শ্রীলঙ্কার মাটিতে আমেরিকাকে সহজে হারিয়েছে পাকিস্তান। এই ম্যাচ জিতে ভারতকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের ব্যাটার সাহিবজাদা ফারহান। ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে নামার আগে হুঙ্কার দিলেন পাকিস্তানের ওপেনার সাহিবজ়াদা ফারহান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মঙ্গলবার শ্রীলঙ্কার মাটিতে আমেরিকাকে ৩২ রানে হারিয়েছে পাকিস্তান। ম্যাচের সেরা হয়েছেন ফারহান। তিনি এখন থেকেই হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন। ম্যাচের সেরার পুরস্কার নেওয়ার সময় ধারাভাষ্যকার ওয়াসিম আক্রম ফারহানকে জিজ্ঞাসা করেন, ভারত ম্যাচ নিয়ে তাঁরা কী ভাবছেন। জবাবে ফারহান বলেন, “আমরা ভারতের বিরুদ্ধে এর আগের ম্যাচগুলোতে যে রকম আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে খেলেছি, রবিবারও সেই রকম মানসিকতা নিয়েই নামব। এশিয়া কাপেও সেটাই করেছিলাম। ইতিবাচক থাকব। আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলব।” ফারহান এশিয়া কাপের প্রসঙ্গ তুললেও সেখানে তিনটি ম্যাচেই হেরেছিল পাকিস্তান। তার মধ্যে ফাইনালও ছিল। একমাত্র ফাইনালেই যা লড়াই করেছিল তারা। আগের দুই ম্যাচে আরাম করে ম্যাচ জিতেছিল ভারত। ফারহান তিনটি ম্যাচেই ভাল খেলেছিলেন। প্রথম ম্যাচে অল্পের জন্য অর্ধশতরান হাতছাড়়া হলেও পরের দুই ম্যাচে তা করেছিলেন। দ্বিতীয় ম্যাচে অর্ধশতরানের পর তাঁর বন্দুক চালানোর কায়দায় ‘স্টেনগান’ উল্লাস নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। ভারতীয় সমর্থকেরা সমালোচনা করেছিলেন। ফারহানের শাস্তির দাবিও উঠেছিল। তার ঠিক আগে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা ও ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর জেরে দু’দেশের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত ছিল। ফলে ফারহানের উল্লাস নিয়ে বিতর্ক আরও বেড়েছিল। সেই ফারহান এ বার হুঁশিয়ারি দিলেন ভারতকে। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে পাকিস্তান সরকার জানিয়ে দেয়, প্রতিযোগিতায় নামলেও ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে না তারা। পরের আট দিন জল অনেক দূর গড়ায়। বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ক্রিকেট বোর্ড পাকিস্তানকে খেলার অনুরোধ করে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আইসিসি। সম্প্রচারকারী সংস্থাও পাক বোর্ডের উপর চাপ বাড়ায়। অবশেষে সোমবার রাতে পাকিস্তান সরকার জানিয়ে দেয়, ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে তারা। আগামী রবিবার সেই ম্যাচের পাঁচ দিন আগে থেকেই উত্তপ্ত হয়ে শুরু করেছে পরিস্থিতি।
১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর মাঠে মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান। সেই ম্যাচের আগে পাকিস্তানকে সতর্ক করলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। সৌরভ জানিয়েছেন, পাকিস্তানের পক্ষে ম্যাচটি সহজ হবে না। তিনি বলেন, “বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ম্যাচ। ১৫ ফেব্রুয়ারিই খেলা হচ্ছে। তবে ভারতকে হারানো পাকিস্তানের পক্ষে সহজ হবে না। ভারত খুব শক্তিশালী দল।” সৌরভ জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপের সব ম্যাচই বেশ ভাল হয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় দলে পছন্দের চার ক্রিকেটারের নামও করেছেন তিনি। সৌরভ বলেন, “বিশ্বকাপ খুব ভাল হচ্ছে। প্রতিটা ম্যাচেই লড়াই হচ্ছে। নেদারল্যান্ডস, স্কটল্যান্ড, নেপাল, কাউকে বাদ দেওয়া যাবে না। ভারতীয় দলে অভিষেক শর্মা, বুমরাহ, সূর্য ও ঈশান কিশন আমার সবচেয়ে পছন্দের।” বিশ্বকাপ খেললেও ভারতের বিরুদ্ধে তারা খেলবে না বলে প্রথমে জানিয়েছিল পাকিস্তান সরকার। সেই ঘোষণার পর থেকে দল অনেক দূরে গড়িয়েছে। আইসিসি, সম্প্রচারকারী সংস্থা, শ্রীলঙ্কা ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ক্রিকেট বোর্ড পাকিস্তানকে খেলতে অনুরোধ করেছে। না খেললে শাস্তির হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। এমনকি, যে বাংলাদেশকে সমর্থন করে পাকিস্তান খেলতে চায়নি, সেই বাংলাদেশ বোর্ডও পাকিস্তানকে খেলার অনুরোধ করেছে। অবশেষে সোমবার রাতে পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে, তারা ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে। সেই ম্যাচের আগে সলমন আলি আঘাদের সতর্ক করলেন সৌরভ।
ওয়াশিংটন সুন্দর। হর্ষিত রানা। যশপ্রীত বুমরাহর পর এবার কি অভিষেক শর্মা! টি-২০ ক্রিকেটের ‘ফার্স্ট বয়’ ব্যাটারকে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচে আদৌ পাওয়া যাবে তো? ম্যাচের দু’দিন আগে বড়সড় প্রশ্ন ভারতীয় শিবিরে। ভারতীয় শিবির সূত্রের খবর, অভিষেক বেশ কিছুদিন অসুস্থ বোধ করছেন। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তাঁর ব্যাট কথা বলেনি। এমনকী, প্রথম ওভারে আউট হয়ে যাওয়ার পর তিনি আর মাঠে ফেরেননি। ফিল্ডিংও করেননি। শোনা যাচ্ছে, প্রথম ম্যাচেও পুরোপুরি ফিট ছিলেন না তিনি। তাঁকে একপ্রকার জোর করেই নামিয়ে দেওয়া হয়। তিনি শেষে ফিল্ডিংয়ে নামতে পারেননি। এরপর দিল্লিতে কোচ গৌতম গম্ভীর যে নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন, তাতেও কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে যান অভিষেক। ভারতীয় দলের যে অনুশীলন ছিল, তাতেও অভিষেককে দেখা যায়নি। স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ছে ভারতীয় শিবিরে। দু’দিন বাদে আদৌ অভিষেককে পাওয়া যাবে তো, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, অভিষেক বেশ কয়েকদিন ধরেই পেটের সমস্যায় ভুগছেন। মঙ্গলবারও সেই সমস্যা ভুগিয়েছে তাঁকে। সেকারণেই অনুশীলনে নামেননি। তবে ভারতীয় শিবির এখনও আশাবাদী ১২ ফেব্রুয়ারি অভিষেককে পাওয়া যাবে। ভারতীয় দলের সহকারী কোচ রায়ান টেন দুশখাতে বলছেন, “অভিষেকের পেটের সমস্যাটা এখনও ভোগাচ্ছেন। তবে আমরা দু’দিন বাদে ওকে মাঠে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।” অভিষেক বৃহস্পতিবার না খেলতে পারলে ভারতকে বিকল্প ভাবতে হবে। সেক্ষেত্রে সঞ্জু স্যামসনের কপালে শিকে ছিঁড়তে পারে। তবে অভিষেক না খেললে সেটা ভারতীয় দলের জন্য বিরাট ধাক্কা হতে চলেছে।





