Sunday, April 26, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

টানটান উত্তেজনা ভবানীপুরে, উত্তপ্ত গোটা এলাকা!‌ অমিত শাহকে সঙ্গে নিয়ে মনোনয়ন জমা দিলেন শুভেন্দু!‌

ভবানীপুর আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। মনোনয়ন জমা দিয়ে সার্ভে বিল্ডিং থেকে বেরোনোর সময়ে বিজেপির রোড শো ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা কালীঘাট চত্বরে। কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনের গলির কাছে শাহের রোড শো পৌঁছতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। ওঠে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান। দেওয়া হয় ‘চোর-চোর’ স্লোগানও। পালটা স্লোগান দিতে শুরু করেন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। স্লোগান পালটা স্লোগানকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি একেবারে অগ্নিগর্ভের আকার নেয়। কড়া হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা। এই অবস্থায় ছাদ খোলা গাড়ি থেকে নেমে পড়েন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নেমে কনভয়ের অন্য একটি গাড়িতে চাপতে হয় তাঁকে। আর এই উত্তেজনার মধ্যেই সার্ভে বিল্ডিংয়ে শাহকে পাশে নিয়েই মনোনয়ন দাখিল করেন ভবানীপুর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। টানটান উত্তেজনা ভবানীপুরে। বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল গোটা এলাকা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির গলির ঠিক সামনে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়। কার্যত ঘিরে ফেলে পুলিশ। কনভয় থেকে নেমে যেতে হয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। ছোট গাড়িতে উঠে সংশ্লিষ্ট রাস্তা পেরতে হয় তাঁকে।

ভবানীপুরে মনোনয়ন জমা দেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই উপলক্ষেই এদিন রাজ্যে এসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রোড শো করে তাঁরা মনোনয়ন জমা দিতে যান তাঁরা। সেই রোড শো চলাকালীন কালো কাপড় নিয়ে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূলকর্মীরা। তাঁদের হাতে ছিল কালো পতাকা। অন্যদিকে, পাল্টা স্লোগান দিতে শুরু করেন বিজেপি কর্মীরা। অমিত শাহের রোড শো যখন ঠিক মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির গলির সামনে চলে আসে, তখন পরিস্থিতি রীতিমতো উত্তপ্ত হয়ে যায়। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়। অমিত শাহের কনভয় এগোতেই জুতো ছোড়াছুড়ি শুরু হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে কনভয় থেকে নেমে যেতে হয় অমিত শাহকে। সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির ঠিক সামনে কনভয় থেকে নেমে ছোট গাড়িতে উঠে বাকি রাস্তা যেতে হয় অমিত শাহকে। অমিত শাহ বলেন, “মোদীজির নেতৃত্বে বাংলায় বিজেপি সরকার গঠন দরকার। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত সিল করে বাংলা ও দেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের বেছে বেছে বের করা দরকার এবং কবিগুরুর স্বপ্নের সোনার বাংলা তৈরির জন্য বাংলার মানুষ তৎপর হয়ে বসে আছে। ৫ মে বিজেপি সরকার আসছে। ২০১৪ সাল থেকে যে যে রাজ্যেই বিজেপি সরকার গঠিত হয়েছে, সেখানে বিকাশ হয়েছে। এবার বাংলার পালা। বাংলায় পরিবর্তন তো হবেই। ভবানীপুরেও পরিবর্তন দরকার। হাতজোড় করে অনুরোধ করছি, পুরো বাংলার মুক্তির জন্য ভবানীপুর থেকে আমাদের প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীকে বিপুল ভোটে জয়ী করুন। বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে হবে। এই জন্য পরির্তন দরকার। আমাদের চারজন প্রার্থীকেই শুভেচ্ছা জানাই। ভবানীপুরবাসীর কাঁধে বাংলায় পরিবর্তনের দায়িত্ব। যেভাবে বাংলায় দুর্নীতি হয়েছে, সিন্ডিকেট রাজ সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ট করে তুলেছে, অনুপ্রবেশ এত বেড়েছে যে পশ্চিমবঙ্গের অস্তিত্বই সঙ্কটে পড়েছে। এর মুক্তি একটাই, নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার গঠন। আজ সকালে কিছু সাংবাদিকের ফোন এসেছিল, তারা বলছিলেন, বাংলার জনতা চায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চলে যাক, তৃণমূলের গুণ্ডারা জেলে যাক, বিজেপির কর্মীদের খুন করেছে যারা, তাদের বেছে বেছে জেলে ভরা হোক। আমি বললাম, অসুবিধা কোথায়? ওরা বললেন, টিএমসির গুণ্ডারা ভোট করতে দেবে না। আমি বললাম, কোনও গুণ্ডার সাহস নেই ভোটারদের আটকানোর। এইবার ভয়মুক্ত হয়ে ভোট করতে হবে। শুধু তৃণমূলকে হারাতে হবে না, সমূলে উপড়ে ফেলতে হবে। শুভেন্দুদা নন্দীগ্রাম থেকে লড়তে চাইছিলেন, আমি বলেছিলাম, শুধু নন্দীগ্রাম নয়, মমতার ঘরে গিয়ে ওকে হারাও। শুভেন্দুর রেকর্ড আছে। গত নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার তো গড়েছিলেন, কিন্তু শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরে গিয়েছিলেন। এইবার মমতাজি পুরো বাংলাতেও হারবেন আর ভবানীপুরেও হারবেন। ভবানীপুরের ভোটার ভাই-বোনেদের অনুরোধ করতে এসেছি যে পুরো বাংলা মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে বিদায় জানাতে প্রস্তুত রয়েছে। ভবানীপুরবাসীর হাতে গোটা বাংলার পরিবর্তন নির্ভর করছে। একটি একটি করে সিটে জিতব, ১৭০ আসনে জয়ী হলে পরিবর্তন হবে। কিন্তু আমার কাছে একটা শর্টকাট আছে।ভবানীপুরবাসী একটি আসনে জিতিয়ে দিলেই গোটা বাংলায় আপনা-আপনি পরিবর্তন হবে। মোদীজির নেতৃত্বে বাংলায় বিজেপি সরকার গঠন দরকার। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত সিল করে বাংলা ও দেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের বেছে বেছে বের করা দরকার এবং কবিগুরুর স্বপ্নের সোনার বাংলা তৈরির জন্য বাংলার মানুষ তৎপর হয়ে বসে আছে। ৫ মে বিজেপি সরকার আসছে। পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের জন্য ১৫ দিন আমি এখানেই থাকব। আপনাদের সঙ্গে কথা হবে। আজ এসেছি মনোনয়ন পত্র জমার জন্য, বিশেষ করে শুভেন্দু অধিকারীর জন্য। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাই বাই টাটা করে দিন। আমি বাংলার সকল জনতা, যারা তোলাবাজি, তৃণমূলের গুণ্ডাগিরি, মহিলাদের নিরাপত্তাহীনতা, বাংলায় অনুপ্রবেশকারী ও গুলি-বোমাবাজি, বেকারত্ব ও দুর্নীতির যে রেকর্ড তৈরি হয়েছে, তাতে ভীত, তারা সকলেই চাইছেন বাংলায় পরিবর্তন দরকার। ভবানীপুর থেকে শুভেন্দুব অধিকারী, রাসবিহারী থেকে ডঃ স্বপন দাশগুপ্ত, বালিগঞ্জ থেকে শতরুপা বোস, চৌরঙ্গী থেকে সন্তোষ পাঠকজি- সকলকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles