‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পে মাসে ৫০০ টাকা করে বাড়ানো হল উপভোক্তাদের জন্য। ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই কার্যকর হবে এই ঘোষণা। রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেটে নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করা হল। প্রকল্পের নাম ‘বাংলার যুব সাথী’। ক্ষমতায় ফিরলে আগামী ১৫ আগস্ট থেকে এই প্রকল্প চালু হবে। ২১-৪০ বছর বয়সি মাধ্যমিক পাশ যুবক যুবকদের মাসে ১৫০০ টাকা ভাতা দেওয়া হবে। রাজ্যের অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং অঙ্গনওয়াড়ি সহায়কদের জন্য ভাতা ১০০০ টাকা করে বাড়ানোর কথা ঘোষণা করা হল অন্তর্বর্তী বাজেটে। এর জন্য বরাদ্দ হয়েছে মোট ২৮০ কোটি টাকা। আশা কর্মীদের জন্য ভাতা ১০০০ টাকা করে বৃদ্ধি করা হল। রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের জন্য ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করা হল অন্তর্বর্তী বাজেটে। বারুইপুরে তৈরি হবে ‘কালচারাল সিটি’। রাজ্যে ছ’টি ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক করিডোর তৈরি হবে। ক্ষুদ্র, কুটির এবং মাঝারি শিল্পের জন্য পাঁচটি নতুন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কও তৈরি হবে। সিভিক ভলান্টিয়ার এবং গ্রিন পুলিশদের বেতন মাসে ১০০০ টাকা করে বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করা হল। এর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে মোট ১৫০ কোটি টাকা। বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে, চলতি ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর বর্ধিত অর্থ কার্যকর করা হবে। অর্থাৎ, ভোটের আগেই প্রত্যেকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বাড়তি টাকা ঢুকে যাবে। শিক্ষাবন্ধুদেরও ভাতা ১০০০ টাকা করে বৃদ্ধি করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেটে। ‘গিগ ইকনমি’র সঙ্গে জড়িতদেরও স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় আনা হবে। সপ্তম পে কমিশনের ঘোষণা করলেন রাজ্যের অর্থ দফতরের প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা। ভোটের আগে ৪ লক্ষ ৬ হাজার কোটি টাকার অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর লেখা একটি কবিতা পাঠ করে বাজেট বক্তৃতা শেষ করেন চন্দ্রিমা। ওই কবিতা পাঠের সময়ে শুভেন্দু ‘এপাং ওপাং’ বলে খোঁচা দেন। চন্দ্রিমাও তাঁকে পাল্টা বলেন, “চুপ করে শুনুন।” বাজেট বক্তৃতার শেষে ‘জয় বাংলা’ ধ্বনিও ওঠে বিধানসভায়। রাজ্য সরকারের পেনশনভোগীদের জন্যই সুবিধার কথা ঘোষণা করা হয়েছে অন্তর্বর্তী বাজেটে। বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীরা পশ্চিমবঙ্গ ‘হেল্থ স্কিম’-এর আওতায় ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ‘ক্যাশলেস’ স্বাস্থ্য পরিষেবা পান। বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে, এ বার থেকে ২ লক্ষ টাকার বেশি যা খরচ হবে, তার ৭৫ শতাংশ ‘ক্যাশলেস’ পরিষেবার আওতায় আনা হবে। শীঘ্রই এ বিষয়ে সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হবে।
এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ধর্মতলার শহিদ মিনারে অবস্থানরত সংগ্রামী যৌথ মঞ্চে খুশির হাওয়া। ২০০৮ সালের আগস্ট থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজ্যের সরকারি কর্মীদের যে ডিএ বকেয়া রয়েছে, তার ২৫ শতাংশ মার্চের মধ্যে মিটিয়ে দিতে বলা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকারের কর্মীদের ডিএ-র মধ্যে ৪০ শতাংশের ফারাক রয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্টের রায় সেই ফারাকের বিষয়ে কোনও রায় দেয়নি। সেই কথাই স্মরণ করিয়ে দিয়ে সিপিএমের সরকারি কর্মচারী সংগঠন কো-অর্ডিনেশন কমিটির নেতা বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরী বলেন, “বকেয়া এরিয়ারের ২৫ শতাংশ সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারকে দিতে বাধ্য করেছে। কিন্তু এখনও আমাদের ৪০ শতাংশ বকেয়া ডিএ (কেন্দ্র এবং রাজ্যের ডিএ-র ফারাক) প্রাপ্য রয়ে গিয়েছে। তাই আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার লড়াই করে বুঝে নেব।” আদালতের এই রায় প্রকাশ্যে আসার পর দৃশ্যতই খুশি আন্দোলনরত সরকারি কর্মচারীরা। ধর্মতলায় তাঁদের অবস্থানমঞ্চে লাড্ডু বিলি শুরু হয়েছে। ডিএ মামলায় অন্যতম পক্ষ সরকারি কর্মচারীদের সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। সংগঠনের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেন, “আমরাও যাতে কমিটির সঙ্গে বসতে পারি, সেই আবেদন করব। সরকারের আর্থিক স্বাস্থ্য যে মোটেই খারাপ নয়, বরং (ডিএ) দেওয়া যায়— আমরা সেই তথ্য তুলে ধরব।” সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরেও পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না তিনি। ভাস্কর বলেন, “কর্মচারীসমাজ পথে না-নামলে এই ২৫ শতাংশ তাঁরা পাবেন না। ৩১ মার্চের মধ্যে ঘাড় ধরে সরকারকে এই রায় মানতে বাধ্য করব।” অতীতেও ২৫ শতাংশ ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার জন্য একটি অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। কিন্তু তা সেই সময়ে বাস্তবায়িত হয়নি। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের দাবি, সেই কারণেই আদালতের নির্দেশের পরেও রাজ্য সরকারের উপরে তারা পুরোপুরি আস্থা রাখতে পারছে না। অতীতে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনকারী সরকারি কর্মচারীদের পাশে দাঁড়াতে দেখা গিয়েছে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরে রাজ্য সরকারকে বিঁধেছেন। শুভেন্দুর কথায়, “ডিএ মামলায় রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের মৌলিক অধিকার সুনিশ্চিত করল সুপ্রিম কোর্ট। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভুল প্রমাণিত হলেন। নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার জন্য বারংবার তিনি বলে এসেছেন যে, ‘ডিএ কর্মচারীদের অধিকার নয়’। আজ দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানিয়ে দিল যে, ডিএ হল কর্মচারীদের আইনসিদ্ধ ন্যায্য অধিকার। কোনও অনুদান নয়।” শুভেন্দুর দাবি, রাজ্যের সরকারি কর্মীদের বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যেই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে রাজ্যের কোটি কোটি টাকা ধ্বংস করে আইনজীবী দাঁড় করিয়েছে সরকার। সুপ্রিম কোর্টের রায়কে স্বাগত জানিয়েছে বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতিও। সংগঠনের অন্যতম নেতা স্বপন মণ্ডল বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের এই ঐতিহাসিক রায়কে আমরা স্বাগত জানাই। এটাই হওয়ার ছিল। দীর্ঘ দশ বছরের লড়াইয়ের পর এই জয় শুধু আমাদের রাজ্যের শিক্ষক-কর্মচারীদের জয় নয়, সারা দেশের কর্মচারীদের জয়। আর কোনও রাজ্য সরকার এই জঘন্য কর্মচারীবিরোধী সরকারের পথ অনুসরণ করতে সাহস পাবে না।” অন্য দিকে, তৃণমূল সমর্থিত পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের আহ্বায়ক প্রতাপ নায়েকের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও দিনই বলেননি যে সরকারি কর্মচারীরা মহার্ঘ্যভাতা পাবেন না। সুযোগমতো মুখ্যমন্ত্রী নিশ্চয়ই সরকারি কর্মচারীদের দাবি পূরণ করতেন বলে মনে করছেন। তৃণমূল সমর্থিত ওই সংগঠনের তরফে নায়েক বলেন, “দেশের সর্বোচ্চ আদালত যে নির্দেশ দিয়েছে, তা নিয়ে আমি কোনও মন্তব্য করব না। মুখ্যমন্ত্রী তো কোনও দিন বলেননি যে সরকারি কর্মচারীদের ডিএ দেবেন না। আমাদের বিশ্বাস সময়-সুযোগ বুঝে তিনি নিশ্চয়ই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ-র দাবি পূরণ করতেন। কিন্তু এখন যখন আদালত নির্দেশ দিয়েছে, তখন রাজ্য সরকার যে ভাবে সেই নির্দেশ পালন করবে, সেই প্রক্রিয়ার পাশে আমরা থাকব।”




