সাধারণ মানুষ মানে আপনার, আমার ক্ষেত্রে কি এইভাবেই মাত্র একটা ইকুইজিশন ধরিয়ে তা নিয়ে নিতে পারে নির্বাচন কমিশন? আমরা কী করতে পারি? আইন কী বলছে? মাঝরাস্তা। সিগন্যালে দাঁড়িছে অভিনেতা অরিত্র দত্ত বণিকের গাড়ি। নির্বাচনের কাজে তাঁর গাড়ি লাগবে অ্যাকুইজিশন ধরাল পুলিশ। তারপরের কাণ্ডের ভিডিওতে তোলপাড় সোশাল মিডিয়ায়। পক্ষে-বিপক্ষে একাধিক মন্তব্য। অভিনেতা অরিত্র পরিচিত মুখ। তাঁকে আইনি সাহায্য করার অনেকে আছেন। কিন্তু ভোট আছে, গাড়ি, বাড়ি চাই, বলে সাধারণ মানুষ মানে আপনার, আমার ক্ষেত্রে কি এইভাবেই মাত্র একটা অ্যাকুইজিশন ধরিয়ে তা নিয়ে নিতে পারে নির্বাচন কমিশন? আমরা কী করতে পারি? আইন কী বলছে? ১৯৫১-এর জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১৬০ ধারা। তা প্রয়োগ করে নির্বাচন কমিশন কোনও গাড়ি, জায়গা বা বাড়ি নির্বাচনের জন্য ব্যবহার করতে পারে। কী বলা হয়েছে এই আইনে? কোনও ব্যক্তিগত বাড়ি বা জায়গায় ভোটকেন্দ্র করতে গেলে বা ব্যালট বাক্স রাখার জন্য একটি লিখিত নির্দেশ জারি করতে পারে সরকার (ভোট ঘোষণা হওয়ার পর, পুরো বিষয়টি নির্বাচন কমিশন দেখে, তাই বলাই যায় নির্বাচন কমিশন)। সেক্ষেত্রে সেই অ্যাকুইজিশন বা নির্দেশ জারি করতে হবে। সেখানে কতদিনের জন্য সেই জায়গা বা বাড়ি ব্যবহার করা হবে, কী কাজে ব্যবহার করা হবে তা উল্লেখ থাকতে হবে। কোনও ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট বাক্স নিয়ে আসা-যাওয়া। নির্বাচন চলাকালীন কেন্দ্রীয় বাহিনী, পুলিশকর্মীদের যাওয়া-আসার ক্ষেত্রে, কোনও গাড়ি, জলযান বা পশু (ঘোড়া গাড়ি) প্রয়োজন হয় বা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে সরকার (নির্বাচন কমিশন) লিখিত আদেশের মাধ্যমে ক্ষেত্র অনুযায়ী যানবাহন, জলযান বা পশু অধিগ্রহণ করতে পারে। শর্ত হচ্ছে, ওই অধিগ্রহণের বিষয়ে মালিককে প্রয়োজনীয় অ্যাকুইজিশন দিতে হবে। তবে কোনও প্রার্থী বা তাঁর প্রতিনিধিরা কিংবা নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত কোনও যানবাহন, জলযান বা পশু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অধিগ্রহণ করা যায় না। এই আইনে স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে, এইগুলি অধিগ্রহণের আগে জমি বা গাড়ির মালিককে আগে থেকে নির্দেশিকা দিতে হবে। এবং যে সময়কালের জন্য় অধিগ্রহণ করা হবে বলে জানানো হবে তা যেন কোনওভাবে পরিবর্তন না হয়। কলকাতা হাই কোর্টের আইনজীবী বলছেন, “নির্বাচনের সময় কোনও জায়গা প্রয়োজন হলে অ্যাকুইজেশন দিয়ে তা নিতেই পারে কমিশন। কোনও যানবাহন বা পশুচালিত যানবাহনের প্রয়োজন হয় সেটিও অধিগ্রহণ করতে পারে। একটি পুরনো রায়ে বলা আছে, আছে কলকাতা হাই কোর্টের লোগো লাগানো কোনও গাড়ি নেওয়া যাবে না। সেটি বিচারপতি, আইনজীবীর হতে পারে। জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত অ্যাম্বুল্যান্স নেওয়া হয় না। চিকিৎসকদের গাড়িও নেওয়া হয় না। সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে কোনও ছোট গাড়ি হলে কমিশন নেয় না। কিন্তু তাছাড়া কোনও রাস্তা নেই।”
প্রথম অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরেও স্পষ্ট নয় কত জন ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারের নাম উঠেছে। তার মধ্যেই যোগ হয়েছিল নতুন বিপত্তি। মঙ্গলবার কমিশনের ওয়েবসাইটে দেখা যাচ্ছিল চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম ছিল তাঁদের নামও ‘বিবেচনাধীন’। এপিক নম্বর দিয়ে ওয়েবসাইটে সার্চ করলেই প্রায় সকলের নাম ‘বিবেচনাধীন’ দেখাচ্ছিল। অবশেষে সেই সমস্যার সমাধান হল। অভিযোগ ওঠে, কোনও ভোটারের এপিক নম্বর দিয়ে সার্চ করলেই কমিশনের ওয়েবসাইটে ভোটার তালিকায় তাঁকে ‘বিবেচনাধীন’ হিসাবে দেখানো হচ্ছে। সেই সমস্যা জানিয়ে কমিশনের অফিসে ফোন করে বহু ভোটার অভিযোগও জানিয়েছেন। আরও অভিযোগ, ২৮ ফেব্রুয়ারি যে ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল, তাতে যাঁদের নাম ছিল, সেই ভোটারদেরও মঙ্গলবার কমিশনের ওয়েবসাইটে ‘বিবেচনাধীন’ দেখাচ্ছিল। এই প্রসঙ্গে কমিশনের সাফাই ছিল, ‘যান্ত্রিক ত্রুটি’। সেই সমস্যারই সমাধান হল ঘণ্টাকয়েক পরে মঙ্গল মধ্যরাতে। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম থাকা মানুষদের আর ‘বিবেচনাধীন’ দেখাচ্ছে না। এই সংক্রান্ত সমস্ত সমস্যার সামাধান হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক যাঁদের নাম বাদ পড়বে, তাঁরা আবেদন করতে পারবেন ট্রাইবুনালে। ইতিমধ্যে কলকাতা হাইকোর্ট সেই ট্রাইবুনাল গঠন করেছে। রাজ্যের ২৩টি জেলার জন্য ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতিকে নিয়ে ১৯টি ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল নির্বাচন কমিশন। বিবেচনাধীন ভোটার ছিল ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫। এই তালিকা ৭০৫ জন বিচারক নিষ্পত্তি করছেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী নিষ্পত্তি হওয়া তালিকা ধাপে ধাপে বার করার কথা জানিয়েছে কমিশন। সেই অনুযায়ী সোমবার রাতে প্রথম অতিরিক্ত তালিকা (সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট) বার হয়েছে। তবে প্রথম অতিরিক্ত তালিকায় কত নিষ্পত্তি হয়েছে এবং সেখান থেকে কত জন ভোটারের নাম যোগ হয়েছে তা জানায়নি কমিশন।





