Monday, June 15, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

টানা চার ম্যাচ জয়!‌ প্লে-অফের দৌড়ে কেকেআর?‌ পরিবর্তনের হাওয়া কলকাতায়! অজিঙ্ক রাহানের দল জিতেই চলেছে

RK NEWZ এ বার দিল্লি জয়। অ্যালেনের শতরান। রাহানের সাহসী সিদ্ধান্তে আট থেকে সাতে কেকেআর। টানা চার ম্যাচ জয়। যে কেকেআর আদৌ একটা ম্যাচও জিততে পারবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, তারাই এখন প্রবল ভাবে প্লে-অফের দৌড়ে চলে এসেছে। অজিঙ্ক রাহানের দল জিতেই চলেছে একের পর এক ম্যাচ। শুক্রবার ঘরের মাঠে তারা দিল্লিকে হারিয়ে দিল আট উইকেটে। প্রথমে ব্যাট করে ১৪২/৮ তুলেছিল দিল্লি। জবাবে ফিন অ্যালেনের শতরানের সৌজন্যে ২ উইকেট হারিয়ে এবং ৩৪ বল বাকি থাকতে ম্যাচ জিতে নিল কলকাতা। বোঝাই গিয়েছে গোটা ম্যাচে কতটা দাপট নিয়ে খেলেছে। ঘরের মাঠের সুবিধা তুলতে আরও এক বার ব্যর্থ দিল্লি। চলতি মরসুমে তারা কোটলায় ছ’টি ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতেই হারল। নিজেদের পছন্দের পিচে খেলেও কলকাতাকে হারাতে ব্যর্থ অক্ষর পটেলের দল। টসে জিতে অজিঙ্ক রাহানে সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে দিল্লির ব্যাটারদের আরও একটু লড়াই করার মানসিকতা থাকা দরকার ছিল। বিশ্বব্যপী টি-টোয়েন্টি তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিং দেখে অ্যালেনকে দলে নিয়েছিল কেকেআর। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অ্যালেনের ফর্ম আরও আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছিল তাদের। কিন্তু আইপিএলের শুরু থেকে সেই ফর্মের ধারেকাছে যেতে পারেননি নিউ জ়িল্যান্ডের ব্যাটার। একটা সময় তাঁকে বসিয়ে দিয়ে সতীর্থ টিম সেইফার্টকে নামানো হতে থাকে। সেইফার্টও ব্যর্থ হওয়ায় আবার ফেরানো হয় অ্যালেনকে। দ্বিতীয় সুযোগ আর হাতছাড়া করলেন না এই কিউয়ি ব্যাটার। আগের ম্যাচে ২৯ রান করেছিলেন। এই ম্যাচে একেবারে শতরান। এ ধরনের পিচে কী ভাবে ব্যাট করতে হয় সেটা দেখিয়ে দিয়েছেন তিনি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দাপট দেখিয়েছেন দিল্লির বোলারদের উপর। শেষ দিকে তখন জয়ের জন্য ২ রান দরকার ছিল, তখন অ্যালেনকে শতরান করতে হলে ছয় মারতে হত। মুকেশ কুমারের বলে ঠিক সেটাই করলেন তিনি। অ্যালেনের ৪৭ বলে ১০০ রানের ইনিংসে রয়েছে পাঁচটি চার এবং ১০টি ছয়। ম্যাচের আগে পিচ দেখে বোঝা গিয়েছিল পাটা। আলো পড়ে চকচক করছিল পিচ। অর্থাৎ বোলারদের বধ্যভূমি। পিচ রিপোর্টে জানা গেল, এই পিচেই পঞ্জাবের বিরুদ্ধে ২৬৪ তুলেছিল দিল্লি, যে ম্যাচটি তারা হারে। ঘরের মাঠে চারটি ম্যাচ হারা দিল্লির জোরাজুরিতেই এই পিচে খেলানোর আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে টসে জিতে রাহানে আগে ব্যাটিং নেওয়ায় অনেকেই অবাক হয়েছিল। এ রকম সমতল পিচে যে কোনও অধিনায়কই রানের পাহাড় গড়তে চাইবেন। কিন্তু রাহানের সিদ্ধান্ত কতটা সঠিক ছিল সেটা বোঝা গিয়েছে ম্যাচের পরে। দিল্লি যেখানে রান তুলতে হিমশিম খেয়েছে সেখানে কেকেআরের ব্যাটারেরা কার্যত অনায়াসে রান তুলেছেন। প্রথম বলে চার মেরে শুরুটা ভালই করেছিলেন নিসঙ্ক। দিল্লি খোঁড়াতে শুরু করলেও শ্রীলঙ্কার এই ব্যাটার একটি দিক ধরে রেখে চাপে ফেলেছিলেন কেকেআরের বোলারদের। কিন্তু অর্ধশতরান করেই অনুকূল রায়কে এগিয়ে এসে মারতে তাঁর বড় ভুল। আউট তো হতে হলই, দিল্লির ব্যাটিংয়ের একটা স্তম্ভও পড়ে গেল। এমনিতে দিল্লির ব্যাটারদের শট নির্বাচন প্রশ্নের মুখে পড়বেই। মরণবাঁচন ম্যাচেও তাঁরা যে সব শট খেলেছেন তাতে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার ছাপ স্পষ্ট। ৮৯ রানে ৫ উইকেট পড়ে গিয়েছিল দিল্লির। সেখান থেকে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেছিলেন অক্ষর পটেল এবং আশুতোষ শর্মা। দু’জনে ৩৯ রানের জুটি গড়লেও তা আদৌ দলের কোনও উপকারে আসেনি। কারণ ৪৬ বল তাঁরা নিয়েছেন জুটি গড়তে। একটা সময় টানা ৩৮ বল কোনও বাউন্ডারি মারেনি দিল্লি। তাতে লাভ হয়ে গেল কলকাতারই। দিল্লির এই শ্লথ জুটির কারণে রানও উঠল কম। অক্ষর ২২ বলে করলেন মাত্র ১১ রান। শেষ দিকে আশুতোষ একটু চালিয়ে খেললেন বটে। তবে শেষমেশ লাভ হয়নি। রাজস্থান, লখনউ, হায়দরাবাদের পর দিল্লি। টানা চার ম্যাচ জেতা কলকাতার ক্রিকেটারদের মানসিকতাই বদলে গিয়েছে। এখন আর রাহানের দলকে দেখে মনে হচ্ছে না তারা হারবে। রাচিন রবীন্দ্রের মতো ক্রিকেটার দিনের পর দিন বাইরে বসে আছেন। দল নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ভঙ্গুর জোরে বোলিং। তার পরেও দলটি জিতে চলেছে পরের পর ম্যাচে। কেকেআরের কাছে এখন বাকি সব ম্যাচই প্লে-অফের দৌড়ে থাকার লড়াই। পরের ম্যাচে বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে খেলার আগে নিঃসন্দেহে এই আত্মবিশ্বাস বাড়তি চাঙ্গা করবে তাদের। দিল্লির সামনে স্পিনারদের এগিয়ে দিয়েছিলেন রাহানে। অনুকূল প্রথম বলে চার হজম করেন। কিন্তু ফিরে আসতে সময় নেননি। পিচে স্পিনারদের জন্য বিশেষ কিছু ছিল না। তা সত্ত্বেও কেকেআরের তিন স্পিনার, অনুকূল, সুনীল নারাইন এবং বরুণ চক্রবর্তী মিলে ১২ ওভারে দিলেন মাত্র ৭৬ রান। অর্থাৎ ওভার প্রতি ৬ রানের সামান্য বেশি। দিনের শেষে সেটাই এগিয়ে রাখল কেকেআরকে। কারণ দিল্লির স্পিনারেরা একেবারেই দাগ কাটতে পারেননি। কারণ দিল্লির তিন স্পিনার ৯ ওভারে দিয়েছেন ১০২ রান। তার মধ্যে কুলদীপ যাদব একাই তিন ওভারে ৪১ রান দিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles