বুধ সকাল পৌনে ৯টা নাগাদ মহারাষ্ট্রের বারামতী বিমানবন্দরে অবতরণ করার সময় বিমানটি ভেঙে পড়ে। ওই বিমানেই ছিলেন শরদ পওয়ারের ভ্রাতুষ্পুত্র তথা এনসিপি প্রধান অজিত। বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের। মৃত্যু হয়েছে দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানে থাকা আরও পাঁচ যাত্রীর। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে এমনটাই খবর। অজিতের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীও এই খবর সত্য বলে জানিয়েছেন। অন্য দিকে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ভারতের উড়ান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ-কে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, বিমানে থাকা ছ’জনেরই মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, বুধবার সকাল পৌনে ৯টা নাগাদ মহারাষ্ট্রের বারামতী বিমানবন্দরে অবতরণ করার সময় বিমানটি ভেঙে পড়ে। ওই বিমানেই ছিলেন শরদ পওয়ারের ভ্রাতুষ্পুত্র তথা এনসিপি প্রধান অজিত। ভেঙে পড়ার পরেই বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। এই দুর্ঘটনার পর যে সমস্ত ছবি প্রকাশ্যে এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, বিমানটি দাউদাউ করে জ্বলছে। আগুন নেবানোর চেষ্টা করছে দমকল। ঘটনাস্থলে গিয়েছে পুলিশও।

এনসিপি সূত্রে খবর, জেলা পরিষদের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের হয়ে প্রচারের জন্য মুম্বই থেকে বারামতী যাচ্ছিলেন মহারাষ্ট্রের ‘মহাজুটি’ সরকারের অন্যতম শরিক তথা উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত। একটি ব্যক্তিগত বিমানে সফর করছিলেন তিনি। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, বিমানে ছিলেন অজিত-সহ মোট ছ’জন। দুর্ঘটনার ছবি-ভিডিয়ো দেখার পর বিমানে থাকা যাত্রীরা কতটা সুস্থ এবং নিরাপদে রয়েছেন, তা নিয়ে সন্দেহ বাড়ছে। একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ৬৬ বছর বয়সি অজিতকে নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা অজিত পওয়ারকে নিয়ে ভেঙে পড়ে প্রাইভেট বিমান। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা ঘটে মহারাষ্ট্রের বারামরিতে। জরুরি অবতরণের সময়েই ভেঙে পড়ে বিমানটি। দুর্ঘটনা সময় বিমানে মোট ৬ যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার যে ভিডিও সামনে এসেছে সেখানে দেখা যাচ্ছে, ভেঙে পড়ার পর বিমানের সামনের অংশ পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং তাতে আগুন ধরে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে উদ্ধারকারীদল।
২০২৩ সালে ১৪ সেপ্টেম্বর মাটিতে আছড়ে পড়ে লিয়ারজেট ৪৫ এক্সআর। যে সংস্থা এই বিমান তৈরি করেছে তার নাম ভিটি-ডিবিএল। সেবার দুর্ঘটনা ঘটেছিল মুম্বই বিমানবন্দরে। তবে সেবার বিমানে কোনও যাত্রী ছিল না। বিশাখাপত্তনম থেকে মুম্বই নামার পর সময়ই ঘটে যায় দুর্ঘটনা। মূলত প্রবল বৃষ্টি ও দৃশ্যমানতার অভাবেই সেবার বিপর্যয় ঘটেছিল বলে জানা যায়। বুধবারের দুর্ভাগ্য ছিল আরও ভয়াবহ। জানা গিয়েছে, বারামতি বিমানবন্দরে অবতরণের সময় প্রথম বার ব্যর্থ হয়েছিলেন পাইলট। তার পর আবার অবতরণের চেষ্টা করেন তিনি। সেই সময়েই ভেঙে পড়ে বিমানটি। বিমানটিতে অজিত-সহ পাঁচ জন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দু’জন ছিলেন উপমুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষী এবং দু’জন ছিলেন বিমানকর্মী। অসামরিক বিমান পরিবহণ নিয়ামক সংস্থা ডিজিসিএ জানাচ্ছে, দুর্ঘটনায় পাঁচ জনেরই মৃত্যু হয়েছে। বারামতি বিমানবন্দরের ম্যানেজার শিবাজি তাওয়াড়ে জানান, ভিটি-এসএসকে বিমানটি রানওয়েতে অবতরণের চেষ্টা করার সময়ে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। অবতরণের সময়ে রানওয়ের একটি ধারে ভেঙে পড়ে লিয়ারজেট ৪৫। মাটিতে আছড়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায় তাতে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি দল বারামতি বিমানবন্দরে পাঠাচ্ছে ডিজিসিএ। এর মধ্যেই আলোচনায় বিমানটির অতীত ইতিহাসও। তবে ভিএসআর ভেঞ্চারসের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, বিমানটিতে কোনও নিরাপত্তাজনিত সমস্যা ছিল না। এদিকে সংস্থার দেওয়া তথ্যানুসারে, ১৫ বছরের পরিষেবায় এই বিমানের যাত্রীসন্তুষ্টি ৯৯ শতাংশ।
দাদার মৃত্যুসংবাদ পেয়ে রাজনৈতিক বিবাদ ভুলে ছুটে গিয়েছেন শরদ পওয়ারের কন্যা সুপ্রিয়া সুলে। একের পর এক নেতা শোকপ্রকাশ করেছেন অজিতের প্রয়াণে। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসকে ফোন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। উল্লেখ্য, জীবনের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত বারামতিরই জনপ্রতিনিধি ছিলেন অজিত। সাংসদ, বিধায়ক-সমস্ত পদ পেয়েছেন বারামতি থেকে। যে বারামতি থেকে রাজনৈতিক কেরিয়ারের শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছিল, সেই বারামতির মাটিতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন অজিত পওয়ার।





