স্থানীয়দের দাবি, জিৎ ‘রাতের পাখি’। তাঁকে দিনেরবেলা দেখা যায় না। তাঁর যাবতীয় দাপট শুরু হয় রাতে। রাত যত বাড়ে, দাপটও বাড়তে থাকে পাল্লা দিয়ে। সে দাপটের ছাপ থেকে যায় গাঙ্গুলিবাগান থেকে নেতাজিনগর, রামগড় থেকে গড়িয়া পর্যন্ত। ভোটের মুখে খাস কলকাতার পাটুলি থানা এলাকায় গুলিচালনার ঘটনায় আবার সিন্ডিকেটরাজের অভিযোগ মাথাচাড়া দিল। তাতে জড়িয়ে গেল শাসক তৃণমূলের নামও। খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত থেকে নিহত এবং গুলিতে জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীনের সঙ্গেও তৃণমূল-যোগের অজস্র উদাহরণ মিলেছে। মধ্যরাতে পাটুলি থানা এলাকার বাঘাযতীনের পূর্ব ফুলবাগান এলাকায় রাহুল দে নামে এক যুবক খুন হয়েছেন। বছর পঁয়ত্রিশের রাহুল গিয়েছিলেন জিৎ মুখোপাধ্যায় নামের এক জনের বাড়িতে। সেখানেই অন্য চার জন ঢুকে গিয়ে গুলি চালায় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলেই রাহুলের মৃত্যু হয়। জিৎ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কে এই জিৎ? স্থানীয়দের দাবি, জিৎ হলেন ‘রাতের পাখি’। তাঁকে দিনে দেখা যায় না। তাঁর যাবতীয় দাপট শুরু হয় রাতে। রাত যত বাড়ে, দাপটও বাড়তে থাকে পাল্লা দিয়ে। সে দাপটের ছাপ থেকে যায় গাঙ্গুলিবাগান থেকে নেতাজিনগর, রামগড় থেকে গড়িয়া পর্যন্ত। জিতের অজস্র ছবি প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে তাঁকে দেখা যাচ্ছে ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তের সঙ্গে। কোনও কোনও ফ্রেমে রয়েছেন বাপ্পাদিত্য এবং যাদবপুরে বিধায়ক তথা এ বারেরও তৃণমূল প্রার্থী দেবব্রত মজুমদার। বৃহস্পতিবার বাপ্পাদিত্য মেনে নিয়েছেন, তিনি জিৎকে খুব ভাল করেই চেনেন। তবে তাঁর দাবি, জিৎ তৃণমূলের সদস্য নন। তিনি ‘সমর্থক’ মাত্র। সেই সঙ্গে বাপ্পাদিত্যের এ-ও বক্তব্য, তিনি নিজেই জিতের ‘উপদ্রবে’ অতিষ্ট হয়ে উঠে বছর তিনেক আগে তাঁকে এলাকাছাড়া করেছিলেন।
কী করতেন জিৎ? বাপ্পার দাবি, রাত বাড়লেই মদ্যপান করে শুরু হত মারধর। যে কোনও লোককে পিটিয়ে দিতেন নির্মম ভাবে। বাপ্পার কথায়, ‘‘ও একটা ‘নুইসেন্স’। রাত ২টোর সময়েও আমার কাছে ফোন আসত। আমি কেন গায়ে কালি মাখতে যাব? আমিই উদ্যোগ নিয়ে পুলিশকে বলে ওকে আমার ওয়ার্ডছাড়া করেছিলাম। ওকে আর নেওয়া যাচ্ছিল না!’’ বাপ্পাদিত্যের আরও দাবি, ‘‘ও (জিৎ) এই এলাকায় ঢুকত না। আশপাশের এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকত। ওর বিরুদ্ধে বেশিরভাগ অভিযোগই নেতাজিনগর থানায়।’’পূর্ব ফুলবাগান এলাকা তো তাঁর ওয়ার্ডেই! বাপ্পাদিত্যের দাবি, দিন ১৫ আগে জিৎ ফিরেছিলেন নিজের বাড়িতে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সেখানেই গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। তাঁর সঙ্গে জিতের ছবি প্রসঙ্গে বাপ্পাদিত্য বলেন, ‘‘ছবি তো থাকতেই পারে। মিটিং-মিছিল-অনুষ্ঠানে কত লোকই তো ছবি তোলে। কত লোকের সঙ্গেই তো কত লোকের ছবি থাকে। তা দিয়ে তো কিছু প্রমাণ হয় না।’’ পুলিশ বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত খুনের কারণ নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেনি। তবে এলাকার রাজনীতি, কাঁচা টাকার কারবার, সিন্ডিকেটরাজ, নৈশকালীন তোলাবাজি সম্পর্কে ওয়াকিবহালদের অনেকেরই দাবি, এর নেপথ্যে থাকতে পারে সাট্টার ঠেকের বখরার লড়াই। গড়িয়া এলাকার একটি সাট্টার ঠেকের দিকে অভিযোগের তির স্থানীয়দের। স্থানীয়দের অনেকের এ-ও দাবি যে, পাটুলি থানা এলাকায় একটা সময়ে জিতের ছবি টাঙিয়ে লেখা ছিল ‘ওয়ান্টেড’। তখনও এলাকায় দাপট নিয়েই ঘোরাফেরা করতেন তিনি।





