Thursday, April 23, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‘এখান থেকেই আমার সব কিছু’ !‌ মনোনয়ন জমা মমতার!‌ ‘ভয় ও হিংসামুক্ত নির্বাচন হবে’, কমিশন লিখল তৃণমূলের নাম করেই!

বাড়ি থেকে পায়ে হেঁটে আলিপুর সার্ভে বিল্ডিংয়ে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে ছিল বিশাল মিছিল। মনোনয়নপত্র জমা করার পর বাইরে বেরিয়ে সং‌বাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন তিনি। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সকাল পৌনে ১১টা নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়ে পায়ে হেঁটে তিনি আলিপুর সার্ভে বিল্ডিংয়ে পৌঁছোন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিল বিশাল মিছিল। মনোনয়ন পর্বে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, কাউন্সিলর এবং মুখ্যমন্ত্রীর ভাই স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়, কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, ভ্রাতৃবধূ কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়, দলের নেতা সন্দীপ বক্সী প্রমুখ। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি ৩৬৫ দিনই এখানে (ভবানীপুর) থাকি। আমার ধর্ম-কর্ম-আন্দোলন সব কিছুই ভবানীপুরকে ঘিরে। ছোট্টবেলা থেকেই এখানেই আছি, এখানেই থাকি। এখান থেকেই আমার সব কিছু। তাই ভবানীপুরের মানুষকে আমার ধন্যবাদ এবং নমস্কার জানাই।” কেবল ভবানীপুরে নয়, রাজ্যের ২৯৪টি কেন্দ্রেই তৃণমূল বা তৃণমূল সমর্থিত প্রার্থীদের জয়ী করার আহ্বান জানান তিনি। কয়েক জন মহিলা ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, মনের দুঃখ নিয়ে বলছি, এত মানুষের নাম বাদ দিয়েছে। আমি সুপ্রিম কোর্টে মামলা করায় ১ কোটি ২০ লক্ষের মধ্যে ৩২ লক্ষের নাম উঠেছে। বাদবাকি ৫৮ লক্ষ খোলাই হয়নি।।” একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, বিবেচনাধীন (অ্যাডজুডিকেশনে) তালিকায় যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের নাম তোলা উচিত বলে মনে করি। এটা সুপ্রিম কোর্টই বলেছিল।” এই বিষয়ে আবার আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। সকাল থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে ভিড় করছিলেন দলের কর্মী-সমর্থকেরা। ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে রাস্তার একাংশ গার্ডরেল দিয়ে ঢেকে দেয় পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রীকে দেখতে রাস্তার ধারে ভিড় জমান বহু মানুষ। মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত জনতার দিকে হাত নাড়তে নাড়তে এগোন। মুখ্যমন্ত্রীর পিছনে ছিল তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের লম্বা মিছিল। মিছিল থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ওঠে। রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকা মহিলা কর্মীরা শঙ্খ বাজিয়ে এবং উলুধ্বনি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। পায়ে হেঁটে আলিপুর সার্ভে বিল্ডিংয়ে গিয়ে মনোনয়ন জমা দেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর মনোনয়ন খতিয়ে দেখেন কমিশনের আধিকারিকেরা। আগেই জানা গিয়েছিল যে, ভবানীপুর কেন্দ্রের ‘কসমোপলিটান’ বা ‘বহুত্ববাদী’ চরিত্রকে সামনে রেখে তাঁর মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবকদের তালিকায় প্রতিফলিত হবে ভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব। মুখ্যমন্ত্রীর মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হিসাবে স্বাক্ষর করেছেন কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের স্ত্রী ইসমত (রুবি) হাকিম, তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ তথা অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের স্বামী নিসপাল সিংহ রানে, ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল ব্লক সভাপতি বাবলু সিংহ এবং ভবানীপুর এডুকেশন সোসাইটির মীরজ শাহ। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রটি কলকাতা পুরসভার আটটি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এই কেন্দ্রে একদিকে যেমন রয়েছে ৭২ এবং ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের মতো বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা, তেমনই ৬৩, ৭০, ৭১, ৭৩ এবং ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডে দীর্ঘ দিন ধরে বসবাস করছেন গুজরাতি, পঞ্জাবি ও মাড়োয়ারি সম্প্রদায়ের মানুষ। ভবানীপুরে জৈন ধর্মাবলম্বীদের উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্য। আবার ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যাধিক্য। এ ছাড়াও বিহার, ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড থেকে আসা বহু মানুষের বাস এই কেন্দ্রে। ফলে সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত বৈচিত্র্যে ভরপুর ভবানীপুরকে অনেকে ‘মিনি ইন্ডিয়া’ বলে উল্লেখ করেন। মনে করা হচ্ছে, ভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও সম্প্রদায়ের চার জনকে প্রস্তাবক করে সেই বাস্তবতাকেই এ বার রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসাবে তুলে ধরতে চাইলেন মমতা।

‘সম্মুখ সমরে’ তৃণমূল এবং নির্বাচন কমিশন। ‘সোজাসুজি’ একে অপরকে বার্তা দিল। দু’তরফেই সমাজমাধ্যমে সরাসরি ‘কড়া’ ভাষায় আক্রমণ শানানো হয়েছে। আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণে বুধবার সকাল থেকে তপ্ত হয়ে উঠল দিল্লির রাজনীতি। বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা ভোটারদের একটা বড় অংশের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে বুধবার দিল্লির নির্বাচন সদনে যায় তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। সেই বৈঠকের পরই কমিশন সরাসরি তৃণমূলের নাম করে এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে। সেই পোস্টে কমিশন জানায়, তারা তৃণমূলকে সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে এ বার ভয়মুক্ত, হিংসামুক্ত, হুমকিমুক্ত, প্রলোভনমুক্ত নির্বাচন হবে। শুধু তা-ই নয়, কমিশন এ-ও জানিয়েছে, এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে কোনও রকম ‘ছাপ্পা ভোটের’ জায়গা নেই। নির্বাচনে কোনও জায়গায় ‘বুথ জ্যামিং’ চলবে না, সেটাও কমিশন তৃণমূলকে জানিয়েছে বলে এক্স পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই পোস্ট নিয়ে শোরগোল শুরু হতেই কমিশনকে পাল্টা জবাব দেয় পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল। তারা সরাসরি কমিশনকে উল্লেখ এক্স পোস্ট করে। সেই পোস্ট তৃণমূলের প্রশ্ন, ‘একটি নিরেপক্ষ সাংবিধানিক সংস্থার থেকে কি এমন আচরণ আশা করা যায়?’ তার পরেই পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল কমিশনের উদ্দেশে বলে, ‘সোজা কথা সোজা ভাবেই বলছি: মুখোশটা এ বার খুলে ফেলুন!’ নির্বাচন সদন থেকে বেরিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘অসহযোগিতার’ অভিযোগ তুলেছিলেন তৃণমূলের প্রতিনিধিদলের সদস্য তথা রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। তিনি অভিযোগ করেন, জ্ঞানেশ তাঁদের ‘গেস্ট লস্ট’ বলে কমিশন থেকে বার করে দিয়েছেন। এ-ও দাবি করেন, ‘‘বৈঠকে কিচ্ছু হয়নি। একটাও কথা বলেনি। আমি বলছি, বৈঠকে কোনও কথা হয়নি। উনি নিজের সঙ্গে কথা বলেছেন।’’ ডেরেকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরাসরি কিছু না-বললেও কমিশন জানায়, বৈঠকের সময় তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সদস্যেরা চিৎকার-চেঁচামেচি করছিলেন। কমিশন সূত্রে খবর, বৈঠকের মাঝে ডেরেককে শিষ্টাচার মানার অনুরোধ করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। উচ্চস্বরে এবং অশালীন ভাষায় কথা না-বলার বিষয়ে সতর্ক করেন। তার পরে শুরু হয়ে গেল এক্স-যুদ্ধ। একই সঙ্গে তৃণমূলের প্রতিনিধিদল দাবি করে, বৈঠকে কী হয়েছে, তা প্রকাশ্যে আনুক কমিশন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles