RK NEWZ ৯৯ শতাংশ ভোট পড়ল। দিদির গুন্ডাদের বলে যাচ্ছি, ২৯ তারিখে তারা যেন ঘরের বাইরে না বার হয়, পুরশুড়ায় হুঁশিয়ারি শাহের। মহিলাদের উদ্দেশে শাহের বার্তা, ‘‘৫ তারিখের পর, সন্ধ্যা ৭টা তো দূর, মাঝরাতেও যদি কোনও অল্পবয়সি মেয়ে বাড়ির বাইরে বার হয়, তা হলেও কোনও গুন্ডার হিম্মত হবে না তার দিকে চোখ তুলে তাকানোর। যে লোকেরা বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছেন, তাঁদের সকলকে বলছি, আপনারা বাঁচবেন না। ৫ তারিখের পর জেলে ভরব। মহিলা মুখ্যমন্ত্রী এ রাজ্যে। কিন্তু এখানেই মহিলাদের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। অনুপ্রবেশকারীরা আমাদের বোন-মেয়েদের উপর অত্যাচার করছে। ৫ তারিখের পর আপনার এবং ভাইপোর সময় শেষ হবে। এখানে বিজেপির সরকার তৈরি হবে। এসআইআর ছাড়ুন। এক এক করে অনুপ্রবেশকারীকে বাইরে পাঠাব। দিদির গুন্ডাদের বলে যাচ্ছি ২৯ তারিখে ঘরের বাইরে বেরোবে না। আরামবাগ বাসীকে বিরক্ত করলে উল্টো ঝুলিয়ে সোজা করব। প্রথম দফায় দিদির কোনও গুন্ডার হিম্মত হয়নি, ভোটদাতাদের আঙুল তুলে দেখায়। যে ভাবে ৮০ শতাংশ ভোট হয়েছে, এটাই স্পষ্ট দিদির যাওয়ার সময় হয়েছে। মমতা দিদির সরকারকে ছুড়ে ফেলে দিতে হবে। অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াতে হবে। পুরশুড়ার মাটি বাংলার আলুর রাজধানী। কিন্তু দিদির জেদের কারণ আলুর দাম পাচ্ছেন না কৃষকেরা। ২২ টাকার আলু ২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দিদি ঝাড়খণ্ড, বিহার এবং ওড়িশায় আলু পাঠাতে দেন না। এই কারণে আলুর দাম কমে যাচ্ছে। আজকে বলে যাচ্ছি ৫ তারিখে বিজেপির সরকার বানান, আলু বিহার, ওড়িশায় পাঠাব। বীজ সংরক্ষণের কারখানা নেই। আলুর দাম বেশি পাবেন তো বটেই, এখানে বীজ উৎপাদন কেন্দ্রও বানিয়ে দেব। এই কারণে বীজের দাম অর্ধেক হয়ে যাবে। আলুর দাম ১০ গুণ হবে। বীজের দাম অর্ধেক হয়ে যাবে। আলুচাষের জন্য এর থেকে আর কী বড় হতে পারে।’’ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দু’টি জনসভা একটি পদযাত্রা। প্রথমটি ছিল হুগলির বলাগড়ে। দ্বিতীয়টি পুরশুড়ায়। সভা সেরে তার পর মধ্যমগ্রামে রোড শো করেন তিনি। প্রথম দফার ভোট রাজ্যের ১৫২টি আসনে। একই দিনে রাজ্যে জনসভা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর। হুঁশিয়ারির সুরে শাহ বলেন, “মমতাকে টাটা-বাই বাই করো, সিন্ডিকেটবাজদের উল্টো করে সোজা করা হবে। ৫ মে বিজেপির রাজ্যে সরকার গড়ছে আর দিদি (মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) ধুয়েমুছে সাফ হয়ে যাচ্ছে। ”

বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাজ্যে প্রথম দফায় পড়ে ৮৯.৯৩ শতাংশ। ভোটদানের হারের নিরিখে দেশের সব রাজ্যের মধ্যে এখনও পর্যন্ত সর্বকালীন রেকর্ড গড়েছিল অসম। চলতি বিধানসভা ভোটে সেখানে ভোট পড়েছে ৮৫.৩৮ শতাংশ। ভোটদানের রেকর্ডে দেশের সব রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মধ্যে এখনও পর্যন্ত শীর্ষে ছিল পুদুচেরি। সেই নজির তারা গড়েছিল চলতি বিধানসভা নির্বাচনেই। পুদুচেরিতে ভোটদানের হার ছিল ৮৯.৯৩ শতাংশ। সেই দুই রাজ্যকে পিছনে ফেলল পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার ভোট। তবে চলতি বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে মোট ভোটদান কত হবে, তা জানা যাবে দ্বিতীয় দফার পরেই। সন্ধ্যা ৬টায় ভোটদান শেষ হবে। ভোটদানের যে প্রবণতা প্রথম দফায় এখনও পর্যন্ত দেখা গিয়েছে, ৫টার মধ্যেই গত লোকসভা নির্বাচনে ভোটদানের হারকে ছাপিয়ে গেল এ বারের প্রথম দফা। ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ, সেগুলিতে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভোট পড়েছিল প্রায় ৮০ শতাংশ। ২০২১ বা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ভোটদানের হারকে অনেকটা ছাপিয়ে গেল এ বারের বিধানসভা নির্বাচন। যে ১৫২ টি আসনে প্রথম দফার ভোট চলছে, সেগুলিতে ২০২১ সালে ভোট পড়েছিল ৮৩.২ শতাংশ। ২০২৪ সালে ৭৯.৮ শতাংশ। এ বার বিকেল ৫টার মধ্যেই সেই সব হার ছাপিয়ে ৮৯.৯ শতাংশ হয়ে গেল। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটদান চলবে। আগামী বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোটে এর কাছাকাছি হার বজায় থাকলেই পশ্চিমবঙ্গ ভেঙে দেবে ভোটদানের যাবতীয় সর্বভারতীয় নজির।

কমিশনের আশঙ্কাই সত্যি হল? বিকেল ৪টে বাজতেই তুমুল গুণ্ডামি, বীরভূমে হাতে থান ইট নিয়ে মার জওয়ানদের। সকালের থেকে মোটের উপর শান্তিপূর্ণ ভোটের ছবি দেখা গেলেও দুপুরের পর থেকেই ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করল ছবিটা। শান্তির ছবিটা ধীরে ধীরে যেন অশান্তির ছবির রূপ নিল। আর তাতেই সতর্ক কমিশন। তিন জেলায় আলাদা করে নজর রাখছে নির্বাচন কমিশন। মুর্শিদাবাদ, কোচবিহার, বীরভূম– বিকেল ৪টের পর এই জেলাগুলিতে অশান্তির আশঙ্কা করছে কমিশন। আশঙ্কা বুথ জ্যামিং থেকে এলাকা দখলের। খবর পেয়ে এখন থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। বীরভূমের খয়রাশোলে তুমুল অশান্তি। রীতিমতো খণ্ডযুদ্ধ চলছে সেখানে। ভোট শেষের আগে তপ্ত এলাকা। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে মারধরের অভিযোগ। গাড়ি ভাঙচুর। খানিক আগেই নির্বাচন কমিশন আশঙ্কা করছিল, বিকেল চারটের পর থেকে অশান্তি হতে পারে বীরভূম, মুর্শিদাবাদের মতো একাধিক জেলায়। আর ঠিক চারটে নাগাদ খবর এল খয়রাশোলের অশান্তির খবর। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে পুলিশকে বের করতে হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র। গ্রামবাসীদের দাবি, ইভিএমে তৃণমূলের প্রার্থীর জন্য নির্দিষ্ট বোতমে চাপ দিলে বিজেপি প্রার্থীর পক্ষে ভোট পড়ছে। এই অভিযোগে ভোট বন্ধ করে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় লোকজন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে খন্ডযুদ্ধ বেধে গেল দুবরাজপুর বিধানসভার খয়রাশোল ব্লকের বুধপুর গ্রামের ৬৫ নম্বর বুথে। ভোটারদের অভিযোগ, প্রথমে ২০০-র মতো ভোটদান হওয়ার পর বিষয়টি ধরা পড়ে। ভোটারদের দাবি তৃণমূল প্রার্থীর বোতামে চাপ দিলে সেটি সরাসরি বিজেপি প্রার্থীর পক্ষে ভোট পড়ছে। ব্যাপারটি নিয়ে শোরগাল হতেই ক্ষুব্ধ হোন ভোটাররা। তারপর ভোট কর্মীদের বলে ভোট বন্ধ করিয়ে দেওয়া হয়। প্রসাশনকে জানানো হয়েছে বিষয়টি। ইঞ্জিনিয়ররা আসছেন বলে খবর। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে ভোটারদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় শুরু হয়। তারপরই জাওয়ানদের লক্ষ্য করে শুরু মারধর ঢিল মারতে শুরি করেন স্থানীয়রা। লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে গেলেও বেশ খানিকক্ষণ ইট পাটকেল ছোড়া অব্যাহত থাকে। তাতে জখম হয়েছেন দু চার জন জওয়ান, গাড়ির চালক। বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। ঘটনাস্থলে রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পিস্তল উঁচিয়ে এগিয়ে যায় পুলিশ। নওদায় হুমায়ুনের দলের সঙ্গে তৃণমূলের অশান্তির ছবি দেখা গেলেও দুপুর থেকেই অশান্তির ছবি দেখা যায় কুমারগঞ্জে, লাভপুর সহ একাধিক জায়গায়। পটাশপুরে বিজেপি কর্মীকে মারধরের অভিযোগ। অন্যদিকে আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। তা নিয়েও সরগরম রাজনৈতিক আঙিনা।





