Thursday, April 23, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

আনন্দপুরে পোড়া দেহ ‘পাচার’ হচ্ছে? ফাঁস করলেন শুভেন্দু! নিখোঁজ ২৭! ২১টি দেহাংশ ফরেনসিকে!‌ ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখেন রাজ্যপাল

আনন্দপুরের জতুগৃহের ভিতর থেকে তিনটি পোড়া শরীর-সহ ২১ টি দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে। দুটো বস্তায় ভরে সেসব গিয়েছে কাটাপুকুর মর্গে। এখনও নিখোঁজ অন্ততপক্ষে ২৭! এই ২৭ জনের পরিবারের তরফে নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছে। দেহাংশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ৫ জনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। আদালতের অনুমতি নিয়ে নাজিরাবাদে রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিস্ফোরক দাবি করেন শুভেন্দু। সেখানে এক সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করেন, ‘এখান থেকে নাকি দেহাংশ পাচার হয়ে যাচ্ছে?’ প্রশ্ন শেষ হতে না হতেই শুভেন্দু বলেন, ‘এখানে দেহাংশ ফলের প্যাকেটে করে পাচার হয়ে যাচ্ছে।’আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডের পর চার দিন পেরিয়ে গিয়েছে। নাজিরাবাদে এখন জারি ১৬৩ ধারা। তার মধ্যেই অকুস্থলে শুভেন্দু। হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে আদালতের নির্দেশিত পথে মিছিল করলেন তিনি। সঙ্গে বিজেপি বিধায়করাও। মিছিলে হাঁটলেন মমতার ছবি নিয়ে। কিন্তু কেন? শুভেন্দু বললেন, ছবি মমতার সঙ্গে যাঁকে দেখা যাচ্ছে, তিনি আদতে মোমো কারখানার মালিক। যে কারখানার বিরুদ্ধে অব্যবস্থপনার একাধিক অভিযোগ উঠেছে। আর তার বলি হয়েছেন ৩ কর্মী। গোডাউন মালিক গঙ্গাধর দাস গ্রেফতার হয়েছেন। কিন্তু কেন গ্রেফতারি নয় মোমো কারখানার মালিককে? প্রশ্ন তোলেন বিরোধীরা। পুলিশ মোমো কারখানার ম্যানেজার মনোরঞ্জন শিট এবং ডেপুটি ম্যানেজার রাজা চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করেছে। গত ২৫ জানুয়ারি মধ্যরাতে গুদামে যখন আগুন লাগল, তখন তাঁরা কোথায় ছিলেন, তাঁদের ভূমিকা কী ছিল, পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে। জানা যাচ্ছে, মনোরঞ্জন শিট ওই গুদামের দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু মালিককে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না, সেই প্রশ্নের উত্তর দিতেই এই ছবি নিয়ে মিছিল করলেন শুভেন্দু। ছবি দেখিয়ে সাংবাদিকদের শুভেন্দু বুঝিয়ে দিলেন কার সঙ্গে মুখ্য়মন্ত্রী হাঁটছেন। শুভেন্দুর কথায়, “মোমো সংস্থার মালিকের বিদেশ সফরের সঙ্গী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী যাঁর সঙ্গে রাস্তায় হাঁটছেন, তিনি ওই মোমো সংস্থার মালিক। কর্মীদের ধরছেন কেন, গঙ্গাধর দাসকেও যেমন ধরেছেন, আমরা সমর্থন করি। তেমনি মোমো সংস্থার মালিককেও গ্রেফতার করতে হবে।” পাশাপাশি, খেয়াদহ ২ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের গ্রেফতারি, স্থানীয় থানার আইসিকে সাসপেন্ড, দমকলমন্ত্রীকে পদত্যাগ-সহ একাধিক দাবি করেন। এদিন পাঁচ দফা দাবি নিয়ে শুভেন্দু মিছিল করেন। দাবি ১. দখল হওয়া জলাভূমির তালিকা তৈরি করতে হবে দাবি ২. অগ্নিকাণ্ডে নিখোঁজদের খুঁজে দিতে হবে দাবি ৩. মৃতদের পরিবারকে ৫০ লক্ষ টাকা দিতে হবে দাবি ৪. পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরি দিতে হবে ৫. অগ্নিকাণ্ডে দোষীদের গ্রেফতার করতে হবে

উদ্ধার হওয়া দেহাংশগুলি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে এখনও চলছে দেহাংশ খোঁজার কাজ। বারুইপুর পুলিশ জেলার এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, আনন্দপুরে ২৭ জনের নামে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে ২১টি দেহাংশ। তবে এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা কত, তা বলা যাচ্ছে না। নিহতদের শনাক্ত করতে দেহাংশগুলি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (সিএফএসএল)-তে পাঠানো হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার পরে নিহতদের সঠিক পরিচয় নির্ধারণ করা যাবে। বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপার নিজেও সিএফএসএল-এ গিয়েছিলেন, যাতে যত দ্রুত সম্ভব পরীক্ষাগুলি করানো যায়। অন্য দিকে, শুক্রবারও ঘটনাস্থল খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে আরও কোনও দেহাংশ পাওয়া যায় কি না। ডেকরেটার্সের গুদামের টিনের শেড উপড়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। আনন্দপুরের পুড়ে যাওয়া দুই গুদাম ঘুরে বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন তিনি। বেরিয়ে রাজ্যপাল বোস বলেন, ‘‘দোষ খুঁজতে নয়, তথ্য অনুসন্ধানে এসেছি। তবে প্রশাসনকে আরও বেশি সতর্ক হতে হত। ঘটনার পর এ ভাবে দায় এড়ানো যায় না।’’ পাশাপাশি, শুক্রবার সকালে ফের এলাকায় গিয়েছে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল। ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ওয়াও মোমোর সেই গুদামের ম্যানেজার মনোরঞ্জন শিট এবং ডেপুটি ম্যানেজার রাজা চক্রবর্তীকে নরেন্দ্রপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের শুক্রবার বারুইপুর মহকুমা আদালতে হাজির করানো হবে। এ ছাড়া, আগেই গ্রেফতার হয়েছেন দ্বিতীয় গুদামটির মালিক গঙ্গাধর দাস। ফলে সব মিলিয়ে ওই ঘটনায় ধৃতের সংখ্যা বেড়ে হল তিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles