Thursday, April 23, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

কলকাতাতেই হবে বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল? বিশ্বকাপ থেকে বিদায় শ্রীলঙ্কার,পাকিস্তানকেও চাপে ফেলে দিল নিউজিল্যান্ড

ডেনে সেমিফাইনাল আসাটা কার্যত অসম্ভব বলেই মনে করছিল ক্রিকেটমহল। বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল-পুরোটাই ভারতে হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। ইডেনে সেমিফাইনাল হতে পারে, উজ্জ্বল হচ্ছে সেই আশাও। ইডেনে কি সেমিফাইনাল আদৌ হবে? বাংলার ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে বহুদিন ধরেই এই প্রশ্নটা ঘোরাফেরা করছে। তবে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আইসিসির বেশ কয়েকটি শর্ত মাথায় রাখা প্রয়োজন। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা জানিয়েছিল, পাকিস্তান যেহেতু ভারতে খেলবে না, তাই তারা সেমিফাইনাল এবং ফাইনালে উঠলে সেই ম্যাচগুলি শ্রীলঙ্কাতে খেলা হবে। এছাড়াও বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হিসাবে ঘরের মাঠে সেমিফাইনাল খেলার সুযোগ পাবে শ্রীলঙ্কা। সেইসঙ্গে ভারত যদি সেমিতে ওঠে তাহলে সেই ম্যাচটা অবশ্যই মুম্বইয়ে হবে। বিশ্লেষকমহল মনে করছে, বুধবারের ম্যাচের পর টি-২০ বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনাল ইডেনে হলেও হতে পারে। কারণ সেমির দৌড় থেকে ইতিমধ্যেই বিদায় নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। সেইসঙ্গে পাকিস্তানের সামনে কঠিন অঙ্ক। শেষ ম্যাচ বিরাট ব্যবধানে জিততে না পারলে সেমিতে ওঠা হবে না পাকিস্তানের। মহা অঘটন না ঘটলে বিশ্বকাপ সেমিতে উঠছে না পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কার ঘরের মাঠে খেলা বা পাকিস্তানের ভারতের মাটিতে না খেলা-কোনওটাই বিবেচিত হবে না। ইতিমধ্যে ইংল্যান্ড উঠেছে সেমিতে। যদি ভারত শেষ চারে ওঠে, সেই ম্যাচ হবে ওয়াংখেড়েতে। তাহলে সম্ভবত ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেই খেলতে হবে সূর্যকুমার যাদবদের। সেক্ষেত্রে বাকি যে দুই দল সেমিতে উঠবে (যার মধ্যে একটা নিউজিল্যান্ড হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল), সেই ম্যাচটা ইডেনে হতে আইসিসির শর্ত অনুযায়ী কোনও বাধা নেই। তাহলে কি ক্রিকেট বিধাতার অঙ্গুলিহেলনে আগামী বুধবার বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের সাক্ষী থাকবে ইডেন?

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল প্রতিযোগিতার যুগ্ম আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কা। বুধবার কলম্বোয় নিউ জ়িল্যান্ডের কাছে হেরে গেল তারা। প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে হেরেছিল শ্রীলঙ্কা। নিউ জ়িল্যান্ডের কাছে হারের ফলে শেষ ম্যাচ জিতলেও আর তাদের সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা নেই। এ দিন প্রথমে ব্যাট করে নিউ জ়িল্যান্ড ১৬৮/৭ তুলেছিল। জবাবে শ্রীলঙ্কাকে থামতে হল ১০৭/৮ রানে। কিউয়িরা জিতল ৬১ রানে। ব্যাটে-বলে ভাল খেলে নজর কেড়ে নিলেন রাচিন রবীন্দ্র। টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নিউ জ়িল্যান্ডের শুরুটা খারাপ হয়নি। দুই ওপেনার টিম সেইফার্ট এবং ফিন অ্যালেন শুরুটা আগ্রাসী ভাবেই করেছিলেন। তবে কয়েক বলের ব্যবধানে সেইফার্ট (৮) এবং অ্যালেন (২৩) দু’জনেই ফিরে যান। সেখান থেকে ইংল্যান্ডের হাল ধরেন রাচিন (৩২) এবং গ্লেন ফিলিপস (১৮)। দ্বিতীয় উইকেটে দু’জনে মিলে ৪১ রান তোলেন। মাহিশ থিকশানার বোলিংয়ে আচমকা লন্ডভন্ড হয়ে যায় নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং। ১৬ বলের ব্যবধানে চারটি উইকেট হারায় তারা। প্রথমে ফিলিপস, তার পর রবীন্দ্র ফিরে যান। টিকতে পারেননি মার্ক চ্যাপম্যান (০) এবং ড্যারিল মিচেলও (৩)। ১২.১ ওভারে ৮৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে নিউ জ়িল্যান্ড। সেখান থেকে দলের হাল ধরেন মিচেল স্যান্টনার এবং কোল ম্যাকঞ্চি। দু’জনে মিলে সপ্তম উইকেটে মাত্র ৪৭ বলে ৮৪ রানের জুটি গড়েন। ২৬ বলে ৪৭ রানের ইনিংসে চারটি ছয় এবং দু’টি চার মেরেছেন স্যান্টনার। ২৩ বলে ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন ম্যাকঞ্চি। তিনি তিনটি চার এবং দু’টি ছয় মেরেছেন। ১৬ ওভারে মাত্র ৯৮ রান তুলেছিল তারা। সেখান থেকে খেলা ঘুরে যায়। দুষ্মন্ত চামিরাকে এক ওভারে দু’টি ছয় এবং একটি চার মেরে ১৮ রান নেন ম্যাকঞ্চি। এর পর শ্রীলঙ্কার সেরা বোলার থিকশানাকে একটি চার এবং দু’টি ছয় মারেন স্যান্টনার। সেই ওভারে ওঠে ২১। এই জুটির দাপটে শেষ চার ওভারে ৭০ রান তোলে নিউ জ়িল্যান্ড। গোটা ম্যাচে ভাল বল করেও শেষ চার ওভার ডুবিয়ে দেয় শ্রীলঙ্কাকে। রান তাড়া করতে নেমে ম্যাট হেনরির প্রথম বলেই ছিটকে যান পাথুম নিসঙ্কের (০) স্টাম্প। তৃতীয় ওভারে ফেরেন চরিত আসালঙ্ক (৫)। এর পর যত সময় গড়িয়েছে তত উইকেট হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা। ক্রিজ় কামড়ে পড়ে থাকার মানসিকতা দেখাতে পারেননি কেউ। বিপক্ষের ব্যাটারেরা যেখানে কলম্বোয় এসে শাসন করে যাচ্ছেন, সেখানে নিজেদের দেশের মাটিতেই ব্যাটিং ভুলে যায় শ্রীলঙ্কা। গ্রুপ পর্বে তারা জ়িম্বাবোয়ের কাছে হেরেছিল। এ বার ইংল্যান্ড ও নিউ জ়িল্যান্ডের কাছে হারায় এক ম্যাচ বাকি থাকতেই বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে গেল। শ্রীলঙ্কার হয়ে সর্বোচ্চ রান কামিন্দু মেন্ডিসের (৩১)। চার ওভারে ২৭ রান দিয়ে ৪ উইকেট রবীন্দ্রের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles