নির্ঘণ্ট ঘোষাণার আগেই রাজ্যে আসছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। পয়লা মার্চ থেকেই রাজ্যে মোতায়েন আধাসেনা। বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই বঙ্গে আসছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। পয়লা মার্চ থেকেই রাজ্যে মোতায়েন করা হবে আধাসেনা। দুই দফায় মোট ৪৮০ কোম্পানি আধাসেনা মোতায়েনের কথা জানানো হয়েছে। পয়লা মার্চ ২৪০ কোম্পানি আধাসেনা মোতায়েন করা হবে রাজ্যে। তারপর ১০ মার্চ বাকি আধাসেনা আসবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও রাজ্য পুলিশের ডিজিপির কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, ২০ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সিদ্ধান্ত হয়েছে, বাংলায় ছাব্বিশের নির্বাচনের জন্য প্রাথমিক ভাবে ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। ১ মার্চ রাজ্যে ২৪০ কোম্পানি মোতায়েন হবে। চিঠিতে জানানো হয়েছে, প্রথম দফায় ২৪০ কোম্পানির মধ্যে সিআরপিএফ জওয়ান থাকবে ১১০ কোম্পানি , বিএসএফ থাকছে ৫৫ কোম্পানি, সিআইএসএফ ২১ কোম্পানি, আইটিবিপি ২৭ কোম্পানি ও এসএসবি ২৭ কোম্পানি আসবে। বাকি ২৪০ কোম্পানি আধাসেনা আসবে ১০ মার্চ। সেই সময় রাজ্যে আসবে ১২০ কোম্পানি সিআরপিএফ, ৬৫ কোম্পানি বিএসএফ, ১৬ কোম্পানি সিআইএসএফ, ২০ কোম্পানি টিআইবিপি, ১৯ কোম্পানি এসএসবি মোতায়েন করা হবে রাজ্যে। মূলত বিভিন্ন এলাকায় টহল দেওয়া, স্পর্শকাতর বুথগুলিতে টহল দিয়ে ভোটারদের মনোবল বাড়ানো ও ইভিএম পাহারা দেওয়ার মতো কাজ করবে আধাসেনা। ৯ সেকশন আধাসেনার মধ্যে ৮ সেকশন কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহার করা হবে বুথের নিরাপত্তা, টহলদারির জন্য। বাকি ১ সেকশন বাহিনীকে ব্যবহার করা হবে ‘কুইক রেসপন্স টিম’ হিসাবে। অর্থাৎ কোনও জায়গায় বড় গন্ডগোল হলে তা থামানোর জন্য ১ সেকশন বাহিনী প্রস্তু থাকবে। বাহিনীকে মোতায়েন করার সম্পূর্ণ পরিকল্পনা জানাতে হবে সিআরপিএফের ওয়েস্ট বেঙ্গল সেক্টরের আইজি সঞ্জয় যাদবকে। তাঁকে ছাব্বিশের নির্বাচনে বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর সমন্বয়সাধক হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি এই বিপুল সংখ্যক সেনাবাহিনীর থাকা, যাতায়াত-সহ একাধিক ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে রাজ্যকে। ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা। ঘটনাচক্রে তার পরদিন থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন শুরু হয়ে যাচ্ছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিকে ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে যে চিঠি পাঠিয়েছেন তাতে দেখা যাচ্ছে, ১ মার্চের মধ্যে ১১০ কোম্পানি সিআরপিএফ, ৫৫ কোম্পানি বিএসএফ, ২৭ কোম্পানি আইটিবিপি, ২৭ কোম্পানি এসএসবি এবং ২১ কোম্পানি সিআইএসএফ অর্খাৎ মোট ২৪০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছবে রাজ্যে। দ্বিতীয় দফায় ১০ মার্চের মধ্যে পৌঁছবে আরও ২৮০ কোম্পানি— ১২০ কোম্পানি সিআরপিএফ, ৬৫ কোম্পানি বিএসএফ, ২০ কোম্পানি আইটিবিপি, ১৯ কোম্পানি এসএসবি এবং ১৬ কোম্পানি।
আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা। ঘটনাচক্রে তার পর দিন থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন শুরু হয়ে যাচ্ছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ১১০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। ভোট হয়েছিল আট দফায়। রাজ্য প্রশাসনকে আগেই সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ বুথগুলিকে চিহ্নিত করতে বলেছিল নির্বাচন কমিশন। জ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরের এক সিনিয়র আধিকারিক জানিয়েছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন কত দফায় হবে, তা নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যার উপরেই। সিইও দফতর এ রাজ্যে এক দফাতেই নির্বাচন আয়োজন করার পক্ষপাতী। তারা ইতিমধ্যে সেই প্রস্তাব দিল্লিতে পাঠিয়েছে। কমিশনের সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, তামিলনাড়ু, অসম এবং পুদুচেরির বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা হবে।





