Tuesday, April 28, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

প্রত্যাবর্তনেই পরিবর্তন!‌ ‘ঐতিহাসিক জয়’ বাংলাদেশে!‌ তারেককে ধন্যবাদ জানালেন মোদী, শুভেচ্ছা আমেরিকার

শুক্র সকালে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে তারেককে ‘উষ্ণ অভিনন্দন’ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ওই পোস্টে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “বিএনপি-র বড় জয়ে নেতৃত্বে দেওয়ার জন্য তারিক রহমানকে আমি উষ্ণ অভিনন্দন জানাচ্ছি।” বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ী হতে চলেছে বিএনপি। গণনায় এমন ইঙ্গিত স্পষ্ট হতেই বিভিন্ন দেশ থেকে শুভেচ্ছাবার্তা পৌঁছোচ্ছে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে। শুক্রবার সকালে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে তারেককে ‘আন্তরিক অভিনন্দন’ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ওই পোস্টে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপি-র নির্ণায়ক জয়ে নেতৃত্বে দেওয়ার জন্য তারেক রহমানকে আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।” ভারত-বাংলাদেশ বহুমুখী সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে তারেককে একসঙ্গে কাজ করারও আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মোদী লেখেন, “আমাদের বহুমাত্রিক সম্পর্ককে মজবুত করার জন্য এবং অভিন্ন উন্নয়নের লক্ষ্যগুলি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমি আপনার সঙ্গে একযোগে কাজ করার প্রত্যাশা রাখছি।” একই সঙ্গে মোদী লেখেন, “গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পক্ষে ভারত তার সমর্থন অব্যাহত রাখবে।” ‘ঐতিহাসিক বিজয়ে’র জন্য তারেককে ধন্যবাদ জানিয়েছে আমেরিকাও। শুক্রবার সকালে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের তরফ থেকে সমাজমাধ্যমে বাংলা এবং ইংরেজিতে একটি পোস্ট করা হয়। সেখানে লেখা হয়েছে, “একটি সফল নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন। বিএনপি এবং তারেক রহমানকে তাদের ঐতিহাসিক বিজয়ের শুভেচ্ছা।” তারেকের সঙ্গে কাজ করার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন দূতাবাসের তরফে করা পোস্টে লেখা হয়েছে, “আমাদের দুই দেশ (আমেরিকা এবং বাংলাদেশ)-এর সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার অভিন্ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে আপনাদের সঙ্গে কাজ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী।” বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের গণনা চলছে। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই আসনসংখ্যা বাড়ছে বিএনপি-র। জয় বা এগিয়ে থাকার নিরিখে বিএনপি-র ঝুলিতে এখন ১৭৯টি আসন। জামায়াতে ইসলামী (যা জামাত নামেই পরিচিত)-র ঝুলিতে ৬৮টি আসন। আর অন্য দলগুলির ঝুলিতে আপাতত সাতটি আসন রয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে নির্বাচন হয়েছে বৃহস্পতিবার। শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত রয়েছে। সরকার গঠনের জন্য কোনও দল বা জোটকে ১৫১টি আসনে জিততে হবে। চূড়ান্ত ফলঘোষণা না-হলেও প্রাথমিক গণনায় স্পষ্ট ইঙ্গিত যে, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চলেছে প্রয়াত খালেদা জিয়ার পুত্র তারেকের দল। একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ২৯৯ আসনের মধ্যে দুই তৃতীয়াংশের বেশি আসনে ধানের শীষের অর্থাৎ বিএনপি প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।

১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে এলেন, দেখলেন, জয় করলেন! প্রত্যাশিতভাবেই বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠনের পথে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ২৯৯ টি আসনের সংসদে জাদুসংখ্যা পেরিয়েছে খালেদা জিয়ার দল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজে। আর বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী দুটি আসনেই জয় পেয়েছেন তারেক। সেইসঙ্গে খালেদা এবং হাসিনার মতো নারীদের প্রাধান্য সরিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কুরসিতে বসছেন এক পুরুষ। সংসদে বিরোধী দলের আসনে জামাত-ই-ইসলামি। শুক্রবার ভোররাতে নির্বাচন কমিশন এই ফল ঘোষণা করেন।নিষেধাজ্ঞা থাকায় এবারের ভোটে অংশ নিতে পারেনি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামি লিগ। তারেক রহমান ৭২ হাজার ৬৯৯ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামাত-ই-ইসলামির প্রার্থী খালিদুজ্জামান পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৩০০ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ৪ হাজার ৩৯৯ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন তারেক রহমান। বগুড়া-৬ আসনে ১১৬টি কেন্দ্রে তারেক রহমান (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ লক্ষ ৬১ হাজার ৬৫১ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামাত-ই-ইসলামির প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৭২ হাজার ১৮০ ভোট। বগুড়া জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফজলুল হক জানান, সদরের এই আসনে মোট ভোটার ৪ লক্ষ ৫৪ হাজার ২৯ জন। ভোট পড়েছে ৭১.৩৪ শতাংশ। আসনটিতে তারেক রহমানের বিপরীতে প্রার্থী ছিলেন ৪ জন। ঢাকা-১৫ আসনে বাংলাদেশ জামাত আমির ডা. শফিকুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৮৫ হাজার ১৩১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, ডা. শফিকুর রহমান পেয়েছেন ৮৫ হাজার ১৩১ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. শফিকুল ইসলাম খান ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৫১৭ ভোট। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশে ২৮৩টি আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।
রাজধানী ঢাকায় জামাত অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। সব আশঙ্কা, অনিশ্চয়তাকে চূর্ণবিচূর্ণ করে ইতিহাসের নজিরবিহীন উৎসাহ-উদ্দীপনায় শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ইদকেও যেন হার মানিয়েছে এবারের নির্বাচনী উৎসব! গোটা বিশ্ব তাকিয়ে ছিল বাংলাদেশের এ নির্বাচনের দিকে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী এবার ভোট পড়েছে ৬০.৬৯ শতাংশ। পোস্টাল ব্যালটে ৮০.১১ শতাংশ ভোট পড়লেও বৈধ হয়েছে ৭০.২৫ শতাংশ ভোট। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৭৭.৭ শতাংশ। দেশের কোথাও প্রাণঘাতী সংঘাত না ঘটিয়ে বিশ্বকে ‘আমরাও পারি’ দেখিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। দীর্ঘ দেড় যুগ ভোট দিতে না পারার আক্ষেপ মেটাতে রক্ত না ঝরিয়ে গণতান্ত্রিক উত্তরণের নতুন বার্তা দিয়ে এক অনন্য নজির তৈরি করেছেন দেশের সাধারণ ভোটার ও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলি। বাংলাদেশের এমন অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ বিশ্ব কখনও দেখেনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles