সুরজিৎ রায় নাকি শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ? নির্বাচন কমিশন রাজ্যের ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে একসঙ্গে সরিয়ে দিয়েছে। নতুন অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে সুরজিৎ রায়ের নিয়োগের বিষয়টি সামনে এসেছে। এবার সেই বিষয়েই নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ দায়ের করল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দু’দফায় বঙ্গে বিধানসভা ভোট। সেই ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের একের পর এক আমলা, প্রশাসনিক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া, বদলির ঘটনা ঘটছে। রাজ্যের মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে ভোট ঘোষণার রাতেই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। দিন কয়েক আগে নির্বাচন কমিশন নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্যের ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে সরিয়ে দেওয়ার। সেসব অফিসারদের জায়গায় নতুনদের নিয়োগের বিষয়টিও সামনে এসেছে। কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনে লড়াই করছেন। এবারও ওই কেন্দ্রে তিনিই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী, ভবানীপুরের ‘ঘরের মেয়ে’। ওই কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসারকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ছড়িয়েছিল। রাজ্যে মোট ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। সাধারণভাবে প্রত্যেকটি কেন্দ্রে একজন করে রিটার্নিং অফিসার দায়িত্বে থাকেন। প্রার্থীদের নমিনেশন গ্রহণ থেকে নির্বাচনের সময় প্রাথমিক দায়িত্বভার এই অফিসারদের উপরই থাকে। এবার রাজ্যে ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে সরিয়ে দেয় কমিশন। নতুন রিটার্নিং অফিসার দায়িত্ব নিচ্ছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই রিটার্নিং অফিসারদের মধ্যে বেশিরভাগই মহকুমাশাসক বা এসডিও। ভবানীপুর কেন্দ্রে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে সুরজিৎ রায় নিয়োগ হয়েছেন। এরপরই কমিশনের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। অভিযোগ, সুরজিৎ রায় শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ। তাঁর নির্দেশে ওই অফিসার কাজ করছেন! প্রসঙ্গত, শুভেন্দু এবার নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসনের পাশাপাশি ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেও নির্বাচনে লড়াই করছেন। তাহলে কি ভোট পরিচালনার জন্যই এই বদলি? ভোটের সময় সুবিধা করতে মরিয়া বিজেপি?
দিল্লির নির্ভয়ার নামের সঙ্গে মিলিয়ে আর জি করের নির্যাতিতার নাম রাখা হয়েছে ‘অভয়া’। কিন্তু নির্ভয়ার মায়ের মতো রাজনীতির হাতছানি উপেক্ষা করতে পারেননি অভয়ার মা। আর জি করের নির্যাতিতার মা-বাবা ইতিমধ্যেই বিজেপির সদস্যপদ গ্রহণ করেছেন। ভবিষ্যতে তাঁদের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহেই পানিহাটির বাড়িতে অভয়ার মা ঘোষণা করেছিলেন, সুবিচার ছিনিয়ে আনতে বিজেপির হয়ে ভোটে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। টেলিফোনে বিজেপি নেতৃত্বকে সে কথা জানিয়েওছেন। সিপিএম তঁাদের নিয়ে শুধু রাজনীতি করেছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে তঁারা নাকি সুবিচার পাবেন। আর জি কর কাণ্ডে অভয়ার মা-কে দলের টিকিট দেওয়া নিয়ে বিজেপি কার্যত দু’ভাগ। গেরুয়া শিবির সূত্রে খবর, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদাররা চাইছেন না অভয়ার মাকে পদ্ম প্রতীকে টিকিট দিতে। টিকিট না দেওয়ার মতের পিছনে একাধিক সঠিক যুক্তিও রয়েছে। শমীক-সুকান্ত শিবির সেটা দিল্লিকে জানিয়েছে। অন্যদিকে, অভয়ার মাকে টিকিট দেওয়ার পক্ষে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মত রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। টিকিট দেওয়ার পক্ষেও কিছু যুক্তি দিল্লির নেতাদের জানানো হয়েছে।





