Sunday, May 3, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

হার্টের সুরক্ষার যুগান্তকারী আবিস্কার?‌ সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাকের ইঙ্গিত দেবে এআই!

আগাম শনাক্তকরণই হার্টের সুরক্ষার সবচেয়ে বড় উপায়। সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক ধরা পড়লে সময়মতো ওষুধ, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যতের বড় বিপদ অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। এআই-পরিচালিত এই সহজ প্রযুক্তি সেই দিকেই নতুন দিশা দেখাচ্ছে।চিকিৎসাজগতে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ বাড়ছে। এআই-এর হাত ধরে চিকিৎসাক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত উন্মোচিত হচ্ছে নতুন নতুন দিক। তেমনই এক আশার কথা শোনালেন গবেষকরা। সাইলেন্ট হার্ট অ্য়াটাকের মতো নীরব ঘাতককে এবার সহজেই ধরা যাবে। সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক বা সাইলেন্ট মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন হল এমন একটি অবস্থা, যা কোনও উপসর্গ ছাড়াই হার্টের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। অনেক সময় হার্ট অ্যাটাকে তীব্র বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অতিরিক্ত ঘামের মতো উপসর্গগুলো থাকে না। কারও ক্ষেত্রে হালকা অস্বস্তি, ক্লান্তি বা বদহজমের মতো লক্ষণ দেখা দিলে, তাঁরা সহজেই সেগুলোকে এড়িয়ে যান। অনেকেই বুঝতে পারেন না যে তাঁদের হার্টে গুরুতর ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। পরে বড় ধরনের হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা হৃদ্‌যন্ত্রের অন্য় কোনও জটিলতা দেখা দিলে বিষয়টি নজরে আসে। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছে এআই-চালিত পোর্টেবল ইসিজি ডিভাইস। আশার কথা শোনালেন গবেষক দলের প্রধান ইউসি বার্কলে স্কুল অফ পাবলিক হেলথের চিকিৎসক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষক জিয়াদ ওবেরমেয়ের। তাঁর কথায়, ছোট একটি ইলেকট্রনিক ইসিজি প্যাড স্মার্টফোনের সঙ্গে সংযুক্ত করে হৃদ্‌যন্ত্রের বৈদ্যুতিক ইমপালস বা সংকেত সংগ্রহ করা হবে। এরপর উন্নত এআই অ্যালগরিদম সেই সংকেত বিশ্লেষণ করে এমন সূক্ষ্ম প্যাটার্ন চিহ্নিত করবে, যা অতীতে হওয়া সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাকের ইঙ্গিত দেবে। এ ধরনের হার্ট অ্য়াটাকে রোগীর কোনও উপসর্গ বা লক্ষণ থাকে না। যেটা ভবিষ্য়তের জন্য় মারাত্মক ঝুঁকির। বর্তমানে ইসিজির জন্য যন্ত্রপাতি ও বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হয়। তুলনায় এই প্রযুক্তি সহজে বহনযোগ্য ও খরচ আয়ত্ত্বের মধ্য়ে। চিকিৎসকদের মতে, এআই-চালিত এই ইসিজি হার্টের অসুখের প্রাথমিক পর্যায়ের স্ক্রিনিংয়ে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে। গবেষকদের মতে, একবার ইসিজি করে চূড়ান্ত রোগনির্ণয় সম্ভব না হলেও, এটি অনেকাংশেই গুরুতর ঝুঁকি নির্ণয়ে সক্ষম। ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক, ফুসফুসে রক্ত জমাট বা মহাধমনীর জটিলতা শনাক্ত করার দিকেও এআই-নির্ভর গবেষণা চলছে।
তামিলনাড়ুতে এই প্রযুক্তির পরীক্ষা চলছে। সেখানে এই প্রযুক্তির প্রয়োগের মাধ্য়মে এর নির্ভুলতা, কার্যকারিতা এবং স্বাস্থ্যপরিষেবায় এর প্রয়োগ ক্ষমতা যাচাই করা হচ্ছে। ভারতের মতো দেশ, যেখানে হৃদ্‌রোগের হার দ্রুত বাড়ছে এবং সবার কাছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সহজলভ্য নয়, সেখানে এমন উদ্যোগ স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, আগাম শনাক্তকরণই হার্টের সুরক্ষার সবচেয়ে বড় উপায়। সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক ধরা পড়লে সময়মতো ওষুধ, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যতের বড় বিপদ অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। এআই-পরিচালিত এই সহজ প্রযুক্তি সেই দিকেই নতুন দিশা দেখাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles