RK NEWZ সিএবিতে ‘থ্রেট কালচার’ চলছেই। একের পর এক সাংবাদিককে হুমকি। দিন দুয়েক আগে এক সাংবাদিককে হুমকি দেন এক অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সদস্য। এবার হুমকি চিঠি দিলেন খোদ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। এক সাংবাদিকের লেখার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার হুমকি দিয়ে নোটিশ জারী করলেন খোদ সিএবি প্রেসিডেন্ট। জনৈক ক্রীড়া সাংবাদিকের তরফেও ‘থ্রেট কালচার’ এর নোটিশের প্রমাণ সমেত জানাচ্ছেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী, রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, এমনকি আইসিসি বিসিসিআইকেও সংবাদমাধ্যমের মুখ বন্ধের প্রচেষ্টা ‘থ্রেট কালচার’এর পুরো বিষয়টা জানিয়ে চিঠি করা হচ্ছে। সাংবাদিককে ৫০ কোটি টাকার মামলার নোটিশ ধরালেন সৌরভ। নোটিশ পাঠানোর কারণ হিসাবে দেখিয়েছেন ‘সৌরভ ঘনিষ্ঠ’ কথার উল্লেখ। সাংবাদিকর উদ্দ্যেশেও ‘থ্রেট কালচার’। সিএবি ডিস্ট্রিক্ট কমিটির চেয়ারম্যান সুজয় হাজরা গ্রেফতার হওয়ার খবর প্রকাশ করায় সৌরভের ক্ষোভ প্রকাশ। এই সুজয়বাবুকে গত কয়েক মাস ধরে বহুবার সৌরভের পাশাপাশি ঘনিষ্ঠ ভাবে দেখা যাওয়ার ছবিও রয়েছে। বিগত বিধানসভা নির্বাচনে মেদিনীপুরের তৃণমূল প্রার্থী সুজয় হাজরাকে জমি কেলেঙ্কারী মামলায় শালবনি থানার পুলিশ গ্রেফতারও করেছে। সিএবি ডিস্ট্রিক্ট কমিটির চেয়ারম্যান সুজয় হাজরা সম্পর্কে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন খোদ মেদীনিপুর ডিস্ট্রিক্টের সচিব এবং তিনিও সৌরভকে ‘সৌরভ ঘনিষ্ঠ’ বলে উল্লেখ করেছেন সুজয় হাজরাকে।
প্রশ্ন হচ্ছে — দীর্ঘক্ষণ সুদীর্ঘ সময় ধরে দিনের পর দিন একজন ব্যাক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে থাকা পাশে থেকে চা ইত্যাদি খাওয়াদাওয়া, আড্ডা দেওয়া সিএবি ডিস্ট্রিক্ট কমিটির চেয়ারম্যান বানানো ইত্যাদি আরও কিছু প্রমাণ করে কী—— ‘ঘনিষ্ঠ’ শব্দের উল্লেখ
৫০ কোটির নেটিশ ধরিয়ে সৌরভের দ্বারা সাংবাদিককে মুখ বন্ধ করার চেষ্টার কারণ জেনে নেওয়া যাক—
সেদিনের লেখাটা ছিল এইরকম —
সিএবি’র ডিস্ট্রিক্ট কোচিং কমিটির চেয়ারম্যান সৌরভ ‘ঘনিষ্ঠ’ সুজয় গ্রেফতার!‘শালবনি’ থানার পুলিশ মেদিনীপুরের তৃণমূল প্রার্থী সুজয় হাজরাকে জমি কেলেঙ্কারী মামলায় গ্রেফতার করে! সিএবি অর্থাৎ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল-এর ডিস্ট্রিক্ট কমিটির চেয়ারম্যান গ্রেফতার। জমি মামলার দুর্নীতিতে গ্রেফতার করেছে শালবনি থানার পুলিশ। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় সুজয় হাজরা পরিচিত নাম। তিনি আবার বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘ঘনিষ্ঠ’ বলেও পরিচিত। সিএবি নির্বাচনে বেশ বড় ভুমিকা গ্রহন করেছিলেন তৃণমূল দলের জেলা সভাপতি সুজয়। এবার জমি কেলেঙ্কারিতে নাম জড়াল মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সৌরভ ‘ঘনিষ্ঠ’ সুজয় হাজরার। শালবনি থানা গ্রেফতার করেছে সুজয়কে। শালবনি জমি কেলেঙ্কারীতে উঠে আসছে সুজয়ের নাম। প্রশ্ন উঠে আসছে, কে এই সুজয়? কেন তিনি সৌরভ ‘ঘনিষ্ঠ’? দীর্ঘ বছরের পর বছর ধরে মেদিনীপুর ডিস্ট্রিক্ট স্পোর্টসের সেক্রেটারী সঞ্জিত তরাই। অথচ সিএবি নির্বাচনের তাগিদে সিএবিতে প্রভাব বিস্তার করেন গ্রেফতার হওয়া তৃণমূল বিধায়ক। সমস্ত ধরাছোঁয়ার বাইরে রাখা হয় জেলা সম্পাদক সঞ্জিত তরাইকে। ঠিক যেমনটা হয়েছিল হাওড়া ডিস্ট্রিক্ট স্পোর্টসের জবরদখল পদধারী সচিব শ্যামল মিত্রর ক্ষেত্রেও। হাওড়ার সবচেয়ে বড় দুর্নীতিবাজ, জমি মাফিয়া দালাল অভিযোগে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা শ্যামল মিত্র, ঠিক একইভাবে সিএবি কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাসের ঘনিষ্ঠ হন প্রথমে। পরে, সঞ্জয় মারফৎ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হয়ে যান শ্যামল মিত্র। এমনকি শ্যামল মিত্রের মেয়ের বিয়েতেও সিএবির প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাসকে ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে।হাওড়ার মানুষ সেই থেকে শ্যামল মিত্রকে সৌরভ ‘ঘনিষ্ঠ’ বলেই জানতে শুরু করে। যে ভিডিও সোস্যল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিল শ্যামল মিত্রের দুর্নীতিবাজ জামাই বলেও অভিযোগ। শ্যামল মিত্রের উপর সাধারন মানুষের উপহার দেওয়া গনপিটুনির ছবিও ভাইরাল। একইভাবে, এবার জমি কেলেঙ্কারিতে নাম জড়াল মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সৌরভ ‘ঘনিষ্ঠ’ সুজয় হাজরার। শালবনি থানা গ্রেফতার করেছে। একইভাবে বালি থেকে গ্রেফতার হয়েছে ড্রাগ পাচার, তোলাবাজি, জমি দুর্নীতিতে অভিযুক্ত কৈলাশ মিশ্রও। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হাওড়া শহর অঞ্চলের তৃণমূল নেতা কৈলাস মিশ্র গত বিধানসভা ভোটে বালির তৃণমূল প্রার্থী ছিলেন। হাওড়া সদর তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি পদে রয়েছেন ৪৬ বছর বয়সী কৈলাস। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে কৈলাসের বেশ আন্তরিক ছবি সোস্যল মিডিয়ায় ভাইরাল। তাঁর বিরুদ্ধে জাল ওষুধের ব্যাবসা ও পাচার, তোলাবাজি, মারধর-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে মামলা রয়েছে। প্রায় মাসখানেক ধরে পলাতক ছিলেন কৈলাস মিশ্র। শুক্রবার হাওড়ায় কৈলাস মিশ্রের একটি গুদাম থেকে বেআইনি ওষুধ উদ্ধার হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। শনিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করে হাওড়া সিটি পুলিশ। বিহারে আত্মীয়ের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তৃণমূল নেতাকে। শনিবার হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দাদের একটি দল বিহারের মধুবনী জেলায় যায়। সেখানে এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে কৈলাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৪ মে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় কৈলাস। তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে তৃণমূলের অন্দরেরই খবর। ৪ মে-র পর থেকে কৈলাস বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে লুকিয়েছিলন বলে অভিযোগ। হাওড়া সিটি পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বিহারের মধুবনী জেলায় তাঁর এক আত্মীয়ের বাড়িতে হানা দেয়। কৈলাসের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, মারধর, গুন্ডামি, সরকারি কাজে বাধা, হুমকি-সহ একাধিক ধারায় পুলিশ মামলা শুরু করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার তাঁকে আদালতে তোলা হবে। তারপর ট্রানজিট রিমান্ডে সোমবার হাওড়ায় নিয়ে আসা হবে।
শালবনির জমি মাফিয়া? কে এই দাপুটে জমি কেলেঙ্কারীর নায়ক? তৃণমূল থেকে সংগঠন ভেঙে দেওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি ওই দলের জেলা সভাপতি ছিলেন। জমি কেলেঙ্কারিতে নাম জড়াল মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরার। শনিবার সন্ধ্যায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তৃণমূল নেতাকে শালবনি থানায় ডাকা হয়েছিল। রাতে তাঁকে গ্রেফতার করে হয়েছে পুলিশ সূত্রে খবর। কয়েক দিন আগে বালি মাফিয়াদের যোগসাজশের অভিযোগে কেশিয়াড়ির তৃণমূল নেত্রী কল্পনা শিটকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে নিয়ে পুলিশ তাঁর বাড়িতে গিয়েছিল। পুলিশের একটি সূত্রে খবর, সেই সময় কল্পনা জানিয়েছেন সুজয়-সহ জেলার বেশ কয়েক জন তৃণমূল নেতার নাম বিভিন্ন দুর্নীতিতে জড়িয়ে রয়েছে। তাঁদের বাদ রেখে কেন তাঁকে গ্রেফতার করা হল। সুজয়কে জমি সংক্রান্ত একটি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। সন্ধ্যায় তাঁর গ্রেফতারির খবর মেলে। পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘জমি সংক্রান্ত একটি অভিযোগ জমা পড়েছিল সুজয় হাজরার বিরুদ্ধে। শুক্রবার শালবনি থানায় একটি জমি কেলেঙ্কারির অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের জন্য শালবনি থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছিল অভিযুক্তকে। তদন্ত চলছে। এখনই এর চেয়ে বেশি কিছু বলা যাবে না।’’ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় সুজয় হাজরা পরিচিত নাম। গত বুধবার তৃণমূল থেকে জেলা সংগঠন ভেঙে দেওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি ওই দলের জেলা সভাপতি ছিলেন। এ বার পশ্চিম মেদিনীপুরে ১৫টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১৩টিতে হেরেছে তৃণমূল। পরাজিতদের মধ্যে রয়েছেন সুজয়ও। প্রায় ৩৮ হাজার ভোটে পরাস্ত হন তিনি। ভোটের আগে মেদিনীপুরের তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী হলফনামায় তথ্যগোপনের অভিযোগ করে বিজেপি। তাঁর প্রার্থিপদ বাতিলের দাবি তোলা হয়। তিনি ব্যবসায়িক সংক্রান্ত তথ্য গোপন করেছেন বলে অভিযোগ করেছিলেন বিজেপি প্রার্থী, বর্তমান বিধায়ক শঙ্কর গুছাইত।
গ্রেফতার হওয়া তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক সৌরভ ‘ঘনিষ্ঠ’ সুজয় হাজরার বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে গিয়েছিলেন সিএবির বার্ষিক সভায়। জমি কেলেঙ্কারিতে নাম জড়িয়ে গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা। এ বার তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠল, প্রভাব খাটিয়ে সিএবির বার্ষিক সভায় গিয়েছিলেন। আরও বিপাকে মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরা। জমি কেলেঙ্কারিতে নাম জড়িয়ে গ্রেফতার হয়েছেন তিনি। এ বার সৌরভ ‘ঘনিষ্ঠ’ সুজয়ের বিরুদ্ধে ক্রীড়াক্ষেত্রেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে বাংলার ক্রিকেট সংস্থা বা সিএবির বার্ষিক সভায় গিয়েছিলেন তিনি। তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়কের পাশাপাশি আরও একটি পরিচয় রয়েছে সুজয়ের। তিনি সিএবির ডিস্ট্রিক্ট কোচিং সাব কমিটির চেয়ারম্যান। তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ করেছেন সঞ্জিত তরই। তিনি মেদিনীপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সচিব। সঞ্জিতের অভিযোগ, গত বছর সিএবির বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রতিনিধিত্ব করা নিয়ে প্রভাব খাটিয়েছিলেন সৌরভ ‘ঘনিষ্ঠ’ সুজয়। সঞ্জিতের অভিযোগ, মেদিনীপুর জেলা থেকে প্রতিনিধিত্ব করার কথা ছিল তাঁর। তিনি বলেন, “গত বছর সিএবির বার্ষিক সভায় ঠিক হয়েছিল, মেদিনীপুর জেলা থেকে আমি প্রতিনিধিত্ব করব। সেই মতো ফর্মও জমা দিতে গিয়েছিলাম। সেই সময় সিএবির অফিস সুপারিন্টেন্ডেন্ট বিশ্বপতি সেন আমার অ্যাপ্লিকেশন ফর্ম দেখে বলেন, ফর্মে কিছু টেকনিক্যাল সমস্যা রয়েছে। এই ফর্ম গ্রহণ করা যাবে না।” সঞ্জিত জানিয়েছেন, এই কথা শুনে তিনি জেলায় ফিরে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে তিনি জানান যে, ফর্মে কিছু সমস্যা রয়েছে। সঞ্জিত বলেন, “তখন হঠাৎ সুজয় এসে বলে, ‘আমাকে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন বার্ষিক সভায় যেতে।’ এই নিয়ে আবার বৈঠক হয়। সেখানে প্রভাব খাটিয়ে সুজয় নিজের নাম পাশ করিয়ে নেয়। মাথা নিচু করে বাধ্য হয়ে আমিও ওর নামে সই করি।” রাজ্যে পালাবদলের পর মুখ খুলেছেন সঞ্জিত। প্রশ্ন উঠছে সিএবির অন্দরেও। বিশ্বপতি একজন অফিস সুপারিন্টেন্ডেন্ট হয়ে কী ভাবে স্ক্রুটিনি করলেন? এটা কি করা যায়? এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে সিএবির বিভিন্ন মহলে। কয়েক দিন আগে বালি মাফিয়াদের যোগসাজশের অভিযোগে কেশিয়াড়ির তৃণমূল নেত্রী কল্পনা শিটকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে নিয়ে পুলিশ তাঁর বাড়িতে গিয়েছিল। পুলিশের একটি সূত্রে খবর, সেই সময় কল্পনা জানিয়েছেন সুজয়-সহ জেলার বেশ কয়েক জন তৃণমূল নেতার নাম বিভিন্ন দুর্নীতিতে জড়িয়ে রয়েছে। তাঁদের বাদ রেখে কেন তাঁকে গ্রেফতার করা হল। কাকতালীয় ভাবে সুজয়কে জমি সংক্রান্ত একটি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। সন্ধ্যায় তাঁর গ্রেফতারির খবর মেলে। পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘জমি সংক্রান্ত একটি অভিযোগ জমা পড়েছিল সুজয় হাজরার বিরুদ্ধে। শুক্রবার শালবনি থানায় একটি জমি কেলেঙ্কারির অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের জন্য শালবনি থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছিল অভিযুক্তকে। তদন্ত চলছে। এখনই এর চেয়ে বেশি কিছু বলা যাবে না।’’ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় সৌরভ ‘ঘনিষ্ঠ’ সুজয় হাজরা পরিচিত নাম। গত বুধবার তৃণমূল থেকে জেলা সংগঠন ভেঙে দেওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি ওই দলের জেলা সভাপতি ছিলেন। এ বার পশ্চিম মেদিনীপুরে ১৫টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১৩টিতে হেরেছে তৃণমূল। পরাজিতদের মধ্যে রয়েছেন সুজয়ও। প্রায় ৩৮ হাজার ভোটে পরাস্ত হন।
সেদিনের কথা — ক্ষুব্ধ খোদ ইডেনের পিচ কিউরেটর সুজন মুখার্জ্জী —
একের পর এক দুর্নীতি সামনে আসছে। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের রাজত্বেই বিতর্কের মুহুর্মুহু বিচ্ছুরণ। ক্ষোভ থামছেই না। সিএবি’র নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক ধোঁয়াশা ও বিতর্ক জমাট বেঁধেই রয়েছে। বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থার নির্বাচন সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়নি, ক্ষুব্ধ সিংহভাগ সদস্য বলে অভিযোগ রয়েছে। কিছুদিন আগেই ক্রিকেট অ্যাসোসেয়েশন অব বেঙ্গলের স্কোরার মারফৎ কর্তাদের টিকিট কালোবাজারীর ছবি ধরা পড়েছে। সমস্ত দুর্নীতির শীর্ষে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘বন্ধু’ সেজে থাকা শীর্ষ কর্তারাই নাটের গুরু বলে অভিযোগ। কান পাতলে শোনা যায়, তোষামুদে কর্তারা বলপূর্ব্বক পদ দখলকারী, ক্রমাগত দুর্নীতির অস্বচ্ছ আমদানিতে চলে সন্তানদের বিদেশে পড়াশোনার খরচ ও উচ্চমানের জীবনযাত্রাও। তীব্র অভিযোগও রয়েছে ‘স্বজনপোষন’ নিয়োগ দুর্নীতি বিষয়েও। সর্ব স্তরে ক্ষোভ আছড়ে পড়ছে সিএবির কর্মকাণ্ড নিয়ে। বাংলার সফল কোচ সৌরাশিষ লাহিড়ির অনৈতিক ভাবে বরখাস্ত হওয়া থেকে শুরু করে মাঠকর্মীদের সময়মতো বেতন না পাওয়া। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ‘ঘনিষ্ঠ’ দুর্নীতিবাজ পুলিশ অফিসার শান্তনুর অনৈতিক দাবি মানতে না পারায় কোচের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে সৌরাশিষ লাহিড়িকে। পরিস্কার ভাষায় কারণ দেখিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন প্রতিবাদী সৌরাশিষ। সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের অগোচরে কটুক্তিকারী, অথচ সামনে তোষামোদকারী পদলেহনে অভ্যস্থ ‘ইয়েসম্যান’ লক্ষ্মী-ছেলেরাই হয়েছেন প্রিয়পাত্র। আরও এক কোচ অরিন্দম দাসকে নূন্যতম মর্যাদাই দেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভ। সিএবির ইতিহাসে ‘বাসি ফুল’ দিয়ে জন্মদিন পালন ঠিক কোন কালে হয়েছে তা কারুর মনে পড়ছে না। কিংবদন্তি ক্রিকেটার পঙ্কজ রায়ের অপমান চুড়ান্ত পর্যায়ে, এই সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের আমলেই সম্ভব হল। আমন্ত্রণই জানানো হয়নি ছেলে প্রণব রায়কে। অপমানিত ও ক্ষুব্ধ প্রণবও।
এবার, কল্যাণী মাঠের মালিদের দুর্দশা নিয়ে প্রতিবাদী ইডেন কিউরেটর সুজন মুখার্জ্জী। অসম কোনওরকম জবাব দিতে রাজী নন শান্ত সৎ নিষ্ঠাবান সুজন। ইডেন কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়ের পিচ ভারতের শীর্ষস্থানীয়। আইপিএলের শ্রেষ্ঠ পিচ ও মাঠের স্বীকৃতি পেয়েছে ইডেন। সুজন একইসঙ্গে কল্যাণী মাঠের হালচাল নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায়। দীর্ধ দিন ধরে মাঠ করছেন। বাংলা ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলেন, ‘পুরস্কার পেলে ভালো কাজের এনার্জি আরও বেড়ে যায়। তবে এখানে আমি আমার মাঠকর্মীদের কথা বলব। এই পুরস্কার ওদের পরিশ্রমের স্বীকৃতি। আসল কিন্তু ওরা, আমার মাঠকর্মীরা। যারা গোটা বছর রোদ-ঝড়-জল জুড়ে ইডেনের সম্মান অটুট রাখে। কী জানেন, আমি বড়জোর নির্দেশ দিতে পারি। কিন্তু সেই নির্দেশ মতো কাজটা না হলে, কোনও লাভআছে? ইডেনের দায়িত্ব নেওয়ার পরের দিন থেকে দু’টো চ্যালেঞ্জের সঙ্গে যুঝতে হয়েছে প্রতিনিয়ত। এক, পূর্বতন ইডেন কিউরেটর প্রবীর মুখোপাধ্যায় নামক এক দীর্ঘ ছায়ার সঙ্গে। দুই, ইডেন পিচের সঙ্গে। কারণ, প্রবীরবাবুর আমলের ইডেন বাইশ গজ, আর আজকের ইডেন বাইশ গজ-এক রকম নয়। তখন পিচ স্লো টার্নার হত। প্রবীরদা আমার সিনিয়র ছিলেন। ওঁকে সম্মানও করি। তবে এটা ঘটনা যে, সেই সময় ইডেন পিচ নিয়ে খুব কথা হত। প্রবীরদা যখন দায়িত্ব ছেড়ে দেন, সৌরভ (গঙ্গোপাধ্যায়) আমাকে ফোন করে। সেই সময় ও সিএবি প্রেসিডেন্ট। সৌরভ আমাকে দায়িত্ব নিতে বলে দ্রুত। দেখুন, আমার কয়েকটা শর্ত ছিল। ঠিক করেছিলাম, পিচের চরিত্র সর্বাগ্রে বদলাব। কারণ, লোকে খেলা দেখতে আসে আনন্দ পেতে। ঢিকির-ঢিকির ক্রিকেট দেখতে নয়। তাই পিচের মাটি বদলে ফেললাম। বারমুডা গ্রাস বসালাম। তিরিশ গজী বৃত্তেও একই ঘাস রাখলাম। পনেরো জন মালি থেকে কমতে কমতে সংখ্যাটা পাঁচে নেমেছে? সাতজন ইস্তফা দিয়েছেন ‘পে রিডিশন’ হওয়ার কারণে, একথা অস্বীকার করব না। গত বার তিনটে রনজি ম্যাচ হয়েছে কল্যাণী মাঠে। বোর্ডের অন্যান্য ম্যাচ হয়েছে। কিন্তু এবার কী হবে, জানি না। মাত্র দশ হাজার টাকা মাইনে করে দেওয়া হয়েছে মালিদের। এতে সংসার চলে? কাজ কিউরেটরের ফ্র্যাঞ্চাইজির মন মতো পিচ তৈরি করে দেওয়া। তার জন্য সে টাকা পায়। কথা জন্য পায় না। ইডেনের সম্মান-লাভের দিনে একটা অন্ধকার দিকও কিন্তু রয়েছে। সিএবি সচিবকে জানিয়েছি। উনি যা ভালো বুঝবেন, করবেন। কল্যাণী মাঠের সাত জন মালি সত্যি ছেড়ে দিয়েছেন? বাকি পাঁচজনও ছাড়বে-ছাড়বে করছে। ওরা আমাকে বলে দিয়েছে, আর টানা সম্ভব হচ্ছে না। পাঁচজন মালি দিয়ে আর যা-ই হোক, মাঠ তৈরি করা সম্ভব নয়। ওরাও চলে গেলে কী হবে, জানি না। শুনেছি বলা হয় যে, কল্যাণীতে নাকি প্রচুর টাকা ‘লিকেজ’ হচ্ছে। কোথায় যে হচ্ছে, জানি না। এই তো ক’টা টাকা দেয়।
সেদিনের কথা — ইউসুফ পাঠান বিতর্ক —
ইউসুফ পাঠানকে পদত্যাগ করিয়ে তাঁর জায়গায় বহরমপুর আসন থেকে লোকসভায় যেতে চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! বেশ কয়েকদিন ধরে সংবাদমাধ্যম ও সোশাল মিডিয়ায় এই খবর ধরনের একটি খবর ছড়াচ্ছে। অপ্রত্যাশিতভাবে জড়িয়ে গিয়েছে প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নামও। বলা হচ্ছে, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ই নাকি মমতার বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন ইউসুফ পাঠানের কাছে। কিন্তু সৌরভ সাফ জানিয়ে দিলেন, এই ধরনের খবরের কোনও ভিত্তি নেই। সম্পূর্ণটাই মনগড়া। প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভের সাফ কথা, ‘এই ধরনের কোনও প্রতিবেদন প্রকাশ করার আগে সঠিক তথ্য যাচাই করে নেওয়া উচিত ছিল। স্রেফ গুজবের বশবর্তী হয়ে কোনও খবর প্রকাশ করা উচিত না।’ সম্প্রতি এক প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জাতীয় রাজনীতিতে নজর দিতে চাইছেন। সেই লক্ষ্যে তিনি লোকসভায় যেতে চান। তাঁর প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠানকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়ে, ওই কেন্দ্র থেকে উপনির্বাচনে কংগ্রেসের সমর্থনে জিতে আসা। ইউসুফের কাছে তাঁর বার্তা নাকি পৌঁছে দিয়েছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। সেই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর রীতিমতো আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। সৌরভের ভূমিকাও আতস কাচের তলায়। তবে সৌরভের দাবি, ওই প্রতিবেদনে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সৌরভ রীতিমতো বিবৃতি দিয়ে ওই খবর খণ্ডন করেছেন। তিনি জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ধরনের কোনও প্রস্তাব নিয়ে তাঁর কাছে আসেননি। আর তিনিও ইউসুফ পাঠানের কাছে কোনও প্রস্তাব নিয়ে যাননি। পুরোটাই ভিত্তিহীন। বিবৃতিতে প্রাক্তন ভারত অধিনায়কের দাবি, ‘এই প্রতিবেদনে আমাকে নিয়ে যা যা দাবি করা হয়েছে, দূরদুরান্ত পর্যন্ত তাতে কোনও সত্যতা নেই। এই পরিস্থিতিতে আমি এই সত্যিটা তুলে ধরা প্রয়োজনীয় মনে করছি যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে কোনওরকমভাবেই ইউসুফকে পদত্যাগ করার বার্তা দিতে বলেননি। আমিও ইউসুফের কাছে এই ধরনের বার্তা নিয়ে যাইনি। শুধু তাই নয়, আমি জীবনে কোনওদিন কোনও রাজনৈতিক কার্যকলাপে যুক্ত থাকিনি।” সৌরভের সাফ কথা, ‘এই ধরনের কোনও প্রতিবেদন প্রকাশ করার আগে সঠিক তথ্য যাচাই করে নেওয়া উচিত ছিল। স্রেফ গুজবের বশবর্তী হয়ে কোনও খবর প্রকাশ করা উচিত না। যেভাবে সত্যাসত্য যাচাই না করে প্রতিবেদনে আমার নাম জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, সেটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’ এদিকে, মহারাজকীয় সাফাই? বিপুল আলোড়ন! ইউসুফ পাঠানকে পদত্যাগ করার নির্দেশ! সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ই মমতার বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন বহরমপুরের সাংসদের কাছে? ইউসুফ পাঠানকে পদত্যাগ করিয়ে তাঁর জায়গায় বহরমপুর আসন থেকে লোকসভায় যেতে চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! বেশ কয়েকদিন ধরে সংবাদমাধ্যম ও সোশাল মিডিয়ায় এই খবর ধরনের একটি খবর ছড়াচ্ছে। অপ্রত্যাশিতভাবে জড়িয়ে গিয়েছে প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নামও। বলা হচ্ছে, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ই নাকি মমতার বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন ইউসুফ পাঠানের কাছে। কিন্তু সৌরভ সাফ জানিয়ে দিলেন, এই ধরনের খবরের কোনও ভিত্তি নেই। সম্পূর্ণটাই মনগড়া। প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভের সাফ কথা, ‘এই ধরনের কোনও প্রতিবেদন প্রকাশ করার আগে সঠিক তথ্য যাচাই করে নেওয়া উচিত ছিল। স্রেফ গুজবের বশবর্তী হয়ে কোনও খবর প্রকাশ করা উচিত না।’ সম্প্রতি এক প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জাতীয় রাজনীতিতে নজর দিতে চাইছেন। সেই লক্ষ্যে তিনি লোকসভায় যেতে চান। তাঁর প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠানকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়ে, ওই কেন্দ্র থেকে উপনির্বাচনে কংগ্রেসের সমর্থনে জিতে আসা। ইউসুফের কাছে তাঁর বার্তা নাকি পৌঁছে দিয়েছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। সেই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর রীতিমতো আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। সৌরভের ভূমিকাও আতস কাচের তলায়। তবে সৌরভের দাবি, ওই প্রতিবেদনে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সৌরভ রীতিমতো বিবৃতি দিয়ে ওই খবর খণ্ডন করেছেন। তিনি জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ধরনের কোনও প্রস্তাব নিয়ে তাঁর কাছে আসেননি। আর তিনিও ইউসুফ পাঠানের কাছে কোনও প্রস্তাব নিয়ে যাননি। পুরোটাই ভিত্তিহীন। বিবৃতিতে প্রাক্তন ভারত অধিনায়কের দাবি, ‘এই প্রতিবেদনে আমাকে নিয়ে যা যা দাবি করা হয়েছে, দূরদুরান্ত পর্যন্ত তাতে কোনও সত্যতা নেই। এই পরিস্থিতিতে আমি এই সত্যিটা তুলে ধরা প্রয়োজনীয় মনে করছি যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে কোনওরকমভাবেই ইউসুফকে পদত্যাগ করার বার্তা দিতে বলেননি। আমিও ইউসুফের কাছে এই ধরনের বার্তা নিয়ে যাইনি। শুধু তাই নয়, আমি জীবনে কোনওদিন কোনও রাজনৈতিক কার্যকলাপে যুক্ত থাকিনি।” সৌরভের সাফ কথা, ‘এই ধরনের কোনও প্রতিবেদন প্রকাশ করার আগে সঠিক তথ্য যাচাই করে নেওয়া উচিত ছিল। স্রেফ গুজবের বশবর্তী হয়ে কোনও খবর প্রকাশ করা উচিত না। যেভাবে সত্যাসত্য যাচাই না করে প্রতিবেদনে আমার নাম জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, সেটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’
সেদিনের কথা — বাসি ফুলে পঙ্কজ রায়ের জন্মদিন বিতর্ক —
এমনকি, পঙ্কজ রায়ের জন্মদিন পালন নিয়ে বিভ্রাট। সিএবি-র কোনও কোনও আধিকারিক ভেবেছিলেন যে, সন্ধে ছ’টা থেকে অনুষ্ঠান। কিন্তু ‘ভুলবশতঃ’ তাঁরা সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বিকেল পাঁচটায়! কিন্তু এরপর আবিষ্কার হয় যে, পঙ্কজ-পুত্র প্রণবকেই ডাকা হয়নি়! বাংলা তথা ভারতের প্রবাদপ্রতিম ক্রিকেটার পঙ্কজ রায়ের আটানব্বইতম জন্মদিনে ফের বিতর্কে জড়াল সিএবি। পঙ্কজের জন্মদিন পালনে তাঁর পুত্র প্রণব রায়কেই না ডেকে! যিনি উষ্মা দেখিয়ে সরাসরি বলে দিলেন, সিএবির উচিত পঙ্কজের জন্মদিন আর পালনই না করা! রবিবার প্রয়াত পঙ্কজ রায়ের জন্মদিন ছিল। যা প্রতিবারের মতো এবারও পালন করেছে সিএবি। এ দিন শহরে ছিলেন না সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, সচিব বাবলু কোলে এবং কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস। বোর্ডের আমন্ত্রণে তাঁরা আইপিএল ফাইনালের আমেদাবাদে ছিলেন। কিন্তু সৌরভদের অনুপস্থিতিতে এ হেন বিতর্ক জন্ম। শোনা গেল, রবিবার বিকেল সওয়া পাঁচটা নাগাদ প্রণবকে ফোন করেন সিএবি যুগ্ম-সচিব মদন ঘোষ। সত্তর হয়ে যাওয়ার পরেও যাঁর বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থায় বহাল থাকা নিয়ে বিগত কয়েক দিন লাগাতার ঝামেলা হয়েছে। তা, মদন নাকি ফোন করে প্রণবকে বলেন যে, তিনি অনুষ্ঠানে আসেননি কেন? উত্তরে প্রণব সিএবি যুগ্ম-সচিবকে সটান বলে দেন যে, তাঁকে তো ডাকাই হয়নি! খামোখা যাবেন কেন?
প্রণব বলছিলেন, “সিএবি-র এ ধরনের কাজকর্মে আমি এতটুকু আশ্চর্য নই। গত বারও বাবার জন্মদিনে সিএবি গিয়েছিলাম। দীর্ঘ সময় বসে থাকার পর যখন বলি যে বেরিয়ে যাব, সেই সময় তড়িঘড়ি অনুষ্ঠান শুরু করা হয়। এবার আমাকে আমন্ত্রণই জানানো হল না। আর সিএবি যুগ্ম সচিব কি না ফোন করে বিকেল সওয়া পাঁচটায় বলছেন, আমি যাইনি কেন? বলছেন, কেন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ দেখিনি? আমি তো নেই-ই কোনও গ্রুপে। না থাকলে কী ভাবে দেখব আমি? আর যদি বা দিয়েও থাকে গ্রুপে, পঙ্কজ রায়ের জন্মদিনে গ্রুপ দেখে আসতে হবে? দেখুন, পঙ্কজ রায় তো আর ছেলেখেলার বিষয় নন। উনি বাংলা ক্রিকেটের জনক। বাংলা ক্রিকেটের ইতিহাস সম্পূর্ণ হয় না পঙ্কজ রায়কে ছাড়া। তার জন্মদিন ঘিরে এ জিনিস হবে? খুব দুঃখজনক। এর চেয়ে জন্মদিন না পালন করলেই হয়! সিএবি কেন এ সমস্ত ঝামেলায় জড়ায় নিজেকে?”
‘ভোট নেই, নরম ডাল, কেটে দেওয়া সহজ’! সৌরাশিসের পর বিস্ফোরক বাংলার ‘বিতাড়িত’ কোচ অরিন্দম — বিতর্ক
‘ভোট নেই, নরম ডাল, কেটে দেওয়া সহজ’! সৌরাশিসের পর বিস্ফোরক বাংলার ‘বিতাড়িত’ কোচ অরিন্দম। বক্তা সাতানব্বইটা প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন। সওয়া পাঁচ হাজার রান রয়েছে। এক সময় বাংলা টিমের বিশ্বস্ত ওপেনার ছিলেন। ময়দান চেনে, ‘ডন’ নামে। সেই অরিন্দম দাস গত চার বছর ধরে অনূর্ধ্ব-১৬ বাংলার কোচিং করার পর এবার সিএবিতে ইন্টারভিউয়ের ডাক পর্যন্ত পাননি! যার পর মুখ খুললেন তিনি। মিডিয়ায় সৌরাশিস লাহিড়ীর বিস্ফোরণ প্রসঙ্গে অরিন্দম বলেন, সৌরাশিসকে ফুল সাপোর্ট করছি। দেখুন, আন্ডার নাইন্টিন টিম সিলেকশনে কী হয়েছে, বলতে পারব না। কিন্তু প্রায় দশ বছর ধরে কোচিং করাচ্ছে সৌরাশিস। বোর্ডের সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের হাই পারফরম্যান্স ক্যাম্পে কোচিং করাতে যাচ্ছে। তার পর সিএবি ওকে কোচ রাখল না। এ তো ইচ্ছে করে চেপে দেওয়া হল সৌরাশিসকে! এখানে কেউ ভালো করলে, তাকেই চেপে দেওয়া হচ্ছে। আমি নিজে বহুবার সিএবিকে বলেছি যে, সেভেন্টি পার্সেন্ট নিয়ে লেভেল টু কোচিং পাশ করেছি। জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমি অন্তর্ভুক্ত কোথাও কি আমার নামটা ‘প্লেস’ করা যায় না? কত তো ক্যাম্প হয়। সিএবি কিছুই করেনি। সৌরাশিস অনূর্ধ্ব-১৯ বাংলার কোচিংয়ের দায়িত্ব হারালেন। আমিও অনূর্ধ্ব-১৬ বাংলার কোচ আর থাকলাম না। আরে,আমাকে ইন্টারভিউয়ে পর্যন্ত ডাকেনি! ইন্টারভিউয়ে ডাকা হয়নি, আমি যে অনূর্ধ্ব-১৬ কোচ আর থাকছি না, সেটা ডেকে বলাও হয়নি। আমি তৈরি ছিলাম ইন্টারভিউয়ে গিয়ে নিজের বক্তব্য বলার জন্য। কিন্তু সুযোগটাই তো পেলাম না। পুরো ইন্টারভিউ প্রসেসটাই যদিও আইওয়াশ ছিল যদিও! আমার তাই মনে হয়। কোনও ক্রিকেট সংস্থার কোচ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে দেখেছেন, ‘প্রেফারেবলি’ শব্দটা লেখা থাকে? সিএবি কোচের যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল, তাতে লেখা কোচের পদে আবেদনকারীর বয়স ‘প্রেফারেবলি’ ষাট হতে হবে। আবেদনকারীর লেভেল টু পাশ করা ‘ডিজায়েরেবল’। কোথাও দেখেছেন এ জিনিস? বোর্ডে হয়? মনে তো হবেই যে, সবই আগে থেকে ঠিক করে রাখা হয়েছে। কিছু লোককে যাতে চাকরি করে দেওয়া যায়, সেই মতো তুমি ক্রাইটেরিয়া সেট করছ! স্রেফ অসহ্য! খারাপ লাগবে না? ক্রিকেটার হিসেবে, কোচ হিসেবে, বাংলার জন্য প্রাণপাত করেছি আমি। শুনুন, কোচিংয়ের দ্বিতীয় বছরে মাঠে মাঠে ঘুরে খেলা দেখতাম। কারণ, প্রথম বছর প্রসেসের মাঝপথে ঢুকেছিলাম। প্রথমবার আমার একটা ধারণা তৈরি হয়ে যায় মোটামুটি যে, বিজয় মার্চেন্ট ট্রফিটা কীভাবে খেলতে হয়? দ্বিতীয় বছর, পুরো মাঠে-মাঠে ঘুরলাম। জেলায়-জেলায় গেলাম। কলকাতায় সেকেন্ড ডিভিশনের ম্যাচ দেখলাম। মনে হত, সমস্ত ঘুরে না দেখলে কোনও প্রতিভা মিস হয়ে যাবে না তো? মাঠে গাছের নিচে দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়ে খেলা দেখতাম। যাতে আমার উপস্থিতিতে প্লেয়ারের খেলা না বদলে যায়। সেই বছর আমি বেস্ট প্লেয়ার পুল-টা পাই। অঙ্কিত চট্টোপাধ্যায়। আশুতোষ কুমার। শিবম ভারতী। শচীন যাদব। যাদের অনেকে পরে অনূর্ধ্ব-১৯ খেলে। আমাদের দুর্ভাগ্য যে, ভালো খেলেও আমরা অল্পের জন্য কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে যাই। কিন্তু টিমের খেলা প্রবল প্রশংসিত হয়েছিল। মজা কী জানেন? এত কিছুর পর আমাকে কথা শুনতে হয়েছিল! সিএবি-র এক কর্তা বলেছিলেন, মাঠে ঘোরা কি কোচের কাজ? সেটা তো নির্বাচকদের কাজ। অথচ মাঠে-মাঠে ঘুরছি বলে বাড়তি একটা পয়সা নিইনি কারও থেকে। গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, আমার কোচিংয়ে জেলার অনেক গরিব ছেলে খেলে গিয়েছে। যেমন শিলিগুড়ির আকাশ তরফদার। যার বাবা ভ্যান চালান। কে জানে, হয়তো কলকাতার বড়লোক ক্যাম্পের ছেলেরা তেমন সুযোগ পায়নি বলে ওদের হয়তো আমার উপর রাগ! আমাকে তো এক প্রভাবশালী কর্তা এও শুনিয়ে বলেছিলেন, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের লাস্ট বয় গরিব স্কুলের ফার্স্ট বয়ের চেয়ে বেটার হয়! কিছু বলতে পারি নি। কী করে বলব? সিএবি-তে চাকরি করি তখন। মাথা নিচু করে সরে এসেছি। কবে বিজয় মার্চেন্ট ট্রফি জিতেছে বাংলা? কখনও না। এত দিন ধরে, এত সমস্ত কোচ এসেছেন। কেউ পারেননি। তা হলে সবার কোচিং ভুল? নাকি সিস্টেম কোথাও রেস্ট্রিক্ট করছে কোচকে কোচিং করা থেকে? আমি তো গত বার ট্রায়াল করতে চেয়েও ব্যর্থ হয়েছি। দেয়নি ওরা। ষাট-সত্তরটা ছেলের বেশি পাইনি। আমি ম্যাক্সিমাম ট্রায়াল নিয়েছি মেরেকেটে একশোটা বাচ্চার। অথচ আমরা যখন অনূর্ধ্ব-১৬ খেলেছি, তিন বার ট্রায়াল হত। আর এখন কী হয়? ঠান্ডা ঘরে বসে নানাদিক থেকে কিছু নাম জোগাড় করে টিম করে ফেলা হয়! নাম করে বলতে পারি। জুনিয়র নির্বাচকদের মধ্যে একমাত্র প্রবীর আচার্য ছাড়া বিজয় মার্চেন্ট ট্রফির কেউ খেলাই দেখেন না! কত শুনি ট্যালেন্ট রিসার্চ, অমুক-তমুক। যাদের পয়সা-টয়সা দিয়ে জামাইআদর করে রেখেছে সিএবি। কেউ একদিনও গিয়ে খেলা দেখে? নট আ সিঙ্গল ম্যাচ! আমি পার্টিকুলার কারও উপর দোষ চাপাতে চাইছি না। কিন্তু দিন শেষে তো আমার উপর জবাবদিহির দায় চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তা হলে কেন আমাকে দু’শোটা ছেলে দেখার সুযোগ করে দেওয়া হবে না? আমার তো মনে হয় না, সিএবি-র নাম ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল আর আছে বলে। পুরোপুরি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ কলকাতা হয়ে গিয়েছে! কোথায় মালদা, জলপাইগুড়ি, দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদের ছেলে? ভাবতে পারেন, আমাদের কোনও রিভিউ মিটিং হয়নি। ডাকেইনি সিএবি! জানেন, গত বছর অনূর্ধ্ব-১৬ বাংলা টিম তৈরি করার আগে ভিশনের অনূর্ধ্ব-১৬ টিম হয়ে গেল! কোনও প্রপার ট্রায়াল ছাড়াই! আমরা তখন বিপিএলে কোচিং করছি। ভিশনে পঁচিশটা ছেলেকে ঢুকিয়ে দিতে পারলে তাদের তো তুমি আর বাদ দিতে পারবে না। কারণ, কাগজে-কলমে তারাই সেরা। কোথায় কে পঞ্চাশ করেছে, কে একশো করছে, কে তিরিশ করেছে– তাই দেখে ভিশনের টিম হয়ে গেল! কতটা ট্যাক্টফুলি সমস্ত হয়েছে, একবার ভাবুন। অনূর্ধ্ব ১৬ টিমকে হেরে যাওয়ার পর তো আবার বাসে করে টিমকে ফেরানো হল। সিএবি অফিস থেকে আমাদের ইনস্ট্রাকশন দেওয়া হয়েছিল, বাসে করে ফিরতে হবে! কেন, কেউ বলেনি। সেই বাস আবার মাঝরাস্তায় খারাপ হয়ে গেল। হাস্যকর! সৌরাশিস অভিযোগ করেছেন, তাঁর কাছে নির্দিষ্ট প্লেয়ার খেলানোর অনুরোধ গিয়েছিল। সরাসরি বলত না। তবে দেখতাম, কয়েকজন প্লেয়ারকে নিয়ে অনেকে আগ্রহী। বারবার জানতে চাইত, তারা কেমন করছে! কিন্তু জেলার প্লেয়ারের ক্ষেত্রে সেটা হত না। কেউ জিজ্ঞাসাই করত না! সৌরাশিস মনে করেন, তিনি কম্প্রোমাইজ করেননি বলে আর বাংলা কোচ থাকতে পারলেন না। আর অরিন্দম দাস ইন্টারভিউয়ে পর্যন্ত ডাক পেল না? আমার তো মনে হয়, পারমুটেশন-কম্বিনেশনে ফিট করিনি বলে ডাকা হল না। ডাকবে কেন? অরিন্দম দাসের তো ভোট নেই! অরিন্দম দাসকে বাদ দিলে সিএবি-র কিছু যাবে-আসবে না। গদিতে চাপ পড়বে না। অরিন্দম নরম ডাল, কেটে দাও! আমাদের ভোট নেই তো, তাই পারফরম্যান্স দেখা হয়। ভোট থাকলে, দেখা হয় না। মনে রাখবেন, অনূর্ধ্ব-১৬-র মতো বাংলার অনূর্ধ্ব-২৩ টিমও কিন্তু নকআউটে কোয়ালিফাই করেনি। সিএবি কিন্তু তার কোচকে ঠিকই বহাল রেখেছে!
প্রসঙ্গ ছিল বাংলার কোচিং গ্রুপ থেকে ‘ব্রাত্য’ হওয়া সৌরাশিস লাহিড়ীর বিস্ফোরক সব অভিযোগের জবাব দেওয়া। সেই মতো সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিল সিএবি-র জুনিয়র নির্বাচক কমিটি। ছিলেন কমিটির প্রধান সুমিত্র মজুমদার এবং তিন সদস্য সত্যেন ভট্টাচার্য, শঙ্কর ভট্টাচার্য ও প্রবীর আচার্য। কিন্তু তাঁরা যা বললেন, তাতে উল্টে আরও বেকায়দায় পড়ল সিএবি। প্রকাশ্যে চলে এল বঙ্গ ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থার বিভিন্ন অনিয়ম। কোচ নিয়োগ থেকে দল নির্বাচন-একটার পর একটা বিষয়ে সিএবি-কে ‘আত্মঘাতী’ গোল খাওয়াল জুনিয়র নির্বাচক কমিটি। নিচে উল্লেখ করা হল তারমধ্যে প্রধান তিনটে ইস্যু।
১) কোচ নিয়োগে নির্বাচকদের মত
ভারতীয় ক্রিকেট বর্তমানে পরিচালিত হয় মূলত লোধা কমিটির করা বিভিন্ন নির্দেশিকার ভিত্তিতে। বিসিসিআই তো বটেই, বিভিন্ন রাজ্য সংস্থার কাজকর্মও নিয়ন্ত্রিত হয় সেসব নির্দেশিকা অনুযায়ী। যার মধ্যে রয়েছে সিএবিও। নির্দেশিকায় বলা রয়েছে, কোনও দলের কোচ নির্বাচনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হল সেই দলের নির্বাচক কমিটির মতামত। অর্থাৎ, কোচ নিয়োগের পদ্ধতিতে জড়িত থাকবেন নির্বাচকরাও। সিএবি-র জুনিয়র নির্বাচক কমিটি মূলত দু’টি দলের দায়িত্বে। অনুর্ধ্ব ১৬ এবং অনুর্ধ্ব ১৯। সম্প্রতি দুই দলের জন্যই নতুন হেড কোচ নিয়োগ করেছে সিএবি। অনূর্ধ্ব ১৬-তে অনুষ্টুপ মজুমদার এবং অনূর্ধ্ব ১৯-এ মনোজ তিওয়ারি। কোচ নির্বাচনের কাজটা করেছে সিএবি নিযুক্ত তিন সদস্যের কমিটি। যাতে ছিলেন অরুণ লাল, দেবাং গান্ধী এবং কল্যাণ চৌধুরি। তবে সেই কমিটি কথাই বলেনি সিএবি-র জুনিয়র নির্বাচকদের সঙ্গে। শুক্রবার ইডেনে বসে জুনিয়র নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান সুমিত্র মজুমদার স্বীকার করে নিয়েছেন সেকথা। তিনি সরাসরি বলেছেন, “কোচ নিয়োগ নিয়ে কেউ আমাদের সঙ্গে কথা বলেনি।” অন্যদিকে, সিএবি-র কমিটিতে থাকা দেবাং গান্ধীও বলছেন, “আমরা কেউই জুনিয়র নির্বচক কমিটির সঙ্গে কথা বলিনি।” অর্থাৎ, ফের একবার লোধা-সুপারিশের পাশাপাশি এবার সুপ্রিম কোর্ট-সম্মত নিজেদের সংবিধানকেই ‘বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ’ দেখাল বঙ্গ ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা। যার ফলে মনোজ-অনুষ্টুপদের নিয়োগের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
২) অ্যাপেক্সের কাছে ইভ্যালুয়েশন রিপোর্ট পেশ
শুধু কোচ নিয়োগের ক্ষেত্রে সিএবি নিজের সংবিধান লঙ্ঘন করেছে, এমনটা নয়। আরও আছে। যেমন অ্যাপেক্স কাউন্সিলের কাছে ইভ্যালুয়েশন রিপোর্ট পেশ। সিএবি-র সংবিধান অনুযায়ী, প্রত্যেক তিনমাস অন্তর যে রিপোর্ট জমা পড়ার কথা। যেখানে অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সঙ্গে বিভিন্ন দলের পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনায় বসবেন নির্বাচকরা। অথচ এমন কোনও বৈঠক হয় না সিএবি-তে। অন্তত সদ্য শেষ হওয়া ঘরোয়া ক্রিকেটের মরশুমে হয়নি। যে কথা স্বীকার করে নিয়েছেন জুনিয়র নির্বাচকরা। সুমিত্রদের সম্মিলিত বক্তব্য, “আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছি। তবে সিএবি-র সঙ্গে নিয়মিতভাবে কোনও বৈঠক হয়নি। সিএবি থেকে কিছু জানতে চাওয়া হলে আমরা তার জবাব দিয়েছি।”
৩) ম্যাচ স্কোয়াডে বাড়তি প্লেয়ার
ভারতীয় বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী, ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রতি ম্যাচের জন্য স্কোয়াডে রাখতে হয় ১৬ জন ক্রিকেটারকে। ম্যাচ প্রতি বিসিসিআই যে অর্থ বরাদ্দ করে রাজ্যগুলিকে, তা করা হয় ১৬ জন ক্রিকেটারের জন্যই। কিন্তু দেখা গিয়েছে, গত বছর নিয়মিতভাবে অতিরিক্ত ক্রিকেটার ছিল বাংলার অনুর্ধ্ব ১৯ দলের স্কোয়াডে। অধিকাংশ ম্যাচেই সেই সংখ্যাটা ১৮। কোনও ম্যাচে ১৭। যার কারণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে নির্বাচকদের তরফে বলা হয়, তৎকালীন কোচ সৌরাশিস লাহিড়ীর কথামতো দল গড়া হয়েছে। যদিও পরবর্তীতে অবস্থান পরিবর্তন করেন তাঁরা। এবার বলা হয়, অনেক সময় বাড়তি নেট বোলার নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন কোচ। কিন্তু নেট বোলার হিসেবে গেলে সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারের নামের পাশে সেকথা লেখা নেই কেন? ১৬ জনের পরিবর্তে ১৮ জনের স্কোয়াড নিয়ে যাওয়ার ভাবনা কার মস্তিষ্কপ্রসূত? প্রশ্ন শুনে ‘নির্বাক’ নির্বাচকরা। বরং তাঁদের তরফে বার বার বলা হল, বৈঠকে থাকলেও আপত্তি জানাননি কোচ। যা শুনে সৌরাশিসের পাল্টা প্রশ্ন, “স্কোয়াডে কত জন থাকবে তা কি কোচ ঠিক করেন?” সিএবি-র তরফে সৌরাশিসকে ‘স্বৈরাচারী’ প্রমাণ করতে নিয়ে আসা হয় অঞ্জুর চট্টোপাধ্যায় নামে এক স্ট্রেংথ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচকে। যাঁর বক্তব্য, সৌরশিসের ‘দুর্ব্যবহারে’র জেরে গত মরশুমের শুরুতে অনুর্ধ্ব ১৯ দল থেকে সরে যেতে হয়েছে তাঁকে। অবশ্য বাংলর অনূর্ধ্ব ১৬ দলে কর্মরত অন্তর অনূর্ধ্ব ১৯ দলে আসেন সৌরাশিস কোচ হওয়ার পরই। দু’টো প্রতিযোগিতা খেলে শহরে ফিরে দেওয়া ‘পদত্যাগ পত্রে’ কোচের দুর্ব্যহার নিয়ে একটা শব্দও লেখেননি তিনি। সর্বোপরি, তারপরও নিয়মিতভাবে সৌরাশিসের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে গিয়েছেন অন্তর। হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে, ভয়েস কলে। এটাও এক ‘আত্মঘাতী’ গোল নয় কি?
অভিষেক ডালমিয়ার প্রতিবাদে ঝড় —
‘‘যাঁরা উঠতি খেলোয়াড়দের শোষণ করেন, দলে ঢোকানোর জন্য টাকা দাবি করেন, সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার করেন, ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরি করেন, তাঁদের মুখোশ টেনে হিঁচড়ে খুলে দিতে হবে। যোগ্যতা, সততা, স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে, এমন একটি ব্যবস্থার দাবিদার আমাদের খেলোয়াড়েরা।’’ রাজ্যের খেলাধুলোয় স্বচ্ছতা আনার দাবি তুললেন অভিষেক ডালমিয়া। গত ১৩ জুন তিনি এই নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁকে একটি খোলা চিঠি দিয়েছিলেন। তারপর গত বুধবার সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাঁকে একটি চিঠি দিয়েছিলেন। অভিষেক এই নিয়ে কোনও মন্তব্য বা পাল্টা চিঠি দেননি। তিনি সমাজমাধ্যমে নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন। সিএবি সভাপতি থাকাকালীন নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে অভিষেক তাঁর পোস্টে লিখেছেন, ‘‘সিএবির সভাপতি হিসেবে আমার কার্যকালে খেলাধুলার শৃঙ্খলা ও সততা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে আমি ব্যক্তিগত ভাবে উদ্যোগ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছিলাম এবং প্রায় ৫০ জনকে বরখাস্ত করেছিলাম। সেই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে যে, সদিচ্ছা থাকলে অর্থপূর্ণ এবং কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। আমি আবারও জোর দিয়ে বলতে চাই যে, খেলাধুলায় সুযোগ বা দলে নির্বাচনের বিনিময়ে খেলোয়াড় অথবা তাদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে টাকা দাবি করার আগে মানুষ যেন দুবার ভাবতে বাধ্য হয়। এখন সেই সময় এসেছে। এগুলো ঘটে না বলে দাবি করাটা একেবারেই অবাস্তব। আসল প্রশ্ন হল, এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার মতো সাহস এবং সঠিক ব্যবস্থা আমাদের আছে কি না। যদি ভুয়া পরিচয়, জালিয়াতি করা নথিপত্র বা অন্য কোনো কারচুপির মাধ্যমে স্থানীয় যোগ্য ক্রীড়াবিদদের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়ে থাকে, তবে সেই সত্য সামনে আসতেই হবে। আমি আবারও বলছি, ‘অপারেশন ক্লিন-আপ’ (শুদ্ধি অভিযান)-এর সময় এসেছে। তবে কোনও ক্রীড়া সংস্থাই একা এই লড়াই লড়তে পারে না। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ দ্বারা একটি ডেডিকেটেড ‘স্পোর্টস ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড অ্যান্টি-করাপশন হেল্পলাইন’ (ক্রীড়া সততা ও দুর্নীতিবিরোধী হেল্পলাইন) চালু করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে কেউ কোনও ভয় ছাড়াই অনিয়মের কথা জানাতে পারেন।’’ খেলোয়াড়, অভিভাবক, কোচ এবং কর্মকর্তাদের কোনো রকম ভয় ছাড়াই অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর স্বাধীনতা থাকতে হবে বলে দাবি তোলেন অভিষেক।
এদিকে, সিএবি-র অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সদস্য সুরজিৎ লাহিড়ীর বিরুদ্ধে এফআইআর, চার ধারায় অভিযোগ
সিএবির অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সদস্য সুরজিৎ লাহিড়ীর বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের হল। তাঁর বিরুদ্ধে ভয় দেখানো ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। সিএবির অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সদস্য সুরজিৎ লাহিড়ীর বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের হল। তাঁর বিরুদ্ধে ভয় দেখানো ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩ (৫), ৩৫১ (২), ৩৫২ এবং ৬১ (২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন ও ইচ্ছাকৃত অপমানের অভিযোগ রয়েছে। নাগেরবাজার থানায় গত বুধবার এফআইআর করেন সাংবাদিক দীপঙ্কর গুহ। অভিযোগে বলা হয়েছে, ‘‘আমাকে এবং আমার পরিবারের সদস্যদের সিএবির বর্তমান অ্যাপেক্স কাউন্সিল সদস্য সুরজিৎ লাহিড়ী এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ একদল প্রভাবশালী ব্যক্তি ক্রমাগত ভয় দেখাচ্ছেন এবং হুমকি দিচ্ছেন।’’ কেন তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, সে ব্যাপারে অভিযোগপত্রে দীপঙ্কর জানিয়েছেন, বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগের নিলামের সময় সুরজিৎ লাহিড়ীর বিরুদ্ধে স্বার্থের সঙ্ঘাতের অভিযোগ প্রকাশ্যে আনার জন্যই তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগে দীপঙ্কর লিখেছেন, ‘‘আমার এই তথ্য ফাঁসের পরেই সুরজিৎ লাহিড়ী আমাকে স্তব্ধ করার জন্য তাঁর সহযোগীদের নিয়ে একটি সুপরিকল্পিত সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করেন। বলা হয়, আমি প্রতিবেদন প্রত্যাহার না করলে আমার শারীরিক ক্ষতি করা হবে। বলা হয়, আমার ভয়াবহ পরিণতি হবে। হোয়াটসঅ্যাপে এবং ফোনের এই হুমকি দেওয়া হয়।’’
প্রতিবাদ করেছিলেন অভিষেক ডালমিয়া। স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্নও তুলেছিলেন। কিন্তূ, সংস্থার নাম একবারও কোথাও উচ্চারণ করেন নি। অথচ, প্রশ্ন উঠছে, অভিষেকের চিঠিতে কোথাও সিএবির নাম ছিলই না। তাহলে সিএবি কেন যেচে সাফাই গাইতে গেল? এটা কি খানিকটা ‘ঠাকুরঘরে কে? আমি তো কলা খাইনি’ হয়ে গেল? প্রশ্ন উঠছে, এই পদক্ষেপে কি সিএবির ‘দুর্নীতি’ই প্রকাশ্যে চলে এল? সিএবির প্রাক্তন সভাপতি অভিষেক ডালমিয়া ক্রীড়াক্ষেত্রে দুর্নীতি থামাতে আবেদন জানান। আলাদা করে কোনও সংস্থার নাম উল্লেখ না করার সত্ত্বেও, সেই চিঠির পালটা পত্রাঘাত করল সিএবি। বঙ্গ ক্রীড়া সংস্থার দাবি, যাবতীয় নিয়মকানুন মেনেই কাজ করেছে তারা। সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় নিজে গিয়ে এই চিঠি তুলে দিয়েছেন ক্রীড়ামন্ত্রীর হাতে। ক্রীড়া মহলে প্রশ্ন উঠছে, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ক কেনই বা তাড়াহুড়ো করে দুর্নীতি নেই কথাটা জানাতে তড়িঘড়ি দৌড় দিতে হল? তিনি কী সত্যিই এবার রান আউটের আশঙ্কা করছেন?
অভিষেক ডালমিয়া ক্রীড়ামন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে বলেন, স্বনামধন্য এক ক্রীড়া সংস্থায় অর্থের বিনিময়ে খেলার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচনে থ্রেট কালচারেরও উল্লেখ করেন তিনি। কিন্তু অভিষেক একবারের জন্যও সিএবির নাম করেননি। যদিও ময়দানের অনেকে মনে করছেন, নাম না করলেও অভিষেকের নিশানায় সিএববি’ই। এই চিঠির প্রেক্ষিতে মুখ খুলেছেন ক্রীড়ামন্ত্রীও। ভবিষ্যতে বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বুধবার ক্রীড়ামন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছে সিএবি। দীর্ঘ সেই চিঠির সারকথা, সিএবির অন্দরে যাবতীয় কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা বজায় থাকে। বাংলার ক্রিকেটের স্বার্থেই কাজ করে সংস্থা। চিঠিতে আরও বলা হয়, অভিষেকের পত্রবাণের জেরেই এই চিঠি পাঠাচ্ছ সিএবি। মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে, গত ৩০ বছর থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত বঙ্গ ক্রীড়া সংস্থার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠেনি। ক্রীড়ামন্ত্রীকে সিএবি’তে আসার আমন্ত্রণও জানানো হয়েছে এই চিঠিতে। ময়দানের প্রশ্ন, যদি কোনো দুর্নীতি না-ই হয়ে থাকে, তা হলে নিজে থেকে যেচে সাফাইয়ের দরকারটা কোথায়? এই চিঠিতে আরও একটা গোলমাল রয়েছে। চূড়ান্ত বিতর্কের পর যুগ্মসচিবের পদ থেকে সরানো হয়েছে মদনমোহন ঘোষকে। কিন্ত এই চিঠিতে তিনি সই করেছেন প্রাক্তন হিসাবেই। সরকারি চিঠিতে কি প্রাক্তন পদাধিকারীর সই করার এক্তিয়ার থাকে? উঠছে অনেক প্রশ্ন। শাখ দিয়ে মাছ ঢাকতে উঠেপড়ে লেগেছেন বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটার সৌরভ গাঙ্গুলি।
এমনিতেই, কিছুদিন আগেই প্রাক্তন কিংবদন্তি ক্রিকেটার পঙ্কজ রায়ের পুত্র বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটার প্রণব রায় সিএবির দুর্নীতির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ খুলেছেন। ‘বলতে বাধ্য হচ্ছি, সিএবি এখন মিথ্যের ভিত্তিতে চলছে’, আক্ষেপ প্রণব রায়ের। যত দিন যাচ্ছে, তত সিএবি আর বিতর্ক যেন সমার্থক হয়ে যাচ্ছে। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের রাজত্বেই একের পর এক ঘটনা ঘটে চলেছে। কখনও সংস্থার যুগ্ম সচিব মদন ঘোষ সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশিকাকে ‘অশ্রদ্ধা-অমান্য’ করে দিনের পর দিন পদে বসে রয়েছেন। নিজের প্রশাসনিক মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার পরেও। কখনও সংস্থার অ্যাপেক্স কাউন্সিল সদস্য সুরজিৎ লাহিড়ীর বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ উঠে পড়ছে। কখনও আবার বাংলার প্রথিতযশা প্রাক্তন অধিনায়ক প্রণব রায়ের সঙ্গে বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থার ‘যুদ্ধ-বিগ্রহ’ লেগে যাচ্ছে! এবার সিএবি কর্মী মনোজিৎ মৌলিকের বিরুদ্ধে একশো কোটি টাকার মানহানির মামলা করলেন প্রণব রায়। তাঁর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট সেই সিএবি কর্মীর করা কুরুচিকর ফেসবুক পোস্টের বিরুদ্ধে। শুধু মামলা করাই নয়, আদালত থেকে সেই মামলার অন্তর্বর্তীকালীন আদেশও পেয়ে গেলেন প্রণব। যেখানে আদালতের তরফে সুস্পষ্ট নির্দেশিকা দেওয়া হল যে, অভিযুক্ত সিএবি কর্মী প্রণবের বিরুদ্ধে কোনও রকম অপমানজনক বিবৃতি বা পোস্ট করতে পারবেন না। দ্বিতীয়ত, সিএবি কর্মীর প্রতি আদালত-নির্দেশিকা হল, নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রণব রায় সম্পর্কিত যে পোস্ট তিনি করেছেন, অবিলম্বে সেটাকে ‘ফ্রিজ’ করে দিতে হবে। যথাযথ পদক্ষেপ করতে হবে। সুনিশ্চিত করতে হবে, সেই পোস্ট যেন ইন্টারনেটে অন্য কেউ ব্যবহার না করতে পারে। তৃতীয়ত, আগামী পনেরো দিনের মধ্যে অভিযুক্ত সিএবি কর্মীকে জানাতে হবে, কেন তাঁর বিরুদ্ধে এ হেন আদেশ প্রদান করা যাবে না? ঠিক কী ঘটেছে?
দিন কয়েক আগে প্রবাদপ্রতিম পঙ্কজ রায়ের জন্মদিন পানলকে কেন্দ্র করে কলঙ্কিত হয়েছিল সিএবি। পিতার জন্মদিন পালনে পঙ্কজ-পুত্র প্রণবকেই না ডেকে! যা নিয়ে তুলকালাম বেঁধে গিয়েছিল বাংলা ক্রিকেটে। যার পর ক্ষুব্ধ প্রণব বলেছিলেন যে, তাঁর পিতার জন্মদিন পালন বন্ধ করে দিক সিএববি! বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থা সে রাত্রেই মিডিয়া রিলিজ করে জানিয়েছিল যে, পঙ্কজ-পুত্রকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। পঙ্কজের জন্মদিনে কোন ফুল ব্যবহার হয়েছিল, বাসি না টাটকা–তা নিয়েও একপ্রস্থ তর্ক-বিতর্ক চলে সে সময়। সিএবির কাছে প্রণব তাঁর বাবার জন্মদিন পালনের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজও চেয়ে পাঠান। যেহেতু ফুল নিয়ে এত কথা উঠছে। ঘটনাটা সেখানে শেষ হয়ে গেলে তবু কথা ছিল। কিন্তু তা হয়নি। বরং সিএবি কর্মী পরবর্তীতে একটা ফেসবুক পোস্ট করে বসেন প্রণবের বিরুদ্ধে (যার প্রমাণ রয়েছে)। যেখানে তাঁকে কদর্য ভাবে আক্রমণ করা হয়। কেন তিনি সিএবির কাছে সিসিটিভি ফুটেজ চেয়েছেন, কেন ‘আমন্ত্রণ’ তিনি দেখেও দেখেননি, কী ভাবে সিএবি আধিকারিকদের ফোনের অপেক্ষায় না থেকে তিনি ‘কোটা’-র টিকিট তুলতে চলে আসেন– সব কিছু নিয়ে প্রণবকে আক্রমণ করে বসেন ওই সিএবি কর্মী। যার পরিণতি হিসেবে একশো কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের। এবং আদালতের অন্তবর্তিকালীন আদেশ।
প্রণব ক্ষুব্ধভাবে বললেন, ‘‘সিএবি কর্মীর পোস্ট থেকে এটা পরিষ্কার যে, উনি আমার বা আমার বাবা পঙ্কজ রায় সম্পর্কে কিছুই জানেন না। এটা পরিষ্কার যে ওঁকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে লেখানো হয়েছে। দেখুন, আমার পরিবারকে কেউ যদি অপমান করে, আমাকে যদি অপমান করে, ছেড়ে কথা বলব না। কারণ আজ যদি ছেড়ে দিই, তা হলে আগামীকাল আবার আমাকে অপদস্থ করার চেষ্টা করা হবে।’’ সঙ্গে প্রাক্তন বাংলা অধিনায়কের উত্তেজিত সংযোজন, ‘‘সিএবির বিরুদ্ধে বলতে আমার ভালো লাগে না। কারণ, বাংলা ক্রিকেট, বাংলার ক্রিকেট সংস্থার কারণেই আমি প্রণব রায় হয়েছি। সংস্থার বিরুদ্ধে আমি বলছি না। বলছি, যারা সংস্থা আজ চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে। আমি মিডিয়ায় দেখেছি, বাবার জন্মদিনে যে ফুল ব্যবহার করেছে সিএবি, তা বাসি না তাজা, তাই নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। আমি তাই সিএবির কাছে সিসিটিভি ফুটেজ চেয়েছি। যাতে চক্ষুকর্ণের বিবাদভঞ্জন হয়। তাতে ভুলটা কোথায়? আমি ফুটেজ চেয়ে ই-মেল করেছিলাম সিএবিকে। আজ পর্যন্ত তার কোনও উত্তর পাইনি। দুঃখের সঙ্গে বলতে বাধ্য হচ্ছি, সিএবি এখন মিথ্যের উপর ভিত্তি করে চলছে!’’
ক্রীড়াপ্রেমীদের প্রশ্ন? কে এই দাগী মনোজিৎ মৌলিক? সিএবিতে হঠাৎ অনুপ্রবেশ কিভাবে?
একসময়ে সাংবাদিক পরিচয়ে অসংখ্য দুর্নীতিতে যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে মনোজিৎ মৌলিকের বিরুদ্ধে। এক বৈদ্যুতিন মাধ্যমে নানান অনৈতিক ক্রিয়াকলাপে যুক্ত এই ব্যক্তি। কোনও সংবাদমাধ্যমেই ঠাঁই হচ্ছিল না জনৈক ব্যক্তির। যথার্থ যোগ্যতার অভাব থাকায় (ইংরেজী ভাষা বুঝতে, লিখতে, এমনকি বলাতেও অদক্ষতা প্রকট), খুব স্বল্প বেতনের চাকরিও কোনও সংবাদমাধ্যমে মেলেনি বলে শোনা যায়। এমনকি কস্মিনকালেও কোনও বড় সংবাদমাধ্যমে কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই বলেও শোনা যায়। এই সময়ে দ্বারস্থ হন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের। বিভিন্ন অছিলায় সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে সিএবির মিডিয়া সম্পর্কে ভুল তথ্য পরিবেশন করে, বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থার মাথা গলানোর সুযোগ হাতছাড়া করেননি এই মনোজিৎ। সূত্র মারফৎ জানা যায়, উক্ত ব্যক্তির নামে স্ত্রী ব্যাভিচার থেকে শুরু করে অত্যাচার এমনকি ডিভোর্সের ফৌজদারী মামলাতেও নাম জড়িয়ে রয়েছে এই সিএবি কর্মীর। স্ত্রীর উপর অকথ্য নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে বলে শোনা গিয়েছে এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সিএবিতে এই কর্মীর নিয়োগ নিয়েও বিতর্কের ঝড় উঠেছিল সেই সময়ে। নিজেকে সেফ জোনে রাখতেই, প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় প্রেসিডেন্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সুযোগ কাজে লাগান ধুরন্ধর চাতুর্যে ভরা এই সুযোগসন্ধানী কর্মী। সিএবির অন্দরমহলে প্রবেশের পরই কোনও কোনও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিকেও হুমকি জারি করার অভিযোগ রয়েছে মনেজিতের বিরুদ্ধে। সিএবির অন্দরমহলে কান পাতলে শোনা যায়, সংস্থার দীর্ঘদিনের কর্মরত অধিকাংশ কর্মীরাই ক্ষিপ্ত মনোজিতের উপর, এমনকি আড়ালে আবডালে মানসীক বিকারগ্রস্ত বলেও অভিহিত করে থাকেন অনেকেই, এমন অভিযোগও রয়েছে। সংস্থায় থেকে নানান রাজনৈতিক পোস্টও বিতর্কের ঝড় তুলেছে। সিএবির কর্মী হয়ে এইরকম রাজনৈতিক পোস্ট করা যায় কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। ‘মাথার উপর সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের হাত আছে’- হাবেভাবে ও কথাবার্তায় এ হেন আচরণে সংস্থার কেউই প্রতিবাদ করতে বা মুখ খুলতে পারেন নি। এবার মনোজিৎ সরাসরি আঘাত করলেন গৌরব অর্জন করা ক্রিকেটারকে অসম্মান করে। কদর্য ভাবে আক্রমণ করা হয়। প্রাক্তন বাংলা অধিনায়ক ক্ষোভে উত্তেজিত। সামান্য এক সিএবির কর্মীর কাছ থেকে প্রাপ্ত অনাকাঙ্খিত অপমানের যন্ত্রনায় কাতর। প্রণব রায়ের অপমানে ক্ষুব্ধ বাংলার ক্রিকেট মহল। নতুন সরকারের রাজত্বে সর্ব ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতার অভিযান চলছে। অচিরেই উক্ত ‘দাগী’ কর্মীর বরখাস্তের দাবিও উঠেছে ক্রিকেট মহলে। উক্ত কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রীকে চিঠিও পাঠাবেন প্রাক্তন ক্রিকেটারদের অধিকাংশই, বলে সূত্রের খবর। আপাতত দেখার বিষয়, একাধিক কলঙ্কে কালিমালিপ্ত কর্মীর শাস্তি হিসাবে সিএবি থেকে বিতাড়িত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কি না? অপেক্ষায় ক্রীড়ামহল। অভিষেক ডালমিয়া ক্রীড়ামন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে বলেন, স্বনামধন্য এক ক্রীড়া সংস্থায় অর্থের বিনিময়ে খেলার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচনে থ্রেট কালচারেরও উল্লেখ করেন। ‘সিএবি’তে দুর্নীতি নেই’, অভিষেকের চিঠির পরেই ক্রীড়ামন্ত্রীকে ‘আগ বাড়িয়ে’ বলে এলেন সৌরভ। ক্রীড়ামহল এই বিষয়টাকে অনেকটা সাফাই হিসাবে দেখে প্রশ্ন তুলেছে। ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে প্রাক্তন এই ক্রিকেটারের ছবি সোস্যল মিডিয়ায় বিতর্কের ঝড়ও তুলেছে। আগ বাড়িয়ে সৌরভের উপস্থিতির বিষয়কে ‘সেটিং’ এর বার্তাও বলে অভিহিত ছাড়েননি নেটিজনেরা?
অভিষেকের পত্রবোমার জবাবে পাল্টা মিসাইল সিএবির, ক্রীড়ামন্ত্রীকে সাফাই দিয়ে চিঠি, উঠছে প্রশ্নও। অভিষেক পাল্টা কি ব্রহ্মাস্ত্র নিক্ষেপ করেন, দেখার অপেক্ষায় ময়দান। একটা চিঠি। আর সেটাই যেন পত্রবোমা হয়ে আছড়ে পড়েছে ময়দানে। নড়েচড়ে বসেছে বঙ্গ ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা সিএবি। রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁকে উদ্দেশ্য করে লেখা যে পত্রে সিএবি-র নাম উল্লেখ করা হয়নি। অথচ ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে তারই জবাবি চিঠি দিয়ে এলেন সংস্থার পদাধিকারীরা! সিএবি-র প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট তথা আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের এক সময়কার সদস্য অভিষেক ডালমিয়া ইন্দ্রনীল খাঁকে চিঠি লিখে অভিযোগ করেন, ময়দানের এক ‘স্বনামধন্য’ ক্রীড়া সংস্থায় নানা দুর্নীতির কালি ছিটিয়েছে। টাকার বিনিময়ে খেলোয়াড়দের সুযোগ করে দেওয়ার মতো গুরুতর দুষ্কর্ম ঘটছে বলেও বোমা ফাটান তিনি। তার চেয়েও তাৎপর্যপূর্ণভাবে বলেন, দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবাদ বা অভিযোগ করলে সঠিক তদন্ত হয় না। বরং অপরাধ ধামাচাপা দেওয়া হয়। ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে অভিষেক আবেদন করেন, একটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হোক। যেখানে খেলোয়াড়, তাঁদের পরিবারের সদস্য, ময়দানের শুভানুধ্যায়ীরা পরিচয় গোপন রেখে অভিযোগ জানাতে পারবেন। তিনি সিএবি প্রশাসনে থাকার সময় যে দুর্নীতির সঙ্গে আপোসহীন ছিলেন, সেটাও চিঠিতে লেখেন অভিষেক। ক্রীড়ামন্ত্রীকে পাঠানোর পাশাপাশি চিঠিটি সোশ্যাল মিডিয়াতেও পোস্ট করেন কিংবদন্তি ক্রিকেট প্রশাসক, প্রয়াত জগমোহন ডালমিয়ার পুত্র। অভিষেকের উল্লেখ করা ‘স্বনামধন্য’ ক্রীড়া সংস্থা কি সিএবি? নানা অনিয়মের অভিযোগে বিদ্ধ বঙ্গ ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থার স্বচ্ছতা নিয়েই কি প্রশ্ন তুলেছেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট? এ নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়। অভিষেকের জবাবি চিঠি ক্রীড়ামন্ত্রীকে দিয়ে এলেন সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাসেরা। বকলমে যেন এ-ও মেনে নিলেন যে, সিএবি-র দিকেই আঙুল তুলেছেন অভিষেক। ক্রীড়ামন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে চিঠিটি লিখেছেন সিএবি-র পদাধিকারীরা। যে চিঠির প্রতি ছত্রে ছত্রে রয়েছে সাফাই ও পাল্টা মিসাইল নিক্ষেপ। লেখা হয়েছে, ‘আমরা, সিএবি পদাধিকারীরা এই চিঠি লিখছি বাংলায় ক্রিকেটের স্বচ্ছতা, বিশ্বাসযোগ্যতা আর উন্নয়নের প্রতি আমাদের অটল অঙ্গীকার ব্যক্ত করতে। আপনাকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, এ রাজ্যের তরুণদের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ ক্রিকেট প্রশাসনের তরফে সুরক্ষিত। বৈধ নজরদারির আওতাভুক্ত।’ এরপরই অভিষেকের চিঠির প্রসঙ্গ তুলে একের পর এক বোমা ফাটিয়েছেন সিএবি আধিকারিকরা। লেখা হয়েছে, ‘১৩ জুন সিএবির প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট অভিষেক ডালমিয়া সোশ্যাল মিডিয়ায় যে চিঠি পোস্ট করেন এবং তার ভিত্তিতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম যে খবর করে, সেখানে দল নির্বাচনে স্বচ্ছতা, দুর্নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয় নিয়ে একটা ধারণা পোষণ করা হয়েছে। ফুটবল, হকি সহ গোটা ময়দানে কী হচ্ছে বলতে পারব না, তবে সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে গঠিত লোঢা কমিটির সুপারিশ মেনে সংশোধিত গঠনতন্ত্রের দিকে আপনার (ক্রীড়ামন্ত্রীর) দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। যে গঠনতন্ত্র ভারতীয় বোর্ড এবং অনুমোদিত সব সংস্থা মেনে চলে। সেই গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রত্যেক সংস্থার একজন করে ওম্বাডসম্যান ও এথিক্স অফিসার থাকেন। হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কিংবা সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতিদের সেই পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য গত দু’বছর ধরে ওম্বাডসম্য়ানের দায়িত্বে আছেন এবং এখন তিনি এথিক্স অফিসারও।’ সিএবি থেকে চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, ‘যে কোনও অভিযোগ এলে আইনি পবিত্রতা, নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং পদাধিকারীদের হস্তক্ষেপ-মুক্তভাবে তা দেখা হয়। কোনও অ্যাথলিট, কোচ, অভিভাবক বা প্রশাসক নথি প্রমাণাদি সহ অভিযোগ সরাসরি ওম্বাডসম্যানকে জানাতে পারেন। গত ৩০ বছর ধরে বিশ্বনাথ দত্ত, জগমোহন ডালমিয়া, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, অভিষেক ডালমিয়া ও স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্ব সিএবি প্রেসিডেন্ট থেকেছেন। বাবলু কোলে, বিশ্বরূপ দে, বাবলু গঙ্গোপাধ্যায় (সুবীর) সচিব পদে আছেন বা থেকেছেন। কখনও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি কিংবা অবক্ষয়ের অভিযোগ ওঠেনি। যদিও বিস্ময়করভাবে সাম্প্রতিক চিঠিতে বোঝানো হয়েছে, শুধু তাঁর (অভিষেক ডালমিয়ার) আমল ছাড়া সব সময়ই অস্বচ্ছতা ছিল।’ সিএবি পদাধিকারীদের পাঠানো চিঠিতে পাল্টা অভিযোগ, ঘটনার অপব্য়াখ্যা করা হচ্ছে। সিএবির কোনও প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট কিংবা সচিব এই ধরনের চিঠি জনসমক্ষে লেখেননি। সংস্থার সকলেই যা দেখে হতবাক বলে অভিযোগ সিএবির এখানেই শেষ নয়, ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়েছে, তিনি যেন সশরীরে এসে ১৪০ জন সদস্যের সঙ্গে কথা বলেন। সৌরভ জাতীয় দলের অধিনায়কই শুধু ছিলেন না, বোর্ডের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন, আইসিসি ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন, তাঁর স্বচ্ছতা নিয়ে কখনও প্রশ্ন ওঠেনি। বি এন দত্ত, জগমোহন ডালমিয়াদের বিরুদ্ধেও সেরকম অভিযোগ ওঠেনি। তাই শুধু একটা মেয়াদকালই পরিচ্ছন্ন দাবি করাটা মেনে নেওয়া যায় না। বলা হয়েছে, হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি যখন স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দায়িত্বে, তখন জনসমক্ষে এমন চিঠি পোস্ট করে সঠিক আইনি পথে এগিয়ে সুরাহার খোঁজ করার বদলে শুধু ক্রীড়া প্রশাসনের সমস্যা জনগণের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। অথচ সচিব ও প্রেসিডেন্ট হিসাবে ২০২২ সাল পর্যন্ত তাঁর মেয়াদকালে নাকি এমন কোনও সমস্যা, অভিযোগ ছিল না। সিএবি-র চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘দুর্নীতিবিরোধী হেল্পলাইন খোলার ব্যাপারে বলব, এটা সিএবিও চায়। ওম্বাডসম্যান এগুলো পর্যবেক্ষণ করেন। আপনাকে অনুরোধ যত দ্রুত সম্ভব হটলাইন চালু করুন এবং ওপরের বিষয়গুলি খতিয়ে দেখুন।’ সিএবি লিখেছে, ‘কেন ঠিক এই সময়ে জনগণের মনে একটা ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করা হল, সেটাও যাচাই করে দেখা হোক।’ সিএবি-র আসন্ন নির্বাচনের দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে, মনে করছে ময়দান।
তবে চিঠি নিয়ে পাল্টা প্রশ্নও উঠছে।
এক, অভিষেক সরাসরি নাম না করলেও কেন সিএবি-ই তাঁর নিশানায় ধরে নেওয়া হল? যেখানে অভিষেক চিঠিতে গোটা ময়দানের দুর্নীতি নিয়েই সরব হয়েছেন। সিএবি-র কেউ কেউ তো বলতে শুরু করেছেন যে, এ যেন ‘ঠাকুরঘরে কে, আমি তো কলা খাইনি’র মতো পরিস্থিতি।
দুই, ১৭ জুন লেখা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, সহ সভাপতি নীতীশরঞ্জন দত্ত, কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস, সচিব বাবলু কোলে। সেই সঙ্গে সই করেছেন মদনমোহন ঘোষ, চিঠিতে যাঁর পরিচয় দেওয়া হয়েছে প্রাক্তন যুগ্মসচিব হিসাবে। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, সত্তরোর্ধ্ব মদন ঘোষকে যখন বহু বিতর্কের পর সরিয়েই দিচ্ছে সিএবি, বিশেষ সাধারণ সভার দিনক্ষণ ঠিক করতে ১৭ জুন অ্যাপেক্স কাউন্সিলের বৈঠক যখন ডাকা হয়েছে, এবং সর্বোপরি যখন প্রাক্তন হিসাবে পরিচয় দেওয়া হচ্ছে, তখন মদন ঘোষ এই চিঠিতে সই করলেন কীভাবে! তাহলে তো বিশ্বরূপ দে, সুবীর গঙ্গোপাধ্যায়, নরেশ ওঝাদেরও সই নেওয়া উচিত ছিল।
তিন, যদি প্রাক্তনই হয়ে যান, তাহলে এখনও পর্যন্ত সিএবি-তে যুগ্মসচিবের ঘর আলো করে, নেমপ্লেট লাগিয়ে চেয়ারে বসছেন কীভাবে মদন?
যুগ্মসচিব পদে নির্বাচন হওয়ার হাওয়া জোরাল। সেপ্টেম্বরে সিএবি-র বার্ষিক সাধারণ সভায় সচিব পদও খালি হচ্ছে। সেখানেও নির্বাচনের সমূহ সম্ভাবনা। নির্বাচনী অঙ্ক সাজাতেই কি ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে এই সাক্ষাৎ সৌরভ-সঞ্জয়দের?
অভিষেক যদিও সিএবি-র পত্রবোমা নিয়ে বুধবার কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। ক্রীড়ামন্ত্রী তাঁর সঙ্গে আলাদা করে বসবেন বলে সাংবাদিকদের আগেই জানিয়েছেন। অভিষেকের সময়ও চেয়েছেন ইন্দ্রনীল খাঁ।





