কাঁচড়াপাড়ায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুকুল রায়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। বসন্তের শুরুতেই বঙ্গ রাজনীতিতে নক্ষত্র পতন। দীর্ঘদিন ধরে বয়সজনিত একাধিক রোগে ভুগছিলেন কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক। বাবাকে এভাবে হারিয়ে পুত্র শুভ্রাংশু রায় কার্যত দিশেহারা। এমতাবস্থায় পিতৃহারা শুভ্রাংশুর পাশে দাঁড়িয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিউটাউনের হাসপাতাল থেকে মুকুল রায়ের মৃতদেহ বিধানসভায় আসার পর তাঁকে শ্রদ্ধা জানান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। এখান থেকে কাঁচরাপাড়ার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সদ্যপ্রয়াত নেতা। আর এই যাত্রায় মুকুলপুত্রের সঙ্গী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কাঁচরাপাড়ার বাড়ি থেকে শ্মশানে শেষকৃত্য পর্যন্ত শুভ্রাংশুর সঙ্গেই অভিষেক। মুকুল রায়ের গুরুতর অসুস্থতার মাঝে সবচেয়ে বেশি তাঁর ও পরিবারের পাশে যাঁরা ছিলেন, তার মধ্যে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিউটাউনের যে হাসপাতালে মুকুলবাবু চিকিৎসাধীন ছিলেন, সেখানে একাধিকবার গিয়ে দেখে এসেছেন অভিষেক। তখন থেকেই মুকুলপুত্র শুভ্রাংশুকে ভরসা জুগিয়েছেন। বারবার শুভ্রাংশুকে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, যে কোনও প্রয়োজনে দল পাশে আছে। এবার মুকুল রায়ের প্রয়াণেও সেই কথা রাখলেন অভিষেক। পিতৃহারা শুভ্রাংশুর পাশে পাশেই থাকছেন সর্বক্ষণ।

দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা, ভ্রাতৃসম রাজনীতিবিদ মুকুল রায়ের প্রয়াণে বিচলিত এবং বেদনাহত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডেলে তৃণমূলের হয়ে মুকুল রায়ের দীর্ঘ লড়াইয়ের স্মৃতিচারণা করলেন তিনি। ‘দলমত নির্বিশেষে তাঁর অভাব অনুভব করবে রাজনৈতিক মহল।’ শোকজ্ঞাপন করে লিখলেন মমতা। বঙ্গ রাজনীতির চাণক্যর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিরও। মুকুল রায়ের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের স্মৃতিচারণা করলেন দলের সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, ‘প্রবীণ রাজনীতিবিদ মুকুল রায়ের প্রয়াণের সংবাদে আমি বিচলিত ও মর্মাহত। তিনি আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী ছিলেন, বহু রাজনৈতিক সংগ্রামের সহযোদ্ধা ছিলেন। তাঁর বিদায়ের খবর আমাকে বেদনাহত করেছে। মুকুল রায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা-লগ্ন থেকে দলের জন্য প্রাণপাত করেছেন। তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়েছিলেন, দলের সর্বস্তরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল। পরে তিনি ভিন্ন পথে যান, আবার ফিরেও আসেন। বাংলার রাজনীতিতে তাঁর অবদান এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কথা ভোলার নয়। দলমত নির্বিশেষে তাঁর অভাব অনুভব করবে রাজনৈতিক মহল।’ পাশাপাশি মুকুলপুত্র শুভ্রাংশুকে শক্ত হওয়ার বার্তা দিয়েছেন মমতা। মুকুল রায়ের মৃত্যুতে শোকজ্ঞাপন করে প্রধানমন্ত্রীও বাংলায় লেখেন, ‘প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী মুকুল রায়ের প্রয়াণে শোকাহত। তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সমাজসেবামূলক প্রচেষ্টা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর পরিবার ও সমর্থকদের প্রতি সমবেদনা জানাই।’ প্রসঙ্গত, তৃণমূল ছেড়ে ২০১৭ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন মুকুল। যদিও পরে তৃণমূলে ফেরেন। তবে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত বিজেপির বিধায়ক পদেই রইলেন।





