২৯ মার্চ মৃত্যু হয় রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। প্রায় পাঁচ দিন কেটে গিয়েছে। পদক্ষেপের কথা জানাল আর্টিস্ট ফোরাম? আর্টিস্ট ফোরামের তরফে ডাকা হয় জরুরি বৈঠক। উপস্থিত হয়েছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, ভরত কল, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়-সহ আরও অনেকে। ‘আর্টিস্ট ফোরাম’-এর সম্পাদক শান্তিলাল জানান, অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পরে ধারাবাহিকের প্রযোজনা সংস্থার কাছে মৃত্যুর কারণ জানতে চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়। সেই চিঠির উত্তর সন্তোষজনক না হওয়ায় শনিবার ‘আর্টিস্ট ফোরাম’-এর তরফে থানায় এফআইআর করা হবে। সঙ্গে প্রসেনজিৎ বলেন, “যে চলে গিয়েছে তাঁকে আর ফেরানো যাবে না। কিন্তু সহজ যেন বড় হয়ে জানতে পারে যে, তার বাবা কেন চলে গেল?” ২৯ এপ্রিল আচমকাই আসে খবরটা। তালসারিতে শুটিং চলছিল লীনা গঙ্গোপাধ্যায় প্রযোজিত ধারাবাহিক ‘ভোলেবাবা পার করেগা’-এর। সেখানেই ঘটে অঘটন। আকস্মিক মৃত্যু হয় রাহুলের। পুলিশ সূত্রে খবর, সমুদ্রের জলে ডুবেই মৃত্যু হয়েছে অভিনেতার। সেখান থেকেই জানা যায়, লীনার প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’ পুলিশের কোনও অনুমতি ছাড়াই নাকি সেখানে শুটিং করছিল। তার পরেই রাহুলের মৃত্যুকে ঘিরে উঠেছে নানা প্রশ্ন। আঙুল উঠেছে প্রযোজনা সংস্থার দিকে। কী ভাবে মৃত্যু হল বছর ৪৩-এর অভিনেতার? এই প্রশ্ন নিয়েই আর্টিস্ট ফোরামের তরফে আইনি পরামর্শ নিয়ে চিঠি পাঠানো হয় লীনার সংস্থাকে৷ কিন্তু যথাযথ উত্তর মেলেনি বলে দাবি। শান্তিলাল বলেন, “তাই আমরা ঠিক করেছি আইনি পদক্ষেপ করব।” শনিবার, সম্ভবত দুপুর ২টো নাগাদ থানায় যাবেন আর্টিস্ট ফোরামের সদস্যেরা। শোনা যাচ্ছে, রিজেন্ট পার্ক থানায় দায়ের করা হবে অভিযোগ। প্রসেনজিৎ বললেন, “আমরাও আঘাত পেয়েছি। আমাদের মেনে নিতে সময় লাগছে যে, রাহুল আর আমাদের মধ্যে নেই। আপনাদের মতো আমরাও উত্তর খুঁজচ্ছি। কী হয়েছিল? আইনি পরামর্শ নিয়েই সব কাজ এগোচ্ছে। তাই তিন দিন সময় লেগে গেল।” রাহুলের মৃত্যু নিয়ে তোলপাড় টলিউড। এ দিকে আর্টিস্ট ফোরাম কেন নিশ্চুপ তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। রাহুলের স্মরণে শনিবার বিকাল ৪টের সময় পদযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। সে পদযাত্রা শিল্পী সংগঠন দ্বারা আয়োজিত নয়, সেই কথাও জানানো হয়েছিল। ফলে আর্টিস্ট ফোরামের বিরুদ্ধেও অনেক প্রশ্ন উঠেছিল। এই দিন সবটা স্পষ্ট করলেন প্রসেনজিৎ, শান্তিলালেরা। শনিবার বিকালে টেকনিশিয়ান স্টুডিয়ো থেকে রাধা স্টুডিয়ো পর্যন্ত পদযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। রাহুলের স্মৃতিতে তাঁর গল্প, কবিতা পাঠ করবেন শিল্পীরা।
রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যু এখনও মেনে নিতে পারছেন না কেউ। তালসারিতে শুটিংয়ের মাঝে ঠিক কী ঘটেছিল? উঠে আসছে নানা ধরনের তথ্য। প্রশ্ন উঠেছে প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস্’-এর নিরাপত্তা নিয়ে। এ বার অভিনেতার স্মরণে পদযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। ফেডারেশন সভাপতি সমাজমাধ্যমে পদযাত্রার বিবরণী ভাগ করে লিখেছেন,“প্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা শোকস্তব্ধ এবং শিহরিত। এই ঘটনা আবার আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির শিল্পী এবং কলাকুশলীদের সুরক্ষাব্যবস্থাকে এক বিশাল প্রশ্নচিহ্নের মুখোমুখি এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আমরা চাই এই ঘটনার নেপথ্যের আসল সত্যি সকলের সামনে আসুক। তাই আগামিকালের (শনিবার, ৪ এপ্রিল) প্রতিবাদে আমি অবশ্যই থাকব।” টলিপাড়ার বিশিষ্ট অভিনেতারা ‘ইম্পা’, ‘ফেডারেশন’, ‘পশ্চিমবঙ্গ আর্টিস্ট ফোরাম’ এবং ‘টেলিভিশন প্রযোজক’-দের এই পদযাত্রায় শামিল হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। তারই সমর্থনে স্বরূপ জানিয়েছেন, তিনি উপস্থিত থাকবেন। ‘জাস্টিস ফর রাহুল’ নামে এই পদযাত্রার আয়োজক হিসাবে নাম রয়েছে ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত, শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, রানা সরকার, সৌরভ দাস, সৌরভ পালোধি, রূপাঞ্জনা মিত্র, পিয়া সেনগুপ্ত, স্বরূপ বিশ্বাস, অপর্ণা সেন, অঞ্জন দত্ত, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় থেকে অঙ্কুশ হাজরা, শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়, গৌরব চক্রবর্তী, কাঞ্চন মল্লিকের। আর্টিস্ট ফোরামের তরফে জানানো হয়েছিল, “আগামী শনিবার, ৪ এপ্রিল বিকেল চারটে থেকে সদ্য ঘটে যাওয়া রাহুলের মর্মান্তিক পরিণতির প্রতিবাদে একটা মিছিল করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে আর্টিস্ট ফোরামকে এই মিছিলে অংশগ্রহণ করার জন্য আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানানো হয়নি। আমরা সংগঠক হিসাবে এর আহ্বায়ক নই, এতে অংশগ্রহণকারীও নই। তবে কোনও শিল্পী ব্যক্তিগত ভাবে যদি এই মিছিলে অংশগ্রহণ করতে চান, নিশ্চয়ই করতে পারেন। তাতে আমাদের সংগঠনের আপত্তি নেই।” শনিবার এই পদযাত্রায় কোন কোন তারকাকে দেখা যাবে সেটাই দেখার।
‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের তালসারিতে শুটিং চলাকালীন সমুদ্রে তলিয়ে প্রাণহানি রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তা নিয়ে একাধিক প্রশ্নের জট। সেই ‘মিসিং লিংকে’র খোঁজে প্রায় সকলে। লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রযোজনা সংস্থা ম্যাজিক মোমেন্ট মোশন পিকচার্সের তরফে এই প্রসঙ্গে জবাব পাওয়া গিয়েছে। তবে তাতে সন্তুষ্ট নয় আর্টিস্ট ফোরাম। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার টেকনিশিয়ান স্টুডিওয় ফের একদফা বৈঠক করেন আর্টিস্ট ফোরামের সদস্যরা। শুক্র রাতের বৈঠকে ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, আবির চট্টোপাধ্যায়, ভরত কল, দিগন্ত বাগচী, পায়েল দে সহ আরও অনেকে। আর্টিস্ট ফোরামের তরফে শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় বলেন, “গত ২৯ মার্চ রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যু ঘটে। এরপর থেকে সোশাল মিডিয়ায় নানা তথ্য উঠে আসে। এই পরিস্থিতিতে আমরা আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে আইনি পরামর্শ নিয়ে প্রযোজনা সংস্থা ম্যাজিক মোমেন্টসের কাছে ওই মর্মান্তিক ঘটনার বিবরণ জানতে চেয়ে একটি চিঠি পাঠাই। যার উত্তর গত ২ এপ্রিল আমরা পেয়েছি। কিন্তু আমরা সেই উত্তরে সন্তুষ্ট নই। তাই ৪ এপ্রিল আর্টিস্ট ফোরাম সংশ্লিষ্ট থানায় রাহুলের মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবিতে এফআইআর জানাতে যাচ্ছি।” টলিপাড়ার অন্দরমহল সূত্রে জানা যায়, ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম অভিভাবক রঞ্জিত মল্লিকের বাড়িতে আর্টিস্ট ফোরামের মিটিং হয়। যেখানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতাপত্নী প্রিয়াঙ্কা সরকারও। সেই বৈঠকেই সকলে একজোট হয়ে সম্ভবত প্রযোজনা সংস্থা ম্যাজিক মোমেন্ট মোশন পিকচার্সের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে একটি জরুরি বৈঠক বসে। ওই বৈঠকেও ছিলেন প্রিয়াঙ্কা। অভিনেতার আকস্মিক মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতেই এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল বলে খবর। যেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রযোজক নিসপাল সিং রানে, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, অরিন্দম শীল ও দেব। ইম্পা সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত ইতিমধ্যেই ‘জাস্টিস ফর রাহুল’ মিছিলে শামিল হওয়ার কথা জানিয়েছেন। মিছিলে ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত, শ্রীজাত, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, রাজ চক্রবর্তী, কৌশিক সেন, অপর্ণা সেন, রাজা চন্দ, স্বরূপ বিশ্বাস, পিয়া সেনগুপ্ত, আবির চট্টোপাধ্যায়, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, অরিন্দম শীল, রানা সরকার-সহ আরও অনেকের এদিন মিছিলে পা মেলানোর কথা। শনিবার বিকেলে টেকনিশিয়ান স্টুডিও থেকে মিছিল শুরু হবে বলেই খবর।





