রনজি ফাইনালে। হুবলিতে তৈরি হল উত্তপ্ত পরিস্থিতি। সেখানে জম্মু-কাশ্মীর অধিনায়ক পরশ ডোগরা মেজাজ হারিয়ে কর্নাটকের এক ফিল্ডারকে ‘ঢুঁসো’ দেন। ঘটনার ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। প্রথম বার রঞ্জি ট্রফির ফাইনালে উঠলেও জম্মু ও কাশ্মীরের পারফরম্যান্স দেখে তা বোঝা যাচ্ছে না। ম্যাচের দ্বিতীয় দিনের শেষে ৫০০ পেরিয়ে গেল তাদের রান। ঢুঁসো মারায় বোর্ডের থেকে শাস্তি পাচ্ছেন জম্মু ও কাশ্মীরের অধিনায়ক পরশ ডোগরা। প্রথম বার রঞ্জি ট্রফি ফাইনালে উঠলেও জম্মু ও কাশ্মীরের পারফরম্যান্স দেখে তা একেবারেই বোঝা যাচ্ছে না। ম্যাচের দ্বিতীয় দিনের শেষে ৫০০ পেরিয়ে গেল তাদের রান। হাতে এখনও চার উইকেট। ফলে ফাইনালের শুরুতেই ব্যাকফুটে কর্নাটক, যারা খেলছে ঘরের মাঠে। দ্বিতীয় দিনের শেষে ৫২৭/৬ তুলেছে জম্মু ও কাশ্মীর। মন্দ আলোর কারণে নির্ধারিত সময়ের বেশ কিছুটা আগেই খেলা শেষ করে দিতে হয়। তবে ঢুঁসো মারায় বোর্ডের থেকে শাস্তি পেয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের অধিনায়ক পরশ ডোগরা। প্রথম দিনই শতরান করে অপরাজিত ছিলেন শুভম পুন্ডির। তিনি এ দিন ১২১ রানে আউট হন। বাকি কেউ শতরান করতে পারেননি ঠিকই। তবে প্রত্যেকে বড় রান করে নিজেদের মতো অবদান রেখেছেন। দ্বিতীয় দিনের প্রথম ৪৮ মিনিট সাফল্য পায়নি কর্নাটক। জম্মু ও কাশ্মীরের ব্যাটারেরা চেষ্টা করছিলেন নতুন বল পুরনো করে দেওয়ার। বিদ্যাধর পাতিলের বলে শুভমের শট পৌঁছোয় অনীশের হাতে। ১২৪ রানের জুটি শেষ হয়। আগের দিনের অপরাজিত ব্যাটার আব্দুল সামাদের সঙ্গে যোগ দেন পরশ। অর্ধশতরানের পর প্রসিদ্ধ কৃষ্ণের বলে ফিরে যান সামাদ (৬১)।
জম্মু ও কাশ্মীরের স্কোর যখন ৩০৭/৪, তখন ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন দেখছিল কর্নাটক। তবে পরশ এবং কানহাইয়া ওয়াধাওয়ানের জুটি তাদের কাজ আরও কঠিন করে দেয়। ৩২ ওভারে ১১০ রানের জুটি গড়েন দু’জনে। প্রায় নতুন বলে ভাল বোলিং করছিলেন প্রসিদ্ধ। তবে পরশ এবং কানহাইয়ার আগ্রাসী ইনিংস তাঁর আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে দেয়। প্রসিদ্ধের বল খেলতে পরশের সমস্যা হলেও কানহাইয়া রান রেট নীচে নামতে দেননি। অনায়াসে ৪০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যায় জম্মু ও কাশ্মীর। কানহাইয়া ফেরার পর জম্মু ও কাশ্মীরের ইনিংস টানতে থাকেন পরশ। একটি বল পরশের হেলমেটে লেগে স্টাম্পে লাগলেও বেল পড়েনি। তবে শ্রেয়স গোপালের একটি বলে রক্ষণাত্মক খেলতে গিয়ে উইকেট খোয়ান পরশ। ফেরার পর আবার সুযোগ এসেছিল কর্নাটকের সামনে। সেটিও কাজে লাগাতে পারেনি তারা। পুরনো বলে কর্নাটকের কাজ কঠিন করে দেন সাহিল লোতরা এবং আবিদ মুস্তাক। কর্নাটকের বোলারদের ক্লান্তির সুযোগ নিয়ে তাঁরা রান করতে থাকেন। দিনের শেষে ৫৬ রানের জুটি হয়ে গিয়েছে তাঁদের। পরিস্থিতি যা, তাতে বৃহস্পতিবার শুরুতেই জম্মু ও কাশ্মীরের ইনিংস শেষ করতে না পারলে ন্যূনতম লড়াই করার জায়গাও থাকবে না কর্নাটকের সামনে।
কর্নাটকের বোলার কেভি অনীশকে ঢুঁসো মারায় বোর্ডের শাস্তি পাচ্ছেন পরশ। তাঁর ম্যাচ ফি-র ৫০ শতাংশ জরিমানা দিতে হবে। ম্যাচের পর পরশ বলেছেন, “খুব বড় ব্যাপার নয়। উত্তেজনার মুহূর্তে ওই ঘটনা ঘটে গিয়েছে। এ রকম দু’-এক বার হতেই পারে, বিশেষ করে ফাইনালের মতো ম্যাচে। সমস্যা সেখানেই শেষ হয়ে গিয়েছে।” জম্মু ও কাশ্মীরের ইনিংসের ১০১তম ওভারের ঘটনা। অধিনায়ক পরশের সঙ্গে ক্রিজে ছিলেন কানহাইয়া ওয়াধাওয়ান। বোলিং করছিলেন কানহাইয়া ওয়াধাওয়ান। তাঁর একটি বল ব্যাটের কানায় লেগে বাউন্ডারি সীমানা পেরিয়ে যায়। এরপর আচমকাই মেজাজ হারান পরশ। শর্ট লেগে দাঁড়িয়েছিলেন কেভি অনীশ। তাঁর সঙ্গে রীতিমতো তর্কে জড়ান জম্মু-কাশ্মীর অধিনায়ক। খানিক বাদেই হেলমেট পরেই অনীশকে গুঁতো মেরে বসেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত চলে আসেন কর্নাটক ক্রিকেটার মায়াঙ্ক আগরওয়াল। দুই আম্পায়ারও চলে আসেন। ওভারের শেষে অবশ্য ক্ষমা চেয়ে নেন জম্মু-কাশ্মীর অধিনায়ক। কিন্তু অনীশ যেন কিছুতেই এই ঘটনা মেনে নিতে পারেননি। সেই সময়ই যোগ দেন কেএল রাহুল। দু’জনেই উত্তেজিত হয়ে পরশকে কিছু একটা বলেন। এরপর পরিস্থিতি কিছু শান্ত হয়। নেটিজেনরা এই ঘটনার সঙ্গে মিল পেয়েছেন ২০০৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে জিনেদিন জিদানের ঘটনায়। বার্লিনের সেই ফাইনালে জিদান ‘হেডবাট’ করেছিলেন ইটালিয়ান ফুটবলার মার্কো মাতেরাজ্জিকে। সেটা ফরাসি কিংবদন্তি জিদানের বর্ণাঢ্য কেরিয়ারের শেষ ম্যাচ ছিল। অনেকে আবার ক্রিকেটের স্পিরিট বজায় রাখার কথাও বলেছেন। এই ঘটনার কিছু ওভার পরেও আবারও দুই দলের ক্রিকেটার তর্কে জড়িয়ে পড়েন। রান নিতে গিয়ে কানহাইয়ার সঙ্গে কর্নাটক পেসার বৈশক বিজয়কুমারের সংঘর্ষ হয়। এরপর দুই ক্রিকেটারই চড়া মেজাজে মুখোমুখি চলে আসেন। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে দুই আম্পায়ার এবং সতীর্থরা তাঁদের সরিয়ে দেন। উল্লেখ্য, প্রথমবার রনজি ফাইনাল খেলতে নেমে চালকের আসনে জম্মু-কাশ্মীর।





