প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর একান্ত যোগাযোগ। আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত তাঁর বাড়িতে এসে লুচি-তরকারি খাওয়ার আবদার করেন। তৃণমূলে একদা ছিলেন বটে, তবে এখন ভুলস্বীকার করেন মুক্তকণ্ঠে। এগিয়ে যাওয়াই তাঁর মন্ত্র। বিশ্বাস করেন, রাজনীতিতে অভিমান বলে কিছু হয় না। পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতার বদল চাইছেন সোচ্চার হয়েই। বদলার রাজনীতিতেও কি বিশ্বাস করেন?। সিনেমায় মন ভোলানো হাসি ব্রিগেডেও। পেশাদার উত্তর কলকাতার বাঙালি এখন বাঙালির সর্বভারতীয় চেনামুখ ডেস্ক থেকে ডেমোক্রেসিতে। এক যুগ হল রাজনীতির মৃগয়ায় প্রলেতাড়িয়ে প্রতিনিধি সোজা জনতার দরবারে পর্দার প্রলেপ সরিয়ে প্রতিনিধি সোজা জনতার দরবারী। ফুলের দলে দল বদলে কিছু হতে পারেনি সেভাবে বছর কয়েক হল ঘুরছেন পদ্মবনে, জলঢোঁড়াদের পাত্তাই দেন না। চাইলেও আছে স্টেটমেন্টেও। তিনি জানেন নাচতে জানলে উঠোন বাঁকা হয় না। একান্ত সাক্ষাৎকারে সোজাসাপ্টা মিঠুন চক্রবর্ত্তী —
গৌরাঙ্গ চক্রবর্তী থেকে কিংবদন্তি মিঠুন চক্রবর্ত্তী?
মিঠুন চক্রবর্ত্তী : মিঠুনের জন্ম গৌরাঙ্গ জন্যেই হয়েছে, উত্তর কলকাতার নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান সেখান থেকে বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে জড়ানো সেখান থেকে বোম্বে যাওয়া লড়াই করে প্রতিষ্ঠা পাওয়া মেগাস্টার হওয়া। দেশের সর্বোচ্চ করদাতা হওয়া। রাশিয়াতে বিরল সম্মান পাওয়া সবই, ভেতরের গৌরাঙ্গ চক্রবর্তী না জীবিত থাকলে মিঠুন চক্রবর্তী হওয়া যেত না। আমার দুটো জীবন আমার আমি যখন বাইরে প্রকাশ্যে আসি তখন মিঠুন চক্রবর্তী বাড়িতে যখন থাকি তখন আমি গৌরাঙ্গ চক্রবর্তী। গৌরাঙ্গ গৌরাঙ্গকে বাঁচিয়ে রাখতে আমাকে মেহনত করতে হয় না। এটা আমার বাবা মার শিক্ষা। আমার মা-বাবার শিক্ষা আমাকে এবং আমার সব ভাই বোনকে এমন ভাবে তৈরি করেছেন যে মাটি কামড়ে থাকবে। ওরাও তো জানতেন না আমি মিঠুন চক্রবর্তী হব আমিও জানতাম না আমি মিঠুন চক্রবর্তী হব। এই জন্যই ওনারা আমাকে বলতেন কখনো জীবনে কারো সম্বন্ধে কটু কথা বলবে না কাউকে নিচু করে কথা বলবি না। কাউকে ছোট করে কথা একদমই নয়। দিস ইজ মাইন্ড ভ্যালু মিডিল ক্লাস ভ্যালু সিস্টেম এখনো আমার মধ্যে কাজ করে। এই জায়গায় উঠেও আমি একই রয়েছি। সর্বোচ্চ সম্মান সর্বোচ্চ সম্মান পেয়েছি দাদাসাহেব ফালকের মত পুরস্কার কিন্তু আমার মনেই হয় না আমি এসব কিছু পেয়েছি। বা এরকম কিছু আমি অনেকের হলে এসব নিজেকে ভেবে চোখ ফোক ঘুরেই যেত। আমার কিছুই হয় না। Doesn’t make any deferance এটাই রেজাল্ট।
মেগাস্টার অভিনেতা রাজনীতিতেই কেন?
মিঠুন চক্রবর্ত্তী : আমার যখন ১৬-১৭ বছর বয়স তখন থেকেই আমি রাজনীতি করি, সেটা আমার ইন-বর্ন। সেখান থেকে এখন রাজনীতি করা মানে লোক ভাবছে ও অভিনেতা বলে রাজনীতি করছে। আমার একটা মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছা। আমি রাজনীতি করি না। আমি মানুষ নীতি করি। এইটা আমাকে টেনে ধরে সবসময়। যে মানুষের জন্য সব সময় কিছু করতে চাই। এত বড় নাম পেলাম। কেন যদি মুখটা বিক্রি হয়? যদি মুখটা দেখে লোকে কিছু পয়সা দেয় লোকে কিছু দেয়। কত কিছু করেছি কোচবিহারে তখন কমলদা বেঁচে ছিলেন। ওনার ছেলে আজ উদয়ন ওনার ছেলে বড় লিডার। পাশেই বসে থাকতো। আমাকে একবার বলেছিলেন যদি একটু কিছু কর ভাই। ক্যান্সার হসপিটাল এর জন্য এখান থেকে রকেট বাসে করে কোচবিহার গেছি। রকেট বাসে করে ওভারনাইট জার্নি করে আমরা তিনজন কোচবিহার গিয়েছিলাম। মধ্যিখানে কিছু একটা পেতে শুয়ে ওখানে গিয়ে টাকা পয়সা তুলে সেই হসপিটালের জন্য কাজ করে আবার রকেট বাসে করেই ফিরে এসেছি। কেন করতে গেলাম। ওখানে করলে তো কিছুই থাকবে না কিন্তু এট লিস্ট কমল দা যখন করছেন, তখন আমার তো কিছু একটা করা উচিত।
রাজনীতি করেন অথচ লোকসভা রাজ্যসভায় অন্যজনকে ঠেলে দেন?
মিঠুন চক্রবর্ত্তী : আমি কখনো লোকসভা ভোটে দাঁড়ায়নি এরকম ব্যাপার নয়। আমি কর্নার শিট জিতে এসেছি কলেজে। কলেজ রাজনীতি যারা জীবনে না করেছে তারা কোনদিন দেশে রাজনীতি করতে পারবে না। যে কোন বড় লিডারই কলেজ রাজনীতি থেকেই বড় হয়ে এসেছে। সেটাই ভিত্তি যারা কলেজ রাজনীতি করেনি তারা ওই ভাসমান অবস্থায় রয়ে গেছে। আমি কলেজ রাজনীতিতে নাইন কর্নার সিট জিতে এসেছি। আমার মনে হয় আমার মত লোককে এক জায়গায় আটকে রাখা উচিত না। কোন একটা জায়গায় আমাকে যদি বেঁধে দেয়া হয় তাহলে ভুল। আমাকে সব জায়গায় যেতে দেয়া হবে না কেন? আমি যে জায়গাটায় কাজ করবো সেখানে আমিই কাজ করব এবং আমি সমস্ত কিছু সামলাবো এবং শেষমেষ আমি আমার জব ফিনিশ করব। তার জন্যই আমি।
প্রচুর মানুষের হার্টথ্রব আজও মিঠুন চক্রবর্ত্তী?
মিঠুন চক্রবর্ত্তী : প্রত্যেকের বাড়িতেই আছে। কারুর না করুর ভালোবাসার লোক আমি। লোকসভায় দাঁড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যেক বারই আসে। অথচ লোককে বুঝিয়ে দিই। আমাদের মত লোক যখন রাজনীতিতে জয়েন করে তারা ডেফিনেটলি নি:স্বার্থ ভাবেই। আমি এবারেও সেই একই মিঠুন চক্রবর্তী। সমস্ত জায়গাতেই আমার অবদান রয়েছে। প্লাস আমি একজন অভিনেতা। যখন যেটা বলতে চাই, তখন পাবলিকের থেকে ওটাও উঠে আসে। ডায়লগ টা বলুন এন্টারটেইনমেন্ট দেও অলসো, এটা এন্টারটেনমেন্ট পার্ক।
যদি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জন্য অনুরোধ আসে?
মিঠুন চক্রবর্ত্তী : অবশ্যই। আমরা সকলে একসঙ্গে কাজ করি। কে মিঠুন চক্রবর্তী কে শুভেন্দু অধিকারী এরকমভাবে আমাদের কেউ পার্টিতে মনে করে না। সবাই মিলে আমরা লড়াই করি তারপর আমরা একত্রে কাজ করি। যেকোন রাজ্যে। আমাদের পার্টির সংবিধানই এইসবের বিভাজনের মধ্যে পড়ে না। পার্টি থেকে যদি মুখ্যমন্ত্রী করতে বলা হয় তাহলে আমি অবশ্যই রাজি থাকব। আমার সেই আত্মবিশ্বাস আছে আমি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে সফল হতে পারি। পশ্চিমবঙ্গ জিরো তে রান করছে। পশ্চিমবঙ্গ জিরোতে রান করছে শুধু নয় মাইনাস মাইনাস জিরো। সুতরাং সেখান থেকে ট্রেনে তুলতে আমাদের অবশ্যই দরকার।
আরো একটা চেহারা দেখতে পারি, আমি কি করতে পারি ভালো কিছু করতে পারি। আবার খারাপও কিছু করতে পারি।
২০২৬ বিধানসভায় প্রার্থীবাছাইয়ে বড় ভুমিকা?
মিঠুন চক্রবর্ত্তী : এবারের বিধানসভায় বেশ কিছু আসনে আমাকে কিছু বলতে হয় প্রার্থী বাছাই এর ক্ষেত্রে। তা বলে আমি নিজের ভূমিকা বলবো না। পরামর্শ দিয়েছি মাত্র। ১০০ এর বেশি প্রার্থী আমার সাজেশনে হয়েছে। আমি যেখানে যেখানে লিখে কথা বলেছি সব জায়গায় সাপোর্ট পেয়েছি। পদাধিকারীদের সঙ্গে আমি কথা বলে ডিসাইড করিনা। আমি সাধারণ মানুষদের সঙ্গে কথা বলে প্রার্থী বাছাই করি। ওনারা তো বাইরে থেকে লোক আনছেন। বহিরাগত। সুতরাং এখন এই মুহূর্তে উনি নিজেই বহিরাগত হয়ে গেছেন। আমরা দেখিয়ে দিলাম। আমরা সব লোকাল লোকেদের নিয়ে কাজ করছি। লোকাল ক্যানডিডেট ম্যাক্সিমাম।
রাজ্যসভায় নিজের প্রার্থীপদ প্রত্যাখ্যান করে শ্রমিক ভট্টাচার্যের নাম প্রস্তাব?
মিঠুন চক্রবর্ত্তী : হ্যাঁ! আমি রাজ্যসভায় আমার নিজের পথ প্রত্যাখ্যান করে শ্রমিক ভট্টাচার্যের নাম প্রস্তাব করেছিলাম। এবং এই মুহূর্তে রাজ্য সভাপতি পদেও শ্রমিক ভট্টাচার্যকেই আমি এগিয়ে দিয়েছিলাম। শমীক ভট্টাচার্য এই মুহূর্তে খুব খুব শিক্ষিত মানুষ। খুব ভালো স্পিকার। খুব ভালো লড়াকু মানুষ। নাম্বার ওয়ান থেকে উনি বিজেপি। তাই আমার সিটে যদি ওনাকে দিয়ে দিই। আমি যদি একসেপ্ট করি। তাহলে ওনাকেই মানুষ গ্রহণ করবেন।
এবার ফলাফল নিয়ে আশাবাদী?
মিঠুন চক্রবর্ত্তী : প্রথমে বাংলায় ছিলাম ৩। সেখান থেকে ৭৭। শুধু লং জাম্প নয়, লঙ্গার জাম। তারপরে লোকসভায় ইলেকশনে নেমে গেল। এবার নিশ্চিত বিজেপি এবার ক্ষমতা দখল করবে। আমি হান্ডেড পার্সেন্ট নিশ্চিত। কোন সরকার তিনবার এসেছে? এবং তাদের এই চুরি-চামারি। লোক এমনি ফেডআপ হয়ে গেছে। এখানে এত বেশি। এটা একটা রাজ্য বলা যাচ্ছে না। এটা একটা বিরাট প্রাইভেট সংস্থা। চুরি-চামারির মুক্তাঞ্চল। মুক্তাঞ্চল বলবো না মুক্তাঞ্চলের প্রিন্সিপাল চলছে। একটা বেসরকারি সংস্থার মতো। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি।
একসময়ের খুব কাছের মানুষ ছিলেন রাজনীতিতে?
মিঠুন চক্রবর্ত্তী : যে ম্যাডামকে দেখেছিলাম তৃণমূলে, সেই ম্যাডাম অন্য মহিলা। আর এখন যাকে দেখছি, সেটা যেন পুরো বদলে গেছে। যেসব কাজকর্ম শুরু হলো। কিছু কাজকর্ম নিয়ে বলতে গিয়েছিলাম সবকিছু ফু দিয়ে উড়িয়ে দিলেন। এটা চলছে চলুক। তখন থেকেই আমি দেখলাম এটা যে, আমার মিসটেক হয়েছে তৃণমূলে আশা। সঙ্গে সঙ্গে নবান্ন থেকে সোজা বেরিয়ে গিয়েছিলাম। তৃণমূলের আশাটা একটা মিসটেক। প্রথমে তৃণমূল আর এই তৃণমূলের মধ্যে অনেক তফাৎ। তখন কাজ করার মানসিকতা ছিল। তখন এটা স্বচ্ছতা ভাব ছিল। কিন্তু তারপর ধীরে ধীরে ৫ বছর কাটতেই একটা লোভ-লালসা সব এসে গিয়েছিল। সেই তৃণমূল, সেই ম্যাডাম পুরো বদলে গেলেন। কোথায় ওনার নিয়ন্ত্রণ চলে গেল। উনি নিজেই ভাবতে পারেননি, ওনার সব এরকম হাতছাড়া হয়ে যাবে। যে যার নিজের পয়সা গোটাতে এত ব্যস্ত। সবসময় ভাবেন, সবার অ্যাটিটিউড একইভাবে ঢুকে গেছে। এখন ওনার দলের দলের নেতারাই বলছেন ১০ কোটি না দিলে কিছু হবে না। ১০ কোটি না দিলে টিকিট হবে না। আমি কারো নাম নিচ্ছি না। আমি নিজে আঘাত পেয়ে আর তাকে কিছু শোধরানোর কথা বলতে পারিনি। এটা একটা অভিমানও কাজ করেছে। আমি যেখানে লোকের জন্য কিছু করতে পারবো না। সেখান থেকে আমি বিমুখ হয়ে গেলাময কানেকশন টা কেটে গেল।
বিজেপি দলটা সম্পর্কে মত?
মিঠুন চক্রবর্ত্তী : বিজেপির লিডার হচ্ছে বেস্ট লিডার। মোদির উপর কোন লিডারই হতে পারে না। আমি তাঁর পার্সোনালিটি জানি। তাঁর কথাবার্তা জানি। তার টকিং জানি। একদিন আমার স্ত্রীর সঙ্গে ট্রাভেল করছিলাম এবং বিদেশে ঘটনাটা ঘটেছে। পায়ে লেগেছিল। হুইল চেয়ার নিয়ে লোকটা আমাকে হেল্প করলেন। আমি ভিতরে ঢুকে গেলাম। আমার স্ত্রীর সাথে ওনার কথা হয়েছিল ইন্ডিয়ান এর প্রাইম মিনিস্টারের বিষয়ে। বিদেশের এয়ারপোর্টে। জার্মানিতে। এই টাই বিষয় যে, ইনি প্রধানমন্ত্রী প্রাইম মিনিস্টার নরেন্দ্র মোদির দেশের লোক। গ্লোবাল পাওয়ার এর থেকে গর্বের আর কি হতে পারে?
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিয়মিত কথাবার্তা?
মিঠুন চক্রবর্ত্তী : প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে নিয়মিত কথা না হলেও, কথা হয়। উনি এই জন্যই আমার সঙ্গে কথা বলেন যে, লোকটা কোনদিন ফায়দার কথা বলে না। কিন্তু অন্যজনের জন্য বলে। আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। উনিও আমার প্রচন্ড পছন্দ করেন। সুভাষদা ভালবাসতেন। প্রত্যেককেই ওই জায়গায় আসতে হবে। অর্জন করতে হবে ভালোবাসা। ওনাদের ভালোবাসাটাকে স্বীকার করে নিতে হবে। আমার বাবা আরএসএস সাপোর্টার ছিলেন। একদিন সকালবেলা আমার বাড়িতে এসেছিলেন। এই দুই তিন বছর আগে। নাগপুরে গিয়েও দেখা হয়েছিল। কথাবার্তাও হয়েছিল যে, একদিন আমার ঘরে আসবেন বলেছিলেন। সকাল ন’টার সময় চলে এসেছেন। সঙ্গে সঙ্গে সবাই মিলে লুচি তরকারি বানিয়ে দিল। এত বড় মানুষ উনি আমাদের বাড়িতে এসেছেন।
রাজনীতিতে ভয়ের কারণ ঘটেছিল?
মিঠুন চক্রবর্ত্তী : রাজনীতিতে ভয় পাচ্ছেন কারা? যারা ভয়ের কারণ? যাদের ভয়ের কারণ আছে? তারাই ভয় পাচ্ছে। সবাই ভয় পাচ্ছে না। বদলাতেও বিশ্বাস করি। বদলেও বিশ্বাস করি। যখন একটা জিনিস মাত্রা ছাড়িয়ে যায় অর্থাৎ ক্রস করে যায়। ওয়েস্ট বেঙ্গল, মোর জিরো এ্যমং দা হোল কান্ট্রি।
কোন একটা শো এর জন্য আমাকে টাকা দেয়া হয়েছিল তবে সেই টাকা আমি ফেরত দিয়েছি কেন আমাকে সেটা নিয়ে ইনভাইট করেছিল আমি নিজেও জানিনা তবে আমি মনে করেছিলাম এই টাকা আমি কোন গরীব মানুষের টাকা আমি সরাসরি ফেরত দিয়েছি।





