RK NEWZ ইডি-র হাতে ধৃত বেহালার ব্যবসায়ী জয় এস কামদারের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল আদালত। অভিযুক্তের সঙ্গে দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পু থেকে কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের বেআইনি আর্থিক যোগের অভিযোগ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এমনকি, পুলিশ আ শান্তনুর পুত্র জয়ের একটি সংস্থা থেকে দু’টি ফ্ল্যাটের জন্য তিনি টাকা নিয়েছেন বলে ইডির দাবি। গ্রেফতারির পর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন জয়। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করানো হয়েছিল তাঁকে। চিকিৎসকদের ছাড়পত্র পেয়ে সোমবার জয়কে হেফাজতে নেওয়ার জন্য ব্যাঙ্কশাল আদালতে হাজির করে কেন্দ্রীয় সংস্থা। তবে ধৃত ব্যবসায়ী আইনজীবীর মাধ্যমে জানান, কোনও অপরাধকাণ্ডে নির্দিষ্ট করে তাঁর নাম নেই। জয়ের আইনজীবী সঞ্জয় দাশগুপ্ত তাঁর মক্কেলের জামিনের আর্জি জানিয়ে বলেন, ‘‘ওঁর সংস্থার সঙ্গে দেড় কোটির লেনদেনের কথা বলেছে ইডি। কিন্তু সেই লেনদেন বেআইনি কি না, তা বলা হয়নি।’’ পাল্টা ইডির আইনজীবী বলেন, ‘‘সিডিউল অপরাধে নাম নেই মানে ইডি কোনও তথ্য পেলে তদন্ত করতে পারবে না, এমন ভাববার কোনও কারণ নেই। পুলিশের চার্জশিটে নাম নেই মানে, এমনটা নয় যে দুর্নীতির টাকা থাকবে না।’’আদালতে ইডি জানিয়েছে, জয়ের অফিস এবং বাড়ি থেকে নগদ অর্থ বাজেয়াপ্ত হয়েছে। মোবাইল চ্যাট এবং অন্যান্য ডিজিটাল গেজ়েট থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গিয়েছে। সেখান থেকে হাওয়ালা যোগের তথ্য উঠে এসেছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্তের কাছ থেকে বেশ কিছু জবাব মেলেনি। তিনি সঠিক উত্তর দেননি। মালয়েশিয়া, ব্রিটেন এবং দুবাইয়ের কয়েক জনের সঙ্গে চ্যাট পাওয়া গিয়েছে মোবাইলে। সে নিয়ে তাঁর কাছে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হলেও তিনি জানাননি।ধৃত ব্যবসায়ীকে হেফাজতে চেয়ে আদালতে হাজির করেছে ইডি। তাদের আইনজীবী বলেন, ‘‘তদন্তে অনেক তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। অন্যান্য সন্দেহভাজনের সঙ্গে এই অভিযুক্তের যোগ রয়েছে।’’ এসপি কনস্ট্রাকশন নামে একটি সংস্থার কথা জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা, যার মালিকানা রয়েছে সোনা পাপ্পুর নামে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখে জানা যাচ্ছে, জয় এবং সোনা পাপ্পুদের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। প্রায় ১১০০ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ বেহালার ব্যবসায়ী জয় এস কামদারের বিরুদ্ধে! সোমবার ধৃত ব্যবসায়ীকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে হাজির করানোর আগে এমনটাই দাবি করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বেআইনি ভাবে কোটি কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগে জয়কে গ্রেফতার করে ইডি। সান এন্টারপ্রাইজ় নামে সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টরের বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগ উঠেছে। তাঁর সংস্থা থেকে দক্ষিণ কলকাতার ‘ত্রাস’ সোনা পাপ্পু স্ত্রীর নামে একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং গুলি কিনেছিলেন, সেই তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তার উপর সোনা পাপ্পু এবং তাঁর স্ত্রীর নামে থাকা সংস্থার সঙ্গে কোটি টাকার উপর লেনদেনের নথি পেয়েছে ইডি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, জয়ের বিরুদ্ধে ১১০০ কোটি টাকা অবৈধ ভাবে লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
ইডি জানিয়েছে, জয়ের কাছ থেকে প্রাপ্ত ডিজিটাল ডিভাইস থেকে ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য মিলেছে। ক্যালকাটা গুজরাতি এডুকেশন সোসাইটির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে জয়ের ভুয়ো কোম্পানিতে ৪০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। ধৃত ব্যবসায়ীর বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ১১০০ কোটি টাকার লেনদেন করেছেন তিনি। তার মধ্যে চার মাসের মধ্যে ৫০০ কোটি টাকা নগদ জমা হয়েছে। জয়ের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ২৫টি ভুয়ো সংস্থার সন্ধান পেয়েছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। সুপ্রিম ক্রেডিট কর্পোরেশন লিমিটেড নামে একটি সংস্থার হদিস পেয়েছে ইডি। তার অন্যতম ডিরেক্টরের নাম জয়। এসপি কনস্ট্রাকশন নামে আর একটি সংস্থার কথা জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা, যার মালিকানা রয়েছে সোনা পাপ্পুর নামে। ওই কোম্পানিগুলির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখে জানা যাচ্ছে, জয় এবং সোনা পাপ্পুদের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। আবার ক্রেডিট কর্পোরেশন লিমিটেড নামক কোম্পানির সঙ্গে সোনা পাপ্পুর স্ত্রীর নামে থাকা কোম্পানি হেভেন ভ্যালি-রও আর্থিক লেনদেন হয়েছে। কিন্তু সোনা পাপ্পুর স্ত্রী সোমা পোদ্দার দাবি করেছেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।




