সেরেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। ওই দিন ধর্মতলায় পূর্ত দফতরের তাঁবুতে একপ্রস্ত প্রশাসনিক বৈঠক সারেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা, স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত। রাজ্যের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি খোঁজখবর নেন ওই বৈঠকে। তার পরে সেই রাতেই পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথিতে চলে যান তিনি। রবিবার সকাল থেকে কাঁথিতেই ছিলেন তিনি। বিকেল ৫টা নাগাদ তিনি কাঁথি থেকে রওনা দেন কলকাতার উদ্দেশে। সোমবার নবান্নে পর পর তিনটি বৈঠক সারবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের নিয়ে প্রথমে একটি পর্যালোচনা বৈঠক করবেন তিনি। এর পরে দুপুরে জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। তার পরে বিকেলে রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গেও একটি বৈঠক রয়েছে শুভেন্দুর। সূত্রের খবর, বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জ়োনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা।
শুভেন্দু নবান্নে যাওয়ার আগে রবিবার সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে হাওড়া এবং কলকাতা পুলিশ। রবিবার বেলা গড়াতেই কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দ এবং হাওড়ার অখিলেশ চতুর্বেদী পৌঁছে যান নবান্নে। সঙ্গে ছিলেন পুলিশের বেশ কয়েক জন উচ্চ আধিকারিকও। প্রথমেই দুই সিপি-র নেতৃত্বে নবান্ন চত্বর খতিয়ে দেখে পুলিশ। কোথায় কী নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে, তার খুঁটিনাটি তথ্য সংগ্রহ করা হয়। নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর নিরাপত্তা কী রকম থাকবে, যেখানে তিনি বৈঠক করবেন সেই সভাঘরের নিরাপত্তা কেমন, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখে পুলিশ। তার পরে নবান্নের সভাঘরে অজয় এবং অখিলেশ নিরাপত্তা সংক্রান্ত জরুরি বৈঠকও সারেন। মুখ্যমন্ত্রীর শপথের পরে আরও পাঁচ জন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসাবে শপথ নেন। উত্তরবঙ্গ থেকে দু’জন এবং দক্ষিণবঙ্গ থেকে তিন জনকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে যেমন আদিবাসী মুখ রয়েছেন, তেমন মতুয়া, রাজবংশী এলাকার বিধায়কও আছেন। নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হয়েছেন— দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু এবং নিশীথ প্রমাণিক। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাঁদের দফতর বণ্টন হয়নি। মন্ত্রিসভার বাকি সদস্যদের শপথগ্রহণও এখনও বাকি রয়েছে। শপথগ্রহণের পরে শনিবারই শুভেন্দু জানিয়ে দেন, তাঁর সরকার পশ্চিমবঙ্গের ‘নবনির্মাণ’ করবে। বলেন, “পশ্চিমবাংলার অনেক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। সংস্কৃতি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। শিক্ষা হারিয়ে গিয়েছে। আমরা পশ্চিমবাংলাকে নবনির্মাণ করব। অনেক দায়িত্ব। এখন একে অপরের সমালোচনার সময় নেই।” পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার গঠনের মুহূর্তকে রাজ্যের এক নতুন জাগরণের সূচনা বলেই মনে করছেন তিনি। এ অবস্থায় মু্খ্যমন্ত্রী হিসাবে নবান্নে প্রথম প্রশাসনিক বৈঠকে শুভেন্দু কী বার্তা দেন, তা নিয়ে কৌতূহল দানা বেঁধেছে জনমানসে।





