Sunday, May 3, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

৬০ লক্ষ অভিযোগের নিষ্পত্তি বাকি! জিপিএস নজরদারিতে মোতায়েন বাহিনী! বিচারপতি কমিটির মাধ্যমে নিষ্পত্তি! সমস্যা চিহ্নিত হলেই হাজির কেন্দ্রীয় বাহিনী

এসআইআর প্রক্রিয়ায় তথ্যগত অসঙ্গতি (লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি)-র নথি যাচাইয়ের কাজ সোমবার থেকেই শুরু করে দিলেন বিচারকেরা। সুপ্রিম কোর্ট এমনই নির্দেশ দিয়েছিল। বিচারকদের জন্য এখনও পর্যন্ত ২০২ লগ ইন আইডি তৈরি করা হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর। এই পরিস্থিতিতে সোমবার নির্বাচন কমিশন এবং পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আবার বৈঠক করেছেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। সময় নষ্ট না-করে নথি যাচাই এবং নিষ্পত্তির কাজ দ্রুত শুরু করা উচিত বলে বৈঠকে জানান কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি পাল। তাঁর কথায়, বিপুল পরিমাণ কাজ বকেয়া রয়েছে। এই অবস্থায় সময় নষ্ট করা উচিত নয়। রাজ্যের এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে নতুন পরিসংখ্যান সামনে এল। এখনও প্রায় ৬০ লক্ষ অভিযোগের নিষ্পত্তি বাকি রয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে গঠিত বিচারপতিদের কমিটির কাছে। মোট ১ কোটি ৫২ লক্ষ ভোটারের নাম নিয়ে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তারই একটি বড় অংশ এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ১ কোটি ২০ লক্ষ তথ্যগত অসঙ্গতি এবং ৩২ লক্ষ ‘অ্যানম্যাপড’ নাম মিলিয়ে এই বিপুল সংখ্যক ভোটারকে নিয়ে জট তৈরি হয়েছে। তার মধ্যেই প্রায় ৬০ লক্ষ নাম সংক্রান্ত অভিযোগ বিচারপতি কমিটির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে। ফলে কাজের চাপ যে বিপুল, তা স্পষ্ট। জেলার ভিত্তিতে পরিসংখ্যান খতিয়ে দেখে কমিশন জানিয়েছে, মুর্শিদাবাদ জেলায় ভোটারের নামের সংখ্যা তুলনায় বেশি। অন্যদিকে ঝাড়গ্রাম ও কালিম্পং জেলায় সংখ্যাটা কম। কেন এই তারতম্য, তা নিয়েও পর্যালোচনা চলছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে জুডিশিয়াল অফিসারদের সংখ্যা নিয়ে। রাজ্যের তরফে এখনও পর্যন্ত ২০২ জন জুডিশিয়াল অফিসারের নাম পাঠানো হয়েছে। অথচ কমিশনের প্রয়োজন ছিল ২৯৪ জন। যদিও কমিশনের দাবি, এই সংখ্যা বাড়তে পারে। পর্যাপ্ত আধিকারিক না থাকলে অভিযোগ নিষ্পত্তির গতি শ্লথ হওয়ার আশঙ্কা থাকছে। ২৮ তারিখ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে। সেই অর্থে ৬০ লক্ষ অভিযোগ খতিয়ে দেখতে হবে মাত্র ৫ দিনের মধ্যে। তাই আদতে সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হবে কিনা তা নিয়ে ধন্দ রয়েই যাচ্ছে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় তথ্যগত অসঙ্গতি (লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি)-র নথি যাচাইয়ের কাজ সোমবার থেকেই শুরু করে দিলেন বিচারকেরা। সুপ্রিম কোর্ট এমনই নির্দেশ দিয়েছিল। বিচারকদের জন্য এখনও পর্যন্ত ২০২ লগ ইন আইডি তৈরি করা হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর। এই পরিস্থিতিতে সোমবার নির্বাচন কমিশন এবং পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আবার বৈঠক করেছেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল।

এসআইআর সংক্রান্ত বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টকে। সেই প্রেক্ষিতে এদিনও হাইকোর্টে বিশেষ বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে কমিশন দফতরে ফিরে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল ফের উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় বসেন। আসন্ন নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিভিন্ন জেলার প্রস্তুতি, অতীত ভোটের অভিজ্ঞতা – সব বিষয় নিয়েই বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পুলিশ প্রধান পীযুষ পাণ্ডে, মহানগর পুলিশ কমিশনার, রাজ্যের পুলিশ নোডাল আধিকারিক এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ বাহিনীর শীর্ষ কর্তারাও। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত কাঠামো তৈরি হয়েছে। কোথায় কত বাহিনী রয়েছে, কোথায় প্রয়োজন—এই সব বিষয় খতিয়ে দেখা হয়েছে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, যেখানে সমস্যা চিহ্নিত হবে, সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো হবে। তবে রাজ্য পুলিশের সহায়তায়ই সেই ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। এসআইআর ঘিরে প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। বিপুল সংখ্যক অভিযোগ নিষ্পত্তির চ্যালেঞ্জ সামলে স্বচ্ছতা বজায় রাখাই এখন মূল লক্ষ্য।

মার্চেই দু’দফায় ৪৮০ কোম্পানি বাহিনী আসছে রাজ্যে। ১ মার্চ প্রথম দফায় ২৪০ কোম্পানি পৌঁছবে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (CRPF) ১১০, সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর (BSF) ৫৫, সিআইএসএফ ২১, তিব্বত সীমান্ত পুলিশ বাহিনীর (ITBP) ২৭ এবং সশস্ত্র সীমা বলের (SSB) ২৭ কোম্পানি থাকবে। দ্বিতীয় দফায় ১০ মার্চ আরও ২৪০ কোম্পানি আসবে। সেখানে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (CRPF) ১২০, সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর (BSF) ৬৫, সিআইএসএফ ১৬, তিব্বত সীমান্ত পুলিশ বাহিনীর (ITBP) ২০ এবং সশস্ত্র সীমা বলের (SSB) ১৯ কোম্পানি মোতায়েন করা হবে। সব মিলিয়ে মোট ৪৮০ কোম্পানি বাহিনী রাজ্যে দায়িত্ব নেবে। ২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআরের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে। ঘটনাচক্রে তার পর দিন থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন শুরু হয়ে যাচ্ছে। গত বিধানসভা ভোটে ১,১০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। কিন্তু এবার সেই সংখ্যাটা আদতে কত হবে তা এখনই পরিষ্কার নয়। কারণ ২০২১ সালে ভোট হয়েছিল ৮ দফায়। এবার জল্পনা, অনেক কম দফায় (এক থেকে দু’দফা) ভোট হতে পারে বাংলায়। এক্ষেত্রে বাহিনীর সংখ্যাও বাড়তে পারে।

কমিশন সূত্রে স্পষ্ট বার্তা, যেখানে সমস্যা চিহ্নিত হবে, সেখানেই পাঠানো হবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। তবে রাজ্য পুলিশের সহায়তায়ই তা কার্যকর করা হবে। বৈঠকে বাহিনী মোতায়েনের নীতিগত কাঠামোও চূড়ান্ত হয়েছে। কোথায় কত বাহিনী রয়েছে, কোথায় অতিরিক্ত প্রয়োজন – সবই বিশদে পর্যালোচনা করা হয়েছে। বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী এলে শাসক দল তৃণমূল অতিসক্রিয়তার অভিযোগ তোলে। কিন্তু অনেকাংশেই অভিযোগ ওঠে যে, বাহিনী ঠিক মতো কাজ করে না, খাওয়া-দাওয়া করে, ভোট শেষে চলে যায়! কিন্তু এবার কমিশন কড়া অবস্থানই নিয়েছে। স্পষ্ট কথা – এটা মনে করে নেওয়া ঠিক হবে না যে রাজ্য পুলিশ ওদের চালনা করবে। বাহিনীর কমান্ড্যান্ট আছেন, তাঁরাও বিষয়টি দেখবেন। বাহিনীর যানবাহনে থাকবে জিপিএস ব্যবস্থা। কমিশনের পক্ষ থেকে সেই গতিবিধি নজরদারি করা হবে। যাতে ইচ্ছাকৃতভাবে বাহিনীকে অন্যত্র ঘোরানো না যায়, তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা। আগে অনেক সময় দেখা গেছে, ভোটের দিন কোনও এলাকায় ঝামেলা হলে বাহিনী অনেক দেরি করে গেছে। অভিযোগ থাকে, রাজ্য পুলিশই ইচ্ছা করে তাদের ঘুরপথে নিয়ে যায়। এবার যাতে তেমনটা না হতে পারে সেই জন্য জিপিএস ব্যবস্থা। স্পষ্ট করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিজস্ব কমান্ড কাঠামো রয়েছে। তাদের পরিচালনায় রাজ্য পুলিশ একতরফা সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। পাশাপাশি এসআইআর সংক্রান্ত পোর্টাল ব্যবস্থাতেও নজরদারি জোরদার হয়েছে। সেখানে শুধুমাত্র বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরাই প্রবেশাধিকার পাবেন। কমিশনের কোনও সরাসরি হস্তক্ষেপ থাকবে না। তবে আধিকারিকদের দেওয়া মন্তব্য ডিজিটাল চিহ্ন হিসেবে নথিভুক্ত থাকবে। প্রথম দফায় ১ মার্চ রাজ্যে পৌঁছবে ২৪০ কোম্পানি। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর ১১০, সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর ৫৫, শিল্প নিরাপত্তা বাহিনীর ২১, তিব্বত সীমান্ত পুলিশ বাহিনীর ২৭ এবং সশস্ত্র সীমা বলের ২৭ কোম্পানি থাকবে। দ্বিতীয় দফায় ১০ মার্চ আরও ২৪০ কোম্পানি আসবে। সেই পর্যায়ে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর ১২০, সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর ৬৫, শিল্প নিরাপত্তা বাহিনীর ১৬, তিব্বত সীমান্ত পুলিশ বাহিনীর ২০ এবং সশস্ত্র সীমা বলের ১৯ কোম্পানি মোতায়েন হবে। মোট ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোটের আগে রাজ্যে দায়িত্ব নেবে। কমিশনের দাবি, সমন্বিত প্রস্তুতি ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করাই এখন মূল লক্ষ্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles