RK NEWZ বৈভব সূর্যবংশী, যশস্বী জয়সওয়ালদের বিরুদ্ধে সব শক্তি প্রয়োগ করতে চাইছে মরিয়া কেকেআর শিবির। প্রথম একাদশে বেশ কিছু রদবদল হতে পারে। আমূল বদলে ফেলা হতে পারে ব্যাটিং অর্ডারও। প্রথম একাদশ আইপিএলে জয়ে এনে দিতে পারে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে? হন্যে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন অভিষেক নায়ার। আইপিএল শুরুর তিন সপ্তাহের মধ্যেই কেকেআর কোচের আসন টলমল। রবিবার ঘরের মাঠে রাজস্থান রয়্যালসের কাছে হার পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলতে পারে। বৈভব সূর্যবংশী, যশস্বী জয়সওয়ালদের বিরুদ্ধে সব শক্তি প্রয়োগ করতে চাইছে মরিয়া কেকেআর শিবির। প্রথম একাদশে বেশ কিছু রদবদল করা হবে। আমূল বদলে ফেলা হতে পারে ব্যাটিং অর্ডারও। বলা যেতে পারে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ রানার্স নিউ জ়িল্যান্ডের ব্যাটিং অর্ডার অনুসরণ করার পথে হাঁটতে পারেন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া নায়ার। রাজস্থানের বিরুদ্ধে কেকেআরের ইনিংস শুরু করতে পারেন টিম সেইফার্ট এবং ফিন অ্যালেন। প্রতিপক্ষকে শুরুতেই কোণঠাসা করতে বিস্ফোরক কিউয়ি ওপেনিং জুটির উপর ভরসা করছেন নায়ার। তিন নম্বরে দেখা যেতে পারে নিউ জ়িল্যান্ডের আর এক ক্রিকেটার রাচিন রবীন্দ্রকে। কেকেআরে সুনীল নারাইন এখন সবচেয়ে ভাল বল করলেও ব্যাট হাতে তিনি ব্যর্থ। রাচিন বিশ্বকাপে খুবই ভাল বল করেছেন। ব্যাটিংয়েও তাঁর উপর ভরসা রাখা যায়। ফলে নারাইনের জায়গায় খেলবেন তিনি। কেকেআরের এখন হারানোর কিছু নেই। ফলে অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষায় যেতেই পারে দল। রাজস্থানের বিরুদ্ধে দলের ইনিংস গড়ার মূল দায়িত্ব থাকবে আগের ম্যাচে ফর্মে ফেরা ক্যামেরন গ্রিন। ব্যাটিং অর্ডারের পাঁচ নম্বরে দেখা যেতে পারে সহ-অধিনায়ক রিঙ্কু সিংহকে। ছয় নম্বরে ব্যাট করতে নামবেন অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে। ফিনিশার হিসাবে দু’জনকে রাখতে চাইছেন কেকেআর কোচ। সাত নম্বরে ফর্মে থাকা অঙ্গকৃষ রঘুবংশী এবং আট নম্বরে রমনদীপ সিংহ। প্রথম একাদশের শেষ তিনটি জায়গা বোলারদের। তিন জন বিশেষজ্ঞ বোলার হিসাবে থাকতে পারেন অনুকূল রায়, বৈভব অরোরা এবং কার্তিক ত্যাগী। ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসাবে থাকবেন বরুণ চক্রবর্তী।

এ বারের আইপিএলে শুরু থেকেই নজর কেড়ে নিয়েছে বৈভব সূর্যবংশী। পাঁচ ম্যাচে ২০০ রান করে রয়েছে কমলা টুপির দৌড়ে। তবে রবিবার ইডেন গার্ডেন্সে কলকাতার বিরুদ্ধে শূন্য রান করলেও কোচের বকুনি খাবে না সে। ম্যাচের আগের দিন এ কথা জানালেন রাজস্থানের কোচ কুমার সঙ্গকারা। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, কলকাতাকে সমীহ করছে তাঁর দল। আগের ম্যাচে হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে শূন্য করেছিল বৈভব। গত বার ইডেনেও ভাল খেলতে পারেনি। তবে ১৫ বছরের ক্রিকেটারকে অতিরিক্ত চাপ দিতে নারাজ সঙ্গকারা। তিনি বলেছেন, “বৈভবকে আমি সহজ একটা বার্তা দিয়েছি, সব কিছু উপভোগ করো। ৩৫ বলে ১০০ হোক, ১৫ বলে ৫০ হোক বা প্রথম বলে শূন্য— তোমার যেমন রান করার অধিকার রয়েছে, তেমনই ব্যর্থ হওয়ারও অনুমতি রয়েছে। এটা ক্রিকেটেরই অংশ।” বৈভবকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন সঙ্গকারা। তিনি বলেছেন, “বৈভব একজন উত্তেজক ক্রিকেটার। লোকে ওর প্রতিভা নিয়ে অনেক কথা বলে। কিন্তু নেটে বৈভব কতটা পরিশ্রম করে সেটাও দেখা দরকার। ম্যাচের গতিপ্রকৃতি ভাল বুঝতে পারে। পরিস্থিতি অনুমান করে বোলারদের বিরুদ্ধে সে ভাবেই পরিকল্পনা করে।” আইপিএলের শুরুতেই চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে ১৭ বলে ৫২ করেছিল বৈভব। মুম্বই ম্যাচে জসপ্রীত বুমরাহকে প্রথম বলেই ছক্কা মেরেছিল। বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে জশ হেজ়লউডেরও একই অবস্থা হয়েছিল। সঙ্গকারার মতে, ব্যর্থতা থেকে ফেরার রাস্তা বৈভব নিজেই খুঁজে নেবে। সঙ্গকারার কথায়, “এখনকার দিনে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বৈশিষ্ট্যই হল আগ্রাসী খেলার ধরন। যত খেলবে তত বৈভব পুরোটা বুঝতে পারবে। ওর মতো ক্রিকেটারের ক্ষেত্রে যত কম বর্ণনা করা যায় ততই ভাল।” রাজস্থানের প্রতিপক্ষ কলকাতা ছ’টি ম্যাচের একটিও জিততে পারেনি। তবু সমীহ করছেন সঙ্গকারা। বলেছেন, “আমরা কোনও দলকেই হালকা ভাবে নিইনি। মুখোমুখি সাক্ষাতে পরিসংখ্যানের গুরুত্ব নেই। কঠিন ম্যাচ হতে চলেছে। কলকাতা শক্তিশালী দল। আমরা নিজেদের ভাল খেলার দিকেই মনোযোগ দিচ্ছি। ২৪০ বল ধরে আমাদের মানসিকতা একই রকম থাকবে।”





