Tuesday, April 28, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বাংলাদেশের নির্বাচনে বিক্ষিপ্ত অশান্তি!‌ বুথে ধস্তাধস্তি, বিস্ফোরণে জখম, বিএনপি নেতার মৃত্যু, অভিযুক্ত জামাত!

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা (বাংলাদেশের সময়ে) থেকে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ পর্ব। সকালের দিকে মোটের উপরে নির্বিঘ্নেই চলছিল ভোটপর্ব। বাংলাদেশের খুলনায় ভোটকেন্দ্রে ধস্তাধস্তির সময়ে মৃত্যু এক বিএনপি নেতার। নিহতের নাম মহিবুজ্জামান কচি (৬০)। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি ভোট দিতে গেলে, ভোটকেন্দ্রে জামায়াতে ইসলামী (যা বাংলাদেশে জামাত নামেই পরিচিত)-র কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে বচসা এবং ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ, সেই সময়েই জামাতের লোকেরা তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। তাঁর মাথায় চোট লাগে। এবং, ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই বিএনপি নেতার। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে জামাত। বেলা গড়াতেই দিকে দিকে বিক্ষিপ্ত অশান্তির অভিযোগ উঠে আসতে শুরু করে। গোপালগঞ্জে বোমা বিস্ফোরণের অভিযোগ ওঠে। এক ভোটকেন্দ্রের অদূরে ককটেল বোমা ফাটানোর অভিযোগ ওঠে। বিস্ফোরণে শিশু-সহ তিন জন জখম হওয়ার খবর মিলেছে। ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম জানান, সকাল থেকে শান্তিপূর্ণই ভোট চলছিল। এরই মধ্যে এক দল দুষ্কৃতী ভোটকেন্দ্র লাগোয়ো খালের উল্টো দিকে পার থেকে ককটেল বোমা ছোড়ে। ওই বিস্ফোরণে বাংলাদেশের আনসার বাহিনীর দুই সদস্য জখম হন। এক ভোটারের সঙ্গে আসা শিশুও জখম হয় বিস্ফোরণে। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়াতেই জন্ম শেখ হাসিনার। এক সময়ে আওয়ামী লীগের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত ছিল গোপালগঞ্জ। গোপালগঞ্জে শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট হলেও ভোটারদের উপস্থিতি তুলনামূলক ভাবে বেশ কম। নির্বাচনের সকালে বাংলাদেশি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সাধারণ জনতার উদ্দেশে অভয়বার্তা দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশি জনতার উদ্দেশে বলেন, “সকলকে অনুরোধ করব, আপনারা নির্ভয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ভোটকেন্দ্রে যান এবং ভোট দিন।” তবে বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, বিক্ষিপ্ত ভাবে বিভিন্ন জায়গায় অশান্তির অভিযোগ উঠে আসছে। দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ এলাকাতেও এক ভোটকেন্দ্রে বাইরে দুই গোষ্ঠীর মারামারির অভিযোগ উঠেছে। বিক্ষিপ্ত গোলমালের খবর মিলেছে রাজশাহীতেও।

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ২৯৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ। ঢাকার গুলশান মডেল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে ভোট দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। গুলশানেরই অন্য একটি স্কুলে ভোট দিয়েছেন বিএনপি-র চেয়ারম্যান তারেক রহমানও। স্ত্রী জুবাইদা রহমান এবং মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে ভোট দেন। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার বাড়িতে হাসিনার জন্ম। এই এলাকা আওয়ামী লীগের ‘শক্ত ঘাঁটি’ হিসাবেই পরিচিত। ১৯৯১ সাল থেকে ২০২৪ সালের নির্বাচন পর্যন্ত হাসিনা গোপালগঞ্জ-৩ কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। প্রত্যেক বারই জয়ী হয়েছেন। ঢাকার গুলশান মডেল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে ভোট দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। ইউনূস ভোট দেওয়ার পর বলেন, “আমার জীবনের মহা আনন্দের দিন এবং বাংলাদেশের সবার জন্য মহা আনন্দের দিন। মুক্তির দিন। আমাদের দুঃস্বপ্নের অবসান, নতুন স্বপ্নের শুরু। সেটাই হল আজকেই এই প্রক্রিয়া। সবাইকে মোবারকবাদ জানাচ্ছি।” বৃহস্পতিবার সকালে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে সকলকে ভোট দেওয়ার আর্জি জানান তারেক। তিনি লেখেন, “জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও ভালবাসায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে বিএনপি-র বিজয় সুনিশ্চিত। আসুন, আমরা সবাই মিলে দেশটাকে গড়ে তুলি।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles