কয়লা পাচার মামলা। বীরভূম, আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল-সহ বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশির পাশাপাশি বুদবুদ থানার ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতেও পৌঁছয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইডির এই অভিযানের পরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। শুভেন্দুর বক্তব্য, কয়লা কাণ্ডে ইসিএলের আধিকারিকদের যদি গ্রেফতার করা যায়, জেল খাটানো যায় বা সাসপেন্ড করা যায়, তা হলে অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকদের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম কেন? ওসি, আইসি, এসডিপিও, ডিএসপি, এসপি, এদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা কবে নেওয়া হবে?” তিনি দাবি করেন, বুদবুদের বর্তমান ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডল আগে বারাবনীর ওসি ছিলেন। তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করা হোক বলেও দাবি করেন বিরোধী দলনেতা। শুভেন্দু আরও অভিযোগ করেন, কয়লা পাচারের টাকা ‘৭৫-২৫’ ভাগে ভাগ হত। “২৫ নিজেরা রাখত, ৭৫ কাকে কাকে দেওয়া হত, সেটা জনগণের জানা উচিত,” বলেন তিনি। তাঁর দাবি, লালা ও বিনয় মিশ্রর নেতৃত্বে কয়লা পাচার কাণ্ড একটি বিশাল স্ক্যাম। ইতিমধ্যেই অনেকে জেল খেটেছেন, কেউ জেলে রয়েছেন, আবার অনেকে জেলে যাবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা পড়লেও এখনও ফাইনাল চার্জশিট হয়নি। তৃণমূলের শাসনকালে রাজ্যে দু’টি বড় কেলেঙ্কারি হয়েছে বলে দাবি শুভেন্দুর। একটি গরু পাচার, অন্যটি কয়লা পাচার। তাঁর অভিযোগ, এই দুই কাণ্ডে শুধু রাজনৈতিক নেতা বা মাফিয়াই নয়, পুলিশের একাংশও জড়িত। তিনি জানান, অনুপ মাঝির মামলায় পশ্চিমবঙ্গের অন্তত ন’জন আইপিএস অফিসারকে বারবার দিল্লিতে ইডি দফতরে ডাকা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে শ্যাম সিং, আকাশ মেঘারিয়া, সিলভা মুরুগানের নাম উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি ডিএসপি, ইন্সপেক্টর ও এসআই স্তরের আধিকারিকদের জড়িত থাকার অভিযোগও তোলেন। শুভেন্দুর দাবি, এ ক্ষেত্রে রাজ্যপাল বা আদালতের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাঁর মতে, “চার্জশিটে যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের সম্পত্তি ক্রোক করা হোক। প্রয়োজন হলে হেফাজতে নিয়ে জেরা করা হোক।”
চাকরি ও শিক্ষাব্যবস্থার প্রশ্নে রাজ্য সরকারকে একহাত নিয়ে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার যুব বিজেপির এক কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। শুভেন্দুর বক্তব্য, বাংলার যুবসমাজ চাকরি চায়, ভবিষ্যৎ চায়। আর সেই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তন জরুরি, যা সম্ভব একমাত্র বিজেপি সরকার গঠনের মাধ্যমে। মঞ্চ থেকে শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, তৃণমূল সরকার উন্নয়নের বদলে ভাতা-নির্ভর রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁর কথায়, “রাজ্যে কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করার বদলে মানুষকে ভাতার ওপর নির্ভরশীল করে তোলাই এখন সরকারের একমাত্র লক্ষ্য।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘আত্মনির্ভর ভারত’ ভাবনার সঙ্গে রাজ্য সরকারের নীতির তুলনা টেনে শুভেন্দু বলেন, যেখানে দেশ আত্মনির্ভরতার পথে এগোচ্ছে, সেখানে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মানুষকে পরনির্ভর করে রাখার রাজনীতি করছেন। তাঁর কটাক্ষ, সাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি না করে ভাতা দিয়ে ভোট ধরে রাখাই এখন রাজ্য সরকারের মূল উদ্দেশ্য। শিক্ষাক্ষেত্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা – প্রতিটি স্তম্ভ একে একে ভেঙে পড়েছে। শিক্ষক নিয়োগ থেকে শিক্ষা পরিকাঠামো, সর্বত্র অনিয়ম ও অচলাবস্থার অভিযোগ তোলেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর দাবি, যত দিন বর্তমান তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকবে, তত দিন রাজ্যে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। শিল্প বিনিয়োগ থমকে থাকবে, চাকরির সুযোগ কমবে, আর রাজ্যের যুবসমাজ বাধ্য হবে ভিন্রাজ্যে কাজের খোঁজে পাড়ি দিতে। এই পরিস্থিতি বদলাতে হলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন। যুব বিজেপির কর্মীদের উদ্দেশে শুভেন্দু বলেন, শুধু ভোটের সময় নয়, নিয়মিত ভাবে মানুষের কাছে যেতে হবে। রাজ্যে শিক্ষাক্ষেত্রের দুরবস্থা, চাকরির অভাব এবং ভাতা-নির্ভর রাজনীতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে হবে সাধারণ মানুষের সামনে। তাঁর মতে, মানুষ এখন বিকল্প খুঁজছে, আর সেই বিকল্প বিজেপি। বিরোধী দলনেতা স্পষ্ট বার্তা দেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন শুধুমাত্র ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং বাংলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণের নির্বাচন। চাকরি, শিক্ষা ও আত্মনির্ভরতার প্রশ্নে পরিবর্তন আনতেই হবে। আর সেই পরিবর্তনের জন্যই বিজেপিকে জেতানো প্রয়োজন, এমনই দাবি করেন শুভেন্দু অধিকারী।যুব বিজেপির এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। ভাতা বনাম চাকরি, পরনির্ভরতা বনাম আত্মনির্ভরতা, এই দ্বন্দ্বকে সামনে রেখেই আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতি আরও তীব্র হবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।





